সোমবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১২:২৫
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, December 1, 2016 10:23 pm
A- A A+ Print

বৈষম্য রোধ না করলে বিস্ফোরিত হবে: ইউনূস

162910_1

শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বিশ্বে ধনী ও গরীবের মধ্যেকার বৈষম্য বিস্ফোরণম্মুখ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ বৈষম্য রোধ করা না হলে তা বিস্ফোরিত হবে। বৃহস্পতিবার থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন আয়োজিত নারী অধিকার ও পাচার শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন মুহাম্মদ ইউনূস। ইউনূস বলেন, ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে তাতে যত টাকা যার আছে, সে আরো বেশি ঋণ পাচ্ছে। কিন্তু বিশ্বের সিংহভাগ মানুষ এখনো সম্পদ থেকে বঞ্চিত এবং বৈষম্যের শিকার।
তিনি বলেন, এ বৈষম্য বিশ্বের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে শুধু বিস্ফোরণম্মুখ করেই রাখবে না যদি বৈষম্য রোধ করা না যায় তাহলে তা বিস্ফোরিত হবে। ইউনূস বলেন, বিশ্বের মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে সম্পদ ঘুরপাক খাচ্ছে। এ অবস্থা বিশ্বের জন্যে এক মহাবিপদজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তিনি ব্রেক্সিটের পক্ষে ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে জনমতকে ক্ষমতাসীন অভিজাতদের বিরুদ্ধে জনপ্রিয় ক্রোধের অভিব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। বিশ্বে যে সম্পদের সুষম বন্টনের অভাব রয়েছে তা দূর করতে অভিজাত শাসকরা ব্যর্থ হয়েছেন। চ্যারিটি অক্সফামের এ বছরের রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বের ৬২ জন ধনাঢ্য ব্যক্তির সম্পদের পরিমাণ গত ষোল বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৪ ভাগ। আর সাড়ে তিন বিলিয়ন গরীব মানুষের সম্পদ একই সময় কমেছে ৪১ ভাগ। যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বের তাবৎ ধনীদের অর্ধেক বাস করে। এই পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে ইউনূস বলেন, সম্পদের এ অসম বন্টন মানুষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এর পাশাপাশি ধনীদেশের শাসকরা শরণার্থী ও সংখ্যালঘুদের দোষারোপ করছে এবং অসাধু রাজনীতিবিদরা শোষণ করছে। আপনি যদি অন্য মানুষকে বিশ্বাস না করেন, তার মানেই আপনি তাদের মাঝে আপনাকে পৃথক করছেন বা দেয়াল তুলছেন। এ প্রসঙ্গে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেক্সিকোর নাগরিকদের ধর্ষক ও অপরাধী অভিহিত করে দেয়া বক্তব্যের উদাহরণ টানেন তিনি। বিদ্যমান বৈষম্যপূণ্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যা গরীবদের আরো পেছনে ফেলছে তা প্রতিরোধে মানুষকে উদ্যোক্তা হবার আহবান জানান ইউনূস। এজন্যে তিনি নিজের শক্তি ও মেধাকে উদ্ভাবনে পরিণত করার কথা বলেন। এবং এটা হলে মানুষ তার অর্জিত সম্পদ সঠিক ব্যবহারে বৃহত্তর একটি পরিধি তৈরি করতে পারবে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, মানুষ চাকরী করতেই জন্মগ্রহণ করেনি। তারা প্রকৃতিদত্ত গুণেই একজন উদ্যোক্তা। তাই এমন ধরনের ব্যবসা করার আহবান জানান, যা অধিকতর সামাজিক কল্যাণ বয়ে আনার পাশাপাশি অধিক লাভ নিয়ে আসবে এবং এ লভ্যাংশ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্যে ও বৈষম্য দূর করতে সাহায্য করবে। যদি এভাবে সম্পদ বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষের নাগালে নিয়ে আসা যায় তাহলে ধনীরা তা কুক্ষিগত করে রাখতে পারবে না। তখন কয়েকজনের হাতে সম্পদ কেবল ঘুরপাকও খাবে না। প্রচলিত ব্যাংকিংএর পাশাপাশি তার এ বিশেষায়িত ধরণের ঋণ গ্রামীণ নারীদের আর্থিক কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তার মতে প্রচলিত ব্যাংক যে পদ্ধতিতে উচ্চ সুদে ঋণ দেয় তা ঋণগ্রহীতাদের এক ধরনের দাসত্বে আবদ্ধ করে। ৪০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশের প্রায় ৮৮ লাখ মানুষকে ক্ষুদ্র ঋণ দিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের ক্ষুদ্র ঋণ দেয়ার এ পদ্ধতি বিশ্বের অনেক দেশে রোল মডেল হিসেব অনুসরণ হয়ে আসছে। তবে ক্ষুদ্র ঋণে সফলতা পেলেও গ্রামীণ ব্যাংক অন্তত ২০ ভাগ হারে সুদ নিয়ে এ ধরনের ঋণ দিচ্ছে বলে উদ্বেগ রয়েছে। কিন্তু ইউনূস এ প্রসঙ্গে বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণের সুদের হার এখনো স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ব্যাংকের দেয়া ঋণের সুদের চেয়ে কম। তিনি দাবি করেন, এসব ব্যাংক ৩’শ ভাগ বা তারচেয়েও বেশি হারের সুদে ঋণ দিয়ে থাকে। সূত্র: ডেইলি স্টার

Comments

Comments!

 বৈষম্য রোধ না করলে বিস্ফোরিত হবে: ইউনূসAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

বৈষম্য রোধ না করলে বিস্ফোরিত হবে: ইউনূস

Thursday, December 1, 2016 10:23 pm
162910_1

শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বিশ্বে ধনী ও গরীবের মধ্যেকার বৈষম্য বিস্ফোরণম্মুখ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ বৈষম্য রোধ করা না হলে তা বিস্ফোরিত হবে।

বৃহস্পতিবার থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন আয়োজিত নারী অধিকার ও পাচার শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন মুহাম্মদ ইউনূস।

ইউনূস বলেন, ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে তাতে যত টাকা যার আছে, সে আরো বেশি ঋণ পাচ্ছে। কিন্তু বিশ্বের সিংহভাগ মানুষ এখনো সম্পদ থেকে বঞ্চিত এবং বৈষম্যের শিকার।

তিনি বলেন, এ বৈষম্য বিশ্বের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে শুধু বিস্ফোরণম্মুখ করেই রাখবে না যদি বৈষম্য রোধ করা না যায় তাহলে তা বিস্ফোরিত হবে।

ইউনূস বলেন, বিশ্বের মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে সম্পদ ঘুরপাক খাচ্ছে। এ অবস্থা বিশ্বের জন্যে এক মহাবিপদজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তিনি ব্রেক্সিটের পক্ষে ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে জনমতকে ক্ষমতাসীন অভিজাতদের বিরুদ্ধে জনপ্রিয় ক্রোধের অভিব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। বিশ্বে যে সম্পদের সুষম বন্টনের অভাব রয়েছে তা দূর করতে অভিজাত শাসকরা ব্যর্থ হয়েছেন।

চ্যারিটি অক্সফামের এ বছরের রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বের ৬২ জন ধনাঢ্য ব্যক্তির সম্পদের পরিমাণ গত ষোল বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৪ ভাগ। আর সাড়ে তিন বিলিয়ন গরীব মানুষের সম্পদ একই সময় কমেছে ৪১ ভাগ। যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বের তাবৎ ধনীদের অর্ধেক বাস করে।

এই পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে ইউনূস বলেন, সম্পদের এ অসম বন্টন মানুষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এর পাশাপাশি ধনীদেশের শাসকরা শরণার্থী ও সংখ্যালঘুদের দোষারোপ করছে এবং অসাধু রাজনীতিবিদরা শোষণ করছে। আপনি যদি অন্য মানুষকে বিশ্বাস না করেন, তার মানেই আপনি তাদের মাঝে আপনাকে পৃথক করছেন বা দেয়াল তুলছেন। এ প্রসঙ্গে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেক্সিকোর নাগরিকদের ধর্ষক ও অপরাধী অভিহিত করে দেয়া বক্তব্যের উদাহরণ টানেন তিনি।

বিদ্যমান বৈষম্যপূণ্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যা গরীবদের আরো পেছনে ফেলছে তা প্রতিরোধে মানুষকে উদ্যোক্তা হবার আহবান জানান ইউনূস। এজন্যে তিনি নিজের শক্তি ও মেধাকে উদ্ভাবনে পরিণত করার কথা বলেন। এবং এটা হলে মানুষ তার অর্জিত সম্পদ সঠিক ব্যবহারে বৃহত্তর একটি পরিধি তৈরি করতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, মানুষ চাকরী করতেই জন্মগ্রহণ করেনি। তারা প্রকৃতিদত্ত গুণেই একজন উদ্যোক্তা। তাই এমন ধরনের ব্যবসা করার আহবান জানান, যা অধিকতর সামাজিক কল্যাণ বয়ে আনার পাশাপাশি অধিক লাভ নিয়ে আসবে এবং এ লভ্যাংশ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্যে ও বৈষম্য দূর করতে সাহায্য করবে। যদি এভাবে সম্পদ বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষের নাগালে নিয়ে আসা যায় তাহলে ধনীরা তা কুক্ষিগত করে রাখতে পারবে না। তখন কয়েকজনের হাতে সম্পদ কেবল ঘুরপাকও খাবে না।

প্রচলিত ব্যাংকিংএর পাশাপাশি তার এ বিশেষায়িত ধরণের ঋণ গ্রামীণ নারীদের আর্থিক কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তার মতে প্রচলিত ব্যাংক যে পদ্ধতিতে উচ্চ সুদে ঋণ দেয় তা ঋণগ্রহীতাদের এক ধরনের দাসত্বে আবদ্ধ করে।

৪০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশের প্রায় ৮৮ লাখ মানুষকে ক্ষুদ্র ঋণ দিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের ক্ষুদ্র ঋণ দেয়ার এ পদ্ধতি বিশ্বের অনেক দেশে রোল মডেল হিসেব অনুসরণ হয়ে আসছে। তবে ক্ষুদ্র ঋণে সফলতা পেলেও গ্রামীণ ব্যাংক অন্তত ২০ ভাগ হারে সুদ নিয়ে এ ধরনের ঋণ দিচ্ছে বলে উদ্বেগ রয়েছে।

কিন্তু ইউনূস এ প্রসঙ্গে বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণের সুদের হার এখনো স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ব্যাংকের দেয়া ঋণের সুদের চেয়ে কম।

তিনি দাবি করেন, এসব ব্যাংক ৩’শ ভাগ বা তারচেয়েও বেশি হারের সুদে ঋণ দিয়ে থাকে।

সূত্র: ডেইলি স্টার

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X