শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৮:৫৬
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, December 8, 2016 8:15 am
A- A A+ Print

ভারতীয় চ্যানেল প্রদর্শন : ফাইলবন্দি নিবন্ধনের সুপারিশ

tv1481118125

ভারতের টিভি চ্যানেল সম্প্রচারের ক্ষেত্রে নিবন্ধন প্রক্রিয়া গ্রহণের জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সুপারিশ গত দুই বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। ফাইলবন্দি হয়ে আছে তার সুপারিশ।ফলে টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠান সম্প্রচারের ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বৈষম্য আজও দূর হয়নি। টিভি অনুষ্ঠান সম্প্রচারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। চিঠির অনুলিপি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোসকে দিয়েছিলেন। বাণিজ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার প্রায় অনিয়ন্ত্রিত আছে। ভারতের সব টিভি চ্যানেল এখানে সম্প্রচার করতে পারে কিন্তু আমাদের কোনো টিভি চ্যানেল ভারতে যেতে পারে না। এজন্য আমি তথ্য মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিই যে, ভারতের চ্যানেল সম্প্রচারের ক্ষেত্রে একটি নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করা হোক। এই কাজটি শুরু হয়েছে। আপনার মন্ত্রণালয়কে এদিকে নজর দেবার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’ মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আর একটি বিষয়ে আমি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি- আমাদের এখানে যেকোনো প্রতিষ্ঠান যেকোনো টেন্ডারের বিপরীতে সরবরাহ করার জন্য প্রতিযোগিতা করতে পারে। বিদেশি কোম্পানি এজন্য সরাসরি দরপত্র দাখিল অথবা কোনো ব্যক্তি অথবা এজেন্টকে দিয়ে তাদের কাজ সম্পন্ন করে। অন্যদিকে দেশি ইনডেনটররা এরকম সরবরাহ করতে গিয়ে নানা ধরনের ফি, কর ইত্যাদি দিয়ে থাকে।’ এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী চিঠিতে বলেন, যে প্রতিষ্ঠানই আমাদের কোনো দরপত্র আহ্বানে সাড়া দিতে চায় তাকে নিবন্ধিত হতে হবে অথবা এজেন্টকে নিবন্ধিত হতে হবে। বর্তমানে ভারতের ৩২টি পে চ্যানেল এবং আটটি ফ্রি চ্যানেল বাংলাদেশে সম্প্রচারিত হচ্ছে। বাংলাদেশের কোনো চ্যানেলই ভারতে সম্প্রচারিত হয় না। ভারত সরকারে কাছে বার বার ধর্না দিয়েও সে দেশে বাংলাদেশের কোনো একটি চ্যানেলের সম্প্রচার নিশ্চিত করা যায়নি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বাংলাদেশের চ্যানেল ভারতে সম্প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা নেই। সূত্র জানায়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোনো বাধা নেই বললেও তারা বিদেশি টিভি চ্যানেল প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ডাউন লিংক ফি বেশি আরোপ করে রেখেছে। এর ফলে ভারতীয় কেবল অপারেটররা আগ্রহ দেখায় না। ভারতে কোনো বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচার করতে হলে, নির্দিষ্ট নেট মূল্য দিয়ে ভারতের কোম্পানি আইন ১৯৫৬ অনুযায়ী নিবন্ধিত কোম্পানির মাধ্যমে ভারতের তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হয়। আর আবেদনকারী কোম্পানিকে টেলিভিশন চ্যানেল ডাউন লিংকের জন্য ৫ কোটি ভারতীয় রুপি এবং পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিটি অতিরিক্ত চ্যানেল ডাউন লিংকের জন্য ২ কোটি ৫০ লাখ নেট মূল্য পরিশোধ করতে হয়। এই মূল্য ছাড়াও ডাউন লিংক অনুমতি মঞ্জুরের সময় ১০ লাখ ভারতীয় রুপি ফি দিতে হয়। এ ছাড়া বিদেশ থেকে আপ লিংক করা প্রতিটি চ্যানেলের ডাউন লিংকের জন্য বার্ষিক ফি হিসেবে ১৫ লাখ রুপি দিতে হয়। ডাউন লিংকের নিবন্ধন ও অনুমতি ১০ বছর বহাল থাকে। সূত্র জানায়, বাংলাদেশে ভারতীয় চ্যানেল সম্প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালাই নেই। ডাউন লিংক ফি মাত্র দেড় লাখ টাকা। দুই বছর আগে এই ফি ৩ লাখ করার প্রস্তাব আইন মন্ত্রনালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছিল। এরপর সে বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। সম্প্রতি হাঙ্গেরি সফর শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে তুলে ধরলে তিনি উল্টো প্রশ্ন রেখে বলেন, ইন্ডিয়া বাংলাদেশের চ্যানেল নেয় না। তাহলে আমরা কেন হুমড়ি খেয়ে পড়ি? প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারে ফি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এক্ষেত্রে ভারতের চেয়ে আমাদের দেশে ‘ফি’ এত কম কেন তা জানে না বলে জানান। সাধারণভাবে প্রশ্ন জাগে অর্থমন্ত্রীর পরামর্শ উপেক্ষা করা, ফি বাড়ানোর প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ে গিয়ে আটকে থাকা আর প্রধানমন্ত্রীকে কার স্বার্থে কারা অন্ধকারে রেখেছেন? যে কারণে ভারতে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলো প্রবেশ করতে না পারলেও বাংলাদেশে ভারতীয় চ্যানেলগুলো অবাধে প্রদর্শন করা হচ্ছে।  

Comments

Comments!

 ভারতীয় চ্যানেল প্রদর্শন : ফাইলবন্দি নিবন্ধনের সুপারিশAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ভারতীয় চ্যানেল প্রদর্শন : ফাইলবন্দি নিবন্ধনের সুপারিশ

Thursday, December 8, 2016 8:15 am
tv1481118125

ভারতের টিভি চ্যানেল সম্প্রচারের ক্ষেত্রে নিবন্ধন প্রক্রিয়া গ্রহণের জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সুপারিশ গত দুই বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। ফাইলবন্দি হয়ে আছে তার সুপারিশ।ফলে টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠান সম্প্রচারের ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বৈষম্য আজও দূর হয়নি।

টিভি অনুষ্ঠান সম্প্রচারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। চিঠির অনুলিপি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোসকে দিয়েছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার প্রায় অনিয়ন্ত্রিত আছে। ভারতের সব টিভি চ্যানেল এখানে সম্প্রচার করতে পারে কিন্তু আমাদের কোনো টিভি চ্যানেল ভারতে যেতে পারে না। এজন্য আমি তথ্য মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিই যে, ভারতের চ্যানেল সম্প্রচারের ক্ষেত্রে একটি নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করা হোক। এই কাজটি শুরু হয়েছে। আপনার মন্ত্রণালয়কে এদিকে নজর দেবার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আর একটি বিষয়ে আমি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি- আমাদের এখানে যেকোনো প্রতিষ্ঠান যেকোনো টেন্ডারের বিপরীতে সরবরাহ করার জন্য প্রতিযোগিতা করতে পারে। বিদেশি কোম্পানি এজন্য সরাসরি দরপত্র দাখিল অথবা কোনো ব্যক্তি অথবা এজেন্টকে দিয়ে তাদের কাজ সম্পন্ন করে। অন্যদিকে দেশি ইনডেনটররা এরকম সরবরাহ করতে গিয়ে নানা ধরনের ফি, কর ইত্যাদি দিয়ে থাকে।’

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী চিঠিতে বলেন, যে প্রতিষ্ঠানই আমাদের কোনো দরপত্র আহ্বানে সাড়া দিতে চায় তাকে নিবন্ধিত হতে হবে অথবা এজেন্টকে নিবন্ধিত হতে হবে।

বর্তমানে ভারতের ৩২টি পে চ্যানেল এবং আটটি ফ্রি চ্যানেল বাংলাদেশে সম্প্রচারিত হচ্ছে। বাংলাদেশের কোনো চ্যানেলই ভারতে সম্প্রচারিত হয় না। ভারত সরকারে কাছে বার বার ধর্না দিয়েও সে দেশে বাংলাদেশের কোনো একটি চ্যানেলের সম্প্রচার নিশ্চিত করা যায়নি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বাংলাদেশের চ্যানেল ভারতে সম্প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা নেই।

সূত্র জানায়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোনো বাধা নেই বললেও তারা বিদেশি টিভি চ্যানেল প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ডাউন লিংক ফি বেশি আরোপ করে রেখেছে। এর ফলে ভারতীয় কেবল অপারেটররা আগ্রহ দেখায় না। ভারতে কোনো বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচার করতে হলে, নির্দিষ্ট নেট মূল্য দিয়ে ভারতের কোম্পানি আইন ১৯৫৬ অনুযায়ী নিবন্ধিত কোম্পানির মাধ্যমে ভারতের তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হয়।

আর আবেদনকারী কোম্পানিকে টেলিভিশন চ্যানেল ডাউন লিংকের জন্য ৫ কোটি ভারতীয় রুপি এবং পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিটি অতিরিক্ত চ্যানেল ডাউন লিংকের জন্য ২ কোটি ৫০ লাখ নেট মূল্য পরিশোধ করতে হয়।

এই মূল্য ছাড়াও ডাউন লিংক অনুমতি মঞ্জুরের সময় ১০ লাখ ভারতীয় রুপি ফি দিতে হয়। এ ছাড়া বিদেশ থেকে আপ লিংক করা প্রতিটি চ্যানেলের ডাউন লিংকের জন্য বার্ষিক ফি হিসেবে ১৫ লাখ রুপি দিতে হয়। ডাউন লিংকের নিবন্ধন ও অনুমতি ১০ বছর বহাল থাকে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশে ভারতীয় চ্যানেল সম্প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালাই নেই। ডাউন লিংক ফি মাত্র দেড় লাখ টাকা। দুই বছর আগে এই ফি ৩ লাখ করার প্রস্তাব আইন মন্ত্রনালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছিল। এরপর সে বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

সম্প্রতি হাঙ্গেরি সফর শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে তুলে ধরলে তিনি উল্টো প্রশ্ন রেখে বলেন, ইন্ডিয়া বাংলাদেশের চ্যানেল নেয় না। তাহলে আমরা কেন হুমড়ি খেয়ে পড়ি? প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারে ফি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এক্ষেত্রে ভারতের চেয়ে আমাদের দেশে ‘ফি’ এত কম কেন তা জানে না বলে জানান।

সাধারণভাবে প্রশ্ন জাগে অর্থমন্ত্রীর পরামর্শ উপেক্ষা করা, ফি বাড়ানোর প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ে গিয়ে আটকে থাকা আর প্রধানমন্ত্রীকে কার স্বার্থে কারা অন্ধকারে রেখেছেন? যে কারণে ভারতে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলো প্রবেশ করতে না পারলেও বাংলাদেশে ভারতীয় চ্যানেলগুলো অবাধে প্রদর্শন করা হচ্ছে।

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X