রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৯:৩০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, December 3, 2016 9:18 am
A- A A+ Print

বিপজ্জনক সময়ে আমাদের পৃথিবী

6

কথা হচ্ছে, মানুষ তো ভোট দিয়েই ফেলেছেন, কিন্তু অভিজ্ঞরা কী করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আমরা কী ভাবব, এটা জনপ্রিয়তার নির্জলা বিস্ফোরণ, যেটা আসলে বাস্তবতা আমলে নিতে পারেনি, অথবা আমরা কি তাঁদের এই পছন্দ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব। আমি বলব, সেটা হলে আমরা মারাত্মক ভুল করব।

এই ভোটের পেছনে মানুষের বিশ্বায়ন ও প্রাযুক্তিক বিকাশ নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল, তা বোধগম্য। কারখানা স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাওয়ায় বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন। এর সঙ্গে আছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যার কারণে মধ্যবিত্তের চাকরি হারানোর আশঙ্কা আরও বাড়বে। তখন তাঁদের জন্য বাকি থাকবে শুধু অধিকতর সৃজনশীল ও তত্ত্বাবধানজনিত কাজগুলো, যেখানে তাঁদের আরও যত্নশীল হতে হবে।

এতে বৈষম্য আরও বাড়বে। ইন্টারনেটের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অল্প কিছু মানুষকে নিয়োজিত করে প্রচুর মুনাফা করা সম্ভব, যার সিংহভাগ ভোগ করবে তার চেয়েও কম সংখ্যক মানুষ। এটা অনিবার্য, যা একই সঙ্গে অগ্রগতিও বটে। কিন্তু এটা সামাজিকভাবে ধ্বংসাত্মক। এর সঙ্গে আছে আর্থিক খাতের অবনমন। এই খাতে কাজ করা অল্প কিছু মানুষ বিপুলভাবে লাভবান হচ্ছেন, কিন্তু বাকিদের কাজ হচ্ছে, তাঁদের সফলতা নিশ্চিত করা। এরপর যখন তাঁদের লোভের কারণে পুরো ব্যবস্থা কলুষিত হবে, তখন তার জের টানতে হবে সেই আমজনতাকেই। অর্থাৎ আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি, যেখানে মানুষের মধ্যে বৈষম্য শুধু বাড়ছেই, যেখানে বিপুল মানুষের শুধু যাপিত জীবনের মান নয়, জীবিকা অর্জনের সক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে তাঁরা যে নতুন সামাজিক চুক্তির সন্ধান করছেন, তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই; ট্রাম্প ও ব্রেক্সিট তাদের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে।

ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বৈশ্বিক বিস্মৃতির আরও একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল হচ্ছে, এই অসমতার রূঢ় রূপটা একদম খোলাসা হয়ে গেছে। অতীত কালে ব্যাপারটা এমন ছিল না। আমার তো মনে হয়, প্রযুক্তি ব্যবহার করে যোগাযোগ করা ইতিবাচক অভিজ্ঞতা, যা আমাদের স্বাধীনতা দেয়। এটা ছাড়া আমি তো এত দিন ধরে কাজই করতে পারতাম না।

কিন্তু এতে হয়েছে কী, গরিব মানুষটার হাতে ফোন থাকলে সে ধনীতম মানুষের জীবনযাপনটাও দেখতে পাচ্ছে। সাব-সাহারা আফ্রিকা অঞ্চলে যত মানুষ ফোন ব্যবহার করে, তত মানুষ পরিষ্কার পানি পায় না। অর্থাৎ এই অসমতা থেকে বাঁচার উপায় নেই।

এর ফলাফল কী হবে, তা খালি চোখে দেখা যায়—গ্রামের গরিব মানুষের শহরে ভিড় করা, বস্তিতে ঠ্যাসাঠেসি করে থাকা প্রভৃতি, যারা আশার ভেলায় ভর করে শহরে আসে। এরপর অনেকে উন্নততর জীবনের সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমায়। আর তারা যেখানে যায়, সেখানে মানুষের সহিষ্ণুতা কমে যায় আর রাজনীতিতে জনপ্রিয় ধারা প্রধান হয়ে ওঠে।

এই অবস্থায় আমাদের একত্রে কাজ করতে হবে, যার প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। আমাদের কাছে এমন প্রযুক্তি আছে, যা দিয়ে আমরা পৃথিবী ধ্বংস করতে পারি, কিন্তু সেই ধ্বংসযজ্ঞ এড়ানোর প্রযুক্তি আমরা বিনির্মাণ করতে পারিনি। সম্ভবত আগামী কয়েক দশকে আমরা তারকাদের রাজ্যে মানববসতি নির্মাণ করতে পারব, কিন্তু এখন আমাদের হাতে একটিই পৃথিবী। আমাদের একত্রে কাজ করে একে রক্ষা করতে হবে।

এর জন্য জাতিতে জাতিতে যে বৈরিতা ছিল, তাদের মধ্যে যে বিভেদের দেয়াল ছিল, তা ভেঙে ফেলতে হবে। আমাদের যদি সেটা করতে হয়, তাহলে বিশ্বনেতাদের স্বীকার করতে হবে, তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁরা নানাভাবে প্রতিনিয়ত ব্যর্থ হচ্ছেন। তাঁরা অন্য অনেক মানুষকে ব্যর্থ করেছেন। আমাদের সম্পদ ক্রমাগত অল্প কিছু মানুষের হাতে পুঞ্জীভূত হচ্ছে, ফলে সেটা কীভাবে আরও বেশি করে ভাগাভাগি করা যায়, তা আমাদের শিখতে হবে।

ব্যাপারটা হচ্ছে কী, পৃথিবী থেকে চাকরিবাকরিই হারিয়ে যাচ্ছে না, শিল্প খাতই হারিয়ে যাচ্ছে। তাই মানুষকে নতুন পৃথিবীর জন্য উপযুক্ত করতে হবে। এর সঙ্গে তাদের আর্থিকভাবে সচ্ছল করতে হবে। সমাজ ও অর্থনীতি যদি অভিবাসীদের এই স্রোত সামলাতে না পারে, তাহলে আমাদের বৈশ্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হবে। সেটা করা গেলেই কেবল তারা ঘর ছেড়ে যাবে না, নিজ দেশেই কাজ পাবে।

আমরা এটা করতে পারি। আমি খুবই আশাবাদী একজন মানুষ। কিন্তু তার জন্য লন্ডন থেকে হার্ভার্ড ও কেমব্রিজ থেকে হলিউড পর্যন্ত—সব অভিজাতকে অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তবে সবার ওপরে তাদের সংযম শিখতে হবে, নম্র হতে হবে।

ব্রিটেনের দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া, অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন

স্টিফেন হকিং: ব্রিফ হিস্টরি অব টাইম গ্রন্থের লেখক কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক

Comments

Comments!

 বিপজ্জনক সময়ে আমাদের পৃথিবীAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

বিপজ্জনক সময়ে আমাদের পৃথিবী

Saturday, December 3, 2016 9:18 am
6

কথা হচ্ছে, মানুষ তো ভোট দিয়েই ফেলেছেন, কিন্তু অভিজ্ঞরা কী করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আমরা কী ভাবব, এটা জনপ্রিয়তার নির্জলা বিস্ফোরণ, যেটা আসলে বাস্তবতা আমলে নিতে পারেনি, অথবা আমরা কি তাঁদের এই পছন্দ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব। আমি বলব, সেটা হলে আমরা মারাত্মক ভুল করব।

এই ভোটের পেছনে মানুষের বিশ্বায়ন ও প্রাযুক্তিক বিকাশ নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল, তা বোধগম্য। কারখানা স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাওয়ায় বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন। এর সঙ্গে আছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যার কারণে মধ্যবিত্তের চাকরি হারানোর আশঙ্কা আরও বাড়বে। তখন তাঁদের জন্য বাকি থাকবে শুধু অধিকতর সৃজনশীল ও তত্ত্বাবধানজনিত কাজগুলো, যেখানে তাঁদের আরও যত্নশীল হতে হবে।

এতে বৈষম্য আরও বাড়বে। ইন্টারনেটের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অল্প কিছু মানুষকে নিয়োজিত করে প্রচুর মুনাফা করা সম্ভব, যার সিংহভাগ ভোগ করবে তার চেয়েও কম সংখ্যক মানুষ। এটা অনিবার্য, যা একই সঙ্গে অগ্রগতিও বটে। কিন্তু এটা সামাজিকভাবে ধ্বংসাত্মক। এর সঙ্গে আছে আর্থিক খাতের অবনমন। এই খাতে কাজ করা অল্প কিছু মানুষ বিপুলভাবে লাভবান হচ্ছেন, কিন্তু বাকিদের কাজ হচ্ছে, তাঁদের সফলতা নিশ্চিত করা। এরপর যখন তাঁদের লোভের কারণে পুরো ব্যবস্থা কলুষিত হবে, তখন তার জের টানতে হবে সেই আমজনতাকেই। অর্থাৎ আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি, যেখানে মানুষের মধ্যে বৈষম্য শুধু বাড়ছেই, যেখানে বিপুল মানুষের শুধু যাপিত জীবনের মান নয়, জীবিকা অর্জনের সক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে তাঁরা যে নতুন সামাজিক চুক্তির সন্ধান করছেন, তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই; ট্রাম্প ও ব্রেক্সিট তাদের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে।

ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বৈশ্বিক বিস্মৃতির আরও একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল হচ্ছে, এই অসমতার রূঢ় রূপটা একদম খোলাসা হয়ে গেছে। অতীত কালে ব্যাপারটা এমন ছিল না। আমার তো মনে হয়, প্রযুক্তি ব্যবহার করে যোগাযোগ করা ইতিবাচক অভিজ্ঞতা, যা আমাদের স্বাধীনতা দেয়। এটা ছাড়া আমি তো এত দিন ধরে কাজই করতে পারতাম না।

কিন্তু এতে হয়েছে কী, গরিব মানুষটার হাতে ফোন থাকলে সে ধনীতম মানুষের জীবনযাপনটাও দেখতে পাচ্ছে। সাব-সাহারা আফ্রিকা অঞ্চলে যত মানুষ ফোন ব্যবহার করে, তত মানুষ পরিষ্কার পানি পায় না। অর্থাৎ এই অসমতা থেকে বাঁচার উপায় নেই।

এর ফলাফল কী হবে, তা খালি চোখে দেখা যায়—গ্রামের গরিব মানুষের শহরে ভিড় করা, বস্তিতে ঠ্যাসাঠেসি করে থাকা প্রভৃতি, যারা আশার ভেলায় ভর করে শহরে আসে। এরপর অনেকে উন্নততর জীবনের সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমায়। আর তারা যেখানে যায়, সেখানে মানুষের সহিষ্ণুতা কমে যায় আর রাজনীতিতে জনপ্রিয় ধারা প্রধান হয়ে ওঠে।

এই অবস্থায় আমাদের একত্রে কাজ করতে হবে, যার প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। আমাদের কাছে এমন প্রযুক্তি আছে, যা দিয়ে আমরা পৃথিবী ধ্বংস করতে পারি, কিন্তু সেই ধ্বংসযজ্ঞ এড়ানোর প্রযুক্তি আমরা বিনির্মাণ করতে পারিনি। সম্ভবত আগামী কয়েক দশকে আমরা তারকাদের রাজ্যে মানববসতি নির্মাণ করতে পারব, কিন্তু এখন আমাদের হাতে একটিই পৃথিবী। আমাদের একত্রে কাজ করে একে রক্ষা করতে হবে।

এর জন্য জাতিতে জাতিতে যে বৈরিতা ছিল, তাদের মধ্যে যে বিভেদের দেয়াল ছিল, তা ভেঙে ফেলতে হবে। আমাদের যদি সেটা করতে হয়, তাহলে বিশ্বনেতাদের স্বীকার করতে হবে, তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁরা নানাভাবে প্রতিনিয়ত ব্যর্থ হচ্ছেন। তাঁরা অন্য অনেক মানুষকে ব্যর্থ করেছেন। আমাদের সম্পদ ক্রমাগত অল্প কিছু মানুষের হাতে পুঞ্জীভূত হচ্ছে, ফলে সেটা কীভাবে আরও বেশি করে ভাগাভাগি করা যায়, তা আমাদের শিখতে হবে।

ব্যাপারটা হচ্ছে কী, পৃথিবী থেকে চাকরিবাকরিই হারিয়ে যাচ্ছে না, শিল্প খাতই হারিয়ে যাচ্ছে। তাই মানুষকে নতুন পৃথিবীর জন্য উপযুক্ত করতে হবে। এর সঙ্গে তাদের আর্থিকভাবে সচ্ছল করতে হবে। সমাজ ও অর্থনীতি যদি অভিবাসীদের এই স্রোত সামলাতে না পারে, তাহলে আমাদের বৈশ্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হবে। সেটা করা গেলেই কেবল তারা ঘর ছেড়ে যাবে না, নিজ দেশেই কাজ পাবে।

আমরা এটা করতে পারি। আমি খুবই আশাবাদী একজন মানুষ। কিন্তু তার জন্য লন্ডন থেকে হার্ভার্ড ও কেমব্রিজ থেকে হলিউড পর্যন্ত—সব অভিজাতকে অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তবে সবার ওপরে তাদের সংযম শিখতে হবে, নম্র হতে হবে।

ব্রিটেনের দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া, অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন

স্টিফেন হকিং: ব্রিফ হিস্টরি অব টাইম গ্রন্থের লেখক কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X