সোমবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ১১:৩৬
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, July 3, 2017 9:19 am
A- A A+ Print

ভারতে মুসলিম হত্যার প্রতিবাদ না করায় রাজনীতিবিদদের সমালোচনায় মাহমুদুর রহমান

20170702_125712

ভারতে গো-রক্ষা আন্দোলনের নামে মুসলিম হত্যার প্রতিবাদ না করায় সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করেছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, দিল্লির আশীর্বাদে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রতিযোগিতায় রাজনীতিবিদেরা ভারতের মুসলিম হত্যার প্রতিবাদ করছে না। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘ভারতে গো-রক্ষা কর্মসূচির নামে সংখ্যালঘু মুসলমান এবং দলিতদের ওপর যে ভয়ঙ্কর নির্যাতন এবং নৃশংস হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সমালোচনা করেন। মাহমুদুর রহমান ভারতের সরকার প্রধানকে এ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করে বলেন, কথিত ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠী এবং নিম্নবর্ণের দলিত শ্রেণি বরাবরই অপমান, বঞ্চনা, নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে হলেও বাংলাদেশের কোনো মহল থেকেই এখন পর্যন্ত ভারতের হিন্দুত্ববাদী শাসকশ্রেণির মুসলমান নিধনযজ্ঞের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ উচ্চারিত হয়নি। ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তে মুসলিম নিধনের ঘটনায় অনুমিত হচ্ছে উভয় রাষ্ট্রের সরকার এই অঞ্চলে হয়তো হিন্দুু-মুসলমান জনসংখ্যার ভারসাম্য পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, এ দেশের ক্ষমতাসীনরা দিল্লির আজ্ঞাবহ এবং চরিত্রগতভাবে ফ্যাসিস্ট। কাজেই তাদের কাছ থেকে ভারতীয় মুসলমানদের ওপর পরিচালিত নির্যাতনের প্রতিবাদ আশা করাটাই অমূলক। কিন্তু, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নির্লিপ্ততায় বাংলাদেশের নব্বই শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠী হতাশ ও ব্যথিত হয়েছে। দিল্লির আশীর্বাদে ক্ষমতায় আসীন হওয়ার প্রতিযোগিতা থেকেই রাজনীতিবিদেরা এ দেউলিয়া আচরণ করছে। তিনি বলেন, ইসলামের নাম ব্যবহার করে যেসব দল বাংলাদেশের রাজনীতি করেন অথবা নানারকম সংগঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের ভূমিকাও দিল্লির আজ্ঞাবহ সরকার থেকে পৃথক নয়। যে ব্যক্তি বা সংগঠন ইসলামের পক্ষশক্তির দাবিদার তাদের অবশ্যই বিশ্বের যে কোনো স্থানে নিপীড়িত মুসলিমের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। সুশীল সমাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সুশীল সমাজের অবস্থান সেকুলারিজমের ছদ্মাবরণে ইসলাম বিদ্বেষী। প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘুদের রাস্তায় পিটিয়ে হত্যা করলেও তারা নীরব থাকেন। তাদের নিরবতার কারণ হলো- যে নিহত হচ্ছে সে একজন মুসলমান। এ সময় তিনি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে গ্রিক পৌরাণিক দেবীর মূর্তি স্থাপন নিয়ে তাদের অবস্থানের সমালোচনা করেন। সুশীলদের বিবেচনায় মুসলমানকে হত্যা করলে সেটি অপরাধ নয়, সহিংস সাম্প্রদায়িকতা নয়। এ সময় তিনি ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্টেরও সমালোচনা করেন। মাহমুদুর রহমান বলেন, ভারতীয় সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর চলমান নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একজন বিবেকসম্পন্ন মানুষ, মুসলমান, ধর্মাবলম্বী এবং সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী হিসেবে আমি নিশ্চুপ থাকতে পারি না। গো-হত্যার নামে মুসলিম হত্যায় প্রতিবাদ জানানো ভারতের মানবতাবাদী নাগরিকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ভারতের বিবেকবান মানুষেরা সোচ্চার হয়ে উঠেছে। ‘নো ইন মাই নেম’ স্লোগান নিয়ে মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ভারতীয় নাগরিকরা সেবক সঙ্ঘের ঘাতক বাহিনীর বিরুদ্ধে পথে নেমেছে। এ বিবেকবান ভারতীয়দের প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা জানাই। সেই সমস্ত ভারতীয় ভাই বোনদের বলতে চাই- আপনাদের সেই গণতন্ত্রের এবং মানবাধিকার লড়াইয়ে আমরাও সঙ্গে রয়েছি।  আপনাদের প্রতিবাদ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছি। সংবাদ সম্মেলনে কবি ও বুদ্ধিজীবী ফরহাদ মাজহার, ডিইউজে (একাংশ) সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী, কাদের গনি চৌধুরী, এম আবদুল্লাহ, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ইলিয়াস খান ও শাহীন হাসনাত উপস্থিত ছিলেন।

Comments

Comments!

 ভারতে মুসলিম হত্যার প্রতিবাদ না করায় রাজনীতিবিদদের সমালোচনায় মাহমুদুর রহমানAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ভারতে মুসলিম হত্যার প্রতিবাদ না করায় রাজনীতিবিদদের সমালোচনায় মাহমুদুর রহমান

Monday, July 3, 2017 9:19 am
20170702_125712

ভারতে গো-রক্ষা আন্দোলনের নামে মুসলিম হত্যার প্রতিবাদ না করায় সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করেছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, দিল্লির আশীর্বাদে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রতিযোগিতায় রাজনীতিবিদেরা ভারতের মুসলিম হত্যার প্রতিবাদ করছে না। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘ভারতে গো-রক্ষা কর্মসূচির নামে সংখ্যালঘু মুসলমান এবং দলিতদের ওপর যে ভয়ঙ্কর নির্যাতন এবং নৃশংস হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সমালোচনা করেন। মাহমুদুর রহমান ভারতের সরকার প্রধানকে এ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করে বলেন, কথিত ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠী এবং নিম্নবর্ণের দলিত শ্রেণি বরাবরই অপমান, বঞ্চনা, নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে হলেও বাংলাদেশের কোনো মহল থেকেই এখন পর্যন্ত ভারতের হিন্দুত্ববাদী শাসকশ্রেণির মুসলমান নিধনযজ্ঞের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ উচ্চারিত হয়নি। ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তে মুসলিম নিধনের ঘটনায় অনুমিত হচ্ছে উভয় রাষ্ট্রের সরকার এই অঞ্চলে হয়তো হিন্দুু-মুসলমান জনসংখ্যার ভারসাম্য পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, এ দেশের ক্ষমতাসীনরা দিল্লির আজ্ঞাবহ এবং চরিত্রগতভাবে ফ্যাসিস্ট। কাজেই তাদের কাছ থেকে ভারতীয় মুসলমানদের ওপর পরিচালিত নির্যাতনের প্রতিবাদ আশা করাটাই অমূলক। কিন্তু, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নির্লিপ্ততায় বাংলাদেশের নব্বই শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠী হতাশ ও ব্যথিত হয়েছে। দিল্লির আশীর্বাদে ক্ষমতায় আসীন হওয়ার প্রতিযোগিতা থেকেই রাজনীতিবিদেরা এ দেউলিয়া আচরণ করছে। তিনি বলেন, ইসলামের নাম ব্যবহার করে যেসব দল বাংলাদেশের রাজনীতি করেন অথবা নানারকম সংগঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের ভূমিকাও দিল্লির আজ্ঞাবহ সরকার থেকে পৃথক নয়। যে ব্যক্তি বা সংগঠন ইসলামের পক্ষশক্তির দাবিদার তাদের অবশ্যই বিশ্বের যে কোনো স্থানে নিপীড়িত মুসলিমের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। সুশীল সমাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সুশীল সমাজের অবস্থান সেকুলারিজমের ছদ্মাবরণে ইসলাম বিদ্বেষী। প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘুদের রাস্তায় পিটিয়ে হত্যা করলেও তারা নীরব থাকেন। তাদের নিরবতার কারণ হলো- যে নিহত হচ্ছে সে একজন মুসলমান। এ সময় তিনি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে গ্রিক পৌরাণিক দেবীর মূর্তি স্থাপন নিয়ে তাদের অবস্থানের সমালোচনা করেন। সুশীলদের বিবেচনায় মুসলমানকে হত্যা করলে সেটি অপরাধ নয়, সহিংস সাম্প্রদায়িকতা নয়। এ সময় তিনি ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্টেরও সমালোচনা করেন। মাহমুদুর রহমান বলেন, ভারতীয় সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর চলমান নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একজন বিবেকসম্পন্ন মানুষ, মুসলমান, ধর্মাবলম্বী এবং সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী হিসেবে আমি নিশ্চুপ থাকতে পারি না। গো-হত্যার নামে মুসলিম হত্যায় প্রতিবাদ জানানো ভারতের মানবতাবাদী নাগরিকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ভারতের বিবেকবান মানুষেরা সোচ্চার হয়ে উঠেছে। ‘নো ইন মাই নেম’ স্লোগান নিয়ে মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ভারতীয় নাগরিকরা সেবক সঙ্ঘের ঘাতক বাহিনীর বিরুদ্ধে পথে নেমেছে। এ বিবেকবান ভারতীয়দের প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা জানাই। সেই সমস্ত ভারতীয় ভাই বোনদের বলতে চাই- আপনাদের সেই গণতন্ত্রের এবং মানবাধিকার লড়াইয়ে আমরাও সঙ্গে রয়েছি।  আপনাদের প্রতিবাদ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছি। সংবাদ সম্মেলনে কবি ও বুদ্ধিজীবী ফরহাদ মাজহার, ডিইউজে (একাংশ) সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী, কাদের গনি চৌধুরী, এম আবদুল্লাহ, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ইলিয়াস খান ও শাহীন হাসনাত উপস্থিত ছিলেন।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X