শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৫:৩৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, July 18, 2017 10:22 am
A- A A+ Print

ভারত-চীন সীমান্তে ঘটছে কী?

6

  সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং করমর্দন করেছেন। শুক্রবার জার্মানির হামবুর্গে জি-২০ বৈঠকের পাশে ব্রিকসের দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে মোদি ও সি সংক্ষিপ্ত বৈঠকও করেন। পরস্পরের প্রশংসা করে বিবৃতি দিলেও দোকালামে সেনা উপস্থিতি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। হাত মেলালেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। দুই পক্ষের অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের পর উত্তেজনা প্রশমন হচ্ছে না। এই ‘ছায়াযুদ্ধে’ ঢুকে পড়েছে ভুটানও। তবে, দুই প্রতিবেশীর কথার তোড় যেভাবে শুরু হয়েছে, এতে যুদ্ধ বেধে গেলে ভারত বা চীন কারোরই কোনো লাভ হবে কি না, তা এই মুহূর্তে বোঝা মুশকিল। কিন্তু দুই পক্ষই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়বে, তা বলা যায়। সীমান্ত নিয়ে চার সপ্তাহ ধরে ভারত ও চীনের মধ্য উত্তেজনা চলছে। ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার (২ হাজার ১৭৪ মাইল) সীমান্তের এই দুই দেশের মধ্যে ১৯৬২ সালে যুদ্ধ বাধে। এরপরও সীমান্তসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই দেশের বিরোধ চলতে থাকে। গত মাসে হঠাৎ করেই উত্তেজনা শুরুর পর দুই দেশই সীমান্তে সৈন্যদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে সীমান্তে লোকজনকে সরিয়ে নিয়েছে। ভারত-চীন-ভুটান সীমান্তে দোকালাম এলাকায় চীনের একটি রাস্তা তৈরি করতে চাওয়াও সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণ। ছবি: বিবিসিকীভাবে শুরু? ভারত-চীন-ভুটান সীমান্তে ডোকালা এলাকায় চীন একটি রাস্তা তৈরি করতে চাওয়াই সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণ। সিকিম-ভুটানের সীমান্তের এ জায়গাটি চীনে দংলাং নামে পরিচিত। চীনের এ কাজের বিরোধিতা করে ভুটান। আর ভারত এতে সমর্থন দেওয়ায় এ উত্তেজনার শুরু হয়। এ রাস্তাটি যদি তৈরি হয়, তাহলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে একটা যোগযোগ স্থাপনের উপায় হবে চীনের। মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) দূরে এ রাস্তা হওয়ায় উদ্বিগ্ন ভারত। এ সড়ক কৌশলগতভাবে ভারতকে কিছুটা অরক্ষিত করবে। ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তারা বিশ্লেষক সুবীর ভৌমিককে বলেছিলেন, তাঁরা রাস্তা নির্মাণের প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং এটি বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁরা লাল্টেনের পাশে চীনা সেনাদের ব্যবহৃত দুটি চৌকি গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। সীমান্তে ভারতীয় সেনার কঠোর উপস্থিতি। ছবি: এএফপি ভারতের একজন ব্রিগেডিয়ার নাম না প্রকাশ করার শর্তে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। কারণ, গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি তার নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা গুলি করিনি, আমাদের সৈন্যরা মানবঢাল তৈরি করেছেন এবং চীনের আকর্ষিক হামলা বন্ধ করে দিয়েছেন।’ এদিকে চীনা কর্মকর্তারা বলছেন, সড়ক নির্মাণের বিরোধিতা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী আমাদের ‘স্বাভাবিক কার্যক্রম’ বাধাগ্রস্ত করছে। ভারতীয়দের সেখান থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানায় দেশটি। সেখানকার সর্বশেষ অবস্থা ভারত ও চীন উভয়ই সীমান্তে আরও সৈন্য পাঠিয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হচ্ছে, উভয় পক্ষই সীমান্তে সামনা-সামনি অবস্থানে আছে। ভারতে চীনের রাষ্ট্রদূত লুয়ো ঝাউহুই এক বিবৃতিতে বলেছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ভারতকে ‘শর্তহীনভাবে সেনা প্রত্যাহার’ করতে হবে। গত মঙ্গলবার পিটিআই ওই বিবৃতি ছাপিয়েছে। এ বিবৃতিকে ভারতে একজন কূটনৈতিকের স্খলন হিসাবে দেখা হচ্ছে। চীন তিব্বতের মানস সরোবরে যাওয়ার পথে সিকিমের নাথু পাসের কাছ থেকে ৫৭ ভারতীয় তীর্থযাত্রীকে ফিরিয়ে দিয়েছে। এটি হিন্দুদের পবিত্র স্থান। এ স্থানে যাওয়ার জন্য দুই দেশের মধ্য চুক্তি আছে। ভুটান চীনকে রাস্তা নির্মাণ বন্ধ করতে বলেছে। এটি উভয় দেশের মধ্যে একটি চুক্তির লঙ্ঘন বলে জানিয়েছে দেশটি। কী বলছে ভারত? ভারতীয় সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিকিম হলো একমাত্র এলাকা, যেখান থেকে ভারত চীনা আকর্ষিক হামলার জবাব দিতে পারে। হিমালয় সীমান্তের ওই এলাকায় ভারতীয় সৈন্যরা কৌশলগত সুবিধাও লাভ করে। উচ্চতর ওই স্থানের কারণে ভারত ও ভুটান সুবিধাজনক অবস্থায় আছে, আর চীনের অবস্থান কিছুটা সংকুচিত। অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গগনজিৎ সিং বিবিসিকে বলেন, ‘চীনারা এই খবরটি জানেন এবং তারা সব সময় আমাদের এ সুবিধাটি নষ্ট করার চেষ্টা করেন।’ ভারতীয় প্রতিরক্ষা ও অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, ‘ভারত এখন ২০১৭ সালের ভারত, ১৯৬২ সালের ভারত নয়। আমাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার অধিকার আছে।’ দুই নেতার এমন করমর্দনের ছবি সীমান্তের উত্তেজনা প্রশমনে কাজে আসেনি। ছবি: বিবিসিচীন কী বলছে? চীন এই অঞ্চলের ওপরে তার সার্বভৌমত্ব পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, এই রাস্তাটি তার এলাকার মধ্য। ভারতীয় সেনাদের ‘অনধিকার প্রবেশকারী’ হিসেবে অভিযুক্ত করেছে দেশটি। ভারতকে ১৯৬২ সালের যুদ্ধে পরাজয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে চীন দিল্লিকে সতর্ক করে বলেছে, চীন তখনকার চেয়ে এখন আরও বেশি শক্তিশালী। গত সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ১৮৯০ সালে ব্রিটেনের সঙ্গে চুক্তিতে সিকিম সীমান্ত নিয়ে সুরাহা হয়েছে। ভারত এটা লঙ্ঘন করে চলছে, যা ‘অত্যন্ত গুরুতর’ ব্যাপার। গ্লোবাল টাইমস পত্রিকাটি বলেছে, সড়ক প্রকল্পে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ভারত ভুটানের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। যদিও ভুটান চীনের ওই সড়ক নির্মাণ বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভুটানের ভূমিকা কী? দিল্লিতে ভুটানের রাষ্ট্রদূত বাস্তব নামগায়েল চীনের রাস্তা নির্মাণকে ‘দুই দেশের মধ্যে চুক্তি লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেন। ভুটান ও চীনের মধ্যে এখন আনুষ্ঠানিক সেই সম্পর্ক নেই যে দিল্লিতে তাদের মিশনগুলোর মাধ্যমে দেশ দুটির মধ্য যোগাযোগ রক্ষা হবে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক জয়দিপ সাইকি বিবিসিকে বলেছেন, বেইজিং এখন থিম্পুর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে। ভুটানকে দক্ষিণ এশিয়ায় দিল্লির অন্যতম নিকটতম সহযোগী ধরা হয়। তিনি বলেন, ‘ভুটানের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি উত্থাপন করে, তারা (চীন) থিম্পুতে নেপালের মতো নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করছে।’ এরপর কী? এ অঞ্চলে ১৯৬৭ সালে চীন ও ভারতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার পরই মাঝেমধ্যে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ উত্তেজনা গুরুতর অবস্থায় গিয়ে ঠেকেছে। ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধের পরও দুই দেশের মধ্য বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনা মাঝেমধ্যেই বেড়েছে। ছবি: বিবিসিতিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার ভারতে থাকার ব্যাপারটিও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার একটি বিষয় হয়ে উঠেছে। দালাই লামার অরুণাচল প্রদেশে সফরের সময় চীন তীব্র বিরোধিতা করে। চীন অরুণাচলকে নিজেদের দাবি করে থাকে। চীন ৫৬ হিন্দু তীর্থযাত্রীকে হিমাচল প্রদেশ দিয়ে পবিত্র তীর্থস্থান মানস সরোবরে ভ্রমণের অনুমতি দেয়। গত সপ্তাহে ভারতের জ্যেষ্ঠ পর্যটন কর্মকর্তা ধীরাজ গার্বিয়াল বলেন, ‘তাঁরা হ্রদ ভ্রমণ করেছেন এবং তাঁরা নিরাপদে আছেন।’ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনারা পুরো সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে না। কিন্তু বিশেষ করে সিকিম-ভুটানের অংশে সমস্যা চলছে। বিবিসি অনলাইন অবলম্বনে রাশেদুল আলম রাসেল

Comments

Comments!

 ভারত-চীন সীমান্তে ঘটছে কী?AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ভারত-চীন সীমান্তে ঘটছে কী?

Tuesday, July 18, 2017 10:22 am
6

 

সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং করমর্দন করেছেন। শুক্রবার জার্মানির হামবুর্গে জি-২০ বৈঠকের পাশে ব্রিকসের দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে মোদি ও সি সংক্ষিপ্ত বৈঠকও করেন। পরস্পরের প্রশংসা করে বিবৃতি দিলেও দোকালামে সেনা উপস্থিতি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

হাত মেলালেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। দুই পক্ষের অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের পর উত্তেজনা প্রশমন হচ্ছে না। এই ‘ছায়াযুদ্ধে’ ঢুকে পড়েছে ভুটানও। তবে, দুই প্রতিবেশীর কথার তোড় যেভাবে শুরু হয়েছে, এতে যুদ্ধ বেধে গেলে ভারত বা চীন কারোরই কোনো লাভ হবে কি না, তা এই মুহূর্তে বোঝা মুশকিল। কিন্তু দুই পক্ষই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়বে, তা বলা যায়।

সীমান্ত নিয়ে চার সপ্তাহ ধরে ভারত ও চীনের মধ্য উত্তেজনা চলছে। ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার (২ হাজার ১৭৪ মাইল) সীমান্তের এই দুই দেশের মধ্যে ১৯৬২ সালে যুদ্ধ বাধে। এরপরও সীমান্তসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই দেশের বিরোধ চলতে থাকে। গত মাসে হঠাৎ করেই উত্তেজনা শুরুর পর দুই দেশই সীমান্তে সৈন্যদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে সীমান্তে লোকজনকে সরিয়ে নিয়েছে।

ভারত-চীন-ভুটান সীমান্তে দোকালাম এলাকায় চীনের একটি রাস্তা তৈরি করতে চাওয়াও সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণ। ছবি: বিবিসিকীভাবে শুরু?
ভারত-চীন-ভুটান সীমান্তে ডোকালা এলাকায় চীন একটি রাস্তা তৈরি করতে চাওয়াই সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণ। সিকিম-ভুটানের সীমান্তের এ জায়গাটি চীনে দংলাং নামে পরিচিত। চীনের এ কাজের বিরোধিতা করে ভুটান। আর ভারত এতে সমর্থন দেওয়ায় এ উত্তেজনার শুরু হয়।

এ রাস্তাটি যদি তৈরি হয়, তাহলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে একটা যোগযোগ স্থাপনের উপায় হবে চীনের। মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) দূরে এ রাস্তা হওয়ায় উদ্বিগ্ন ভারত। এ সড়ক কৌশলগতভাবে ভারতকে কিছুটা অরক্ষিত করবে।

ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তারা বিশ্লেষক সুবীর ভৌমিককে বলেছিলেন, তাঁরা রাস্তা নির্মাণের প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং এটি বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁরা লাল্টেনের পাশে চীনা সেনাদের ব্যবহৃত দুটি চৌকি গুঁড়িয়ে দিয়েছেন।

সীমান্তে ভারতীয় সেনার কঠোর উপস্থিতি। ছবি: এএফপি

ভারতের একজন ব্রিগেডিয়ার নাম না প্রকাশ করার শর্তে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। কারণ, গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি তার নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা গুলি করিনি, আমাদের সৈন্যরা মানবঢাল তৈরি করেছেন এবং চীনের আকর্ষিক হামলা বন্ধ করে দিয়েছেন।’

এদিকে চীনা কর্মকর্তারা বলছেন, সড়ক নির্মাণের বিরোধিতা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী আমাদের ‘স্বাভাবিক কার্যক্রম’ বাধাগ্রস্ত করছে। ভারতীয়দের সেখান থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানায় দেশটি।

সেখানকার সর্বশেষ অবস্থা
ভারত ও চীন উভয়ই সীমান্তে আরও সৈন্য পাঠিয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হচ্ছে, উভয় পক্ষই সীমান্তে সামনা-সামনি অবস্থানে আছে।

ভারতে চীনের রাষ্ট্রদূত লুয়ো ঝাউহুই এক বিবৃতিতে বলেছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ভারতকে ‘শর্তহীনভাবে সেনা প্রত্যাহার’ করতে হবে। গত মঙ্গলবার পিটিআই ওই বিবৃতি ছাপিয়েছে। এ বিবৃতিকে ভারতে একজন কূটনৈতিকের স্খলন হিসাবে দেখা হচ্ছে।
চীন তিব্বতের মানস সরোবরে যাওয়ার পথে সিকিমের নাথু পাসের কাছ থেকে ৫৭ ভারতীয় তীর্থযাত্রীকে ফিরিয়ে দিয়েছে।

এটি হিন্দুদের পবিত্র স্থান। এ স্থানে যাওয়ার জন্য দুই দেশের মধ্য চুক্তি আছে।

ভুটান চীনকে রাস্তা নির্মাণ বন্ধ করতে বলেছে। এটি উভয় দেশের মধ্যে একটি চুক্তির লঙ্ঘন বলে জানিয়েছে দেশটি।

কী বলছে ভারত?
ভারতীয় সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিকিম হলো একমাত্র এলাকা, যেখান থেকে ভারত চীনা আকর্ষিক হামলার জবাব দিতে পারে। হিমালয় সীমান্তের ওই এলাকায় ভারতীয় সৈন্যরা কৌশলগত সুবিধাও লাভ করে। উচ্চতর ওই স্থানের কারণে ভারত ও ভুটান সুবিধাজনক অবস্থায় আছে, আর চীনের অবস্থান কিছুটা সংকুচিত।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গগনজিৎ সিং বিবিসিকে বলেন, ‘চীনারা এই খবরটি জানেন এবং তারা সব সময় আমাদের এ সুবিধাটি নষ্ট করার চেষ্টা করেন।’

ভারতীয় প্রতিরক্ষা ও অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, ‘ভারত এখন ২০১৭ সালের ভারত, ১৯৬২ সালের ভারত নয়। আমাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার অধিকার আছে।’

দুই নেতার এমন করমর্দনের ছবি সীমান্তের উত্তেজনা প্রশমনে কাজে আসেনি। ছবি: বিবিসিচীন কী বলছে?
চীন এই অঞ্চলের ওপরে তার সার্বভৌমত্ব পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, এই রাস্তাটি তার এলাকার মধ্য। ভারতীয় সেনাদের ‘অনধিকার প্রবেশকারী’ হিসেবে অভিযুক্ত করেছে দেশটি।
ভারতকে ১৯৬২ সালের যুদ্ধে পরাজয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে চীন দিল্লিকে সতর্ক করে বলেছে, চীন তখনকার চেয়ে এখন আরও বেশি শক্তিশালী।

গত সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ১৮৯০ সালে ব্রিটেনের সঙ্গে চুক্তিতে সিকিম সীমান্ত নিয়ে সুরাহা হয়েছে। ভারত এটা লঙ্ঘন করে চলছে, যা ‘অত্যন্ত গুরুতর’ ব্যাপার।

গ্লোবাল টাইমস পত্রিকাটি বলেছে, সড়ক প্রকল্পে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ভারত ভুটানের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। যদিও ভুটান চীনের ওই সড়ক নির্মাণ বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ভুটানের ভূমিকা কী?
দিল্লিতে ভুটানের রাষ্ট্রদূত বাস্তব নামগায়েল চীনের রাস্তা নির্মাণকে ‘দুই দেশের মধ্যে চুক্তি লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেন।
ভুটান ও চীনের মধ্যে এখন আনুষ্ঠানিক সেই সম্পর্ক নেই যে দিল্লিতে তাদের মিশনগুলোর মাধ্যমে দেশ দুটির মধ্য যোগাযোগ রক্ষা হবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক জয়দিপ সাইকি বিবিসিকে বলেছেন, বেইজিং এখন থিম্পুর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে। ভুটানকে দক্ষিণ এশিয়ায় দিল্লির অন্যতম নিকটতম সহযোগী ধরা হয়। তিনি বলেন, ‘ভুটানের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি উত্থাপন করে, তারা (চীন) থিম্পুতে নেপালের মতো নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করছে।’

এরপর কী?
এ অঞ্চলে ১৯৬৭ সালে চীন ও ভারতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার পরই মাঝেমধ্যে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ উত্তেজনা গুরুতর অবস্থায় গিয়ে ঠেকেছে।

১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধের পরও দুই দেশের মধ্য বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনা মাঝেমধ্যেই বেড়েছে। ছবি: বিবিসিতিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার ভারতে থাকার ব্যাপারটিও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার একটি বিষয় হয়ে উঠেছে।
দালাই লামার অরুণাচল প্রদেশে সফরের সময় চীন তীব্র বিরোধিতা করে। চীন অরুণাচলকে নিজেদের দাবি করে থাকে।

চীন ৫৬ হিন্দু তীর্থযাত্রীকে হিমাচল প্রদেশ দিয়ে পবিত্র তীর্থস্থান মানস সরোবরে ভ্রমণের অনুমতি দেয়। গত সপ্তাহে ভারতের জ্যেষ্ঠ পর্যটন কর্মকর্তা ধীরাজ গার্বিয়াল বলেন, ‘তাঁরা হ্রদ ভ্রমণ করেছেন এবং তাঁরা নিরাপদে আছেন।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনারা পুরো সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে না। কিন্তু বিশেষ করে সিকিম-ভুটানের অংশে সমস্যা চলছে।

বিবিসি অনলাইন অবলম্বনে রাশেদুল আলম রাসেল

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X