শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১১:৪১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, September 22, 2016 4:16 pm
A- A A+ Print

ভারতের সঙ্গে বয়কট করবে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান!

16

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক কি ভেঙ্গে যাচ্ছে? পর্যবেক্ষকদের অনেকে তেমন আশঙ্কার কথা বলছেন। জম্মু ও কাশ্মীরে সেনা ঘাঁটিতে হামলায় ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা চলছে। এ প্রেক্ষিতে দুটি তথ্য সামনে এসেছে, প্রথমত আগামী নভেম্বরে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে ভারত, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ বয়কট করতে পারে। দ্বিতীয়ত, ভারত সরকার পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে সার্কের বাকি ছয় সদস্য দেশের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে ভারতে একটি সম্মেলনের উদ্যোগ নিচ্ছে। ভারতের প্রভাবশালী হিন্দি দৈনিক জাগরণের এক উপ সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ‘ভারত নরেন্দ্র মোদির সরকারে ‘প্রতিবেশি প্রথম’ নীতির বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা করার অংশ হিসেব ভারত শিগগিরই দক্ষিণ এশীয় সহযোগী সংস্থা সার্কের ৬ সদস্য রাষ্ট্রকে ভারতে এক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া গ্রুপের হিন্দি দৈনিক নব ভারতের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কাশ্মীরের উরিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অংশগ্রহনের রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে বিনষ্ট করে দেয়। একই সঙ্গে পাকিস্তান পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানও সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বয়কট করতে পারে। প্রত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী নভেম্বরে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে এই তিনটি দেশ বয়কট করতে পারে। এই তিনটি দেশই পাকিস্তান পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের ভিটটিম হয়ে পড়েছে। তাই এ তিনটি দেশ রাষ্ট্র পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের একটি ভিকটিম সম্মেলনের আয়োজন করেত পারে। জাগরণের উপসম্পাদকীয়তে বলা হয়, পাকিস্তান পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগী ভুমিকা পালন করবে। এই অঞ্চল থেকে সন্ত্রাস দূর করতে তিন দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। ভারতে নিযুক্ত আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত ড. শাইদা মোহম্মাদ আদবালী এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষতকারে বলেছেন, আসন্ন সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বয়কট করে পাকিস্তানকে একটি উপযুক্ত বার্তা পাঠানো উচিত। এদিকে ভারত ও পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ভারত এখন প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ, আফগানিস্তানসহ মিত্রদের সাথে নিয়ে পাকিস্তানকে একঘরে করার কৌশল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এ কৌশল নিয়ে ভারত অনেক দূর এগিয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দুই পার্লামেন্ট সদস্য পাকিস্তানকে ‘জঙ্গি রাষ্ট্র’ ঘোষণার প্রস্তাব দিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে একটি বিল উত্থাপন করেছেন। টেক্সাসের কংগ্রেসম্যান টেড পো এবং ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেসম্যান ডানা রোহরাবেকার ওই বিল উত্থাপন করেন। টেড পো কংগ্রেসের সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান, আর ডানা রোহরাবেকার বালুচ জাতিসত্তার একজন শক্তিশালী সমর্থক। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য রাখার ঠিক আগে এই বিলটি উত্থাপন করা হয়। নওয়াজ শরিফ তার ভাষণে ভারত শাসিত কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইস্যুটি উত্থাপন করবেন বলে আগে থেকেই জানিয়েছে পাকিস্তান। আর তার পাল্টা হিসেবে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে জাতীয়তাবাদীদের দমনে পাকিস্তানের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি জাতিসঙ্ঘে তুলে ধরবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। পাকিস্তানের সাথে সার্কের দুই সদস্য রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের সম্পর্কও এখন বেশ নাজুক। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে বাংলাদেশের সাথে এবং তালেবানদের ম“ দেয়ার অভিযোগে আফগানিস্তানের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই অবস্থায় ভারত দুইটি দেশকে সাথে নিয়ে ইসলামাবাদ শীর্ষ সম্মেলন বয়কটের মাধ্যমে পাকিস্তানকে একটি জবাব দিতে পারে। উড়ির ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই ধরনের মনোভাব পোষণ করেছেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। সার্কের নিয়ম অনুযায়ী শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য সব ক’টি দেশের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতি আবশ্যক। কোনো একটি দেশ অংশ না নিলে শীর্ষ সম্মেলন হতে পারে না। এর আগেও পাক-ভারত বিরোধকে কেন্দ্র করে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনেকবার পিছিয়েছে। ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময়ে নিরাপত্তার কারণে ভারত ঢাকায় আসতে অপারগতা প্রকাশ করায় চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েও বাংলাদেশ যথাসময়ে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করতে পারেনি। অবশ্য সে বছরের শেষ দিকে সব দেশের অংশগ্রহণে এ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ভারতে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত ড. শাইদা মোহাম্মদ আবদালি এনডিটিভিকে এক সক্ষাৎকারে বলেছেন, আসন্ন সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বয়কট করে হলেও পাকিস্তানকে একটা উপযুক্ত বার্তা পাঠানো উচিত। তিনি বলেন, আমাদের এটা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে, আমরা যাতে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি। আমি নিশ্চিত যে আমরা যেভাবে ভাবছি সেইভাবে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশই চিন্তাভাবনা করছে। তাই আমাদের এই উদ্যোগ এতটাই ব্যাপকভিত্তিক হওয়া উচিত, যাতে আমরা একটি দেশকে চিহ্নিত করতে পারি, যা আমাদের আঞ্চলিক শান্তি ও ঐক্যের প্রতি হুমকি সৃষ্টি করছে। ২০১৪ সালের নভেম্বরে সার্কের কাঠমান্ডু শীর্ষ সম্মেলনে পাকিস্তানের আপত্তির কারণে মোটর ভেইক্যাল অ্যাগ্রিমেন্ট (এমভিএ) সই হয়নি। এর পর থেকেই পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবি আইএন) উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার জোরাল উদ্যোগ নেয় দিল্লি। এই জোটের যোগাযোগমন্ত্রীরা গত বছর জুনে থিম্পুতে বিবি আইএন এমভিএ সই করেন। সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদশের যোগ দেয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে যোগ দেবেন কিনা তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দেখা হবে। আগামী অক্টোবরে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে গোয়ায় যাবেন শেখ হাসিনা। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথেও নিশ্চিতভাবে এ নিয়ে আলোচনা হবে। এর আগে ইসলামাবাদে সার্ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যাননি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন ইসলামাবাদে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার। আর সার্ক অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দেননি আবুল মাল আবদুল মুহিত। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী।

Comments

Comments!

 ভারতের সঙ্গে বয়কট করবে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান!AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ভারতের সঙ্গে বয়কট করবে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান!

Thursday, September 22, 2016 4:16 pm
16

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক কি ভেঙ্গে যাচ্ছে? পর্যবেক্ষকদের অনেকে তেমন আশঙ্কার কথা বলছেন। জম্মু ও কাশ্মীরে সেনা ঘাঁটিতে হামলায় ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা চলছে। এ প্রেক্ষিতে দুটি তথ্য সামনে এসেছে, প্রথমত আগামী নভেম্বরে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে ভারত, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ বয়কট করতে পারে। দ্বিতীয়ত, ভারত সরকার পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে সার্কের বাকি ছয় সদস্য দেশের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে ভারতে একটি সম্মেলনের উদ্যোগ নিচ্ছে।

ভারতের প্রভাবশালী হিন্দি দৈনিক জাগরণের এক উপ সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ‘ভারত নরেন্দ্র মোদির সরকারে ‘প্রতিবেশি প্রথম’ নীতির বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা করার অংশ হিসেব ভারত শিগগিরই দক্ষিণ এশীয় সহযোগী সংস্থা সার্কের ৬ সদস্য রাষ্ট্রকে ভারতে এক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া গ্রুপের হিন্দি দৈনিক নব ভারতের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কাশ্মীরের উরিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অংশগ্রহনের রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে বিনষ্ট করে দেয়। একই সঙ্গে পাকিস্তান পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানও সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বয়কট করতে পারে।

প্রত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী নভেম্বরে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে এই তিনটি দেশ বয়কট করতে পারে। এই তিনটি দেশই পাকিস্তান পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের ভিটটিম হয়ে পড়েছে। তাই এ তিনটি দেশ রাষ্ট্র পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের একটি ভিকটিম সম্মেলনের আয়োজন করেত পারে।

জাগরণের উপসম্পাদকীয়তে বলা হয়, পাকিস্তান পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগী ভুমিকা পালন করবে। এই অঞ্চল থেকে সন্ত্রাস দূর করতে তিন দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। ভারতে নিযুক্ত আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত ড. শাইদা মোহম্মাদ আদবালী এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষতকারে বলেছেন, আসন্ন সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বয়কট করে পাকিস্তানকে একটি উপযুক্ত বার্তা পাঠানো উচিত।

এদিকে ভারত ও পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ভারত এখন প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ, আফগানিস্তানসহ মিত্রদের সাথে নিয়ে পাকিস্তানকে একঘরে করার কৌশল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এ কৌশল নিয়ে ভারত অনেক দূর এগিয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দুই পার্লামেন্ট সদস্য পাকিস্তানকে ‘জঙ্গি রাষ্ট্র’ ঘোষণার প্রস্তাব দিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে একটি বিল উত্থাপন করেছেন। টেক্সাসের কংগ্রেসম্যান টেড পো এবং ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেসম্যান ডানা রোহরাবেকার ওই বিল উত্থাপন করেন। টেড পো কংগ্রেসের সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান, আর ডানা রোহরাবেকার বালুচ জাতিসত্তার একজন শক্তিশালী সমর্থক। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য রাখার ঠিক আগে এই বিলটি উত্থাপন করা হয়। নওয়াজ শরিফ তার ভাষণে ভারত শাসিত কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইস্যুটি উত্থাপন করবেন বলে আগে থেকেই জানিয়েছে পাকিস্তান। আর তার পাল্টা হিসেবে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে জাতীয়তাবাদীদের দমনে পাকিস্তানের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি জাতিসঙ্ঘে তুলে ধরবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।

পাকিস্তানের সাথে সার্কের দুই সদস্য রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের সম্পর্কও এখন বেশ নাজুক। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে বাংলাদেশের সাথে এবং তালেবানদের ম“ দেয়ার অভিযোগে আফগানিস্তানের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই অবস্থায় ভারত দুইটি দেশকে সাথে নিয়ে ইসলামাবাদ শীর্ষ সম্মেলন বয়কটের মাধ্যমে পাকিস্তানকে একটি জবাব দিতে পারে। উড়ির ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই ধরনের মনোভাব পোষণ করেছেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি।

সার্কের নিয়ম অনুযায়ী শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য সব ক’টি দেশের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতি আবশ্যক। কোনো একটি দেশ অংশ না নিলে শীর্ষ সম্মেলন হতে পারে না। এর আগেও পাক-ভারত বিরোধকে কেন্দ্র করে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনেকবার পিছিয়েছে। ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময়ে নিরাপত্তার কারণে ভারত ঢাকায় আসতে অপারগতা প্রকাশ করায় চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েও বাংলাদেশ যথাসময়ে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করতে পারেনি। অবশ্য সে বছরের শেষ দিকে সব দেশের অংশগ্রহণে এ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ভারতে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত ড. শাইদা মোহাম্মদ আবদালি এনডিটিভিকে এক সক্ষাৎকারে বলেছেন, আসন্ন সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বয়কট করে হলেও পাকিস্তানকে একটা উপযুক্ত বার্তা পাঠানো উচিত। তিনি বলেন, আমাদের এটা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে, আমরা যাতে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি। আমি নিশ্চিত যে আমরা যেভাবে ভাবছি সেইভাবে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশই চিন্তাভাবনা করছে। তাই আমাদের এই উদ্যোগ এতটাই ব্যাপকভিত্তিক হওয়া উচিত, যাতে আমরা একটি দেশকে চিহ্নিত করতে পারি, যা আমাদের আঞ্চলিক শান্তি ও ঐক্যের প্রতি হুমকি সৃষ্টি করছে।

২০১৪ সালের নভেম্বরে সার্কের কাঠমান্ডু শীর্ষ সম্মেলনে পাকিস্তানের আপত্তির কারণে মোটর ভেইক্যাল অ্যাগ্রিমেন্ট (এমভিএ) সই হয়নি। এর পর থেকেই পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবি আইএন) উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার জোরাল উদ্যোগ নেয় দিল্লি। এই জোটের যোগাযোগমন্ত্রীরা গত বছর জুনে থিম্পুতে বিবি আইএন এমভিএ সই করেন।

সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদশের যোগ দেয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে যোগ দেবেন কিনা তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দেখা হবে। আগামী অক্টোবরে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে গোয়ায় যাবেন শেখ হাসিনা। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথেও নিশ্চিতভাবে এ নিয়ে আলোচনা হবে।

এর আগে ইসলামাবাদে সার্ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যাননি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন ইসলামাবাদে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার। আর সার্ক অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দেননি আবুল মাল আবদুল মুহিত। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X