শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ১০:০৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, May 4, 2017 10:09 am
A- A A+ Print

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় : আপ্যায়নে উপাচার্যের এত ব্যয়!

8

উপাচার্য দুই বছরে ক্যাম্পাসে অবস্থান করেছেন ১৬৫ দিন। এই সময়ে তাঁর আপ্যায়ন বাবদ ব্যয় হয়েছে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৪৯৫ টাকা। কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বেও তিনি। একই সময়ে কোষাধ্যক্ষের আপ্যায়ন বাবদ ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৩ টাকা। রংপুরে অবস্থিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ কে এম নূর-উন-নবীর আপ্যায়ন বাবদ অস্বাভাবিক এই ব্যয় হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও কয়েকটি ক্ষেত্রে অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, শিক্ষা ও গবেষণাকাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদানে উপাচার্য সফল হননি। জানতে চাইলে উপাচার্য এ কে এম নূর-উন-নবী গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, তিনি প্রতিবেদন দেখেননি। এ প্রতিবেদকের কাছে যা শুনেছেন, তাতে তিনি বলতে পারেন, এগুলো ঠিক নয়। বরং তিনি শূন্য কোষাগার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে শৃঙ্খলায় এনেছেন। বিভিন্ন ভাতার টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে জমা দিয়েছেন। সেখানে তিনি দুর্নীতি করবেন কেন? তাঁর দাবি, এ নিয়ে কোনো নিরীক্ষা আপত্তিও নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর ও পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক নূর-উন-নবীকে চার বছর আগে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করে সরকার। কাল ৫ মে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শুক্রবার হওয়ায় আজই তাঁর শেষ কর্মদিবস। তাঁর আগের উপাচার্য মু. আবদুল জলিল মিয়াকে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে অপসারণ করা হয়েছিল। ইউজিসির চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, উপাচার্যের (নূর-উন-নবী) বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছিল, তা তদন্ত করে পর্যবেক্ষণসহ প্রতিবেদনটি কয়েক দিন আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান ও ইউজিসির সদস্য আখতার হোসেন বলেন, প্রতিবেদনেই সব বলা হয়েছে। উপাচার্যের তিন গাড়ি প্রতিবেদনে বলা হয়, উপাচার্য রংপুরে দুটি ও ঢাকায় একটি গাড়ি ব্যবহার করেন। প্রাধিকার অনুযায়ী তিনি একটি গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন। ঢাকায় ব্যক্তিগত বাসায় রাখা গাড়িতে মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো। গাড়ির জ্বালানি খরচসহ অন্যান্য ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া হয়। উপাচার্য তদন্ত কমিটিকে বলেছেন, স্টিকার লাগানো গাড়ি দিয়ে মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন অফিস বা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত সহজ হওয়ার কারণে গাড়িটি ঢাকায় রাখা হয়েছে। কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, উপাচার্যের জন্য তিনটি গাড়ি ব্যবহার বিলাসিতা। উপাচার্য প্রথম আলোকে বলেন, তিনি তিনটি গাড়ি ব্যবহার করেন না। ঢাকার পুরোনো গাড়িটি শুধু সচিবালয়ে যেতে ব্যবহার করেন। প্রায়ই থাকেন ঢাকায় অভিযোগ উঠেছিল, উপাচার্য ২০১৩ সালে ১১৬ দিন, ২০১৪ সালে ১৫৯ দিন ও ২০১৫ সালে ১৪৬ দিন এবং ২০১৬ সালের ছয় মাসে ৭৪ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, উপাচার্য বিভিন্ন কমিটির সভা, সেমিনার, কর্মশালা, সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং দাপ্তরিক কাজে ইউজিসি, মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায়ই যাতায়াত করেছেন এবং ঢাকায় অবস্থান করেছেন। তাঁর দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। তদন্তের সময়ও উপাচার্য একাই কোষাধ্যক্ষসহ আটটি গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্বে ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের উদ্যোগ নেননি। এতে উপাচার্যের একার হাতে সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়েছে। এ বিষয়ে উপাচার্য প্রথম আলোকে বলেন, বাধ্য হয়ে তাঁকে বিভিন্ন দায়িত্ব নিতে হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও কয়েকটি খাতে অনিয়মের তথ্য থাকলেও উপাচার্য প্রথম আলোকে বলেন, তিনি নিয়মের বাইরে কিছু করেননি।

Comments

Comments!

 বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় : আপ্যায়নে উপাচার্যের এত ব্যয়!AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় : আপ্যায়নে উপাচার্যের এত ব্যয়!

Thursday, May 4, 2017 10:09 am
8

উপাচার্য দুই বছরে ক্যাম্পাসে অবস্থান করেছেন ১৬৫ দিন। এই সময়ে তাঁর আপ্যায়ন বাবদ ব্যয় হয়েছে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৪৯৫ টাকা। কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বেও তিনি। একই সময়ে কোষাধ্যক্ষের আপ্যায়ন বাবদ ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৩ টাকা।
রংপুরে অবস্থিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ কে এম নূর-উন-নবীর আপ্যায়ন বাবদ অস্বাভাবিক এই ব্যয় হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও কয়েকটি ক্ষেত্রে অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, শিক্ষা ও গবেষণাকাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদানে উপাচার্য সফল হননি।
জানতে চাইলে উপাচার্য এ কে এম নূর-উন-নবী গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, তিনি প্রতিবেদন দেখেননি। এ প্রতিবেদকের কাছে যা শুনেছেন, তাতে তিনি বলতে পারেন, এগুলো ঠিক নয়। বরং তিনি শূন্য কোষাগার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে শৃঙ্খলায় এনেছেন। বিভিন্ন ভাতার টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে জমা দিয়েছেন। সেখানে তিনি দুর্নীতি করবেন কেন? তাঁর দাবি, এ নিয়ে কোনো নিরীক্ষা আপত্তিও নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর ও পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক নূর-উন-নবীকে চার বছর আগে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করে সরকার। কাল ৫ মে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শুক্রবার হওয়ায় আজই তাঁর শেষ কর্মদিবস। তাঁর আগের উপাচার্য মু. আবদুল জলিল মিয়াকে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে অপসারণ করা হয়েছিল।
ইউজিসির চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, উপাচার্যের (নূর-উন-নবী) বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছিল, তা তদন্ত করে পর্যবেক্ষণসহ প্রতিবেদনটি কয়েক দিন আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে মন্ত্রণালয়।
প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান ও ইউজিসির সদস্য আখতার হোসেন বলেন, প্রতিবেদনেই সব বলা হয়েছে।
উপাচার্যের তিন গাড়ি
প্রতিবেদনে বলা হয়, উপাচার্য রংপুরে দুটি ও ঢাকায় একটি গাড়ি ব্যবহার করেন। প্রাধিকার অনুযায়ী তিনি একটি গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন। ঢাকায় ব্যক্তিগত বাসায় রাখা গাড়িতে মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো। গাড়ির জ্বালানি খরচসহ অন্যান্য ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া হয়। উপাচার্য তদন্ত কমিটিকে বলেছেন, স্টিকার লাগানো গাড়ি দিয়ে মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন অফিস বা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত সহজ হওয়ার কারণে গাড়িটি ঢাকায় রাখা হয়েছে।
কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, উপাচার্যের জন্য তিনটি গাড়ি ব্যবহার বিলাসিতা। উপাচার্য প্রথম আলোকে বলেন, তিনি তিনটি গাড়ি ব্যবহার করেন না। ঢাকার পুরোনো গাড়িটি শুধু সচিবালয়ে যেতে ব্যবহার করেন।
প্রায়ই থাকেন ঢাকায়
অভিযোগ উঠেছিল, উপাচার্য ২০১৩ সালে ১১৬ দিন, ২০১৪ সালে ১৫৯ দিন ও ২০১৫ সালে ১৪৬ দিন এবং ২০১৬ সালের ছয় মাসে ৭৪ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, উপাচার্য বিভিন্ন কমিটির সভা, সেমিনার, কর্মশালা, সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং দাপ্তরিক কাজে ইউজিসি, মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায়ই যাতায়াত করেছেন এবং ঢাকায় অবস্থান করেছেন। তাঁর দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। তদন্তের সময়ও উপাচার্য একাই কোষাধ্যক্ষসহ আটটি গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্বে ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের উদ্যোগ নেননি। এতে উপাচার্যের একার হাতে সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
এ বিষয়ে উপাচার্য প্রথম আলোকে বলেন, বাধ্য হয়ে তাঁকে বিভিন্ন দায়িত্ব নিতে হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও কয়েকটি খাতে অনিয়মের তথ্য থাকলেও উপাচার্য প্রথম আলোকে বলেন, তিনি নিয়মের বাইরে কিছু করেননি।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X