মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:৩৯
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, July 14, 2017 11:31 pm
A- A A+ Print

ভারতের রাজনীতিতে হিন্দু জঙ্গি যাজকের উত্থান:নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

178338_1

দিল্লি: ভারতের হিন্দু যোদ্ধা-যাজক দেশটির সর্বাধিক জনবহুল রাজ্য শাসন করার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে এবং ক্যাবল নিউজ চ্যানেলগুলো তার জন্য যথেষ্ট নয়। কথিত আছে যে, যোগী এতটাই সন্ন্যাসী ও এতটাই সৎ যে তিনি কখনো এয়ারকন্ডিশন ব্যবহার করেন না। মেঝেতে শক্ত গদিতে ঘুমান। কখনো কখনো ডিনার হিসেবে কেবল একটি আপেল খেয়ে থাকেন। কিন্তু যোগি আদিত্যনাথের জনপ্রিয়তার মূলশিকড় হচ্ছে আরো অশুভ জায়গা। মন্দিরের নেতা হিসেবে তার হিন্দু জঙ্গি আধিপত্যবাদী ঐতিহ্য রয়েছে। তার ভাষায় ‘মুসলমানদের ঐতিহাসিক ভুলের’ প্রতিশোধ নেয়ার জন্য তিনি তরুণ হিন্দুদের নিয়ে একটি বাহিনী গড়ে তুলেছেন। যে বাহিনীকে তিনি ‘দ্বিপদী প্রাণিদের একটি ফসল’ বলে অভিহিত করেছেন। এক র‌্যালিতে তিনি চিৎকার করে বলেছেন, ‘আমরা সবাই ধর্মীয় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছি!’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এক বিস্ময়কর পছন্দের লোক হচ্ছেন এই আদিত্যনাথ। ভারতের উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে নতুন যুগে নিয়ে যাবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন বছর আগে মোদী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসেন। একই সঙ্গে তিনি যেকোনো ডানপন্থী হিন্দু কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু মোদীর উন্নয়নের এজেন্ডা ভারতকে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ রূপে রূপান্তরের মধ্যই ডুবে গেছে। তিনি এর মাধ্যমে দেশটির ১৭০ মিলিয়ন মুসলমানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানকে সংকুচিত করছেন। ভারতের রাজনীতিতে কিছু সিদ্ধান্ত উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই পদটি ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রীদের জন্য একটি স্প্রিংবোর্ড হিসেবে দেখা হয়। ৪৫ বছর বয়সী আদিত্যনাথ এমন একটি পদ অর্জন করতে যাচ্ছেন।

On the rise of Yogi Adityanath: “He is automatically on anybody’s list as a potential contender to succeed Modi.” https://nyti.ms/2vczqYk 

Yogi Adityanath, the chief minister of India’s Uttar Pradesh, India’s most-populous state, during a visit to Allahabad, India, in June. Adityanath was a surprise choice by Narendra Modi, India’s prime minister, to lead Uttar Pradesh.

Head of Militant Hindu Temple Ascends India’s Political Ladder

Yogi Adityanath is the new chief minister of Uttar Pradesh, India’s most populous state, a post seen as a springboard for future prime ministers.

nytimes.com
আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের ভারতীয় বিশেষজ্ঞ সদানন্দ ধুম বলেন, ‘মোদীর সফল হওয়ার জন্য সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে তিনি (যোগী) স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালিকাভুক্ত। তারা এমন একজনকে স্বাভাবিক করে তুলেছে; যিনি তিন বছর আগে টেক্সটাইল মন্ত্রী হওয়ার জন্য চরমভাবে বিবেচিত হয়েছিলেন। সবকিছু খুব দ্রুতই স্বাভাবিক হয়েছে।’ গত মার্চ মাসে যখন ভারতীয় জনতা পার্টি উত্তরপ্রদেশে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে, তখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা আশা করেছিল যে, মোদী একটি নিরাপদ পছন্দ হিসেবে মনোজ সিনহাকে বেছে নিবেন। অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ও আনুগত্যশীল ব্যক্তি হিসেবে দলে মনোজের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। মোদীর ঘোষণার দিন সকালে তার (মনোজ) গ্রামের বাইরে একটি গার্ড অব অনারের জন্য সাজানো ছিল। সবার ধারণা ছিল মনোজ নিশ্চিতভাবেই মন্ত্রী হচ্ছেন। কিন্তু সকাল শেষ হওয়ার আগেই এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে অস্বাভাবিক কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। ততক্ষণে আদিত্যনাথকে দলীয় সভাপতি অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের জন্য দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি চার্টার্ড ফ্লাইট পাঠানো হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টায় পার্টির পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয় যে, অমিত শাহ তাকে মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। এই ঘোষণা ভারতের রাজনীতিকদের মধ্য শঙ্কার ঝাঁকুনি দেয়। তারা হতাশ ছিল কারণ আদিত্যনাথ হচ্ছেন একজন চরম মৌলবাদী। এছাড়াও তিনি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী, এমনকি বিদ্রোহী। সম্প্রতি গত জানুয়ারিতে তিনি দলের নির্বাহী সভা থেকে বেরিয়ে যান। কারণ হিসেবে জানা গেছে যে, তাকে সভায় কথা বলার অনুমতি দেয়া হয়েছিল না। এটা ঠিক যে, মোদী তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য খুব বেশি সহনশীল নয়। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা অধ্যাপক আশুতোষ ওয়ারশনি বলেন, ‘যোগী আদিত্যনাথের এই নিয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ করা হয়েছে; যা সহজেই গ্রহণ করা যায় না।’ তিনি বলেন, ‘মোদী হয় তার (যোগীর) উত্থান রুখতে অনিচ্ছুক অথবা অক্ষম।’ একজন যুবক হিসেবে ধর্মের চেয়ে বরং রাজনীতির প্রতি আদিত্যনাথের গভীর আসক্তি ছিল। বন বিভাগের কর্মচারী অজয় সিংয়ের সাত সন্তানের একজন হচ্ছেন আদিত্যনাথ। তিনি তার কলেজ জীবনে ডানপন্থী হিন্দু সংগঠন ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংস্থা’র একজন কর্মী ছিলেন। অধ্যাপক আশুতোষ বলেন, ‘তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে এতটাই মগ্ন ছিলেন যে প্রথম দুই কিংবা তিনবার তার এক দূরবর্তী আত্মীয় গোরখনাথ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত তাকে ডেকে পাঠান। তিনি তাকে ধর্ম পালনের জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু ধর্ম-কর্ম করার মতো সময় তার ছিল না। কিন্তু খুব দ্রুতই ধর্ম এবং রাজনীতি সমকেন্দ্রিক হয়ে হয়। গোরক্ষনাথ মন্দিরটির জঙ্গিবাদের একটি ঐতিহ্য রয়েছে। ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত মন্দিরটির প্রধান পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করা দিগ্বিজয় নাথ মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করার জন্য হিন্দু জঙ্গিদেরকে জোরালো পরামর্শ দেন। গান্ধী নিহত হওয়ার আগের দিন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার উত্তরাধিকারী মহান্ত আবিদ্যনাথ ১৯৯২ সালে ষোল শতাব্দীতে নির্মিত একটি মসজিদ ভেঙ্গে সেখানে একটি মন্দির গড়ে তোলার জন্য হিন্দু জনতার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। এটি ছিল ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে রক্তাক্ত ধর্মীয় দাঙ্গার অন্যতম এক ঘটনা। আদিত্যনাথ যখন মন্দিরে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তখন তার পিতা আনন্দ সিং বিশট এতে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে এক সাক্ষাৎকারে যোগী জানিয়েছিলেন। পিতার অমত সত্ত্বেও আদিত্যনাথ মন্দিরে যোগ দেন। চারবার প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর পঞ্চমবার প্রথমবারের মতো আদিত্যনাথ সংসদের একটি আসনে জয়ী হন। তার ওই জয়ে অন্যতম মূখ্য ভূমিকা পালন করে তার গঠন করা হিন্দু যুব বাহিনী (হিন্দু যুব ব্রিগেড)। সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকদের বর্তমানে গ্রামীণ স্তরে সংগঠিত করা হয়েছে এবং এর কর্মী সংখ্যা ২,৫০,০০০ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বাহিনীর সদস্যরা এখন মুসলমানদের বিরুদ্ধে গুজব ছড়িয়ে তাদের ওপর শক্তি প্রদর্শন করছে। গোরক্ষপুরের গোরক্ষনাথ মন্দিরের একজন স্বেচ্ছাসেবক বিজয় যাদব (২১) জানান, গরু হত্যার অভিযোগে একজন মুসলিমকে মারধর করার জন্য সম্প্রতি তিনি ৬০ থেকে ৭০ জন যুবককে একত্রিত করেন। কিন্তু একমাত্র পুলিশি হস্তক্ষেপের কারণে তারা তাকে ভালকরে মারতে পারেননি। ‘তাকে মারার জন্য সমস্ত হিন্দু একসঙ্গে একত্রিত হয়েছিল এবং তাকে প্রথম থাপ্পরটি আমিই মেরেছিলাম।’ তিনি গর্বের সাথে বলেছিলেন। ‘তারা (মুসলিমরা) যদি কিছু ভুল করে, তবে তাদের ভয় দেখানোটা উত্তম। আপনি যদি কিছু ভুল করেন, আমরা আপনাকে থামিয়ে দিব। এরপরেও যদি আপনি খুব বেশি কথা বলেন, আমরা আপনাকে হত্যা করব। মুসলমানদের জন্য আমাদেরকে এ কথাই বলা হয়েছে।’ মনোজ সিং নামে একজন সাংবাদিক বলেন, হিন্দু যুব বাহিনী গঠিত হওয়ার পর প্রথম পাঁচ বছরে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের আশেপাশের কয়েকটি জেলায় অনন্ত ২২টি ধর্মীয় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে আদিত্যনাথ এতে ইন্ধন জুগিয়েছে। তিনি আরো জানান, ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়ানোর অভিপ্রায়ে মিছিল বের করার জন্য ২০০৭ সালে আদিত্যনাথকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১১ দিন পর আদিত্যনাথকে মুক্তি দেয়া হয়। কিন্তু ওই গ্রেপ্তার তাকে একটা ঝাঁকুনি দেয় বলে মনে করা হয়। তিনি আরো সতর্ক হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে ধর্মীয় সংঘাতের জন্য তিনি অনুসারীদেরকে সরাসরি নেতৃত্ব দিতেন না।

Comments

Comments!

 ভারতের রাজনীতিতে হিন্দু জঙ্গি যাজকের উত্থান:নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ভারতের রাজনীতিতে হিন্দু জঙ্গি যাজকের উত্থান:নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

Friday, July 14, 2017 11:31 pm
178338_1

দিল্লি: ভারতের হিন্দু যোদ্ধা-যাজক দেশটির সর্বাধিক জনবহুল রাজ্য শাসন করার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে এবং ক্যাবল নিউজ চ্যানেলগুলো তার জন্য যথেষ্ট নয়। কথিত আছে যে, যোগী এতটাই সন্ন্যাসী ও এতটাই সৎ যে তিনি কখনো এয়ারকন্ডিশন ব্যবহার করেন না। মেঝেতে শক্ত গদিতে ঘুমান। কখনো কখনো ডিনার হিসেবে কেবল একটি আপেল খেয়ে থাকেন।

কিন্তু যোগি আদিত্যনাথের জনপ্রিয়তার মূলশিকড় হচ্ছে আরো অশুভ জায়গা। মন্দিরের নেতা হিসেবে তার হিন্দু জঙ্গি আধিপত্যবাদী ঐতিহ্য রয়েছে।

তার ভাষায় ‘মুসলমানদের ঐতিহাসিক ভুলের’ প্রতিশোধ নেয়ার জন্য তিনি তরুণ হিন্দুদের নিয়ে একটি বাহিনী গড়ে তুলেছেন। যে বাহিনীকে তিনি ‘দ্বিপদী প্রাণিদের একটি ফসল’ বলে অভিহিত করেছেন। এক র‌্যালিতে তিনি চিৎকার করে বলেছেন, ‘আমরা সবাই ধর্মীয় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছি!’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এক বিস্ময়কর পছন্দের লোক হচ্ছেন এই আদিত্যনাথ। ভারতের উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে নতুন যুগে নিয়ে যাবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন বছর আগে মোদী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসেন। একই সঙ্গে তিনি যেকোনো ডানপন্থী হিন্দু কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু মোদীর উন্নয়নের এজেন্ডা ভারতকে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ রূপে রূপান্তরের মধ্যই ডুবে গেছে। তিনি এর মাধ্যমে দেশটির ১৭০ মিলিয়ন মুসলমানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানকে সংকুচিত করছেন।

ভারতের রাজনীতিতে কিছু সিদ্ধান্ত উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই পদটি ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রীদের জন্য একটি স্প্রিংবোর্ড হিসেবে দেখা হয়। ৪৫ বছর বয়সী আদিত্যনাথ এমন একটি পদ অর্জন করতে যাচ্ছেন।

On the rise of Yogi Adityanath: “He is automatically on anybody’s list as a potential contender to succeed Modi.” https://nyti.ms/2vczqYk 

Yogi Adityanath, the chief minister of India’s Uttar Pradesh, India’s most-populous state, during a visit to Allahabad, India, in June. Adityanath was a surprise choice by Narendra Modi, India’s prime minister, to lead Uttar Pradesh.

Head of Militant Hindu Temple Ascends India’s Political Ladder

Yogi Adityanath is the new chief minister of Uttar Pradesh, India’s most populous state, a post seen as a springboard for future prime ministers.

nytimes.com

আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের ভারতীয় বিশেষজ্ঞ সদানন্দ ধুম বলেন, ‘মোদীর সফল হওয়ার জন্য সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে তিনি (যোগী) স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালিকাভুক্ত। তারা এমন একজনকে স্বাভাবিক করে তুলেছে; যিনি তিন বছর আগে টেক্সটাইল মন্ত্রী হওয়ার জন্য চরমভাবে বিবেচিত হয়েছিলেন। সবকিছু খুব দ্রুতই স্বাভাবিক হয়েছে।’

গত মার্চ মাসে যখন ভারতীয় জনতা পার্টি উত্তরপ্রদেশে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে, তখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা আশা করেছিল যে, মোদী একটি নিরাপদ পছন্দ হিসেবে মনোজ সিনহাকে বেছে নিবেন। অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ও আনুগত্যশীল ব্যক্তি হিসেবে দলে মনোজের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। মোদীর ঘোষণার দিন সকালে তার (মনোজ) গ্রামের বাইরে একটি গার্ড অব অনারের জন্য সাজানো ছিল। সবার ধারণা ছিল মনোজ নিশ্চিতভাবেই মন্ত্রী হচ্ছেন।

কিন্তু সকাল শেষ হওয়ার আগেই এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে অস্বাভাবিক কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। ততক্ষণে আদিত্যনাথকে দলীয় সভাপতি অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের জন্য দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি চার্টার্ড ফ্লাইট পাঠানো হয়েছে।

সন্ধ্যা ৬টায় পার্টির পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয় যে, অমিত শাহ তাকে মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। এই ঘোষণা ভারতের রাজনীতিকদের মধ্য শঙ্কার ঝাঁকুনি দেয়।

তারা হতাশ ছিল কারণ আদিত্যনাথ হচ্ছেন একজন চরম মৌলবাদী। এছাড়াও তিনি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী, এমনকি বিদ্রোহী।

সম্প্রতি গত জানুয়ারিতে তিনি দলের নির্বাহী সভা থেকে বেরিয়ে যান। কারণ হিসেবে জানা গেছে যে, তাকে সভায় কথা বলার অনুমতি দেয়া হয়েছিল না। এটা ঠিক যে, মোদী তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য খুব বেশি সহনশীল নয়।

ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা অধ্যাপক আশুতোষ ওয়ারশনি বলেন, ‘যোগী আদিত্যনাথের এই নিয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ করা হয়েছে; যা সহজেই গ্রহণ করা যায় না।’

তিনি বলেন, ‘মোদী হয় তার (যোগীর) উত্থান রুখতে অনিচ্ছুক অথবা অক্ষম।’

একজন যুবক হিসেবে ধর্মের চেয়ে বরং রাজনীতির প্রতি আদিত্যনাথের গভীর আসক্তি ছিল। বন বিভাগের কর্মচারী অজয় সিংয়ের সাত সন্তানের একজন হচ্ছেন আদিত্যনাথ। তিনি তার কলেজ জীবনে ডানপন্থী হিন্দু সংগঠন ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংস্থা’র একজন কর্মী ছিলেন।

অধ্যাপক আশুতোষ বলেন, ‘তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে এতটাই মগ্ন ছিলেন যে প্রথম দুই কিংবা তিনবার তার এক দূরবর্তী আত্মীয় গোরখনাথ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত তাকে ডেকে পাঠান। তিনি তাকে ধর্ম পালনের জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু ধর্ম-কর্ম করার মতো সময় তার ছিল না।

কিন্তু খুব দ্রুতই ধর্ম এবং রাজনীতি সমকেন্দ্রিক হয়ে হয়। গোরক্ষনাথ মন্দিরটির জঙ্গিবাদের একটি ঐতিহ্য রয়েছে। ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত মন্দিরটির প্রধান পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করা দিগ্বিজয় নাথ মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করার জন্য হিন্দু জঙ্গিদেরকে জোরালো পরামর্শ দেন। গান্ধী নিহত হওয়ার আগের দিন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার উত্তরাধিকারী মহান্ত আবিদ্যনাথ ১৯৯২ সালে ষোল শতাব্দীতে নির্মিত একটি মসজিদ ভেঙ্গে সেখানে একটি মন্দির গড়ে তোলার জন্য হিন্দু জনতার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। এটি ছিল ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে রক্তাক্ত ধর্মীয় দাঙ্গার অন্যতম এক ঘটনা।

আদিত্যনাথ যখন মন্দিরে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তখন তার পিতা আনন্দ সিং বিশট এতে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে এক সাক্ষাৎকারে যোগী জানিয়েছিলেন। পিতার অমত সত্ত্বেও আদিত্যনাথ মন্দিরে যোগ দেন।

চারবার প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর পঞ্চমবার প্রথমবারের মতো আদিত্যনাথ সংসদের একটি আসনে জয়ী হন। তার ওই জয়ে অন্যতম মূখ্য ভূমিকা পালন করে তার গঠন করা হিন্দু যুব বাহিনী (হিন্দু যুব ব্রিগেড)। সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকদের বর্তমানে গ্রামীণ স্তরে সংগঠিত করা হয়েছে এবং এর কর্মী সংখ্যা ২,৫০,০০০ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বাহিনীর সদস্যরা এখন মুসলমানদের বিরুদ্ধে গুজব ছড়িয়ে তাদের ওপর শক্তি প্রদর্শন করছে।

গোরক্ষপুরের গোরক্ষনাথ মন্দিরের একজন স্বেচ্ছাসেবক বিজয় যাদব (২১) জানান, গরু হত্যার অভিযোগে একজন মুসলিমকে মারধর করার জন্য সম্প্রতি তিনি ৬০ থেকে ৭০ জন যুবককে একত্রিত করেন। কিন্তু একমাত্র পুলিশি হস্তক্ষেপের কারণে তারা তাকে ভালকরে মারতে পারেননি।

‘তাকে মারার জন্য সমস্ত হিন্দু একসঙ্গে একত্রিত হয়েছিল এবং তাকে প্রথম থাপ্পরটি আমিই মেরেছিলাম।’ তিনি গর্বের সাথে বলেছিলেন। ‘তারা (মুসলিমরা) যদি কিছু ভুল করে, তবে তাদের ভয় দেখানোটা উত্তম। আপনি যদি কিছু ভুল করেন, আমরা আপনাকে থামিয়ে দিব। এরপরেও যদি আপনি খুব বেশি কথা বলেন, আমরা আপনাকে হত্যা করব। মুসলমানদের জন্য আমাদেরকে এ কথাই বলা হয়েছে।’

মনোজ সিং নামে একজন সাংবাদিক বলেন, হিন্দু যুব বাহিনী গঠিত হওয়ার পর প্রথম পাঁচ বছরে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের আশেপাশের কয়েকটি জেলায় অনন্ত ২২টি ধর্মীয় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে আদিত্যনাথ এতে ইন্ধন জুগিয়েছে।

তিনি আরো জানান, ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়ানোর অভিপ্রায়ে মিছিল বের করার জন্য ২০০৭ সালে আদিত্যনাথকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১১ দিন পর আদিত্যনাথকে মুক্তি দেয়া হয়। কিন্তু ওই গ্রেপ্তার তাকে একটা ঝাঁকুনি দেয় বলে মনে করা হয়। তিনি আরো সতর্ক হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে ধর্মীয় সংঘাতের জন্য তিনি অনুসারীদেরকে সরাসরি নেতৃত্ব দিতেন না।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X