শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৮:৫২
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, May 5, 2017 11:36 am | আপডেটঃ May 05, 2017 6:48 PM
A- A A+ Print

বুকের দুধে অনীহা মায়েদের

images

ফাতেমা বেগম। রাজধানীর পলাশী বাজারে এসেছেন তার দেড় বছরের শিশুর জন্য গুঁড়াদুধ কিনতে। নিয়েছেন নিডোর কৌটা গুঁড়াদুধ। তিনি জানান, তার বাচ্চা বুকের দুধ পায় না, তাই কৌটার দুধই তার ভরসা। শুধু ফাতেমা বেগমই নন, অনেক মায়েরাই শিশুকে বুকের দুধের পরিবর্তে বাজারের গুঁড়াদুধ খাওয়ান। বাংলাদেশে শিশুদের মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর হার কমেছে। অন্য দিকে গুঁড়াদুধ খাওয়ানোর হার বিপজ্জনকভাবে বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশে ২০১১ সালে সদ্যজাত থেকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের শুধু বুকের দুধ খাওয়ানোর হার ছিল ৬৪ শতাংশ, যা বর্তমানে ৯ শতাংশ কমে ৫৫ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। ব্র্যাকের গবেষণায় এ চিত্র দেখা গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নানা সুপারিশের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান (আইপিএইচএন)কে শক্তিশালী করার সুপারিশ উঠে এসেছে। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের এ বিষয়ে একটি সমীক্ষার ফলাফল তুলে ধরেন ব্র্যাকের গবেষক ফাহমিদা আক্তার। মূল প্রবন্ধে ফাহমিদা আক্তার বলেন, মায়ের বুকের দুধ পান নিশ্চিত করা হলে বিশ্বে বছরে পাঁচ বছরের কম বয়সী দুই লাখ বিশ হাজার শিশুকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব। কিন্তু এ বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ও সমাজে অগ্রগতি সমানভাবে আশানুরূপ হচ্ছে না। এতে আরও বলা হয়, মাতৃদুগ্ধ-বিকল্প ও শিশুখাদ্য বাজারজাতকরণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার আইন ও নীতিমালা প্রণয়নে অনেকটা এগিয়ে গেলেও এর বাস্তবায়ন অনেক পিছিয়ে আছে। ব্র্যাকের গবেষণায় দেখা গেছে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী, সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী, দোকান ও ফার্মেসি এবং পরিবার পর্যায়ে এ আইন সম্পর্কে ধারণার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। বিপরীতে গুঁড়াদুধ উৎপাদনকারী কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের এ আইন সম্পর্কে প্রখর জ্ঞান রয়েছে। বলেন, আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগের জন্য বাজার তদারকির ব্যবস্থা আরো জোরদার করতে হবে। একইসঙ্গে তিনি জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি প্রতিষ্ঠানকেও জনবল ও সামর্থ্যের দিক থেকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। দেশের পুষ্টিবিদদের মধ্যে ঐক্যের অভাব রয়েছে যার সুযোগ নিয়ে গুঁড়াদুধ ও শিশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য বাজারজাত করার ক্ষেত্রে ক্রমশ আরো বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠছে। এ আইন বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি এবং গুঁড়াদুধ প্রস্তুত ও বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন গণমাধ্যমের এগিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দেন, পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও জোর দেন। বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ পিডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহিদুল্লা বলেন, মাতৃদুগ্ধ-বিকল্প ও শিশুখাদ্য বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগের জন্য সরকার ও অন্যান্য অংশীদারকে যার যার জায়গা থেকে নিবিড় দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, এ আইন ভঙ্গ করার জন্য মামলা করতে হবে এবং অন্যায়কারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া আইনটি চিকিৎসকদের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও তিনি বলেন। আইপিএইচএন  চিকিৎসক এবিএম মাজহারুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত মোট প্রসবের মাত্র ৩৫ শতাংশ হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হচ্ছে। বাকি ৬৫ শতাংশ প্রসব বাসাবাড়িতে হয়। শিশুজন্মের প্রথম ছয় মাস শুধু বুকের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হলে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসবের হার বাড়াতে হবে। আর তা করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি পক্ষগুলোকে নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে। শিশুর মাতৃদুগ্ধ পানের হার বাড়াতে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই আর সেজন্য মসজিদ-মন্দিরসহ জনসমাগমের সব স্থানকে কাজে লাগাতে হবে। এছাড়া তিনি চিকিৎসক নিয়োগ পরীক্ষায় আইনটি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে অনুরোধ করা হবে বলে জানান। ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির পরিচালক ডা. কাওসার আফসানা এক সভায় মাতৃদুগ্ধ-বিকল্প ও শিশুখাদ্য বাজারজাতকরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইনটি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। মাতৃদুগ্ধ-বিকল্প ও শিশুখাদ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বাজারজাতকরণ কৌশলকে পরাজিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে বহুমুখী ও কার্যকর কৌশল গ্রহণ করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

Comments

Comments!

 বুকের দুধে অনীহা মায়েদেরAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

বুকের দুধে অনীহা মায়েদের

Friday, May 5, 2017 11:36 am | আপডেটঃ May 05, 2017 6:48 PM
images

ফাতেমা বেগম। রাজধানীর পলাশী বাজারে এসেছেন তার দেড় বছরের শিশুর জন্য গুঁড়াদুধ কিনতে। নিয়েছেন নিডোর কৌটা গুঁড়াদুধ। তিনি জানান, তার বাচ্চা বুকের দুধ পায় না, তাই কৌটার দুধই তার ভরসা। শুধু ফাতেমা বেগমই নন, অনেক মায়েরাই শিশুকে বুকের দুধের পরিবর্তে বাজারের গুঁড়াদুধ খাওয়ান। বাংলাদেশে শিশুদের মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর হার কমেছে। অন্য দিকে গুঁড়াদুধ খাওয়ানোর হার বিপজ্জনকভাবে বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশে ২০১১ সালে সদ্যজাত থেকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের শুধু বুকের দুধ খাওয়ানোর হার ছিল ৬৪ শতাংশ, যা বর্তমানে ৯ শতাংশ কমে ৫৫ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। ব্র্যাকের গবেষণায় এ চিত্র দেখা গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নানা সুপারিশের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান (আইপিএইচএন)কে শক্তিশালী করার সুপারিশ উঠে এসেছে। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের এ বিষয়ে একটি সমীক্ষার ফলাফল তুলে ধরেন ব্র্যাকের গবেষক ফাহমিদা আক্তার। মূল প্রবন্ধে ফাহমিদা আক্তার বলেন, মায়ের বুকের দুধ পান নিশ্চিত করা হলে বিশ্বে বছরে পাঁচ বছরের কম বয়সী দুই লাখ বিশ হাজার শিশুকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব। কিন্তু এ বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ও সমাজে অগ্রগতি সমানভাবে আশানুরূপ হচ্ছে না। এতে আরও বলা হয়, মাতৃদুগ্ধ-বিকল্প ও শিশুখাদ্য বাজারজাতকরণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার আইন ও নীতিমালা প্রণয়নে অনেকটা এগিয়ে গেলেও এর বাস্তবায়ন অনেক পিছিয়ে আছে। ব্র্যাকের গবেষণায় দেখা গেছে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী, সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী, দোকান ও ফার্মেসি এবং পরিবার পর্যায়ে এ আইন সম্পর্কে ধারণার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। বিপরীতে গুঁড়াদুধ উৎপাদনকারী কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের এ আইন সম্পর্কে প্রখর জ্ঞান রয়েছে। বলেন, আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগের জন্য বাজার তদারকির ব্যবস্থা আরো জোরদার করতে হবে। একইসঙ্গে তিনি জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি প্রতিষ্ঠানকেও জনবল ও সামর্থ্যের দিক থেকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। দেশের পুষ্টিবিদদের মধ্যে ঐক্যের অভাব রয়েছে যার সুযোগ নিয়ে গুঁড়াদুধ ও শিশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য বাজারজাত করার ক্ষেত্রে ক্রমশ আরো বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠছে। এ আইন বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি এবং গুঁড়াদুধ প্রস্তুত ও বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন গণমাধ্যমের এগিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দেন, পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও জোর দেন।
বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ পিডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহিদুল্লা বলেন, মাতৃদুগ্ধ-বিকল্প ও শিশুখাদ্য বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগের জন্য সরকার ও অন্যান্য অংশীদারকে যার যার জায়গা থেকে নিবিড় দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, এ আইন ভঙ্গ করার জন্য মামলা করতে হবে এবং অন্যায়কারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া আইনটি চিকিৎসকদের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও তিনি বলেন। আইপিএইচএন  চিকিৎসক এবিএম মাজহারুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত মোট প্রসবের মাত্র ৩৫ শতাংশ হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হচ্ছে। বাকি ৬৫ শতাংশ প্রসব বাসাবাড়িতে হয়। শিশুজন্মের প্রথম ছয় মাস শুধু বুকের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হলে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসবের হার বাড়াতে হবে। আর তা করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি পক্ষগুলোকে নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে। শিশুর মাতৃদুগ্ধ পানের হার বাড়াতে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই আর সেজন্য মসজিদ-মন্দিরসহ জনসমাগমের সব স্থানকে কাজে লাগাতে হবে। এছাড়া তিনি চিকিৎসক নিয়োগ পরীক্ষায় আইনটি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে অনুরোধ করা হবে বলে জানান। ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির পরিচালক ডা. কাওসার আফসানা এক সভায় মাতৃদুগ্ধ-বিকল্প ও শিশুখাদ্য বাজারজাতকরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইনটি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। মাতৃদুগ্ধ-বিকল্প ও শিশুখাদ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বাজারজাতকরণ কৌশলকে পরাজিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে বহুমুখী ও কার্যকর কৌশল গ্রহণ করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X