মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৭:৫৫
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, November 21, 2016 9:32 am
A- A A+ Print

বিনাবিচারে আটক বন্দীদের মুক্তির জন্য আইনি উদ্যোগ

161856_1-1

দেশের কারাগারগুলোতে ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিনাবিচারে আটক থাকা বন্দীদের আইনি সহায়তা এবং পর্যায়ক্রমে মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের দেয়া এক নির্দেশের পর এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়। দেশের ৬৭টি কারাগারে এরকম বন্দীর সংখ্যা কত তা কারো জানা নেই। সম্প্রতি চার ব্যক্তিকে বিনা বিচারে বহু বছর কারাগারে আটকে রাখার এক ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে রিপোর্ট বেরুনোর পর এর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। সাবেক আইন মন্ত্রী শফিক আহমেদ বলছেন, এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট একটি নির্দেশনা দিয়েছে যার মূল কথা হচ্ছে: প্রত্যেক জেলায় যে ‘লিগ্যাল এইড়’ কমিটিগুলো আছে তারা এবং কারাগারগুলোর প্রিজনার ইন-চার্জ মিলে বিনাবিচারে কতজন বন্দী আটক আছেন তার একটি তালিকা তৈরি করবেন। খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে, গত সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্ট থেকে বাংলাদেশের প্রতিটি কারাগারের প্রধানের কাছে সেই নির্দেশনাটি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই তালিকা অনুযায়ী লিগ্যাল এইড তাদের আইনগত সহায়তা দেবে এবং মুক্ত করার ব্যবস্থা করবে। সারা দেশের যে সাতষট্টিটি কারাগার রয়েছে-সেগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বিনাবিচারে আটক বন্দীর সংখ্যা কত সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। যে চারজন বিনা বিচারে আটক থাকা বন্দীর ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমে রিপোর্ট বেরিয়েছে, এবং তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট-তারা বিভিন্ন মামলায় সর্বনিম্ন চৌদ্দ এবং সর্বোচ্চ ১৮ বছর ধরে কারাগারে আটক থাকলেও এখনো তাদের মামলাগুলো নিষ্পত্তি হয়নি। গত সপ্তাহান্তেই এমনই আরেকজন বন্দীকে ১৫ বছর আটক থাকার পর হাইকোর্টের নির্দেশে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। মূলত ঢাকার একজন টিভি সাংবাদিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হবার পর এসব ঘটনা উচ্চ আদালতের দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে এরকম বহু ঘটনা রয়েছে। শুধুমাত্র কাশিমপুর কারাগারেই এই মুহুর্তে ৫ বছরের বেশী সময় ধরে বিচারাধীন মামলার আসামী রয়েছেন ত্রিশ জন। ঢাকার শ্যামপুরে একটি হত্যা মামলার আসামী হিসেবে গত ১৭ বছর ধরে কারাবন্দী চাঁন মিয়া। মতিঝিলের সেন্টু কামাল কারাগারে আছেন ১৫ বছর ধরে, মাদারীপুরের মকবুল হোসেন ১৬ বছর এবং কুমিল্লার বিল্লাল হোসেন চৌদ্দ বছর ধরে কারাবন্দী। এরা সবাই আলাদা আলাদা হত্যা মামলার আসামী, সবাই রয়েছেন গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে, এবং এদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর আজো নিষ্পত্তি হয়নি। ঢাকার একটি বেসরকারি টেলিভিশন, চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের প্রতিবেদক মাকসুদুর রহমানের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এদের খবর। এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনকে আমলে নিয়েই দেশের হাইকোর্ট রবিবার একটি রুল জারি করে জানতে চেয়েছে, এদেরকে আটকে রাখা কেনো অবৈধ নয়। সেই সাথে এদেরকে আগামী চৌঠা ডিসেম্বর মামলার নথিপত্রসহ আদালতে হাজির হবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মাকসুদুর রহমান এর আগেও আরেক কারাবন্দীকে নিয়ে আরেকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছিলেন এবং সেই প্রতিবেদন প্রচারিত হবার পর মো. শিপন নামে ১৬ বছর ধরে বিনা বিচারে বন্দী এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে মুক্তি দেবার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। শিপনকে গত সপ্তাহান্তেই কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। সে এখন ঢাকার পুরনো অংশের সূত্রাপুরে পরিবারের সাথে বাস করছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে। কাশিমপুর কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বনিক বলছেন, কারাগারটিতে এ ধরণের বিচারাধীন মামলার আরো কিছু আসামী রয়েছে। অবশ্য সারা বাংলাদেশের বাকী যে সাতষট্টিটি কারাগার রয়েছে সেগুলোতে এরকম দীর্ঘদিন ধরে বিনা বিচারে বন্দীর সংখ্যা কত সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। বাংলাদেশে বিচার কার্যক্রমের দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়টি সর্বজন বিদিত এবং এরকম বন্দীর সংখ্যা যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হবে সেটা কাশিমপুর কারাগারের এই বিনা বিচারে বন্দীর সংখ্যা দেখেই অনুমান করা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এরা কেনো এই পরিস্থিতিতে পড়েছেন? বিচার কার্যক্রম শেষ হতে যদি দীর্ঘ সময় লেগে যায়, তাহলে তারা জামিন পাচ্ছেন না কেনো? সাবেক আইন মন্ত্রী শফিক আহমেদ বলছেন, এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট একটি নির্দেশনা দিয়েছে যার মূল কথা হচ্ছে: কারাগারগুলোতে ৫ বছরের অধিক সময় ধরে বিনা বিচারে আটকে থাকা আসামীদের সংখ্যা এবং বৃত্তান্ত যত দ্রুত সম্ভব পাঠিয়ে দিতে হবে। আর জেলাগুলোর লিগ্যাল এইড কমিটিকে বলা হয়েছে, এদের মধ্যে যাদের আইনজীবী নিয়োগ করবার সঙ্গতি নেই তাদেরকে প্রয়োজনীয় আইনী সহায়তা দিতে হবে। সূত্র: বিবিসি
 

Comments

Comments!

 বিনাবিচারে আটক বন্দীদের মুক্তির জন্য আইনি উদ্যোগAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

বিনাবিচারে আটক বন্দীদের মুক্তির জন্য আইনি উদ্যোগ

Monday, November 21, 2016 9:32 am
161856_1-1

দেশের কারাগারগুলোতে ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিনাবিচারে আটক থাকা বন্দীদের আইনি সহায়তা এবং পর্যায়ক্রমে মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের দেয়া এক নির্দেশের পর এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়। দেশের ৬৭টি কারাগারে এরকম বন্দীর সংখ্যা কত তা কারো জানা নেই।

সম্প্রতি চার ব্যক্তিকে বিনা বিচারে বহু বছর কারাগারে আটকে রাখার এক ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে রিপোর্ট বেরুনোর পর এর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট।

সাবেক আইন মন্ত্রী শফিক আহমেদ বলছেন, এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট একটি নির্দেশনা দিয়েছে যার মূল কথা হচ্ছে: প্রত্যেক জেলায় যে ‘লিগ্যাল এইড়’ কমিটিগুলো আছে তারা এবং কারাগারগুলোর প্রিজনার ইন-চার্জ মিলে বিনাবিচারে কতজন বন্দী আটক আছেন তার একটি তালিকা তৈরি করবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে, গত সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্ট থেকে বাংলাদেশের প্রতিটি কারাগারের প্রধানের কাছে সেই নির্দেশনাটি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই তালিকা অনুযায়ী লিগ্যাল এইড তাদের আইনগত সহায়তা দেবে এবং মুক্ত করার ব্যবস্থা করবে।

সারা দেশের যে সাতষট্টিটি কারাগার রয়েছে-সেগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বিনাবিচারে আটক বন্দীর সংখ্যা কত সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।

যে চারজন বিনা বিচারে আটক থাকা বন্দীর ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমে রিপোর্ট বেরিয়েছে, এবং তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট-তারা বিভিন্ন মামলায় সর্বনিম্ন চৌদ্দ এবং সর্বোচ্চ ১৮ বছর ধরে কারাগারে আটক থাকলেও এখনো তাদের মামলাগুলো নিষ্পত্তি হয়নি।

গত সপ্তাহান্তেই এমনই আরেকজন বন্দীকে ১৫ বছর আটক থাকার পর হাইকোর্টের নির্দেশে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়।

মূলত ঢাকার একজন টিভি সাংবাদিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হবার পর এসব ঘটনা উচ্চ আদালতের দৃষ্টিগোচর হচ্ছে।

কিন্তু বাংলাদেশে এরকম বহু ঘটনা রয়েছে। শুধুমাত্র কাশিমপুর কারাগারেই এই মুহুর্তে ৫ বছরের বেশী সময় ধরে বিচারাধীন মামলার আসামী রয়েছেন ত্রিশ জন।

ঢাকার শ্যামপুরে একটি হত্যা মামলার আসামী হিসেবে গত ১৭ বছর ধরে কারাবন্দী চাঁন মিয়া। মতিঝিলের সেন্টু কামাল কারাগারে আছেন ১৫ বছর ধরে, মাদারীপুরের মকবুল হোসেন ১৬ বছর এবং কুমিল্লার বিল্লাল হোসেন চৌদ্দ বছর ধরে কারাবন্দী।

এরা সবাই আলাদা আলাদা হত্যা মামলার আসামী, সবাই রয়েছেন গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে, এবং এদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর আজো নিষ্পত্তি হয়নি।

ঢাকার একটি বেসরকারি টেলিভিশন, চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের প্রতিবেদক মাকসুদুর রহমানের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এদের খবর।

এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনকে আমলে নিয়েই দেশের হাইকোর্ট রবিবার একটি রুল জারি করে জানতে চেয়েছে, এদেরকে আটকে রাখা কেনো অবৈধ নয়।

সেই সাথে এদেরকে আগামী চৌঠা ডিসেম্বর মামলার নথিপত্রসহ আদালতে হাজির হবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মাকসুদুর রহমান এর আগেও আরেক কারাবন্দীকে নিয়ে আরেকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছিলেন এবং সেই প্রতিবেদন প্রচারিত হবার পর মো. শিপন নামে ১৬ বছর ধরে বিনা বিচারে বন্দী এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে মুক্তি দেবার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

শিপনকে গত সপ্তাহান্তেই কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। সে এখন ঢাকার পুরনো অংশের সূত্রাপুরে পরিবারের সাথে বাস করছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে।

কাশিমপুর কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বনিক বলছেন, কারাগারটিতে এ ধরণের বিচারাধীন মামলার আরো কিছু আসামী রয়েছে।

অবশ্য সারা বাংলাদেশের বাকী যে সাতষট্টিটি কারাগার রয়েছে সেগুলোতে এরকম দীর্ঘদিন ধরে বিনা বিচারে বন্দীর সংখ্যা কত সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।

বাংলাদেশে বিচার কার্যক্রমের দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়টি সর্বজন বিদিত এবং এরকম বন্দীর সংখ্যা যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হবে সেটা কাশিমপুর কারাগারের এই বিনা বিচারে বন্দীর সংখ্যা দেখেই অনুমান করা যায়।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এরা কেনো এই পরিস্থিতিতে পড়েছেন? বিচার কার্যক্রম শেষ হতে যদি দীর্ঘ সময় লেগে যায়, তাহলে তারা জামিন পাচ্ছেন না কেনো?

সাবেক আইন মন্ত্রী শফিক আহমেদ বলছেন, এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট একটি নির্দেশনা দিয়েছে যার মূল কথা হচ্ছে: কারাগারগুলোতে ৫ বছরের অধিক সময় ধরে বিনা বিচারে আটকে থাকা আসামীদের সংখ্যা এবং বৃত্তান্ত যত দ্রুত সম্ভব পাঠিয়ে দিতে হবে।

আর জেলাগুলোর লিগ্যাল এইড কমিটিকে বলা হয়েছে, এদের মধ্যে যাদের আইনজীবী নিয়োগ করবার সঙ্গতি নেই তাদেরকে প্রয়োজনীয় আইনী সহায়তা দিতে হবে।

সূত্র: বিবিসি

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X