বুধবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:৪২
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Wednesday, November 2, 2016 8:51 pm
A- A A+ Print

ভারতে জেল পালানো আট ছাত্রের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ ও অবিশ্বাস

158321_1

দিল্লি: ভারতের মধ্য প্রদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন সিমির আটজন জেল পালানো সদস্যর পুলিশের গুলিতে মারা যাওয়ার ঘটনা একটি সাজানো এনকাউন্টার কি-না সে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে। দেশের বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ ও মানবাধিকার কর্মী এই এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা এ ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তও দাবি করেছেন। সেই সাথে ঘটনার নানা ভিডিও বা নিহতদের ময়না তদন্ত রিপোর্ট সন্দেহকে আরো বদ্ধমূল করে তুলছে। মধ্য প্রদেশের বিজেপি সরকার অবশ্য বলছে, যারা এই এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা নিহত কারারক্ষীর দেশের জন্য বলিদানকেই অপমান করছেন। ভোপাল শহরের উপকন্ঠে যে পাহাড়ি গ্রামে আটজন সিমি সদস্য পুলিশের গুলিতে মারা যায়, সেই জায়গাটি এখন ট্যুরিস্ট স্পটে পরিণত হয়েছে। ঘটনাস্থলের আশেপাশে বহু সাক্ষ্যপ্রমাণ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও পুলিশ জায়গাটি ঘিরেও রাখেনি, আর প্রতিদিন সেখানে এনকাউন্টার স্পট দেখানোর জন্য মানুষের ঢল নামছে। ঘটনাটি আদৌ সত্যিকারের এনকাউন্টার ছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, এই এনকাউন্টার পুরোপুরি সাজানো। সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক মনীষা শেঠি বলেছেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যত্র ছড়িয়ে পড়া অজস্র ছবি আর ভিডিও থেকে পরিষ্কার যে পুলিশের বক্তব্যে অজস্র গরমিল আছে। জেল পালানো বন্দীরা দূরে না পালিয়ে নতুন শার্ট, জিনস, বেল্ট কেনার সময় পেল, মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরেই ধরা পড়লো এবং যে যার মতো ছিটকে না পড়ে আটজন একসঙ্গেই মুভ করছিল, এটা কি বিশ্বাস্য? এই এনকাউন্টারে অবশ্যই সাঙ্ঘাতিক কোনো অসঙ্গতি আছে।’ বুধবার দেশটির মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টির ভারতীয় শাখাও বলেছে ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্যে বিস্তর ফারাক আছে। ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে পুলিশ গুলি চালানোর আগে ওই সিমি সদস্যরা তাদের সঙ্গে কথা বলারও চেষ্টা করেছিল, অ্যামনেস্টির মতে এই দৃশ্য বিচলিত করার মতো নানা প্রশ্নের উদ্রেক করছে। মধ্যপ্রদেশে ও কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা বিজেপির বক্তব্য, এই ধরনের প্রশ্ন তোলা বিভিন্ন জঘন্য অপরাধে অভিযুক্ত সিমির সদস্যদের সমর্থন করারই সামিল। দলটির মুখপাত্র জিভিএল নরসিমহা রাও বলছেন, ‘ভুললে চলবে না এরা জেল পালানো আসামী, সেটাইতো একটা ফৌজদারি অপরাধ! পালানোর সময় এরা একজন কারারক্ষী হেড কনস্টেবলকে গলা চিরে হত্যা করেছে, কই তার জন্যতো কেউ সহানুভূতি দেখাচ্ছেন না। অথচ কংগ্রেস এমআইএম, সিপিআই সিপিএম কারোরই সন্ত্রাসবাদীদের জন্য চোখের জল বাঁধ মানছে না!’ মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানও প্রায় একই সুরে বলছেন, ‘আমাদের দেশে কেউ কেউ শহীদের বলিদান দেখতে পান না, অথচ ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করার জন্য সন্ত্রাসবাদীদের সমর্থন করতেও তাদের গলা কাঁপে না।’ এক জনসভায় তিনি এমন প্রশ্নও তুলেছেন, ‘যারা মনে করেন এই এনকাউন্টার সত্যি তারা হাত তুলুন’ এ সময় বিপুল লোক হাত তুলে তাকে সমর্থন করেছে। অ্যাক্টিভিস্ট মনীষা শেঠি বলছিলেন সিং চৌহান এখানে নরেন্দ্র মোদির বিপজ্জনক মডেলই অনুসরণ করছেন। গুজরাটে সোহরাবউদ্দিন এনকাউন্টার মামলায় নরেন্দ্র মোদি যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তিনিও এক জনসভায় প্রশ্ন করেছিলেন-সোহরাবউদ্দিনের মতো মানুষদের নিয়ে কী করা উচিত? উন্মত্ত জনতা চিৎকার করে বলেছিল, খতম করো, খতম করো!’ ভোপাল এনকাউন্টার কেসেও একই রকম একটা জিগির তৈরি করে দেশের সংবিধানকে আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন অধ্যাপক শেঠি। এ দিকে জেল পালানো বন্দীরা নিরস্ত্র হলেও পুলিশ তাদের জীবিত আটক না করে কেনো হত্যা করলো, সে প্রশ্নের জবাবেও রাজ্যের প্রধান জঙ্গ দমন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এরকম ক্ষেত্রে পুলিশের পূর্ণ অধিকার আছে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ করার।

Comments

Comments!

 ভারতে জেল পালানো আট ছাত্রের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ ও অবিশ্বাসAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ভারতে জেল পালানো আট ছাত্রের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ ও অবিশ্বাস

Wednesday, November 2, 2016 8:51 pm
158321_1

দিল্লি: ভারতের মধ্য প্রদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন সিমির আটজন জেল পালানো সদস্যর পুলিশের গুলিতে মারা যাওয়ার ঘটনা একটি সাজানো এনকাউন্টার কি-না সে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে।

দেশের বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ ও মানবাধিকার কর্মী এই এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা এ ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তও দাবি করেছেন। সেই সাথে ঘটনার নানা ভিডিও বা নিহতদের ময়না তদন্ত রিপোর্ট সন্দেহকে আরো বদ্ধমূল করে তুলছে।

মধ্য প্রদেশের বিজেপি সরকার অবশ্য বলছে, যারা এই এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা নিহত কারারক্ষীর দেশের জন্য বলিদানকেই অপমান করছেন।

ভোপাল শহরের উপকন্ঠে যে পাহাড়ি গ্রামে আটজন সিমি সদস্য পুলিশের গুলিতে মারা যায়, সেই জায়গাটি এখন ট্যুরিস্ট স্পটে পরিণত হয়েছে। ঘটনাস্থলের আশেপাশে বহু সাক্ষ্যপ্রমাণ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও পুলিশ জায়গাটি ঘিরেও রাখেনি, আর প্রতিদিন সেখানে এনকাউন্টার স্পট দেখানোর জন্য মানুষের ঢল নামছে। ঘটনাটি আদৌ সত্যিকারের এনকাউন্টার ছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে।

দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, এই এনকাউন্টার পুরোপুরি সাজানো।

সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক মনীষা শেঠি বলেছেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যত্র ছড়িয়ে পড়া অজস্র ছবি আর ভিডিও থেকে পরিষ্কার যে পুলিশের বক্তব্যে অজস্র গরমিল আছে। জেল পালানো বন্দীরা দূরে না পালিয়ে নতুন শার্ট, জিনস, বেল্ট কেনার সময় পেল, মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরেই ধরা পড়লো এবং যে যার মতো ছিটকে না পড়ে আটজন একসঙ্গেই মুভ করছিল, এটা কি বিশ্বাস্য? এই এনকাউন্টারে অবশ্যই সাঙ্ঘাতিক কোনো অসঙ্গতি আছে।’

বুধবার দেশটির মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টির ভারতীয় শাখাও বলেছে ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্যে বিস্তর ফারাক আছে।

ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে পুলিশ গুলি চালানোর আগে ওই সিমি সদস্যরা তাদের সঙ্গে কথা বলারও চেষ্টা করেছিল, অ্যামনেস্টির মতে এই দৃশ্য বিচলিত করার মতো নানা প্রশ্নের উদ্রেক করছে।

মধ্যপ্রদেশে ও কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা বিজেপির বক্তব্য, এই ধরনের প্রশ্ন তোলা বিভিন্ন জঘন্য অপরাধে অভিযুক্ত সিমির সদস্যদের সমর্থন করারই সামিল।

দলটির মুখপাত্র জিভিএল নরসিমহা রাও বলছেন, ‘ভুললে চলবে না এরা জেল পালানো আসামী, সেটাইতো একটা ফৌজদারি অপরাধ! পালানোর সময় এরা একজন কারারক্ষী হেড কনস্টেবলকে গলা চিরে হত্যা করেছে, কই তার জন্যতো কেউ সহানুভূতি দেখাচ্ছেন না। অথচ কংগ্রেস এমআইএম, সিপিআই সিপিএম কারোরই সন্ত্রাসবাদীদের জন্য চোখের জল বাঁধ মানছে না!’

মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানও প্রায় একই সুরে বলছেন, ‘আমাদের দেশে কেউ কেউ শহীদের বলিদান দেখতে পান না, অথচ ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করার জন্য সন্ত্রাসবাদীদের সমর্থন করতেও তাদের গলা কাঁপে না।’

এক জনসভায় তিনি এমন প্রশ্নও তুলেছেন, ‘যারা মনে করেন এই এনকাউন্টার সত্যি তারা হাত তুলুন’ এ সময় বিপুল লোক হাত তুলে তাকে সমর্থন করেছে।

অ্যাক্টিভিস্ট মনীষা শেঠি বলছিলেন সিং চৌহান এখানে নরেন্দ্র মোদির বিপজ্জনক মডেলই অনুসরণ করছেন। গুজরাটে সোহরাবউদ্দিন এনকাউন্টার মামলায় নরেন্দ্র মোদি যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তিনিও এক জনসভায় প্রশ্ন করেছিলেন-সোহরাবউদ্দিনের মতো মানুষদের নিয়ে কী করা উচিত? উন্মত্ত জনতা চিৎকার করে বলেছিল, খতম করো, খতম করো!’

ভোপাল এনকাউন্টার কেসেও একই রকম একটা জিগির তৈরি করে দেশের সংবিধানকে আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন অধ্যাপক শেঠি।

এ দিকে জেল পালানো বন্দীরা নিরস্ত্র হলেও পুলিশ তাদের জীবিত আটক না করে কেনো হত্যা করলো, সে প্রশ্নের জবাবেও রাজ্যের প্রধান জঙ্গ দমন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এরকম ক্ষেত্রে পুলিশের পূর্ণ অধিকার আছে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ করার।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X