সোমবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:৩০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, May 26, 2017 8:03 am
A- A A+ Print

ভাস্কর্য এনেক্স ভবনে নেওয়া হবে: শিল্পী মৃণাল হক

10

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের লিলি ফোয়ারার পাশে স্থাপিত ভাস্কর্য সরিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পেছনের দিকে এনেক্স ভবনে নেওয়া হবে। এ ভাস্কর্যের শিল্পী মৃণাল হক প্রথম আলোকে এ কথা জানিয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ভাস্কর্যটি সরানোর কাজ শুরু হয়। কয়েকজন শ্রমিক সরানোর কাজ করছেন। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। এদিকে ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ হচ্ছে। তারা নানান স্লোগান দিচ্ছেন। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে উপস্থিত রয়েছেন শিল্পী মৃণাল হক। তিনি এ ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে শিল্পী মৃণাল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে জানানো হয় যে, ভাস্কর্য সরানো হবে। আমাকে বলা হয়েছে সরাতে। ভাস্কর্যটি সরিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পেছনের দিকে এনেক্স ভবনে নেওয়া হবে। সরানোর সময় ভাস্কর্যের যেন কোনো ক্ষতি না হয় এ জন্য তদারকি করতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন তিনি।’ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত ভাস্কর্য সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষই সরাচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ ভাস্কর্য সরাচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকদের আলোচনার জন্য ডেকেছিলেন। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি মতামত জানতে চান। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ভাস্কর্যটি অ্যানেক্স ভবন সংলগ্ন সুপ্রিম কোর্ট জাদুঘরের পাশে বসানোর পক্ষে আলোচনায় মত দেওয়া হয়। তবে বৃহস্পতিবার রাতেই যে ভাস্কর্য সরানো হবে তা তিনি জানতেন না।’ আলোচনার একটি সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, সমিতির সাবেক সভাপতি ড. কামাল হোসেন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, বর্তমান সভাপতি জয়নুল আবেদীন, সাবেক সম্পাদকদের মধ্য এ এম আমিন উদ্দীন, স ম রেজাউল করিম, মাহবুব আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত ভাস্কর্যটি অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। হেফাজতের এই দাবির নিন্দা জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফী এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সর্বোচ্চ বিচারালয়ের সামনে গ্রিক দেবীর মূর্তি স্থাপন বাংলাদেশের গণমানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আদর্শিক চেতনার একেবারেই বিপরীত। অবিলম্বে এটি অপসারণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় ইমান, আকিদা ও ঐতিহ্য রক্ষায় লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।’ এর আগে গত ১১ এপ্রিল রাতে গণভবনে কওমি মাদ্রাসার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের এক সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি উচ্চ আদালত প্রাঙ্গণের সামনে স্থাপিত গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য সরানোর পক্ষে। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা এখানে থাকা উচিত নয়।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের হাইকোর্টের সামনে গ্রিক থেমেসিসের এক মূর্তি লাগানো হয়েছে। সত্য কথা বলতে কি, আমি নিজেও এটা পছন্দ করিনি। কারণ, গ্রিক থেমেসিসের মূর্তি আমাদের এখানে কেন আসবে। এটা তো আমাদের দেশে আসার কথা না। আর গ্রিকদের পোশাক ছিল একরকম, সেখানে মূর্তি বানিয়ে তাকে আবার শাড়িও পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটাও একটা হাস্যকর ব্যাপার করা হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এটা এখানে থাকা উচিত নয়। আমি আপনাদের বলব, আপনারা ধৈর্য ধরেন। এটা নিয়ে কোনো হইচই নয়। একটা কিছু যখন করে ফেলেছে, সেটাকে আমাদের সরাতে হবে। সেটার জন্য আপনারা একটুকু ভরসা অন্তত রাখবেন যে এ বিষয়ে যা যা করার আমি তা করব।’ গত বছরের শেষ দিকে এ ভাস্কর্যটি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বসানো হয়।  

Comments

Comments!

 ভাস্কর্য এনেক্স ভবনে নেওয়া হবে: শিল্পী মৃণাল হকAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ভাস্কর্য এনেক্স ভবনে নেওয়া হবে: শিল্পী মৃণাল হক

Friday, May 26, 2017 8:03 am
10

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের লিলি ফোয়ারার পাশে স্থাপিত ভাস্কর্য সরিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পেছনের দিকে এনেক্স ভবনে নেওয়া হবে। এ ভাস্কর্যের শিল্পী মৃণাল হক প্রথম আলোকে এ কথা জানিয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ভাস্কর্যটি সরানোর কাজ শুরু হয়। কয়েকজন শ্রমিক সরানোর কাজ করছেন। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন।

এদিকে ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ হচ্ছে। তারা নানান স্লোগান দিচ্ছেন।

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে উপস্থিত রয়েছেন শিল্পী মৃণাল হক। তিনি এ ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে শিল্পী মৃণাল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে জানানো হয় যে, ভাস্কর্য সরানো হবে। আমাকে বলা হয়েছে সরাতে। ভাস্কর্যটি সরিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পেছনের দিকে এনেক্স ভবনে নেওয়া হবে। সরানোর সময় ভাস্কর্যের যেন কোনো ক্ষতি না হয় এ জন্য তদারকি করতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন তিনি।’

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত ভাস্কর্য সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষই সরাচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ ভাস্কর্য সরাচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকদের আলোচনার জন্য ডেকেছিলেন। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি মতামত জানতে চান। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ভাস্কর্যটি অ্যানেক্স ভবন সংলগ্ন সুপ্রিম কোর্ট জাদুঘরের পাশে বসানোর পক্ষে আলোচনায় মত দেওয়া হয়। তবে বৃহস্পতিবার রাতেই যে ভাস্কর্য সরানো হবে তা তিনি জানতেন না।’

আলোচনার একটি সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, সমিতির সাবেক সভাপতি ড. কামাল হোসেন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, বর্তমান সভাপতি জয়নুল আবেদীন, সাবেক সম্পাদকদের মধ্য এ এম আমিন উদ্দীন, স ম রেজাউল করিম, মাহবুব আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত ভাস্কর্যটি অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। হেফাজতের এই দাবির নিন্দা জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফী এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সর্বোচ্চ বিচারালয়ের সামনে গ্রিক দেবীর মূর্তি স্থাপন বাংলাদেশের গণমানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আদর্শিক চেতনার একেবারেই বিপরীত। অবিলম্বে এটি অপসারণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় ইমান, আকিদা ও ঐতিহ্য রক্ষায় লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।’

এর আগে গত ১১ এপ্রিল রাতে গণভবনে কওমি মাদ্রাসার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের এক সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি উচ্চ আদালত প্রাঙ্গণের সামনে স্থাপিত গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য সরানোর পক্ষে। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা এখানে থাকা উচিত নয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের হাইকোর্টের সামনে গ্রিক থেমেসিসের এক মূর্তি লাগানো হয়েছে। সত্য কথা বলতে কি, আমি নিজেও এটা পছন্দ করিনি। কারণ, গ্রিক থেমেসিসের মূর্তি আমাদের এখানে কেন আসবে। এটা তো আমাদের দেশে আসার কথা না। আর গ্রিকদের পোশাক ছিল একরকম, সেখানে মূর্তি বানিয়ে তাকে আবার শাড়িও পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটাও একটা হাস্যকর ব্যাপার করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এটা এখানে থাকা উচিত নয়। আমি আপনাদের বলব, আপনারা ধৈর্য ধরেন। এটা নিয়ে কোনো হইচই নয়। একটা কিছু যখন করে ফেলেছে, সেটাকে আমাদের সরাতে হবে। সেটার জন্য আপনারা একটুকু ভরসা অন্তত রাখবেন যে এ বিষয়ে যা যা করার আমি তা করব।’

গত বছরের শেষ দিকে এ ভাস্কর্যটি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বসানো হয়।

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X