শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৬:১৭
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, November 29, 2016 1:11 am
A- A A+ Print

ভারতে মোদী বিরোধী বিক্ষোভ

8

দিল্লি: ভারতে বড় অঙ্কের নোট বাতিলের জেরে সাধারণ মানুষের যে দুর্ভোগ হচ্ছে, তার প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী দলগুলো রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। সোমবার সবচেয়ে জোরালো প্রতিবাদ হয়েছে কলকাতায়, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তিনি ‘রাজনীতি থেকে সরিয়েই ছাড়বেন’। দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস অবশ্য বলেছে, তারা কোনো ‘ভারত-বন্ধ’ ডাকেনি, দেশের মানুষ আজ  শুধু তাদের ‘আক্রোশ’ প্রদর্শন করছেন।
এই চাপের মুখে সরকার অবশ্য এখনো নতি স্বীকারের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। তবে কালো টাকা নিয়ে পার্লামেন্টে বিতর্কের সময় প্রধানমন্ত্রী হাজির থাকবেন বলে তারা কথা দিয়েছে। দক্ষিণ ভারতের ব্যাঙ্গালোরেও কংগ্রেস ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ডাকে বেশ বড় মাপের বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এ মাসের গোড়ায় রাতারাতি ৫০০ ও ১০০০ রুপির পুরনো নোট অচল হয়ে যাওয়ার জেরে আমজনতাকে যে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে তার প্রতিবাদেই এই বিক্ষোভ। দেশের প্রধান বিরোধী নেতাদের মধ্যে একমাত্র বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারই প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। কিন্তু তার রাজ্যের রাজধানী পাটনাতেও বামপন্থী দল সিপিআইএমএল বেশ বড়সড় বিক্ষোভ মিছিল করেছে। সবচেয়ে বিচিত্র অবস্থা ছিল পশ্চিমবঙ্গে। মানুষের ভোগান্তির প্রতিবাদে রাজ্যে বন্ধ ডেকেছিলেন বামপন্থীরা। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস সর্বশক্তিতে সেই বন্ধের প্রতিবাদ জানায়। বন্ধে তেমন সাড়া মেলেনি, এমন কী বিশেষ লোকও হয়নি বামপন্থীদের মিছিলে।কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরে একই ইস্যুতে শহরের বুকে মিছিল করে কলকাতা অচল করে দেন তৃণমূলের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজেই। এমন কী, মিছিলের শেষে এক জনসভা থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি দেন কড়া ভাষায়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সেই সভায় বলেন, ‘এই দেশে ১২৭ কোটি মানুষ-খেলাটা অত সহজ নয়। আজ সবাই শপথ নিয়ে বলুন, হয় মরবো কিংবা বাঁচবো-কিন্তু নরেন্দ্র মোদীকে ভারতবর্ষের রাজনীতি থেকে সরাব।’ প্রধানমন্ত্রীকে ‘মোদীবাবু’ বলে সম্বোধন করে তিনি আরো বলেন, ‘ভারতবর্ষের রাজনীতিতে আপনার মতো ডিক্টেটরদের কোনো জায়গা নেই, এটা আপনাকে মনে রাখতে হবে।’ দেশের নানা প্রান্তে এই ধরনের বিক্ষোভ সত্ত্বেও এটা যে কোনো মতেই ভারত বন্ধ নয়, সেটা প্রমাণ করার চেষ্টা ছিল কংগ্রেসের দিক থেকে। রাজ্যসভায় দলের নেতা গুলাম নবি আজাদ দাবি করেন, এটা শুধু মানুষের আক্রোশ। তিনি বলেন, ‘সতেরো-আঠারোটা বিরোধী দল মিলে বেশ কয়েক দফা বৈঠক করেছে, কিন্তু ভারত বন্ধের কথা কখোনোই হয়নি। কিন্তু লোকের মুখে মুখে ভারত-বন্ধ কথাটাই চালু হয়ে গেছে। আমরা শুধু বলছি, সরকার এত বড় একটা সিদ্ধান্দ নিলো-কিন্তু কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই। তাড়াহুড়ো করতে গিয়েই তারা অর্ধেক দেশকে আজ রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে।’ সোমবার বিরোধীরা পার্লামেন্টও চলতে দেননি। সংসদ ভবনের সামনে যৌথভাবে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। আর সংসদের ভেতরে বিরোধীদের তুমুল বাধার মধ্যে সরকার শুধু এটুকু কথা দিয়েছে-কালো টাকা নিয়ে সভায় বিতর্ক হলে প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, ‘বিতর্কে বিরোধীদের মতামত শুনতে আমরা রাজি। আর তারা যদি চান প্রধানমন্ত্রীকেও সেখানে থাকতে হবে, তাহলে বেশ-তিনিও নিশ্চয় থাকবেন, প্রয়োজনে হস্তক্ষেপ করবেন আমরা কথা দিচ্ছি।’ দেশের নানা প্রান্তে বিক্ষোভ বা মমতা ব্যানার্জির মতো রাজনীতিকদের হুমকির পরও সরকার অবশ্য এখোনো বলছে-নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার কোনো সম্ভাবনাই নেই। সাময়িক অসুবিধা হলেও দেশের বেশির ভাগ মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন করছেন বলেই তাদের দাবি। সূত্র: বিবিসি
 

Comments

Comments!

 ভারতে মোদী বিরোধী বিক্ষোভAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ভারতে মোদী বিরোধী বিক্ষোভ

Tuesday, November 29, 2016 1:11 am
8

দিল্লি: ভারতে বড় অঙ্কের নোট বাতিলের জেরে সাধারণ মানুষের যে দুর্ভোগ হচ্ছে, তার প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী দলগুলো রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।

সোমবার সবচেয়ে জোরালো প্রতিবাদ হয়েছে কলকাতায়, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তিনি ‘রাজনীতি থেকে সরিয়েই ছাড়বেন’।

দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস অবশ্য বলেছে, তারা কোনো ‘ভারত-বন্ধ’ ডাকেনি, দেশের মানুষ আজ  শুধু তাদের ‘আক্রোশ’ প্রদর্শন করছেন।

এই চাপের মুখে সরকার অবশ্য এখনো নতি স্বীকারের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। তবে কালো টাকা নিয়ে পার্লামেন্টে বিতর্কের সময় প্রধানমন্ত্রী হাজির থাকবেন বলে তারা কথা দিয়েছে।

দক্ষিণ ভারতের ব্যাঙ্গালোরেও কংগ্রেস ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ডাকে বেশ বড় মাপের বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।

এ মাসের গোড়ায় রাতারাতি ৫০০ ও ১০০০ রুপির পুরনো নোট অচল হয়ে যাওয়ার জেরে আমজনতাকে যে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে তার প্রতিবাদেই এই বিক্ষোভ।

দেশের প্রধান বিরোধী নেতাদের মধ্যে একমাত্র বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারই প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। কিন্তু তার রাজ্যের রাজধানী পাটনাতেও বামপন্থী দল সিপিআইএমএল বেশ বড়সড় বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

সবচেয়ে বিচিত্র অবস্থা ছিল পশ্চিমবঙ্গে। মানুষের ভোগান্তির প্রতিবাদে রাজ্যে বন্ধ ডেকেছিলেন বামপন্থীরা। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস সর্বশক্তিতে সেই বন্ধের প্রতিবাদ জানায়।

বন্ধে তেমন সাড়া মেলেনি, এমন কী বিশেষ লোকও হয়নি বামপন্থীদের মিছিলে।কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরে একই ইস্যুতে শহরের বুকে মিছিল করে কলকাতা অচল করে দেন তৃণমূলের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজেই। এমন কী, মিছিলের শেষে এক জনসভা থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি দেন কড়া ভাষায়।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সেই সভায় বলেন, ‘এই দেশে ১২৭ কোটি মানুষ-খেলাটা অত সহজ নয়। আজ সবাই শপথ নিয়ে বলুন, হয় মরবো কিংবা বাঁচবো-কিন্তু নরেন্দ্র মোদীকে ভারতবর্ষের রাজনীতি থেকে সরাব।’

প্রধানমন্ত্রীকে ‘মোদীবাবু’ বলে সম্বোধন করে তিনি আরো বলেন, ‘ভারতবর্ষের রাজনীতিতে আপনার মতো ডিক্টেটরদের কোনো জায়গা নেই, এটা আপনাকে মনে রাখতে হবে।’

দেশের নানা প্রান্তে এই ধরনের বিক্ষোভ সত্ত্বেও এটা যে কোনো মতেই ভারত বন্ধ নয়, সেটা প্রমাণ করার চেষ্টা ছিল কংগ্রেসের দিক থেকে। রাজ্যসভায় দলের নেতা গুলাম নবি আজাদ দাবি করেন, এটা শুধু মানুষের আক্রোশ।

তিনি বলেন, ‘সতেরো-আঠারোটা বিরোধী দল মিলে বেশ কয়েক দফা বৈঠক করেছে, কিন্তু ভারত বন্ধের কথা কখোনোই হয়নি। কিন্তু লোকের মুখে মুখে ভারত-বন্ধ কথাটাই চালু হয়ে গেছে। আমরা শুধু বলছি, সরকার এত বড় একটা সিদ্ধান্দ নিলো-কিন্তু কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই। তাড়াহুড়ো করতে গিয়েই তারা অর্ধেক দেশকে আজ রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে।’

সোমবার বিরোধীরা পার্লামেন্টও চলতে দেননি। সংসদ ভবনের সামনে যৌথভাবে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। আর সংসদের ভেতরে বিরোধীদের তুমুল বাধার মধ্যে সরকার শুধু এটুকু কথা দিয়েছে-কালো টাকা নিয়ে সভায় বিতর্ক হলে প্রধানমন্ত্রী থাকবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, ‘বিতর্কে বিরোধীদের মতামত শুনতে আমরা রাজি। আর তারা যদি চান প্রধানমন্ত্রীকেও সেখানে থাকতে হবে, তাহলে বেশ-তিনিও নিশ্চয় থাকবেন, প্রয়োজনে হস্তক্ষেপ করবেন আমরা কথা দিচ্ছি।’

দেশের নানা প্রান্তে বিক্ষোভ বা মমতা ব্যানার্জির মতো রাজনীতিকদের হুমকির পরও সরকার অবশ্য এখোনো বলছে-নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার কোনো সম্ভাবনাই নেই।

সাময়িক অসুবিধা হলেও দেশের বেশির ভাগ মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন করছেন বলেই তাদের দাবি।

সূত্র: বিবিসি

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X