মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১১:৩৩
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, January 17, 2017 8:32 am
A- A A+ Print

বেপরোয়া শেয়ারবাজার : লেনদেনে রেকর্ড

7

আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠছে শেয়ারবাজার। প্রতিদিনই অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে মূল্যসূচক ও বাজার মূলধন। গত ১৫ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন বেড়েছে ২৮ হাজার কোটি টাকা। এ হিসাবে প্রতিদিনই গড়ে বাজার মূলধন বেড়েছে ২ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া সোমবার ডিএসইতে প্রায় ৬৮ কোটি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা এ যাবতকালের সর্বোচ্চ। পাশাপাশি অস্বাভাবিক বাড়ছে দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজারের জন্য ঝুঁকি বাড়ছে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী যুগান্তরকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ছে। এতে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব কোম্পানি থেকে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক হতে হবে। তিনি বলেন, বাজারের সূচক বেড়েছে; এটি ইতিবাচক। তবে এটি আরও সময় নিয়ে বাড়লে ভালো হতো। ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ ডিসেম্বর ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। এরপর টানা উত্থান। আর সোমবার পর্যন্ত গত ১৫ কার্যদিবসে বাজার মূলধন ২৮ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। সর্বশেষ বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকায়। আলোচ্য সময়ে ডিএসইর মূল্যসূচক ৪ হাজার ৫২৪ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৪৭৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ফলে সূচক বেড়েছে ৫৫৩ পয়েন্ট। সবচেয়ে অস্বাভাবিক হল শেয়ার লেনদেন। সোমবার ডিএসইতে প্রায় ৬৮ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। একদিনে ডিএসইতে এত শেয়ার আর কখনও হাতবদল হয়নি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দীর্ঘদিন শেয়ারবাজার নেতিবাচক ছিল। ফলে বাজারের ঊর্ধ্বগতি খারাপ নয়। তবে বিস্ময়কর বিষয় হল, অর্থনীতিতে হঠাৎ করে এমন কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি, যাতে শেয়ারবাজার এভাবে বাড়তে পারে। সূত্র জানায়, খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে শেয়ারবাজারে বিভিন্ন সংস্কার হলেও গত ৫ বছরে লেনদেনে গতি আনা যায়নি। এ সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রণোদনা দেয়া এবং বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের পক্ষ থেকে তারল্য বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগ নেয়া হয়। এরপরও বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। ফলে অনেকটাই নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল শেয়ারবাজার। আর এর মূল্য দিতে হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসকে। বর্তমানে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ইক্যুইটি (মূলধন) নেতিবাচক ছিল। এছাড়া অব্যাহত লোকসানের ব্রোকারেজ হাউসগুলো থেকে হাজারের বেশি কর্মচারী ছাঁটাই করা হয়েছে। তবে বর্তমানে সব ব্রোকারেজ হাউস তাদের নেতিবাচক ইক্যুইটি কাটিয়ে উঠেছে। এরা বাজার থেকে বের হয়ে গেলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বিপদে পড়বে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে সোমবার ৩২৮টি প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৮৫৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে, যা গত ৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে ২০১১ সালের ২৫ জুলাই ডিএসইতে ১ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। সোমবার লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৩৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, কমেছে ১৭০টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৯টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। ডিএসইর ব্রড সূচক আগের দিনের চেয়ে ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৭৭ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক ১০ দশমিক ৪১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৪৪ দশমিক ৪৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই শরীয়াহ্ সূচক ৬ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৬০ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।

Comments

Comments!

 বেপরোয়া শেয়ারবাজার : লেনদেনে রেকর্ডAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

বেপরোয়া শেয়ারবাজার : লেনদেনে রেকর্ড

Tuesday, January 17, 2017 8:32 am
7

আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠছে শেয়ারবাজার। প্রতিদিনই অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে মূল্যসূচক ও বাজার মূলধন। গত ১৫ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন বেড়েছে ২৮ হাজার কোটি টাকা। এ হিসাবে প্রতিদিনই গড়ে বাজার মূলধন বেড়েছে ২ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া সোমবার ডিএসইতে প্রায় ৬৮ কোটি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা এ যাবতকালের সর্বোচ্চ। পাশাপাশি অস্বাভাবিক বাড়ছে দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজারের জন্য ঝুঁকি বাড়ছে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী যুগান্তরকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ছে। এতে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব কোম্পানি থেকে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক হতে হবে।

তিনি বলেন, বাজারের সূচক বেড়েছে; এটি ইতিবাচক। তবে এটি আরও সময় নিয়ে বাড়লে ভালো হতো। ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ ডিসেম্বর ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। এরপর টানা উত্থান। আর সোমবার পর্যন্ত গত ১৫ কার্যদিবসে বাজার মূলধন ২৮ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। সর্বশেষ বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকায়। আলোচ্য সময়ে ডিএসইর মূল্যসূচক ৪ হাজার ৫২৪ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৪৭৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ফলে সূচক বেড়েছে ৫৫৩ পয়েন্ট। সবচেয়ে অস্বাভাবিক হল শেয়ার লেনদেন। সোমবার ডিএসইতে প্রায় ৬৮ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। একদিনে ডিএসইতে এত শেয়ার আর কখনও হাতবদল হয়নি।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দীর্ঘদিন শেয়ারবাজার নেতিবাচক ছিল। ফলে বাজারের ঊর্ধ্বগতি খারাপ নয়। তবে বিস্ময়কর বিষয় হল, অর্থনীতিতে হঠাৎ করে এমন কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি, যাতে শেয়ারবাজার এভাবে বাড়তে পারে। সূত্র জানায়, খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে শেয়ারবাজারে বিভিন্ন সংস্কার হলেও গত ৫ বছরে লেনদেনে গতি আনা যায়নি।

এ সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রণোদনা দেয়া এবং বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের পক্ষ থেকে তারল্য বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগ নেয়া হয়। এরপরও বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। ফলে অনেকটাই নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল শেয়ারবাজার। আর এর মূল্য দিতে হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসকে। বর্তমানে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ইক্যুইটি (মূলধন) নেতিবাচক ছিল। এছাড়া অব্যাহত লোকসানের ব্রোকারেজ হাউসগুলো থেকে হাজারের বেশি কর্মচারী ছাঁটাই করা হয়েছে। তবে বর্তমানে সব ব্রোকারেজ হাউস তাদের নেতিবাচক ইক্যুইটি কাটিয়ে উঠেছে। এরা বাজার থেকে বের হয়ে গেলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বিপদে পড়বে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে সোমবার ৩২৮টি প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৮৫৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে, যা গত ৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

এর আগে ২০১১ সালের ২৫ জুলাই ডিএসইতে ১ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। সোমবার লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৩৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, কমেছে ১৭০টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৯টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। ডিএসইর ব্রড সূচক আগের দিনের চেয়ে ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৭৭ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক ১০ দশমিক ৪১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৪৪ দশমিক ৪৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই শরীয়াহ্ সূচক ৬ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৬০ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X