রবিবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ২:৪৩
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, October 23, 2016 7:50 pm
A- A A+ Print

বিদেশে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা ও আমরা

ce046e71046b88f2a0e27d4170334663-pic-4-1

নিউইয়র্ক সিটির বিশেষায়িত হাইস্কুলগুলোয় ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে গতকাল ২২ অক্টোবর থেকে। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের (New York City Department of Education) অধীনে আটটি বিশেষায়িত স্কুলের জন্য এই ভর্তি যুদ্ধ। এখানে নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ (নাইন, টেন, ইলেভেন, টুয়েলভ)—এই চার ক্লাস মিলে হাইস্কুল। গত বছর অষ্টম শ্রেণিতে প্রায় ২৯ হাজার শিক্ষার্থী এই ভর্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের সীমিত আসনে সুযোগ দিয়ে থাকে। যেমন আট শ নম্বরের এই পরীক্ষায় Stuyvesant স্কুলে সুযোগ পেতে হলে কমপক্ষে ৫৬২ নম্বর পেতে হবে। তেমনি Bronx Science-এ সুযোগ পেতে কমপক্ষে ৫১২, Staten Island ৫০৩, Lehman College ৫০১, York College ৫০০, HS for Math, Science and Engineering ৪৯৮, Brooklyn Technical ৪৮৩, Brooklyn Latin ৪৭১। দুই ঘণ্টা তিরিশ মিনিটের এই পরীক্ষা নিয়ে আমাদের মায়েদের টেনশনের শেষ নেই। আমাদের সন্তানেরা কে কোন স্কুলে সুযোগ পাবে তা আগামী মার্চে রেজাল্ট না দেওয়া অবধি বলা মুশকিল। তাই আমরা সব কটি স্কুল সম্পর্কে যতটা সম্ভব ধারণা নিচ্ছি। এমনকি কোন স্কুলে যাওয়া আসায় সময় কেমন লাগে কিংবা কয়বার বাস-ট্রেন পরিবর্তন করতে হবে, সব। তথ্য সংগ্রহের ভালো সুযোগ থাকে স্কুল ওপেন হাউসে। লেখিকা২০ অক্টোবর ছিল ব্রঙ্কস সায়েন্স স্কুলের ওপেন হাউস। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল স্কুলটি উন্মুক্ত। ঘুরে দেখা ও তথ্য জানার জন্য এবং স্টাফ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের খোলামেলা আলোচনার সুযোগের দিন। ঘুরে ঘুরে এ রুম, ও রুম দেখতে দেখতে কিছু কিছু তথ্যের ওপর চোখ আটকে থাকল। যেমন, এ পর্যন্ত এ স্কুলের আটজন গ্র্যাজুয়েটস নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। সাতজন ফিজিকসে। আরেকজন কেমিস্ট্রিতে। Pulitzer পুরস্কার পেয়েছেন ছয়জন গ্র্যাজুয়েটস। আমেরিকায় দ্বিতীয় কোনো Secondary স্কুল নেই যেখানকার এতজন গ্র্যাজুয়েটস এত সব সম্মানিত পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। বিষয়টি ভালো লেগেছে। ক্রিয়েটিভ রাইটিং বিষয়ে তথ্য জানার রুমটিতে ঢুকতেই চোখ আটকে গেল একটি লেখায়। I write because it helps me breathe...because there are stories in my heart that only I can tell.—Laurie Halse Anderson. তাই তো! আমার হৃদয় গহিনে যে গল্পগুলো আছে, তা তো কেবল আমিই বলতে পারি। বাড়ির উদ্দেশে ফিরছি যখন ততক্ষণে বাইরে রাতের আঁধার। মেঘলা আকাশ আর গুড়িগুড়ি বৃষ্টির মাঝে হেঁটে যাচ্ছি স্টেশনের দিকে। এবার আর ট্রেনের ভেতরটায় ভিড় নেই। অনেকটাই ফাঁকা। শহরের কর্মক্লান্ত মানুষজন বেশির ভাগই ফিরে গিয়েছেন আপন নীড়ে। অথচ আসবার সময়টাতে কী ভয়াবহ ভিড়ই না ছিল। পরপর তিনটি ট্রেন একে একে চলে গিয়েছিল থেমে থেমে। আমরা শত শত যাত্রী দাঁড়িয়েছিলাম প্ল্যাটফর্মে, ট্রেনে উঠতে পারছিলাম না বলে। শেষে কোনোমতে চাপাচাপি করে উঠেছিলাম যদিও। তিল পরিমাণ জায়গা ছিল না। আমাদের কারওরই হ্যান্ডেল ধরে দাঁড়াবার প্রয়োজন হয়নি তখন। কেননা ডানে বাঁয়ে হেলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল না। মানুষে মানুষে এত ঠাসাঠাসি দেখে মনে হচ্ছিল আমার দেশের কথা। এ রকম ভিড়ে সেখানে একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যেত, নিশ্চিত। কয়েকজনের ফোন বা মানিব্যাগ খোয়া যেত। বিদেশ বিভুঁইয়ের এই নিরাপত্তাটুকু বেশ ভালো লাগে। গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল স্টেশনে ট্রেন থামলে নেমে যাই। হাঁটছি অন্য প্ল্যাটফর্মের উদ্দেশে অন্য ট্রেন ধরব বলে। দিন শেষে বাড়ি ফেরার এই সময়টাতে ক্লান্ত শ্রান্ত মানুষগুলো ধীর গতিতে হাঁটেন। প্ল্যাটফর্মের একটি অংশে ক্ষণিক থামি। সুদর্শন এক যুবক মিউজিক বাজিয়ে গান গাইছে আপন মনে। পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় কেউ কেউ ডলার রেখে যাচ্ছেন। কিন্তু সেদিকে যুবকের ভ্রুক্ষেপ নেই। অদ্ভুত বিষাদময় এক সুর! দিন শেষে বাড়ির দিকে ফেরা ক্লান্ত মানুষজনের মনে কেমন এক প্রশান্তি নিয়ে আসে সেই সব সুর। আমি আবার হাঁটছি ধীর, স্থির ও শান্ত পায়ে। কানে ভেসে আসে যুবকের গান, wherever you go, whatever you do, I will be right here, waiting for you, waiting for you... সেভেন ট্রেনের উদ্দেশে হেঁটে যেতে যেতে যতই দূরবর্তী হই, সেই সুর শ্রবণসীমায় ক্ষীণ হতে হতে মিলিয়ে যেতে থাকে প্ল্যাটফর্ম কাঁপিয়ে আসা ট্রেনের শব্দের সঙ্গে।

Comments

Comments!

 বিদেশে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা ও আমরাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

বিদেশে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা ও আমরা

Sunday, October 23, 2016 7:50 pm
ce046e71046b88f2a0e27d4170334663-pic-4-1

নিউইয়র্ক সিটির বিশেষায়িত হাইস্কুলগুলোয় ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে গতকাল ২২ অক্টোবর থেকে। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের (New York City Department of Education) অধীনে আটটি বিশেষায়িত স্কুলের জন্য এই ভর্তি যুদ্ধ। এখানে নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ (নাইন, টেন, ইলেভেন, টুয়েলভ)—এই চার ক্লাস মিলে হাইস্কুল।
গত বছর অষ্টম শ্রেণিতে প্রায় ২৯ হাজার শিক্ষার্থী এই ভর্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের সীমিত আসনে সুযোগ দিয়ে থাকে। যেমন আট শ নম্বরের এই পরীক্ষায় Stuyvesant স্কুলে সুযোগ পেতে হলে কমপক্ষে ৫৬২ নম্বর পেতে হবে। তেমনি Bronx Science-এ সুযোগ পেতে কমপক্ষে ৫১২, Staten Island ৫০৩, Lehman College ৫০১, York College ৫০০, HS for Math, Science and Engineering ৪৯৮, Brooklyn Technical ৪৮৩, Brooklyn Latin ৪৭১।

দুই ঘণ্টা তিরিশ মিনিটের এই পরীক্ষা নিয়ে আমাদের মায়েদের টেনশনের শেষ নেই। আমাদের সন্তানেরা কে কোন স্কুলে সুযোগ পাবে তা আগামী মার্চে রেজাল্ট না দেওয়া অবধি বলা মুশকিল। তাই আমরা সব কটি স্কুল সম্পর্কে যতটা সম্ভব ধারণা নিচ্ছি। এমনকি কোন স্কুলে যাওয়া আসায় সময় কেমন লাগে কিংবা কয়বার বাস-ট্রেন পরিবর্তন করতে হবে, সব। তথ্য সংগ্রহের ভালো সুযোগ থাকে স্কুল ওপেন হাউসে।
লেখিকা২০ অক্টোবর ছিল ব্রঙ্কস সায়েন্স স্কুলের ওপেন হাউস। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল স্কুলটি উন্মুক্ত। ঘুরে দেখা ও তথ্য জানার জন্য এবং স্টাফ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের খোলামেলা আলোচনার সুযোগের দিন। ঘুরে ঘুরে এ রুম, ও রুম দেখতে দেখতে কিছু কিছু তথ্যের ওপর চোখ আটকে থাকল। যেমন, এ পর্যন্ত এ স্কুলের আটজন গ্র্যাজুয়েটস নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। সাতজন ফিজিকসে। আরেকজন কেমিস্ট্রিতে। Pulitzer পুরস্কার পেয়েছেন ছয়জন গ্র্যাজুয়েটস। আমেরিকায় দ্বিতীয় কোনো Secondary স্কুল নেই যেখানকার এতজন গ্র্যাজুয়েটস এত সব সম্মানিত পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। বিষয়টি ভালো লেগেছে। ক্রিয়েটিভ রাইটিং বিষয়ে তথ্য জানার রুমটিতে ঢুকতেই চোখ আটকে গেল একটি লেখায়। I write because it helps me breathe…because there are stories in my heart that only I can tell.—Laurie Halse Anderson. তাই তো! আমার হৃদয় গহিনে যে গল্পগুলো আছে, তা তো কেবল আমিই বলতে পারি।
বাড়ির উদ্দেশে ফিরছি যখন ততক্ষণে বাইরে রাতের আঁধার। মেঘলা আকাশ আর গুড়িগুড়ি বৃষ্টির মাঝে হেঁটে যাচ্ছি স্টেশনের দিকে। এবার আর ট্রেনের ভেতরটায় ভিড় নেই। অনেকটাই ফাঁকা। শহরের কর্মক্লান্ত মানুষজন বেশির ভাগই ফিরে গিয়েছেন আপন নীড়ে। অথচ আসবার সময়টাতে কী ভয়াবহ ভিড়ই না ছিল। পরপর তিনটি ট্রেন একে একে চলে গিয়েছিল থেমে থেমে। আমরা শত শত যাত্রী দাঁড়িয়েছিলাম প্ল্যাটফর্মে, ট্রেনে উঠতে পারছিলাম না বলে। শেষে কোনোমতে চাপাচাপি করে উঠেছিলাম যদিও। তিল পরিমাণ জায়গা ছিল না। আমাদের কারওরই হ্যান্ডেল ধরে দাঁড়াবার প্রয়োজন হয়নি তখন। কেননা ডানে বাঁয়ে হেলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল না। মানুষে মানুষে এত ঠাসাঠাসি দেখে মনে হচ্ছিল আমার দেশের কথা। এ রকম ভিড়ে সেখানে একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যেত, নিশ্চিত। কয়েকজনের ফোন বা মানিব্যাগ খোয়া যেত। বিদেশ বিভুঁইয়ের এই নিরাপত্তাটুকু বেশ ভালো লাগে।
গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল স্টেশনে ট্রেন থামলে নেমে যাই। হাঁটছি অন্য প্ল্যাটফর্মের উদ্দেশে অন্য ট্রেন ধরব বলে। দিন শেষে বাড়ি ফেরার এই সময়টাতে ক্লান্ত শ্রান্ত মানুষগুলো ধীর গতিতে হাঁটেন। প্ল্যাটফর্মের একটি অংশে ক্ষণিক থামি। সুদর্শন এক যুবক মিউজিক বাজিয়ে গান গাইছে আপন মনে। পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় কেউ কেউ ডলার রেখে যাচ্ছেন। কিন্তু সেদিকে যুবকের ভ্রুক্ষেপ নেই। অদ্ভুত বিষাদময় এক সুর! দিন শেষে বাড়ির দিকে ফেরা ক্লান্ত মানুষজনের মনে কেমন এক প্রশান্তি নিয়ে আসে সেই সব সুর। আমি আবার হাঁটছি ধীর, স্থির ও শান্ত পায়ে। কানে ভেসে আসে যুবকের গান, wherever you go, whatever you do, I will be right here, waiting for you, waiting for you…
সেভেন ট্রেনের উদ্দেশে হেঁটে যেতে যেতে যতই দূরবর্তী হই, সেই সুর শ্রবণসীমায় ক্ষীণ হতে হতে মিলিয়ে যেতে থাকে প্ল্যাটফর্ম কাঁপিয়ে আসা ট্রেনের শব্দের সঙ্গে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X