সোমবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৮:১১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, January 22, 2017 9:56 am
A- A A+ Print

ভয়ঙ্কর খেলায় মেতেছে কিশোররা

4

মাকসুদুর রহমান : রাজধানীর আবাসিক এলাকা উত্তরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কিশোরদের গ্যাং বা গ্রুপ। নানা নামে গড়ে ওঠা এসব গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছে সম্ভ্রান্ত পরিবারের স্কুলপড়ুয়া কিশোররা। গ্রুপের সদস্যরা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মানুষ খুন ও ভয়ঙ্কর সব অপরাধ করছে। এদের নেপথ্যে আছে অপরাধ জগতের ‘বড় ভাই’। সম্প্রতি নবম শ্রেণির এক ছাত্র খুন হওয়ার পর গ্যাং- এর ব্যাপারে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে একটি চায়ের দোকানে বসে কথা হয় আলোচিত নাইন স্টার গ্যাং- এর এক সদস্যের সঙ্গে। ৮ম শ্রেণি পড়–য়া এ ছাত্র বলছিল, ‘১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী ছেলেরা গ্যাং গঠন করছে। মূলত তারা যে এলাকায় থাকে সেখানে আধিপত্য বিস্তার করতে এসব করা হয়। গ্যাং-এর সদস্যরা সাধারণত বিভিন্ন ইংলিশ মিডিয়াম বা নামী-দামি স্কুলের ছাত্র। তারা সম্ভ্রান্ত পরিবারেরও সন্তান। পশ্চিমা স্টাইলে আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ডদল বানানোর পাশাপাশি মাদক সেবন, সহিংসতা, খুনোখুনি সবই করে এরা।’ মাইলস্টোন স্কুলের এ ছাত্র রাইজিংবিডিকে বলেছে, টাকা কামানো তাদের উদ্দশ্য নয়, মূলত এলাকায় তাকে যেন সবাই সমীহ করে বা ভয় পায়, কোন কিছু হলে যেন সবাই চলে আসে মূলত এ কারণেই এ গ্যাং করা হচ্ছে। প্রতিটি গ্যাংয়ে ৪০ থেকে ৫০ জন সদস্য আছে। আর গ্যাংগুলো পরিচালিত হয় ‘বড় ভাইদের’ নির্দেশে। যারা বেশিরভাগ সময় এলাকার বাইরে থাকেন। গ্রুপের লিডারের নাম জিজ্ঞাসা করা মাত্র সে বলে ওঠে, পরে কথা হবে।’ এরপরই সে চলে যায়। একই গ্যাং সদস্য আদনান খুন হওয়ার পর পুলিশ নড়েচড়ে বসেছে গ্যাংয়ের কর্মকা- রোধ, এর সদস্য ও বড় ভাইদের গ্রেপ্তারে। ইতোমধ্যে নাইন স্টার গ্রুপের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি (তদন্ত) আবদুর রাজ্জাক জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা আগে থেকে এসব গ্যাং-এর ব্যাপারে অবগত থাকলেও তাদের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানা ছিল না। কিন্তু এখন জেনে গেছি। গ্যাং নির্মূল করতে এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।’ পুলিশ জানায়, অভিজাত পরিবারের কিশোররা স্কুলে যাওয়ার কথা বলে সকালে বাসা থেকে বের হয়। ব্যান্ড দল বানানো, টিফিন খাওয়া বা নানা কথা বলে বাবা-মা’র কাছ থেকে টাকা নেয়। এদের একটি অংশ নিয়মিত স্কুল করলেও বাকিরা বন্ধুদের সাথে সময় কাটায়। উত্তরায় বিভিন্ন ফাস্টফুড, রেস্টুরেন্ট, বন্ধুর বাসা, নির্মাণাধীন কোন ভবনের ছাদ বা ফ্লোর কিংবা গলির মোড়ে জড়ো হয়ে আড্ডায় মেতে ওঠে তারা। মেয়েদের উৎপাতও করে। নাইন স্টার, নাইন এমএম, ডিস্কো বয়েজ, কিলার গ্রুপ, এক্স ফাইল, আইডিয়াল গ্রুপ, ডিক্স গ্রুপ, সেভেন স্টারসহ প্রায় ৩০টি গ্যাং- উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরে আছে। প্রতিটি গ্রুপে স্মার্টনেস, সাহসিকতা, পারিবারিক অবস্থান এবং আর্থিক বিবেচনায় লিডার নির্বাচন করা হয়। এর মধ্যে বেশ কয়েকজনের নামও এসেছে। তবে গ্রেপ্তার বা আটকের স্বার্থে তাদের নাম জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র। উত্তরা ১৬ নম্বর সেক্টরের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, এসব গ্যাং বা গ্রুপ তৈরির নেপথ্যে রয়েছে ‘বড় ভাইয়েরা’। নিজ এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখার উদ্দেশ্যে এ গ্যাং বা গ্রুপ তৈরি করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে ফেসবুক লাইভ ভিডিওতে হুমকি দেয়া হয়। গ্যাং-এর সদস্যরা মদের বোতলের ছবি হাতে নিয়ে পোস্ট করছে, অস্ত্রের ছবিও তারা ফেসবুকে ছাড়ছে। উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর রোডের বাসিন্দা আফতাবউদ্দিন বলছিলেন, বলা যায় দীর্ঘদিন থেকে এ চর্চা হয়ে আসছে। অল্প বয়সে ভয়ঙ্কর এ খেলা থেকে তাদের ফেরাতে না পারলে সমাজকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে স্থানীয়রা মনে করেন। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রাপ্ত বয়স্কদের মতো কিশোররাও হিংস্র আচরণ করছে। মূলত একাকিত্বের কারণেই শিশুদের মনোজগতে পরিবর্তন ঘটেছে। এক সময় তাকে অপরাধ প্রবণতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’ কিশোর অপরাধের প্রসঙ্গ তুলে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফা রহমান বলেন, ‘একা থাকায় শিশু-কিশোরদের মাঝে কনফিডেন্স তৈরি হয় না। তারা মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকে না। এক সময় তাদের মাঝে বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটানোর বাসনা সৃষ্টি হয় এবং কোন না কোন গ্যাং-এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। শেষমেষ অপরাধেও যুক্ত হয়।’

Comments

Comments!

 ভয়ঙ্কর খেলায় মেতেছে কিশোররাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ভয়ঙ্কর খেলায় মেতেছে কিশোররা

Sunday, January 22, 2017 9:56 am
4

মাকসুদুর রহমান :

রাজধানীর আবাসিক এলাকা উত্তরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কিশোরদের গ্যাং বা গ্রুপ। নানা নামে গড়ে ওঠা এসব গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছে সম্ভ্রান্ত পরিবারের স্কুলপড়ুয়া কিশোররা।

গ্রুপের সদস্যরা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মানুষ খুন ও ভয়ঙ্কর সব অপরাধ করছে। এদের নেপথ্যে আছে অপরাধ জগতের ‘বড় ভাই’। সম্প্রতি নবম শ্রেণির এক ছাত্র খুন হওয়ার পর গ্যাং- এর ব্যাপারে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ।

শুক্রবার সকালে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে একটি চায়ের দোকানে বসে কথা হয় আলোচিত নাইন স্টার গ্যাং- এর এক সদস্যের সঙ্গে। ৮ম শ্রেণি পড়–য়া এ ছাত্র বলছিল, ‘১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী ছেলেরা গ্যাং গঠন করছে। মূলত তারা যে এলাকায় থাকে সেখানে আধিপত্য বিস্তার করতে এসব করা হয়। গ্যাং-এর সদস্যরা সাধারণত বিভিন্ন ইংলিশ মিডিয়াম বা নামী-দামি স্কুলের ছাত্র। তারা সম্ভ্রান্ত পরিবারেরও সন্তান। পশ্চিমা স্টাইলে আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ডদল বানানোর পাশাপাশি মাদক সেবন, সহিংসতা, খুনোখুনি সবই করে এরা।’

মাইলস্টোন স্কুলের এ ছাত্র রাইজিংবিডিকে বলেছে, টাকা কামানো তাদের উদ্দশ্য নয়, মূলত এলাকায় তাকে যেন সবাই সমীহ করে বা ভয় পায়, কোন কিছু হলে যেন সবাই চলে আসে মূলত এ কারণেই এ গ্যাং করা হচ্ছে। প্রতিটি গ্যাংয়ে ৪০ থেকে ৫০ জন সদস্য আছে। আর গ্যাংগুলো পরিচালিত হয় ‘বড় ভাইদের’ নির্দেশে। যারা বেশিরভাগ সময় এলাকার বাইরে থাকেন।

গ্রুপের লিডারের নাম জিজ্ঞাসা করা মাত্র সে বলে ওঠে, পরে কথা হবে।’ এরপরই সে চলে যায়। একই গ্যাং সদস্য আদনান খুন হওয়ার পর পুলিশ নড়েচড়ে বসেছে গ্যাংয়ের কর্মকা- রোধ, এর সদস্য ও বড় ভাইদের গ্রেপ্তারে। ইতোমধ্যে নাইন স্টার গ্রুপের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি (তদন্ত) আবদুর রাজ্জাক জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা আগে থেকে এসব গ্যাং-এর ব্যাপারে অবগত থাকলেও তাদের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানা ছিল না। কিন্তু এখন জেনে গেছি। গ্যাং নির্মূল করতে এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।’

পুলিশ জানায়, অভিজাত পরিবারের কিশোররা স্কুলে যাওয়ার কথা বলে সকালে বাসা থেকে বের হয়। ব্যান্ড দল বানানো, টিফিন খাওয়া বা নানা কথা বলে বাবা-মা’র কাছ থেকে টাকা নেয়। এদের একটি অংশ নিয়মিত স্কুল করলেও বাকিরা বন্ধুদের সাথে সময় কাটায়। উত্তরায় বিভিন্ন ফাস্টফুড, রেস্টুরেন্ট, বন্ধুর বাসা, নির্মাণাধীন কোন ভবনের ছাদ বা ফ্লোর কিংবা গলির মোড়ে জড়ো হয়ে আড্ডায় মেতে ওঠে তারা। মেয়েদের উৎপাতও করে।

নাইন স্টার, নাইন এমএম, ডিস্কো বয়েজ, কিলার গ্রুপ, এক্স ফাইল, আইডিয়াল গ্রুপ, ডিক্স গ্রুপ, সেভেন স্টারসহ প্রায় ৩০টি গ্যাং- উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরে আছে।

প্রতিটি গ্রুপে স্মার্টনেস, সাহসিকতা, পারিবারিক অবস্থান এবং আর্থিক বিবেচনায় লিডার নির্বাচন করা হয়। এর মধ্যে বেশ কয়েকজনের নামও এসেছে। তবে গ্রেপ্তার বা আটকের স্বার্থে তাদের নাম জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র।

উত্তরা ১৬ নম্বর সেক্টরের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, এসব গ্যাং বা গ্রুপ তৈরির নেপথ্যে রয়েছে ‘বড় ভাইয়েরা’। নিজ এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখার উদ্দেশ্যে এ গ্যাং বা গ্রুপ তৈরি করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে ফেসবুক লাইভ ভিডিওতে হুমকি দেয়া হয়। গ্যাং-এর সদস্যরা মদের বোতলের ছবি হাতে নিয়ে পোস্ট করছে, অস্ত্রের ছবিও তারা ফেসবুকে ছাড়ছে। উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর রোডের বাসিন্দা আফতাবউদ্দিন বলছিলেন, বলা যায় দীর্ঘদিন থেকে এ চর্চা হয়ে আসছে।

অল্প বয়সে ভয়ঙ্কর এ খেলা থেকে তাদের ফেরাতে না পারলে সমাজকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রাপ্ত বয়স্কদের মতো কিশোররাও হিংস্র আচরণ করছে। মূলত একাকিত্বের কারণেই শিশুদের মনোজগতে পরিবর্তন ঘটেছে। এক সময় তাকে অপরাধ প্রবণতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’

কিশোর অপরাধের প্রসঙ্গ তুলে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফা রহমান বলেন, ‘একা থাকায় শিশু-কিশোরদের মাঝে কনফিডেন্স তৈরি হয় না। তারা মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকে না। এক সময় তাদের মাঝে বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটানোর বাসনা সৃষ্টি হয় এবং কোন না কোন গ্যাং-এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। শেষমেষ অপরাধেও যুক্ত হয়।’

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X