বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ২:৪১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, December 19, 2016 9:06 pm
A- A A+ Print

ভারতে পুলিশ হেফাজতে ৬০০ মৃত্যু : স্বীকারোক্তি আদায়ে পুলিশের অস্ত্র ‘থার্ড ডিগ্রি’

%e0%a7%ae%e0%a7%ae

ভারতে পুলিশের হেফাজতে প্রায় ৬০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অনেকের মৃত্যু হয়েছে নির্যাতনের শিকার হয়ে। মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে। নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) ১১৪ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দিয়েছে। এ বিষয়ে খবর ছাপা হয়েছে আজ সোমবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায়। মানবাধিকার সংস্থাটি গ্রেপ্তারবিষয়ক যে আইন ও বিধি রয়েছে, সেগুলো মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে কারাবন্দীদের প্রতি অন্যায্য আচরণে যেসব কর্মকর্তা যুক্ত, তাঁদের বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছে। এইচআরডব্লিউ তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, পুলিশ প্রায় নিয়মিতভাবেই গ্রেপ্তারের নিয়মাবলিগুলো অবজ্ঞা করে। নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন চালায়। এভাবে বন্দীদের মৃত্যু ঘটে। কিন্তু পুলিশ প্রায়ই এসব মৃত্যুকে আত্মহত্যা বা অসুস্থতাজনিত বলে দোষ চাপায়। যেখানে নির্যাতন অবৈধ এবং অনেক দেশেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বলছে যে প্রকৃত তথ্য পেতে নির্যাতনের ভূমিকা খুব কম, সেখানে ভারতীয় পুলিশের অনেকেই খোলাখুলিভাবে স্বীকার করে যে তারা ‘থার্ড ডিগ্রি’ প্রয়োগ করে। নির্যাতন করে অপরাধের বিস্তারিত জানতে বা স্বীকারোক্তি আদায়ের ক্ষেত্রে এই শব্দযুগল ব্যবহার করে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রতিবেদনে অপরাধ ও দুর্নীতির উৎসভূমি হিসেবে পরিচিত উত্তর প্রদেশের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা জয়রাজ শর্মার বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে জয়রাজ বলেছেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি তাদের (কথিত অপরাধী) বিরুদ্ধে থার্ড ডিগ্রি প্রয়োগ না করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা মুখ খুলবে না।’ সরকারি তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, কেবল ২০১৫ সালে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৭। এর মধ্যে ৬৭টি ঘটনায় কর্তৃপক্ষ হয় গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে, যেটা আইনে প্রয়োজন ছিল। অথবা সন্দেহভাজন ব্যক্তি গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন। এইচআরডব্লিউ বলেছে, চলমান গ্রেপ্তারের নির্দেশনাবলি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। নির্দেশনাবলির মধ্যে রয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিবারকে তথ্য দেওয়া, মেডিকেল পরীক্ষা করানো, সন্দেহভাজনদের দ্রুত ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থাপন। এইচআরডব্লিউর দাবি, যেসব পুলিশ বন্দীদের নির্যাতনে যুক্ত, তাদের অবশ্যই শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে অথবা বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এইচআরডব্লিউর দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, পুলিশ কর্মকর্তারা একমাত্র তখনই জানতে পারে সন্দেহভাজনদের মারধর করা অগ্রহণযোগ্য, যখন কিছু কর্মকর্তা বিচারের মুখোমুখি হন। মীনাক্ষী বলেন, ‘আমাদের গবেষণা দেখাচ্ছে, তেমন খুব কমই ঘটে। হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা যেসব পুলিশ কর্মকর্তা তদন্ত করেন, তারা বরং তাদের সহকর্মীদের বিচারের মুখোমুখি করার চেয়ে বাঁচানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেন।

Comments

Comments!

 ভারতে পুলিশ হেফাজতে ৬০০ মৃত্যু : স্বীকারোক্তি আদায়ে পুলিশের অস্ত্র ‘থার্ড ডিগ্রি’AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ভারতে পুলিশ হেফাজতে ৬০০ মৃত্যু : স্বীকারোক্তি আদায়ে পুলিশের অস্ত্র ‘থার্ড ডিগ্রি’

Monday, December 19, 2016 9:06 pm
%e0%a7%ae%e0%a7%ae

ভারতে পুলিশের হেফাজতে প্রায় ৬০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অনেকের মৃত্যু হয়েছে নির্যাতনের শিকার হয়ে। মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে। নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) ১১৪ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দিয়েছে। এ বিষয়ে খবর ছাপা হয়েছে আজ সোমবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায়।

মানবাধিকার সংস্থাটি গ্রেপ্তারবিষয়ক যে আইন ও বিধি রয়েছে, সেগুলো মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে কারাবন্দীদের প্রতি অন্যায্য আচরণে যেসব কর্মকর্তা যুক্ত, তাঁদের বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছে।
এইচআরডব্লিউ তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, পুলিশ প্রায় নিয়মিতভাবেই গ্রেপ্তারের নিয়মাবলিগুলো অবজ্ঞা করে। নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন চালায়। এভাবে বন্দীদের মৃত্যু ঘটে। কিন্তু পুলিশ প্রায়ই এসব মৃত্যুকে আত্মহত্যা বা অসুস্থতাজনিত বলে দোষ চাপায়।
যেখানে নির্যাতন অবৈধ এবং অনেক দেশেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বলছে যে প্রকৃত তথ্য পেতে নির্যাতনের ভূমিকা খুব কম, সেখানে ভারতীয় পুলিশের অনেকেই খোলাখুলিভাবে স্বীকার করে যে তারা ‘থার্ড ডিগ্রি’ প্রয়োগ করে। নির্যাতন করে অপরাধের বিস্তারিত জানতে বা স্বীকারোক্তি আদায়ের ক্ষেত্রে এই শব্দযুগল ব্যবহার করে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রতিবেদনে অপরাধ ও দুর্নীতির উৎসভূমি হিসেবে পরিচিত উত্তর প্রদেশের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা জয়রাজ শর্মার বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে জয়রাজ বলেছেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি তাদের (কথিত অপরাধী) বিরুদ্ধে থার্ড ডিগ্রি প্রয়োগ না করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা মুখ খুলবে না।’
সরকারি তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, কেবল ২০১৫ সালে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৭। এর মধ্যে ৬৭টি ঘটনায় কর্তৃপক্ষ হয় গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে, যেটা আইনে প্রয়োজন ছিল। অথবা সন্দেহভাজন ব্যক্তি গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন।
এইচআরডব্লিউ বলেছে, চলমান গ্রেপ্তারের নির্দেশনাবলি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। নির্দেশনাবলির মধ্যে রয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিবারকে তথ্য দেওয়া, মেডিকেল পরীক্ষা করানো, সন্দেহভাজনদের দ্রুত ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থাপন। এইচআরডব্লিউর দাবি, যেসব পুলিশ বন্দীদের নির্যাতনে যুক্ত, তাদের অবশ্যই শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে অথবা বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
এইচআরডব্লিউর দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, পুলিশ কর্মকর্তারা একমাত্র তখনই জানতে পারে সন্দেহভাজনদের মারধর করা অগ্রহণযোগ্য, যখন কিছু কর্মকর্তা বিচারের মুখোমুখি হন। মীনাক্ষী বলেন, ‘আমাদের গবেষণা দেখাচ্ছে, তেমন খুব কমই ঘটে। হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা যেসব পুলিশ কর্মকর্তা তদন্ত করেন, তারা বরং তাদের সহকর্মীদের বিচারের মুখোমুখি করার চেয়ে বাঁচানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেন।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X