শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৬:৩৬
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, July 31, 2016 11:03 am
A- A A+ Print

ভারতে গরু নিয়ে সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

148611_1

   
নিউইয়র্ক: গরু ও গো-মাংসকে কেন্দ্র করে ভারতে যে অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতা মাথাচাড়া দিয়েছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জন কিরবি। ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতার প্রশ্ন ঘিরে কয়েক মাস আগে যে বিতর্ক উত্তাল করেছিল ভারতকে, সেই প্রশ্নই এবার তুলে ধরল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, দৃশ্যত কিছুদিনের বিরতির পর বিজেপিশাসিত ভারতে গো-রক্ষা আন্দোলন নতুন করে চাঙা হচ্ছে। এক শ্রেণির হিন্দুত্ববাদীর হাতে সম্প্রতি গরুকে কেন্দ্র করে মুসলিম এমনকি নিম্নবর্ণের হিন্দুদের হয়রানি ও লাঞ্ছিত করার পরপর কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জন কিবরি এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘এ ধরনের অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতায় আমরা বাস্তবিকই উদ্বিগ্ন। আমরা চাই ভারত সরকার তার নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করে অপরাধীদের কড়া শাস্তি দিক। ধর্মীয় আচার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং অসহিষ্ণুতার মোকাবিলায় ভারতের জনগণ ও সরকারের পাশে আমরা দৃঢ় সমর্থন নিয়ে আছি।’ বিজেপি গত সাধারণ নির্বাচনে ভারতের ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশে গো-রক্ষা আন্দোলন তীব্র হয়েছে। সেই সঙ্গে বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যে চালু হয়েছে গো-হত্যা ও গো-মাংস নিষিদ্ধ আইন। এ নিয়ে অশান্তি লেগেই আছে। গত বছর দিল্লির লাগোয়া উত্তর প্রদেশের দাদরিতে বাড়িতে গো-মাংস পাওয়ার অভিযোগে এক মুসলিম পরিবারের ওপর মারাত্মক হামলা চালানো হয়। আকলাখ আহমেদ নামে ওই বাড়ির প্রবীণ গৃহকর্তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন স্থানীয় লোকজন। সেই থেকে প্রায়ই মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে অশান্তি লেগেই আছে। সম্প্রতি দুটি ঘটনায় নতুন করে শুরু হয়েছে অসহিষ্ণুতা বিতর্ক। গরু মেরে তার চামড়া ছাড়ানোর অভিযোগে বিজেপিশাসিত গুজরাটে দলিত সম্প্রদায়ের চারজনকে নগ্ন করে গাড়ির সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক পেটানো হয়। অত্যাচারের সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। সংসদ উত্তাল হয়ে ওঠে। কদিন পরই মধ্য প্রদেশের এক ট্রেন স্টেশনে দুই মুসলিম নারীকে পুলিশের সামনেই মারধর করা হয়। অভিযোগ, তাদের কাছে গরুর মাংস পাওয়া গেছে। যদিও তদন্তে দেখা যায়, তাদের কাছে থাকা মাংস ছিল মহিষের। গুজরাটে দলিত-নিগ্রহের রেশ সেই রাজ্যে নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে। গরুর চামড়া ছাড়ানোর কাজ এ দেশে যারা করেন, তারা প্রায় সবাই হয় মুসলমান অথবা দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ। গুজরাটের দলিতরা নিগৃহীত হওয়ার পর তারা সেই কাজ করা বন্ধ রেখেছেন। রাজ্যের চর্মকারদের এই সিদ্ধান্তের ফলে শুরু হয়েছে নতুন প্রশাসনিক সংকট। বাড়ছে উত্তেজনাও। এমনিতেই গো-হত্যা নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশের চামড়াশিল্প বিপন্ন। পাশাপাশি মাংস রপ্তানিও মারাত্মক কমে গেছে। গো-রক্ষার নামে রাজ্যে রাজ্যে উগ্র হিন্দু সংগঠনগুলোর দাপাদাপিতে সহিংসতাও বেড়ে চলেছে। এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা বলেননি। এ প্রেক্ষাপটেই উদ্বেগ প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র।

Comments

Comments!

 ভারতে গরু নিয়ে সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ভারতে গরু নিয়ে সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

Sunday, July 31, 2016 11:03 am
148611_1

 

 

নিউইয়র্ক: গরু ও গো-মাংসকে কেন্দ্র করে ভারতে যে অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতা মাথাচাড়া দিয়েছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জন কিরবি।

ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতার প্রশ্ন ঘিরে কয়েক মাস আগে যে বিতর্ক উত্তাল করেছিল ভারতকে, সেই প্রশ্নই এবার তুলে ধরল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, দৃশ্যত কিছুদিনের বিরতির পর বিজেপিশাসিত ভারতে গো-রক্ষা আন্দোলন নতুন করে চাঙা হচ্ছে। এক শ্রেণির হিন্দুত্ববাদীর হাতে সম্প্রতি গরুকে কেন্দ্র করে মুসলিম এমনকি নিম্নবর্ণের হিন্দুদের হয়রানি ও লাঞ্ছিত করার পরপর কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জন কিবরি এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘এ ধরনের অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতায় আমরা বাস্তবিকই উদ্বিগ্ন। আমরা চাই ভারত সরকার তার নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করে অপরাধীদের কড়া শাস্তি দিক। ধর্মীয় আচার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং অসহিষ্ণুতার মোকাবিলায় ভারতের জনগণ ও সরকারের পাশে আমরা দৃঢ় সমর্থন নিয়ে আছি।’

বিজেপি গত সাধারণ নির্বাচনে ভারতের ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশে গো-রক্ষা আন্দোলন তীব্র হয়েছে। সেই সঙ্গে বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যে চালু হয়েছে গো-হত্যা ও গো-মাংস নিষিদ্ধ আইন। এ নিয়ে অশান্তি লেগেই আছে।

গত বছর দিল্লির লাগোয়া উত্তর প্রদেশের দাদরিতে বাড়িতে গো-মাংস পাওয়ার অভিযোগে এক মুসলিম পরিবারের ওপর মারাত্মক হামলা চালানো হয়। আকলাখ আহমেদ নামে ওই বাড়ির প্রবীণ গৃহকর্তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন স্থানীয় লোকজন। সেই থেকে প্রায়ই মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে অশান্তি লেগেই আছে।

সম্প্রতি দুটি ঘটনায় নতুন করে শুরু হয়েছে অসহিষ্ণুতা বিতর্ক। গরু মেরে তার চামড়া ছাড়ানোর অভিযোগে বিজেপিশাসিত গুজরাটে দলিত সম্প্রদায়ের চারজনকে নগ্ন করে গাড়ির সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক পেটানো হয়। অত্যাচারের সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। সংসদ উত্তাল হয়ে ওঠে।

কদিন পরই মধ্য প্রদেশের এক ট্রেন স্টেশনে দুই মুসলিম নারীকে পুলিশের সামনেই মারধর করা হয়। অভিযোগ, তাদের কাছে গরুর মাংস পাওয়া গেছে। যদিও তদন্তে দেখা যায়, তাদের কাছে থাকা মাংস ছিল মহিষের।

গুজরাটে দলিত-নিগ্রহের রেশ সেই রাজ্যে নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে। গরুর চামড়া ছাড়ানোর কাজ এ দেশে যারা করেন, তারা প্রায় সবাই হয় মুসলমান অথবা দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ। গুজরাটের দলিতরা নিগৃহীত হওয়ার পর তারা সেই কাজ করা বন্ধ রেখেছেন।

রাজ্যের চর্মকারদের এই সিদ্ধান্তের ফলে শুরু হয়েছে নতুন প্রশাসনিক সংকট। বাড়ছে উত্তেজনাও। এমনিতেই গো-হত্যা নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশের চামড়াশিল্প বিপন্ন। পাশাপাশি মাংস রপ্তানিও মারাত্মক কমে গেছে। গো-রক্ষার নামে রাজ্যে রাজ্যে উগ্র হিন্দু সংগঠনগুলোর দাপাদাপিতে সহিংসতাও বেড়ে চলেছে।

এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা বলেননি। এ প্রেক্ষাপটেই উদ্বেগ প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X