মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:৪১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, September 5, 2016 8:27 am
A- A A+ Print

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও টিউশন ফি লাগামহীন

240870_1

দুুই দশকের বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু শিার্থীদের ভর্তি-টিউশন ফি সংক্রান্ত কোনো নীতিমালা তৈরি করতে পারেনি সরকার। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্যানুযায়ী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফি, টিউশন ফি এবং শিকদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য বিষয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। তা ছাড়া ট্রান্সক্রিপ্ট, সার্টিফিকেট ও প্রশংসাপত্র ইত্যাদি সরবরাহ করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচ্চহারে ফি নেওয়ার হাজার-হাজার অভিযোগ আসে কমিশনে। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতিবছরই সব ফি বৃদ্ধি করে বলে অভিযোগ শিার্থী ও অভিভাবকদের। এসব অভিযোগের পর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি সংক্রান্ত একটি নীতিমালা করা জরুরি উল্লেখ করে ২০১৩ সালের অক্টোবরে শিা মন্ত্রণালয়ে একটি সুপারিশ পাঠায় ইউজিসি। তিন বছর আগে ইউজিসির প্রস্তাবিত নীতিমালা অঙ্কুরেই থেকে গেল। ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারণেই নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হয়নি। শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, অনেকটা দেরিতে বোধোদয় হলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি সংক্রান্ত একটি নীতিমালা করার। কিন্তু সেটাও আলোর মুখ দেখেনি। সরকার কোনোভাবেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কর্তৃত্ব রাখতে পারছে না। হয় তারা রাজনৈতিক প্রভাবশালী, না হয় অবাধ্য। একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও টিউশন ফি মধ্যবিত্ত পরিবারের নাগালের বাইরে। একটি গ্রহণযোগ্য টিউশন ফি নীতিমালা প্রণয়ন করার দাবি জানান তারা। টিউশন ফি নীতিমালা প্রণয়ন বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০-এ ভর্তি ফি সহনীয় পর্যায়ে রাখার কথা উল্লেখ আছে। তারপরও একটি পৃথক নীতিমালার কাজ চলছে। তবে কখন শেষ হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। ইউজিসির একজন সদস্য বলেন, কমিশনে তার যোগদানের আগে একটি নীতিমালা নিয়ে কাজ করা হয়েছিল। সেটা বাস্তবায়ন হয়নি। সবার সহযোগিতা না থাকলে এমন নীতিমালা করা অসম্ভব। এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান ভিন্ন, খরচও ভিন্ন। এক্ষেত্রে নীতিমালা করে নিয়ন্ত্রণ করা অনেটা কষ্টসাধ্য। গত দুই দশক ধরে বিভিন্ন সরকারের আমলে ধারাবাহিকভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব শিা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার জন্য ফি নির্ধারণে কোনো নীতিমালা করতে পারেনি সরকার। ফলে ইচ্ছামতো ফি আদায় করছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। একজন অভিভাবক গোলাম মাহবুব চৌধুরী জানান, তার ছেলের বিবিএ সম্পন্ন করতেই ৭ থেকে ৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়। যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে না তারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে। কিন্তু এমন খরচ হলে মধ্যবিত্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আর উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হবে না। ইউজিসির তথ্যানুযায়ী, কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিার্থীদের খরচের হিসাবে দেখা গেছে, শিার্থীদের পছন্দের শীর্ষে থাকা বিষয়গুলোয় পড়াশোনার খরচ মধ্যবিত্তদের নাগালের বাইরে। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ) পড়তে খরচ ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত, মাস্টার্স অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) ১ লাখ থেকে ৫ লাখ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ৩ লাখ থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক পড়তে ২ লাখ থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ, ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (ইসিই) ৩ লাখ থেকে ৭ লাখ ও সাংবাদিকতায় স্নাতক পড়তে ২ লাখ থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়। এ বছর এই খরচ আরও বাড়তে পারে। তবে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এর চেয়ে কম খরচেও লেখাপড়ার সুযোগ আছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বত্বাধিকারীদের সংগঠন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন খরচ নির্ধারণ করা হয়, তখন পাশের আরেকটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচের কাছাকাছি নির্ধারণ করা হয়। কত ভর্তি ফি, বেতন, হোস্টেল ভাড়া ইত্যাদি। কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সব একই মানের নয়। কারো অবকাঠামো সুযোগ-সুবিধা বেশি, কারো কম, কোথাও মানসম্পন্ন বেশি বেতনের শিক্ষক ইত্যাদি নানা কারণে শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও টিউশন ফিতে কমবেশি তারতম্য হবেই। কিন্তু সবার একই করা যাবে না। সরকার চাইলে সেটা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে করা যেতে পারে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিাদানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মুনাফালোভী না হয়ে সেবার জন্য ব্রতী হওয়া প্রয়োজন। এ জন্য শিার্থীদের প্রদেয় বিভিন্ন ফি ও চার্জ সহনীয় পর্যায়ে রাখা অত্যাবশ্যক। তিনি মনে করেন, মেধাবী ও দরিদ্র শিার্থীদের উচ্চশিা লাভের পথ আরও সুগম করতে হবে। বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় প্রায় ৪ লাখের মতো শিার্থী অধ্যয়ন করছে। দেশে ১৯৯২ সাল থেকে চলতি বছর আগস্ট পর্যন্ত ৯৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত দেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণকারী মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৬৩ শতাংশ অধ্যয়ন করছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইতোমধ্যে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির ফল প্রকাশ হয়েছে। উচ্চশিক্ষায় ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়।  

Comments

Comments!

 বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও টিউশন ফি লাগামহীনAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও টিউশন ফি লাগামহীন

Monday, September 5, 2016 8:27 am
240870_1

দুুই দশকের বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু শিার্থীদের ভর্তি-টিউশন ফি সংক্রান্ত কোনো নীতিমালা তৈরি করতে পারেনি সরকার।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্যানুযায়ী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফি, টিউশন ফি এবং শিকদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য বিষয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। তা ছাড়া ট্রান্সক্রিপ্ট, সার্টিফিকেট ও প্রশংসাপত্র ইত্যাদি সরবরাহ করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচ্চহারে ফি নেওয়ার হাজার-হাজার অভিযোগ আসে কমিশনে। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতিবছরই সব ফি বৃদ্ধি করে বলে অভিযোগ শিার্থী ও অভিভাবকদের।

এসব অভিযোগের পর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি সংক্রান্ত একটি নীতিমালা করা জরুরি উল্লেখ করে ২০১৩ সালের অক্টোবরে শিা মন্ত্রণালয়ে একটি সুপারিশ পাঠায় ইউজিসি। তিন বছর আগে ইউজিসির প্রস্তাবিত নীতিমালা অঙ্কুরেই থেকে গেল।

ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারণেই নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হয়নি।

শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, অনেকটা দেরিতে বোধোদয় হলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি সংক্রান্ত একটি নীতিমালা করার। কিন্তু সেটাও আলোর মুখ দেখেনি। সরকার কোনোভাবেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কর্তৃত্ব রাখতে পারছে না। হয় তারা রাজনৈতিক প্রভাবশালী, না হয় অবাধ্য।

একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও টিউশন ফি মধ্যবিত্ত পরিবারের নাগালের বাইরে। একটি গ্রহণযোগ্য টিউশন ফি নীতিমালা প্রণয়ন করার দাবি জানান তারা।

টিউশন ফি নীতিমালা প্রণয়ন বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০-এ ভর্তি ফি সহনীয় পর্যায়ে রাখার কথা উল্লেখ আছে। তারপরও একটি পৃথক নীতিমালার কাজ চলছে। তবে কখন শেষ হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

ইউজিসির একজন সদস্য বলেন, কমিশনে তার যোগদানের আগে একটি নীতিমালা নিয়ে কাজ করা হয়েছিল। সেটা বাস্তবায়ন হয়নি। সবার সহযোগিতা না থাকলে এমন নীতিমালা করা অসম্ভব।

এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান ভিন্ন, খরচও ভিন্ন। এক্ষেত্রে নীতিমালা করে নিয়ন্ত্রণ করা অনেটা কষ্টসাধ্য। গত দুই দশক ধরে বিভিন্ন সরকারের আমলে ধারাবাহিকভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব শিা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার জন্য ফি নির্ধারণে কোনো নীতিমালা করতে পারেনি সরকার। ফলে ইচ্ছামতো ফি আদায় করছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

একজন অভিভাবক গোলাম মাহবুব চৌধুরী জানান, তার ছেলের বিবিএ সম্পন্ন করতেই ৭ থেকে ৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়। যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে না তারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে। কিন্তু এমন খরচ হলে মধ্যবিত্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আর উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হবে না।

ইউজিসির তথ্যানুযায়ী, কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিার্থীদের খরচের হিসাবে দেখা গেছে, শিার্থীদের পছন্দের শীর্ষে থাকা বিষয়গুলোয় পড়াশোনার খরচ মধ্যবিত্তদের নাগালের বাইরে। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ) পড়তে খরচ ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত, মাস্টার্স অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) ১ লাখ থেকে ৫ লাখ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ৩ লাখ থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক পড়তে ২ লাখ থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ, ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (ইসিই) ৩ লাখ থেকে ৭ লাখ ও সাংবাদিকতায় স্নাতক পড়তে ২ লাখ থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়। এ বছর এই খরচ আরও বাড়তে পারে। তবে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এর চেয়ে কম খরচেও লেখাপড়ার সুযোগ আছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বত্বাধিকারীদের সংগঠন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন খরচ নির্ধারণ করা হয়, তখন পাশের আরেকটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচের কাছাকাছি নির্ধারণ করা হয়। কত ভর্তি ফি, বেতন, হোস্টেল ভাড়া ইত্যাদি। কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সব একই মানের নয়। কারো অবকাঠামো সুযোগ-সুবিধা বেশি, কারো কম, কোথাও মানসম্পন্ন বেশি বেতনের শিক্ষক ইত্যাদি নানা কারণে শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও টিউশন ফিতে কমবেশি তারতম্য হবেই। কিন্তু সবার একই করা যাবে না। সরকার চাইলে সেটা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে করা যেতে পারে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিাদানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মুনাফালোভী না হয়ে সেবার জন্য ব্রতী হওয়া প্রয়োজন। এ জন্য শিার্থীদের প্রদেয় বিভিন্ন ফি ও চার্জ সহনীয় পর্যায়ে রাখা অত্যাবশ্যক। তিনি মনে করেন, মেধাবী ও দরিদ্র শিার্থীদের উচ্চশিা লাভের পথ আরও সুগম করতে হবে।

বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় প্রায় ৪ লাখের মতো শিার্থী অধ্যয়ন করছে। দেশে ১৯৯২ সাল থেকে চলতি বছর আগস্ট পর্যন্ত ৯৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত দেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণকারী মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৬৩ শতাংশ অধ্যয়ন করছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ইতোমধ্যে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির ফল প্রকাশ হয়েছে। উচ্চশিক্ষায় ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়।

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X