বুধবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:২৭
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, September 10, 2017 7:25 am
A- A A+ Print

বেসিক ব্যাংকে আবদুল হাই বাচ্চুর আরেক কেলেঙ্কারি : ৭৬ কোটি টাকা দিয়েও ভবন পায়নি

3

বেসিক ব্যাংকের আরেক কেলেঙ্কারি ধরা পড়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে। এই কেলেঙ্কারির সঙ্গেও জড়িত ব্যাংকটির আলোচিত-সমালোচিত সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু।

এবারেরটি হচ্ছে বেসিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জন্য ভবন কেনা নিয়ে। তা-ও কেনা হয়েছে অন্যের বিরোধপূর্ণ জমিতে। এর জন্য ব্যাংক থেকে দেওয়া হয়েছে ৭৬ কোটি টাকা। অথচ ভবনের একটি তলাও (ফ্লোর) বুঝে পায়নি ব্যাংক।

সাত বছর আগে বেসিক ব্যাংক ৮১ কোটি টাকায় ঢাকার মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন ও সেনাকল্যাণ ভবনের বিপরীত দিকের একটি ভবনের ১২টি তলা কিনবে বলে সিঙ্কু আকরামুজ্জামান নামের একজনের সঙ্গে চুক্তি করে। বেসিক ব্যাংক থেকে টাকা নিয়েই ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় এখন দেখছে, চুক্তিটির কোনো বৈধতা নেই। আবার যে জমির ওপর ভবন তৈরি হয়েছে, তা-ও তখন ছিল পরিত্যক্ত সম্পত্তি। জমি নিয়ে আদালতে তখন মামলা চলছিল।

রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন ভবন বা ইমারত নির্মাণ, পুরোনো ভবনের সম্প্রসারণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে সরকারপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতির (বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী) অনুমোদন নিতে হয়। এ ব্যাপারে ১৯৮৫ ও ১৯৯৮ সালে সরকারের দুই দফা নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বেসিক ব্যাংক যার কোনোটিই মানেনি।

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের পর গত বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে আবদুল হাই বাচ্চুর সময়কালীন এই কেলেঙ্কারির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে অর্থমন্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেসিক ব্যাংকের সবকিছুতেই তাঁর (আবদুল হাই বাচ্চু) কাজকর্ম ছিল প্রায় ডাকাতের মতো। ঘটনা তো আর একটা না।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমানও ঈদের আগে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এটি নিয়ে খুবই বিব্রত। দুঃখজনক যে চুক্তিটি রেজিস্টার্ড নয়। ব্যাংক থেকে এতগুলো টাকা চলে যাওয়ার পেছনে তখনকার পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতাকে আমি দায়ী করতে চাই।’

আবদুল হাই বাচ্চু ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে চেয়ারম্যান হয়ে যোগ দেওয়ার তিন মাস পরই এ কেলেঙ্কারির সূত্রপাত হয়। ২০০৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবদুল হাই বাচ্চু স্বাক্ষরিত ব্যাংকের ২৬১তম পর্ষদ সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়, ওই সভায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, ‘২০ বছর পার হলো, অথচ ব্যাংকের কোনো ভবন নেই! এটা হতে পারে না।’ ওই সভাতেই নিজস্ব ভবন করার সিদ্ধান্ত হয়।

এরপর ঢাকার মতিঝিলে ৫১ হাজার ৫০০ বর্গফুটের স্পেস কেনার জন্য বেসিক ব্যাংক ২০১০ সালের ১ এপ্রিল চুক্তি করে সিঙ্কু আকরামুজ্জামানের সঙ্গে। ত্রিপক্ষীয় ওই চুক্তিতে বলা হয়, বেসিক ব্যাংক ৮১ কোটি টাকা দেবে আকরামুজ্জামানকে, আর তিনি ১৫ তলা ভবন তৈরি করে ১২টি তলা দেবেন বেসিক ব্যাংকের নামে। ভবনের নাম হবে ‘জামান বেসিক ব্যাংক টাওয়ার’।

অর্থ মন্ত্রণালয় এখন দেখছে, তিন পক্ষের মধ্যে দুই পক্ষই বাস্তবে সিঙ্কু আকরামুজ্জামান। অর্থাৎ তাঁর মালিকানাধীন বিজনেস রিসোর্সেস লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটিই ভবনটির নির্মাতা।

বেসিক ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাম্প্রতিক চিঠি চালাচালি থেকে জানা গেছে, চুক্তি হওয়ার দিনই বেসিক ব্যাংক ৪০ কোটি টাকা দিয়ে দেয় আকরামুজ্জামানকে। পরে কয়েকটি কিস্তিতে ব্যাংক তাঁকে আরও দেয় ৩৬ কোটি টাকা। ভবনের কোনো রকম একটি কাঠামো নির্মাণ শেষ হয় ২০১৩ সালে। মোট ৭৬ কোটি টাকা দিলেও এখন পর্যন্ত একটি তলাও বুঝে পায়নি বেসিক ব্যাংক। এমনকি আকরামুজ্জামানও বিদেশে পালিয়ে গেছেন।

ভবন কেনা বিষয়ে বেসিক ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আকরামুজ্জামান মালয়েশিয়ায় বাড়ি কিনেছেন এবং সপরিবার ওখানেই আছেন। আকরামুজ্জামানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তা বন্ধ পাওয়া গেছে। গত বুধবার, বৃহস্পতিবার ও সর্বশেষ গতকাল শনিবার দুই দফা করে মোট ছয় দফা ই-মেইল বার্তা পাঠালেও কোনো জবাব দেননি তিনি।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চুক্তির দিনই অর্ধেক টাকা দিয়ে দেওয়া হয় আবদুল হাই বাচ্চুর একক ইচ্ছায়। এখানেও অর্থের অবৈধ লেনদেন হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পর্ষদ সদস্যদের কেউ তখন কথা বলেননি। আর ব্যাংকের তখনকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে এম সাজেদুর রহমানকে রাখা হয় এ ঘটনার আড়ালে।

এরপর আবদুল হাই বাচ্চুর নেতৃত্বাধীন পর্ষদ ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত মাত্র ১১ মাসে নজিরবিহীন অনিয়মের মাধ্যমে ৩ হাজার ৪৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ঋণের নামে বিভিন্ন জনকে দিয়ে দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক তখন তদন্ত করে বলেছিল, ‘৪০টি দেশীয় তফসিলি ব্যাংকের কোনোটির ক্ষেত্রেই পর্ষদ কর্তৃক এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পরিলক্ষিত হয় না। এই ঋণ আদায়ের সম্ভাবনাও কম।’ বাস্তবে ২০১৭ সালে এসেও ঋণের টাকা আদায় হচ্ছে না।

বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ভবন নিয়ে আরও জটিলতা আছে। যেমন আকরামুজ্জামান ওই ভবনের ওপর আরও সাতটি তলা তৈরি করে সেগুলোও বেসিক ব্যাংককে কিনতে হবে বলে চাপ দিয়ে আসছেন। নতুন সাতটি তলা তৈরির জন্য ১৬২ কোটি টাকা দাম ধরে তিনি আরও ৮১ কোটি টাকা অগ্রিম চান বেসিক ব্যাংকের কাছে। কিন্তু ব্যাংক তাতে রাজি নয়।

গত ৭ আগস্ট সরকারের অনুমোদন ছাড়া স্পেস কেনার জন্য বেসিক ব্যাংকের বর্তমান এমডি খন্দকার মো. ইকবালকে চিঠি দিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এতে চুক্তি ও অর্থ পরিশোধ কীভাবে হলো এবং ভোগদখল পেতে ব্যাংকের আগের ও বর্তমানের পরিচালনা পর্ষদ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানতে চাওয়া হয়।

নানা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ায় ২০১৪ সালের জুলাইয়ে বেসিক ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেয় সরকার। যদিও মেয়াদ শেষের এক দিন আগে অর্থমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগ করার সুযোগ নেন আবদুল হাই বাচ্চু। সরকার এরপর চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় বেসিক ব্যাংকেরই একসময়ের এমডি আলাউদ্দিন এ মজিদকে এবং পুরো পর্ষদকেই ঢেলে সাজায়।

বর্তমান পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার তিন বছর পার হতে চললেও মোটা অঙ্কের আর্থিক সংশ্লিষ্টতার এ বিষয়টি এত দেরিতে কেন জানানো হলো, তারও ব্যাখ্যা চাওয়া হয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের চিঠিতে। বেসিক ব্যাংকের এমডি ২১ আগস্ট এর ব্যাখ্যা দিলেও অসম্পূর্ণ জবাবের কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তাতে সন্তুষ্ট নয়।

ব্যাখ্যায় বেসিক ব্যাংকের এমডি খন্দকার মো. ইকবাল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে জানান, ১৯৮৯ সাল থেকেই জমিটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি। জমির মালিক সরকার না আকরামুজ্জামান, তা নিয়ে মামলা ছিল। গত বছর চূড়ান্ত রায় আসে আকরামুজ্জামানের পক্ষে। কিন্তু তাঁর একগুঁয়েমি মনোভাবের কারণে কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।

জানতে চাইলে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মজিদ প্রথম আলোকে বলেন, আগে অনেক ঘটনাই ঘটেছে, এটিও ও রকমই একটা ঘটনা। সাত বছর আগের ওই ঘটনার জের টানতে হচ্ছে বর্তমান পর্ষদকে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, মতিঝিলে ‘জামান বেসিক ব্যাংক টাওয়ার ভবন’ প্রস্তাবিত নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙানো আছে। জমির ওপর ২২ তলা ভবনের কাঠামো দাঁড়িয়ে।

আবদুল হাই বাচ্চুর পাশাপাশি ওই সময় বেসিক ব্যাংকের পর্ষদে ছিলেন বর্তমান রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের তখনকার যুগ্ম সচিব বিজয় ভট্টাচার্য্য, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মহাপরিচালক নীলুফার আহমেদ, বিসিকের তৎকালীন চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান কাজী আখতার হোসেন, এআরএস ল্যুভ বাংলাদেশ লিমিটেডের এমডি আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক কাস্টমস কমিশনার শাখাওয়াত হোসেন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সচিব রাজিয়া বেগম এবং চাঁদপুর চেম্বারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাহাঙ্গীর আকন্দ সেলিম।

ভবন কেনার চুক্তির সময় এ কে এম সাজেদুর রহমান এমডি থাকলেও অসুস্থতার কারণে তিনি ছুটি নিয়ে বিদেশে চলে যান। ব্যাংকে ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্বে ছিলেন তখন শেখ মনজুর মোরশেদ। আর বিজয় ভট্টাচার্য্য চাকরিসূত্রে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চলে গেলে নতুন পরিচালক হয়ে আসেন বর্তমান বাণিজ্যসচিব শুভাশীষ বসু।

জানতে চাইলে বিজয় ভট্টাচার্য্য প্রথম আলোকে বলেন, বিরক্ত হয়ে শেষ দিকে অনেক পর্ষদ সভায় তিনি যোগ দেননি। শুভাশীষ বসুও বলেন, পরিচালনা পর্ষদের পক্ষে জমির সঠিকতা যাচাই সম্ভব নয়। এ দায়িত্ব মূলত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের।

পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা তাহলে কী দায়িত্ব পালন করেন জানতে চাইলে শুভাশীষ বসু বলেন, বেসিক ব্যাংকে ওই সময় কী হয়েছে, তা তো সবারই জানা। আলোচ্যসূচিতেই ছিল না—এমন বিষয়ও তো পরে দেখা গেল পাস হয়ে গেছে।

বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর সঙ্গে কথা বলার জন্য গত বুধ ও বৃহস্পতিবার ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। পরে বিষয়বস্তু উল্লেখ করে খুদে বার্তা দিলেও কোনো জবাব দেননি তিনি। গতকাল বনানীর ডিওএইচএসের বাসায় গেলে তত্ত্বাবধায়ক ললিত মোহন জানান, তিনি বাসায় নেই। নিয়মিত এই বাসায় থাকেন না।

২০১৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন এবং পরের বছর বেসিক ব্যাংকের ওপর করা বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে পুরো বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির পেছনে আবদুল হাই বাচ্চুর জড়িত থাকার চিত্র উঠে আসে। কিন্তু কমিশনের বৈঠকে অনুমোদনের জন্য গত মাসে উপস্থাপিত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাঁচ অভিযোগপত্রে বিস্ময়করভাবে দেখা যায়, তাতে আবদুল হাই বাচ্চুর নাম নেই।

দুদকের আয়োজনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে গত ২৯ মার্চ শ্রেষ্ঠ দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, দুদককে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, যে প্রতিবেদন অনুযায়ী আবদুল হাই বাচ্চু বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত।

আবদুল হাই বাচ্চুকে দায়ী করে এর আগে সংসদেও বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী। তারপরও তাঁর বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি দুদক।

তবে অর্থমন্ত্রী দুদকের ওপর ভরসা ছাড়েননি। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে তিনি বলেন, দুদক মনে হয় আবদুল হাই বাচ্চুর ব্যাপারে কিছু একটা করছে।

অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের বলেছেন, একসময় দেশসেরা রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক ছিল বেসিক ব্যাংক। এখন আর সেটি নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যন্ত বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৫৩ শতাংশ (৭ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা), যা যেকোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হারের চেয়ে বেশি।

Comments

Comments!

 বেসিক ব্যাংকে আবদুল হাই বাচ্চুর আরেক কেলেঙ্কারি : ৭৬ কোটি টাকা দিয়েও ভবন পায়নিAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

বেসিক ব্যাংকে আবদুল হাই বাচ্চুর আরেক কেলেঙ্কারি : ৭৬ কোটি টাকা দিয়েও ভবন পায়নি

Sunday, September 10, 2017 7:25 am
3

বেসিক ব্যাংকের আরেক কেলেঙ্কারি ধরা পড়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে। এই কেলেঙ্কারির সঙ্গেও জড়িত ব্যাংকটির আলোচিত-সমালোচিত সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু।

এবারেরটি হচ্ছে বেসিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জন্য ভবন কেনা নিয়ে। তা-ও কেনা হয়েছে অন্যের বিরোধপূর্ণ জমিতে। এর জন্য ব্যাংক থেকে দেওয়া হয়েছে ৭৬ কোটি টাকা। অথচ ভবনের একটি তলাও (ফ্লোর) বুঝে পায়নি ব্যাংক।

সাত বছর আগে বেসিক ব্যাংক ৮১ কোটি টাকায় ঢাকার মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন ও সেনাকল্যাণ ভবনের বিপরীত দিকের একটি ভবনের ১২টি তলা কিনবে বলে সিঙ্কু আকরামুজ্জামান নামের একজনের সঙ্গে চুক্তি করে। বেসিক ব্যাংক থেকে টাকা নিয়েই ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় এখন দেখছে, চুক্তিটির কোনো বৈধতা নেই। আবার যে জমির ওপর ভবন তৈরি হয়েছে, তা-ও তখন ছিল পরিত্যক্ত সম্পত্তি। জমি নিয়ে আদালতে তখন মামলা চলছিল।

রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন ভবন বা ইমারত নির্মাণ, পুরোনো ভবনের সম্প্রসারণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে সরকারপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতির (বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী) অনুমোদন নিতে হয়। এ ব্যাপারে ১৯৮৫ ও ১৯৯৮ সালে সরকারের দুই দফা নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বেসিক ব্যাংক যার কোনোটিই মানেনি।

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের পর গত বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে আবদুল হাই বাচ্চুর সময়কালীন এই কেলেঙ্কারির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে অর্থমন্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেসিক ব্যাংকের সবকিছুতেই তাঁর (আবদুল হাই বাচ্চু) কাজকর্ম ছিল প্রায় ডাকাতের মতো। ঘটনা তো আর একটা না।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমানও ঈদের আগে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এটি নিয়ে খুবই বিব্রত। দুঃখজনক যে চুক্তিটি রেজিস্টার্ড নয়। ব্যাংক থেকে এতগুলো টাকা চলে যাওয়ার পেছনে তখনকার পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতাকে আমি দায়ী করতে চাই।’

আবদুল হাই বাচ্চু ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে চেয়ারম্যান হয়ে যোগ দেওয়ার তিন মাস পরই এ কেলেঙ্কারির সূত্রপাত হয়। ২০০৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবদুল হাই বাচ্চু স্বাক্ষরিত ব্যাংকের ২৬১তম পর্ষদ সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়, ওই সভায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, ‘২০ বছর পার হলো, অথচ ব্যাংকের কোনো ভবন নেই! এটা হতে পারে না।’ ওই সভাতেই নিজস্ব ভবন করার সিদ্ধান্ত হয়।

এরপর ঢাকার মতিঝিলে ৫১ হাজার ৫০০ বর্গফুটের স্পেস কেনার জন্য বেসিক ব্যাংক ২০১০ সালের ১ এপ্রিল চুক্তি করে সিঙ্কু আকরামুজ্জামানের সঙ্গে। ত্রিপক্ষীয় ওই চুক্তিতে বলা হয়, বেসিক ব্যাংক ৮১ কোটি টাকা দেবে আকরামুজ্জামানকে, আর তিনি ১৫ তলা ভবন তৈরি করে ১২টি তলা দেবেন বেসিক ব্যাংকের নামে। ভবনের নাম হবে ‘জামান বেসিক ব্যাংক টাওয়ার’।

অর্থ মন্ত্রণালয় এখন দেখছে, তিন পক্ষের মধ্যে দুই পক্ষই বাস্তবে সিঙ্কু আকরামুজ্জামান। অর্থাৎ তাঁর মালিকানাধীন বিজনেস রিসোর্সেস লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটিই ভবনটির নির্মাতা।

বেসিক ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাম্প্রতিক চিঠি চালাচালি থেকে জানা গেছে, চুক্তি হওয়ার দিনই বেসিক ব্যাংক ৪০ কোটি টাকা দিয়ে দেয় আকরামুজ্জামানকে। পরে কয়েকটি কিস্তিতে ব্যাংক তাঁকে আরও দেয় ৩৬ কোটি টাকা। ভবনের কোনো রকম একটি কাঠামো নির্মাণ শেষ হয় ২০১৩ সালে। মোট ৭৬ কোটি টাকা দিলেও এখন পর্যন্ত একটি তলাও বুঝে পায়নি বেসিক ব্যাংক। এমনকি আকরামুজ্জামানও বিদেশে পালিয়ে গেছেন।

ভবন কেনা বিষয়ে বেসিক ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আকরামুজ্জামান মালয়েশিয়ায় বাড়ি কিনেছেন এবং সপরিবার ওখানেই আছেন। আকরামুজ্জামানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তা বন্ধ পাওয়া গেছে। গত বুধবার, বৃহস্পতিবার ও সর্বশেষ গতকাল শনিবার দুই দফা করে মোট ছয় দফা ই-মেইল বার্তা পাঠালেও কোনো জবাব দেননি তিনি।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চুক্তির দিনই অর্ধেক টাকা দিয়ে দেওয়া হয় আবদুল হাই বাচ্চুর একক ইচ্ছায়। এখানেও অর্থের অবৈধ লেনদেন হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পর্ষদ সদস্যদের কেউ তখন কথা বলেননি। আর ব্যাংকের তখনকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে এম সাজেদুর রহমানকে রাখা হয় এ ঘটনার আড়ালে।

এরপর আবদুল হাই বাচ্চুর নেতৃত্বাধীন পর্ষদ ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত মাত্র ১১ মাসে নজিরবিহীন অনিয়মের মাধ্যমে ৩ হাজার ৪৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ঋণের নামে বিভিন্ন জনকে দিয়ে দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক তখন তদন্ত করে বলেছিল, ‘৪০টি দেশীয় তফসিলি ব্যাংকের কোনোটির ক্ষেত্রেই পর্ষদ কর্তৃক এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পরিলক্ষিত হয় না। এই ঋণ আদায়ের সম্ভাবনাও কম।’ বাস্তবে ২০১৭ সালে এসেও ঋণের টাকা আদায় হচ্ছে না।

বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ভবন নিয়ে আরও জটিলতা আছে। যেমন আকরামুজ্জামান ওই ভবনের ওপর আরও সাতটি তলা তৈরি করে সেগুলোও বেসিক ব্যাংককে কিনতে হবে বলে চাপ দিয়ে আসছেন। নতুন সাতটি তলা তৈরির জন্য ১৬২ কোটি টাকা দাম ধরে তিনি আরও ৮১ কোটি টাকা অগ্রিম চান বেসিক ব্যাংকের কাছে। কিন্তু ব্যাংক তাতে রাজি নয়।

গত ৭ আগস্ট সরকারের অনুমোদন ছাড়া স্পেস কেনার জন্য বেসিক ব্যাংকের বর্তমান এমডি খন্দকার মো. ইকবালকে চিঠি দিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এতে চুক্তি ও অর্থ পরিশোধ কীভাবে হলো এবং ভোগদখল পেতে ব্যাংকের আগের ও বর্তমানের পরিচালনা পর্ষদ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানতে চাওয়া হয়।

নানা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ায় ২০১৪ সালের জুলাইয়ে বেসিক ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেয় সরকার। যদিও মেয়াদ শেষের এক দিন আগে অর্থমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগ করার সুযোগ নেন আবদুল হাই বাচ্চু। সরকার এরপর চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় বেসিক ব্যাংকেরই একসময়ের এমডি আলাউদ্দিন এ মজিদকে এবং পুরো পর্ষদকেই ঢেলে সাজায়।

বর্তমান পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার তিন বছর পার হতে চললেও মোটা অঙ্কের আর্থিক সংশ্লিষ্টতার এ বিষয়টি এত দেরিতে কেন জানানো হলো, তারও ব্যাখ্যা চাওয়া হয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের চিঠিতে। বেসিক ব্যাংকের এমডি ২১ আগস্ট এর ব্যাখ্যা দিলেও অসম্পূর্ণ জবাবের কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তাতে সন্তুষ্ট নয়।

ব্যাখ্যায় বেসিক ব্যাংকের এমডি খন্দকার মো. ইকবাল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে জানান, ১৯৮৯ সাল থেকেই জমিটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি। জমির মালিক সরকার না আকরামুজ্জামান, তা নিয়ে মামলা ছিল। গত বছর চূড়ান্ত রায় আসে আকরামুজ্জামানের পক্ষে। কিন্তু তাঁর একগুঁয়েমি মনোভাবের কারণে কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।

জানতে চাইলে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মজিদ প্রথম আলোকে বলেন, আগে অনেক ঘটনাই ঘটেছে, এটিও ও রকমই একটা ঘটনা। সাত বছর আগের ওই ঘটনার জের টানতে হচ্ছে বর্তমান পর্ষদকে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, মতিঝিলে ‘জামান বেসিক ব্যাংক টাওয়ার ভবন’ প্রস্তাবিত নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙানো আছে। জমির ওপর ২২ তলা ভবনের কাঠামো দাঁড়িয়ে।

আবদুল হাই বাচ্চুর পাশাপাশি ওই সময় বেসিক ব্যাংকের পর্ষদে ছিলেন বর্তমান রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের তখনকার যুগ্ম সচিব বিজয় ভট্টাচার্য্য, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মহাপরিচালক নীলুফার আহমেদ, বিসিকের তৎকালীন চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান কাজী আখতার হোসেন, এআরএস ল্যুভ বাংলাদেশ লিমিটেডের এমডি আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক কাস্টমস কমিশনার শাখাওয়াত হোসেন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সচিব রাজিয়া বেগম এবং চাঁদপুর চেম্বারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাহাঙ্গীর আকন্দ সেলিম।

ভবন কেনার চুক্তির সময় এ কে এম সাজেদুর রহমান এমডি থাকলেও অসুস্থতার কারণে তিনি ছুটি নিয়ে বিদেশে চলে যান। ব্যাংকে ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্বে ছিলেন তখন শেখ মনজুর মোরশেদ। আর বিজয় ভট্টাচার্য্য চাকরিসূত্রে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চলে গেলে নতুন পরিচালক হয়ে আসেন বর্তমান বাণিজ্যসচিব শুভাশীষ বসু।

জানতে চাইলে বিজয় ভট্টাচার্য্য প্রথম আলোকে বলেন, বিরক্ত হয়ে শেষ দিকে অনেক পর্ষদ সভায় তিনি যোগ দেননি। শুভাশীষ বসুও বলেন, পরিচালনা পর্ষদের পক্ষে জমির সঠিকতা যাচাই সম্ভব নয়। এ দায়িত্ব মূলত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের।

পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা তাহলে কী দায়িত্ব পালন করেন জানতে চাইলে শুভাশীষ বসু বলেন, বেসিক ব্যাংকে ওই সময় কী হয়েছে, তা তো সবারই জানা। আলোচ্যসূচিতেই ছিল না—এমন বিষয়ও তো পরে দেখা গেল পাস হয়ে গেছে।

বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর সঙ্গে কথা বলার জন্য গত বুধ ও বৃহস্পতিবার ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। পরে বিষয়বস্তু উল্লেখ করে খুদে বার্তা দিলেও কোনো জবাব দেননি তিনি। গতকাল বনানীর ডিওএইচএসের বাসায় গেলে তত্ত্বাবধায়ক ললিত মোহন জানান, তিনি বাসায় নেই। নিয়মিত এই বাসায় থাকেন না।

২০১৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন এবং পরের বছর বেসিক ব্যাংকের ওপর করা বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে পুরো বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির পেছনে আবদুল হাই বাচ্চুর জড়িত থাকার চিত্র উঠে আসে। কিন্তু কমিশনের বৈঠকে অনুমোদনের জন্য গত মাসে উপস্থাপিত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাঁচ অভিযোগপত্রে বিস্ময়করভাবে দেখা যায়, তাতে আবদুল হাই বাচ্চুর নাম নেই।

দুদকের আয়োজনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে গত ২৯ মার্চ শ্রেষ্ঠ দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, দুদককে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, যে প্রতিবেদন অনুযায়ী আবদুল হাই বাচ্চু বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত।

আবদুল হাই বাচ্চুকে দায়ী করে এর আগে সংসদেও বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী। তারপরও তাঁর বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি দুদক।

তবে অর্থমন্ত্রী দুদকের ওপর ভরসা ছাড়েননি। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে তিনি বলেন, দুদক মনে হয় আবদুল হাই বাচ্চুর ব্যাপারে কিছু একটা করছে।

অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের বলেছেন, একসময় দেশসেরা রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক ছিল বেসিক ব্যাংক। এখন আর সেটি নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যন্ত বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৫৩ শতাংশ (৭ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা), যা যেকোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হারের চেয়ে বেশি।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X