শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৮:৪৬
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, September 29, 2016 2:59 pm
A- A A+ Print

বিশ্বের সব ভয়ংকর সিক্রেট সার্ভিস

246998_1

প্রথম সারির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সিআইএ’র রয়েছে শক্ত অবস্থান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সিক্রেট সার্ভিস সংস্থাটির রয়েছে অনেক বড় বড় সাফল্য। সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাধীন একটি বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা। এটি একটি স্বাধীন সংস্থা, যার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারকদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে গঠিত অফিস অফ স্ট্র্যাটেজিক সার্ভিসেস (ঙঝঝ)-এর উত্তরসূরী হিসেবে সিআইএ’র জন্ম। এর কাজ ছিলো যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করা। ১৯৪৭ সালে অনুমোদিত হওয়া ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বা জাতীয় নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে সিআইএ গঠন করা হয়, যাতে বলা হয় ‘এটি কোনো পুলিশ বা আইন রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান নয়, দেশে কিংবা বিদেশে যেখানেই কাজ করুক না কেনো’। অ্যাবোটাবাদে লাদেন হত্যা। আফগানিস্তান এবং ইরাকে মার্কিন সেনা অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বিশ্বের সব থেকে ধনী দেশের এই সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের। আর কোল্ড ওয়ারের সময় সিআইএ এজেন্টদের গুপ্তচর বৃত্তির সাফল্যের গল্পও কম নয়। এমআই সিক্স এমআই সিক্স ব্রিটেনের গোয়েন্দা সংস্থা। মিলিটারি ইন্টেলিজেন্ট সিক্স নামে এই সংস্থাকে সংক্ষেপে এমআই সিক্স বলা হয়। প্রযুক্তির ব্যবহারে এমআই সিক্সের তুলনা নেই। এমআই সিক্স’র অফিসিয়াল নাম সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এসআইএস)। ১৯০৯ সালের অক্টোবরে সিক্রেট সার্ভিস ব্যুরো নামে এটি গঠন করা হয়। ব্রিটিশ আধা সামরিক বাহিনীর এক রিপোর্টে বলা হয়, জার্মানির অনেক এজেন্ট ব্রিটেনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব এজেন্টের নিয়ন্ত্রণ তো দূরের কথা তাদের খুঁজে বের করার মতো কোনো সংগঠন ব্রিটেনের ছিল না। ব্রিটেনের গোয়েন্দাবৃত্তির দীর্ঘ ঐতিহ্য থাকলেও গোয়েন্দাগিরির সাংগঠনিক ভিত্তি ছিল দুর্বল। কিন্তু জার্মান গোয়েন্দাতৎপরতা থেকে আত্মরক্ষা করা ব্রিটেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। এরই ভিত্তিতে সিক্রেট সার্ভিস ব্যুরো গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির বিরুদ্ধে অনেকগুলো কার্যক্রমে এই ব্যুরো সফল হয়। প্রতিষ্ঠার প্রথম দিকে এ সংস্থার কার্যক্রম জার্মানি ও রাশিয়ায় সীমাবদ্ধ ছিল। মোসাদ ইসরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদও সারা বিশ্বে একটি প্রথম সারির গুপ্তচর সংস্থা। তালেবান জঙ্গিদের নিকেশে মোসাদের বহু কোভার্ট অপারেশন সাফল্য পেয়েছে। তালেবান জঙ্গিদের কাছে দুঃস্বপ্নের নাম মোসাদ। আরব লীগের প্রত্যাখানের মুখে ১৯৪৮ সালের ১৪ মে দখলভূমিতে ইসরাইলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। ইউরোপে ইহুদী নিধনযজ্ঞ বা ‘শোয়া’র দুঃস্বপ্ন ভুলতে পারে নি সেদেশের মানুষ। ফলে আরও একবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দূর করতে যে কোন পদক্ষেপ নিতে শুরু থেকেই প্রস্তুত ছোট্ট এই ইহুদী রাষ্ট্র। রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠার ১৯ মাসের মাথায় দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডাভিড বেন গুরিয়ন ‘মোসাদ’ প্রতিষ্ঠা করেন। ডিসেম্বর ১৩, ১৯৪৯ সালে দ্য সেন্ট্রাল ইন্সিটিটিউট ফর করডিনেসন নামে মোসাদের কর্যক্রম শুরু হয় তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫১ সালের মার্চে। ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার আগেই যেসব ইহুদি নিষিদ্ধ সংগঠন সংগ্রাম চালাচ্ছিল, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে যে কাঠামো গড়ে উঠেছিল, তাকে ‘মোসাদ’ এর পূর্বসূরি বলা হয়। মোসাদ সামরিক সার্ভিস নয়। যওি অধিকাংশ কর্মকর্তাই ইসরাইলের ডিফেন্স ফোর্সের। ১৯৪৯ সালে মোসাদের জন্ম হলেও ১৯৯৬ পর্যন্ত কেউই জানতো না এই সংস্থা প্রধানের কথা। ১৯৯৬ সালে যখন সাবতাই কে অপসারন করে ডেনি ইয়াতমকে নিয়োগ দেওয়া হয় এক ঘোষনার মাধ্যমে। তখন প্রথমবারের মত বিশ্ববাসী জানতে পারে এই সংস্থাটির প্রধান কে। ১৯৫৬ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে ২৮তম কম্যুনিস্ট সম্মেলনে যখন নিকিটা ক্রুশ্চেভ এক গোপন মিটিংয়ে ‘স্টালিনকে’ অভিযুক্ত ও অস্বীকার করে নিজেই প্রেসিডেন্ট বলে ঘোষনা করে, ঐ বক্তব্যের এক কপি মোসাদ সিআইএর হাতে দিয়ে দেয়। এই প্রথম সিআইএ মোসাদের কার্যক্রম উপলব্ধি করে যাতে সিআইএ অবিভূত হয়। কারণ সিআইএর মত সংস্থাটিও এই রকম একটা সেন্সেটিভ সংবাদ সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছিল। ‘র’ বা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং দক্ষতার জন্য সারা বিশ্বে ভারতের এই গুপ্তচর সংস্থার সুনাম রয়েছে। পাকিস্তানের আইএসআই ‘র’-এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। ১৯৬৮ সালে ‘র’-এর জন্ম। স্মাইলিং বুদ্ধ, মেঘদূত, চাণক্যর মতো একাধিক অপারেশনে সাফল্যের জন্য ‘র’কে বিশ্বের প্রথম সারির গুপ্তচর সংস্থা হিসেবে ধরা হয়। রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং ১৯৬২ সালে চীনের সাথে যুদ্ধ ও ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধে পূর্বতন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ব্যর্থতার জন্য নতুন গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান হিসেবে র প্রতিষ্ঠা করা হয়। রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের প্রাথমিক কাজ হচ্ছে ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের তথ্য সরবরাহ করা। বিদেশী সরকার, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গের তথ্য সরবরাহ করে রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং। কখনো কখোন বলা হয়, রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং হচ্ছে ভারতের জাতীয় শক্তির দক্ষ ব্যবহারের একটি মাধ্যম। ‘র’ ভারতের পরমাণু কর্মসূচির নিরাপত্তাজনিত ক্ষেত্রতেও নিযুক্ত ছিল। ভারতীয় সংসদের কাছে রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং দায় বদ্ধ নয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নিকট দায়বদ্ধ। ইন্টার সার্ভিস ইন্টিলিজেন্স (আইএসআই) পাকিস্তানের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা হচ্ছে আইএসআই। ১৯৪৮ সালে গঠিত হয় এই সংস্থাটি। এর কাজ হচ্ছে পাকিস্তান সরকারের নিরাপত্তা রক্ষায় তথ্য সংগ্রহ, প্রয়োজনে গুপ্তচর নিয়োগ করে তথ্য পাচার করা। আমেরিকার অপরাধ নিউজের মতে, আইএসআই পৃথিবীর এক নম্বর গোয়েন্দা সংস্থা। আইএসআইয়ের প্রধান অফিস পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। পাকিস্তানে আইএসআই ছাড়াও আরও দুটি গোয়েন্দা সংস্থা থাকলেও আইএসআইকে প্রধান হিসেবে ধরা হয়। পাকিস্তান যে বিদেশনীতিই নিক না কেন তাতে আইএসআইয়ের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ এমনটাই ভাবা হয়। গত শতকে আইএসআই আফগানিস্তানে আফগান মুজাহিদিন, তালেবানদের সহযোগিতার জন্য আলোচিত। ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) সোভিয়েন ইউনিয়ন থাকাকালীন কমিটি অব স্টেট সিকিউরিটি (কেজিবি)-এর পরবর্তী সফল গোয়েন্দা সংস্থা হচ্ছে এফএসবি। রাশিয়ার প্রধান নিরাপত্তা সংস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয় এটিকে। ১৯৯৫ সালে গঠন করা হয় এফএসবি। রাশিয়ার প্রতিরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এফএসবি। অন্যতম বৃহৎ এই সংস্থায় প্রায় আড়াই লাখেরও বেশি লোকবল রয়েছে। কমিউনিস্ট দেশ চীনের গুপ্তচর সংস্থা এমএসএস তার বিশাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্কের জন্য বিশ্বজোড়া সুনাম রয়েছে। ভারত, আমেরিকা এবং জাপানের মতো দেশগুলোতেই এমএসএস এজেন্টরা সব থেকে বেশি সক্রিয় বলে ধরা হয়। ডাইরেক্টর জেনারেল ফর সিকিউরিটি এক্সটারনাল, ফ্রান্সের গোয়েন্দা সংস্থা। ১৯৮২ সালে তৈরি ফ্রান্সের এই সিক্রেট সার্ভিস এজেন্সি মধ্য আফ্রিকায় ফরাসি কলোনি তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিল। তবে ইতিহাসের পাতায় বিখ্যাত ফোর্টিন জুলিয়েট অপারেশনে ব্যর্থতার দাগও লেগে আছে এই সংস্থার সঙ্গে। বিএনডি, জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থা। ১৯৫৬ সালে তৈরি জার্মানির এই গুপ্তচর সংস্থা ইসরায়েল এবং লেবাননের যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। লেবাননের জেল থেকে বহু যুদ্ধবন্দীর মুক্তির পেছনেও জার্মানির এই গুপ্তচর সংস্থার হাত ছিল বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়াও যুদ্ধের সময় সাংবাদিকদের ওপর চরবৃত্তিরও অভিযোগ রয়েছে বিএনডি’র বিরুদ্ধে।

Comments

Comments!

 বিশ্বের সব ভয়ংকর সিক্রেট সার্ভিসAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

বিশ্বের সব ভয়ংকর সিক্রেট সার্ভিস

Thursday, September 29, 2016 2:59 pm
246998_1

প্রথম সারির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সিআইএ’র রয়েছে শক্ত অবস্থান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সিক্রেট সার্ভিস সংস্থাটির রয়েছে অনেক বড় বড় সাফল্য। সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাধীন একটি বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা।

এটি একটি স্বাধীন সংস্থা, যার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারকদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে গঠিত অফিস অফ স্ট্র্যাটেজিক সার্ভিসেস (ঙঝঝ)-এর উত্তরসূরী হিসেবে সিআইএ’র জন্ম। এর কাজ ছিলো যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করা। ১৯৪৭ সালে অনুমোদিত হওয়া ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বা জাতীয় নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে সিআইএ গঠন করা হয়, যাতে বলা হয় ‘এটি কোনো পুলিশ বা আইন রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান নয়, দেশে কিংবা বিদেশে যেখানেই কাজ করুক না কেনো’।

অ্যাবোটাবাদে লাদেন হত্যা। আফগানিস্তান এবং ইরাকে মার্কিন সেনা অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বিশ্বের সব থেকে ধনী দেশের এই সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের। আর কোল্ড ওয়ারের সময় সিআইএ এজেন্টদের গুপ্তচর বৃত্তির সাফল্যের গল্পও কম নয়।

এমআই সিক্স

এমআই সিক্স ব্রিটেনের গোয়েন্দা সংস্থা। মিলিটারি ইন্টেলিজেন্ট সিক্স নামে এই সংস্থাকে সংক্ষেপে এমআই সিক্স বলা হয়। প্রযুক্তির ব্যবহারে এমআই সিক্সের তুলনা নেই। এমআই সিক্স’র অফিসিয়াল নাম সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এসআইএস)। ১৯০৯ সালের অক্টোবরে সিক্রেট সার্ভিস ব্যুরো নামে এটি গঠন করা হয়। ব্রিটিশ আধা সামরিক বাহিনীর এক রিপোর্টে বলা হয়, জার্মানির অনেক এজেন্ট ব্রিটেনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব এজেন্টের নিয়ন্ত্রণ তো দূরের কথা তাদের খুঁজে বের করার মতো কোনো সংগঠন ব্রিটেনের ছিল না। ব্রিটেনের গোয়েন্দাবৃত্তির দীর্ঘ ঐতিহ্য থাকলেও গোয়েন্দাগিরির সাংগঠনিক ভিত্তি ছিল দুর্বল। কিন্তু জার্মান গোয়েন্দাতৎপরতা থেকে আত্মরক্ষা করা ব্রিটেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। এরই ভিত্তিতে সিক্রেট সার্ভিস ব্যুরো গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির বিরুদ্ধে অনেকগুলো কার্যক্রমে এই ব্যুরো সফল হয়। প্রতিষ্ঠার প্রথম দিকে এ সংস্থার কার্যক্রম জার্মানি ও রাশিয়ায় সীমাবদ্ধ ছিল।

মোসাদ

ইসরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদও সারা বিশ্বে একটি প্রথম সারির গুপ্তচর সংস্থা। তালেবান জঙ্গিদের নিকেশে মোসাদের বহু কোভার্ট অপারেশন সাফল্য পেয়েছে। তালেবান জঙ্গিদের কাছে দুঃস্বপ্নের নাম মোসাদ।

আরব লীগের প্রত্যাখানের মুখে ১৯৪৮ সালের ১৪ মে দখলভূমিতে ইসরাইলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। ইউরোপে ইহুদী নিধনযজ্ঞ বা ‘শোয়া’র দুঃস্বপ্ন ভুলতে পারে নি সেদেশের মানুষ। ফলে আরও একবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দূর করতে যে কোন পদক্ষেপ নিতে শুরু থেকেই প্রস্তুত ছোট্ট এই ইহুদী রাষ্ট্র।

রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠার ১৯ মাসের মাথায় দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডাভিড বেন গুরিয়ন ‘মোসাদ’ প্রতিষ্ঠা করেন। ডিসেম্বর ১৩, ১৯৪৯ সালে দ্য সেন্ট্রাল ইন্সিটিটিউট ফর করডিনেসন নামে মোসাদের কর্যক্রম শুরু হয় তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫১ সালের মার্চে। ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার আগেই যেসব ইহুদি নিষিদ্ধ সংগঠন সংগ্রাম চালাচ্ছিল, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে যে কাঠামো গড়ে উঠেছিল, তাকে ‘মোসাদ’ এর পূর্বসূরি বলা হয়। মোসাদ সামরিক সার্ভিস নয়। যওি অধিকাংশ কর্মকর্তাই ইসরাইলের ডিফেন্স ফোর্সের।

১৯৪৯ সালে মোসাদের জন্ম হলেও ১৯৯৬ পর্যন্ত কেউই জানতো না এই সংস্থা প্রধানের কথা। ১৯৯৬ সালে যখন সাবতাই কে অপসারন করে ডেনি ইয়াতমকে নিয়োগ দেওয়া হয় এক ঘোষনার মাধ্যমে। তখন প্রথমবারের মত বিশ্ববাসী জানতে পারে এই সংস্থাটির প্রধান কে। ১৯৫৬ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে ২৮তম কম্যুনিস্ট সম্মেলনে যখন নিকিটা ক্রুশ্চেভ এক গোপন মিটিংয়ে ‘স্টালিনকে’ অভিযুক্ত ও অস্বীকার করে নিজেই প্রেসিডেন্ট বলে ঘোষনা করে, ঐ বক্তব্যের এক কপি মোসাদ সিআইএর হাতে দিয়ে দেয়। এই প্রথম সিআইএ মোসাদের কার্যক্রম উপলব্ধি করে যাতে সিআইএ অবিভূত হয়। কারণ সিআইএর মত সংস্থাটিও এই রকম একটা সেন্সেটিভ সংবাদ সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছিল।

‘র’ বা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং

দক্ষতার জন্য সারা বিশ্বে ভারতের এই গুপ্তচর সংস্থার সুনাম রয়েছে। পাকিস্তানের আইএসআই ‘র’-এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। ১৯৬৮ সালে ‘র’-এর জন্ম। স্মাইলিং বুদ্ধ, মেঘদূত, চাণক্যর মতো একাধিক অপারেশনে সাফল্যের জন্য ‘র’কে বিশ্বের প্রথম সারির গুপ্তচর সংস্থা হিসেবে ধরা হয়। রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং ১৯৬২ সালে চীনের সাথে যুদ্ধ ও ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধে পূর্বতন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ব্যর্থতার জন্য নতুন গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান হিসেবে র প্রতিষ্ঠা করা হয়। রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের প্রাথমিক কাজ হচ্ছে ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের তথ্য সরবরাহ করা। বিদেশী সরকার, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গের তথ্য সরবরাহ করে রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং। কখনো কখোন বলা হয়, রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং হচ্ছে ভারতের জাতীয় শক্তির দক্ষ ব্যবহারের একটি মাধ্যম। ‘র’ ভারতের পরমাণু কর্মসূচির নিরাপত্তাজনিত ক্ষেত্রতেও নিযুক্ত ছিল। ভারতীয় সংসদের কাছে রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং দায় বদ্ধ নয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নিকট দায়বদ্ধ।

ইন্টার সার্ভিস ইন্টিলিজেন্স (আইএসআই)

পাকিস্তানের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা হচ্ছে আইএসআই। ১৯৪৮ সালে গঠিত হয় এই সংস্থাটি। এর কাজ হচ্ছে পাকিস্তান সরকারের নিরাপত্তা রক্ষায় তথ্য সংগ্রহ, প্রয়োজনে গুপ্তচর নিয়োগ করে তথ্য পাচার করা। আমেরিকার অপরাধ নিউজের মতে, আইএসআই পৃথিবীর এক নম্বর গোয়েন্দা সংস্থা। আইএসআইয়ের প্রধান অফিস পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। পাকিস্তানে আইএসআই ছাড়াও আরও দুটি গোয়েন্দা সংস্থা থাকলেও আইএসআইকে প্রধান হিসেবে ধরা হয়। পাকিস্তান যে বিদেশনীতিই নিক না কেন তাতে আইএসআইয়ের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ এমনটাই ভাবা হয়। গত শতকে আইএসআই আফগানিস্তানে আফগান মুজাহিদিন, তালেবানদের সহযোগিতার জন্য আলোচিত।

ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি)

সোভিয়েন ইউনিয়ন থাকাকালীন কমিটি অব স্টেট সিকিউরিটি (কেজিবি)-এর পরবর্তী সফল গোয়েন্দা সংস্থা হচ্ছে এফএসবি। রাশিয়ার প্রধান নিরাপত্তা সংস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয় এটিকে। ১৯৯৫ সালে গঠন করা হয় এফএসবি। রাশিয়ার প্রতিরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এফএসবি। অন্যতম বৃহৎ এই সংস্থায় প্রায় আড়াই লাখেরও বেশি লোকবল রয়েছে।

কমিউনিস্ট দেশ চীনের গুপ্তচর সংস্থা এমএসএস তার বিশাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্কের জন্য বিশ্বজোড়া সুনাম রয়েছে। ভারত, আমেরিকা এবং জাপানের মতো দেশগুলোতেই এমএসএস এজেন্টরা সব থেকে বেশি সক্রিয় বলে ধরা হয়।

ডাইরেক্টর জেনারেল ফর সিকিউরিটি এক্সটারনাল, ফ্রান্সের গোয়েন্দা সংস্থা। ১৯৮২ সালে তৈরি ফ্রান্সের এই সিক্রেট সার্ভিস এজেন্সি মধ্য আফ্রিকায় ফরাসি কলোনি তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিল। তবে ইতিহাসের পাতায় বিখ্যাত ফোর্টিন জুলিয়েট অপারেশনে ব্যর্থতার দাগও লেগে আছে এই সংস্থার সঙ্গে।

বিএনডি, জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থা। ১৯৫৬ সালে তৈরি জার্মানির এই গুপ্তচর সংস্থা ইসরায়েল এবং লেবাননের যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। লেবাননের জেল থেকে বহু যুদ্ধবন্দীর মুক্তির পেছনেও জার্মানির এই গুপ্তচর সংস্থার হাত ছিল বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়াও যুদ্ধের সময় সাংবাদিকদের ওপর চরবৃত্তিরও অভিযোগ রয়েছে বিএনডি’র বিরুদ্ধে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X