মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৩:৪২
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, September 19, 2017 4:42 pm
A- A A+ Print

মংডুর সব হারানো কয়েকজনের কথা

3

জহির আহমেদকে কেউ ডাকলে সাড়া দেন। কথা বলতে চাইলে বলেন। বেশির ভাগ সময় তিনি চুপচাপ থাকেন। যখন একা একা বসে থাকেন, তখন চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ে। একা একা হাঁটতেও পারেন না। কয়েক দিন আগে চোখের সামনেই পরিবারের ১৬ সদস্যের মধ্যে ১৫ জনকে গুলি ও জবাই করে হত্যা করতে দেখেছেন। স্বজনদের এমন মৃত্যু তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাঁকে। জহির বললেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান বলেছিলেন, সেনাবাহিনী তাঁদের কিছুই করবে না, ঘরে আগুন দেবে না, কাউকে মেরে ফেলবে না। অথচ তাঁর নিজের ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের প্রায় ২০০ মানুষকে এক জায়গায় জড়ো করে হত্যা করে সেনাবাহিনী। ওই ঘটনায় সব হারানো আরেকজন হলো কিশোর রফিক। তার মা-বাবাসহ আটজনকে হত্যা করা হয়েছে। ওই দিনের গণহত্যায় অনেক পরিবারই তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছে। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা এখন বাংলাদেশের টেকনাফের বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। এমন পাঁচজনের জন্য কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁরা বললেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডুর নিমতলী, তুলাতলী ও হোয়াইকং গ্রামের অনেক পরিবারের সবাই খুন হয়েছেন। তুলাতলীর সাবেক চেয়ারম্যান নূর আহম্মদের আশ্রয় এখন শরণার্থীশিবিরে। তিনি বলেন, এখন তুলাতলীর চেয়ারম্যানের নাম অং ক চিন। রোহিঙ্গারা তাঁকে মগ হিসেবে ডাকেন। নূর আহম্মদ।নূর আহম্মেদ বলেন, রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর ওপর হামলার পরপরই সেনাবাহিনী চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের তুলাতলী গ্রামে আসেন। জানতে চান, আরসার সঙ্গে তাঁদের গ্রামের কেউ যুক্ত আছে কি না। গ্রামের লোকেরা বলেন, ওই সংগঠনের সঙ্গে গ্রামের কেউ যুক্ত নন। গ্রামে সেনাবাহিনী আসার পর সাধারণ রোহিঙ্গারা ভয় পেয়ে যান। তিনি বলেন, আশপাশের গ্রামের পর গ্রাম যখন জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছিল, তখন একদিন তুলাতলীর চেয়ারম্যান মগ অং ক চিন গ্রামের বাসিন্দাদের স্থানীয় বালুরচরপাড়া নামক স্থানে জড়ো হতে বলেন। ঈদের তিন দিন আগে গ্রামের সবাই সেদিন সকালেই সেখানে জড়ো হন। সেখানে বেশির ভাগ মানুষকে হত্যা করা হয়। কিশোর আয়ানসেখানে উপস্থিত ছিল তুলাতলীর কিশোর আয়ান ও রফিক। আয়ান বলছিল, গ্রামের সবাই যেখানে জড়ো হয়, সেটি একটি চর। তার পাশ দিয়ে খাল বয়ে গেছে। পুরুষদের একসঙ্গে জড়ো করে এলোপাতাড়ি গুলি করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তার বুকে ও পিঠে গুলি লাগে। কিন্তু সে পালিয়ে আসতে পারে। কিন্তু তার মা-বাবাসহ পরিবারের নয়জনকে সেদিন হত্যা করা হয়। এখন খালার কাছে সে থাকছে।কিশোর রফিক তুলাতলীর নুরাক্তিম বেগমের পরিবারের আটজন সদস্য মারা গেছেন—মা-বাবা, ভাই, ভাবি, ভাইপো, ভাইজি। গতকাল সোমবার রাতে যখন ক্যাম্পে ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন, তখন তিনি বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। নুরাক্তিমনুরাক্তিম বলেন, বালুরচরপাড়ার খালের পাশে পাহাড় ছিল। স্বামীর সঙ্গে তিনি ওই পাহাড়ে ছিলেন। সেখানে আরও অনেকেই ছিল। দূর থেকে হত্যাকাণ্ডের অনেক কিছুই তিনি দেখেছেন। তাঁর বাবা মোহাম্মদ আলী আর মা নাছিমা খাতুন মারা গেছেন। নুরাক্তিম আছেন টেকনাফের বালুখালী রোহিঙ্গাশিবিরে। তাঁর ঘরের কাছেই থাকেন মরিয়ম খাতুন। তাঁর স্বামী মৌলভি শাহ আলম ও ছেলে শাহজাহানকে সেদিন ওই জায়গায় হত্যা করা হয়েছে।

Comments

Comments!

 মংডুর সব হারানো কয়েকজনের কথাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

মংডুর সব হারানো কয়েকজনের কথা

Tuesday, September 19, 2017 4:42 pm
3

জহির আহমেদকে কেউ ডাকলে সাড়া দেন। কথা বলতে চাইলে বলেন। বেশির ভাগ সময় তিনি চুপচাপ থাকেন। যখন একা একা বসে থাকেন, তখন চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ে। একা একা হাঁটতেও পারেন না। কয়েক দিন আগে চোখের সামনেই পরিবারের ১৬ সদস্যের মধ্যে ১৫ জনকে গুলি ও জবাই করে হত্যা করতে দেখেছেন। স্বজনদের এমন মৃত্যু তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাঁকে। জহির বললেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান বলেছিলেন, সেনাবাহিনী তাঁদের কিছুই করবে না, ঘরে আগুন দেবে না, কাউকে মেরে ফেলবে না। অথচ তাঁর নিজের ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের প্রায় ২০০ মানুষকে এক জায়গায় জড়ো করে হত্যা করে সেনাবাহিনী।

ওই ঘটনায় সব হারানো আরেকজন হলো কিশোর রফিক। তার মা-বাবাসহ আটজনকে হত্যা করা হয়েছে।

ওই দিনের গণহত্যায় অনেক পরিবারই তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছে। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা এখন বাংলাদেশের টেকনাফের বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। এমন পাঁচজনের জন্য কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁরা বললেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডুর নিমতলী, তুলাতলী ও হোয়াইকং গ্রামের অনেক পরিবারের সবাই খুন হয়েছেন।

তুলাতলীর সাবেক চেয়ারম্যান নূর আহম্মদের আশ্রয় এখন শরণার্থীশিবিরে। তিনি বলেন, এখন তুলাতলীর চেয়ারম্যানের নাম অং ক চিন। রোহিঙ্গারা তাঁকে মগ হিসেবে ডাকেন।

নূর আহম্মদ।নূর আহম্মেদ বলেন, রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর ওপর হামলার পরপরই সেনাবাহিনী চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের তুলাতলী গ্রামে আসেন। জানতে চান, আরসার সঙ্গে তাঁদের গ্রামের কেউ যুক্ত আছে কি না। গ্রামের লোকেরা বলেন, ওই সংগঠনের সঙ্গে গ্রামের কেউ যুক্ত নন। গ্রামে সেনাবাহিনী আসার পর সাধারণ রোহিঙ্গারা ভয় পেয়ে যান। তিনি বলেন, আশপাশের গ্রামের পর গ্রাম যখন জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছিল, তখন একদিন তুলাতলীর চেয়ারম্যান মগ অং ক চিন গ্রামের বাসিন্দাদের স্থানীয় বালুরচরপাড়া নামক স্থানে জড়ো হতে বলেন। ঈদের তিন দিন আগে গ্রামের সবাই সেদিন সকালেই সেখানে জড়ো হন। সেখানে বেশির ভাগ মানুষকে হত্যা করা হয়।

কিশোর আয়ানসেখানে উপস্থিত ছিল তুলাতলীর কিশোর আয়ান ও রফিক। আয়ান বলছিল, গ্রামের সবাই যেখানে জড়ো হয়, সেটি একটি চর। তার পাশ দিয়ে খাল বয়ে গেছে। পুরুষদের একসঙ্গে জড়ো করে এলোপাতাড়ি গুলি করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তার বুকে ও পিঠে গুলি লাগে। কিন্তু সে পালিয়ে আসতে পারে। কিন্তু তার মা-বাবাসহ পরিবারের নয়জনকে সেদিন হত্যা করা হয়। এখন খালার কাছে সে থাকছে।কিশোর রফিক

তুলাতলীর নুরাক্তিম বেগমের পরিবারের আটজন সদস্য মারা গেছেন—মা-বাবা, ভাই, ভাবি, ভাইপো, ভাইজি। গতকাল সোমবার রাতে যখন ক্যাম্পে ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন, তখন তিনি বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন।

নুরাক্তিমনুরাক্তিম বলেন, বালুরচরপাড়ার খালের পাশে পাহাড় ছিল। স্বামীর সঙ্গে তিনি ওই পাহাড়ে ছিলেন। সেখানে আরও অনেকেই ছিল। দূর থেকে হত্যাকাণ্ডের অনেক কিছুই তিনি দেখেছেন। তাঁর বাবা মোহাম্মদ আলী আর মা নাছিমা খাতুন মারা গেছেন।

নুরাক্তিম আছেন টেকনাফের বালুখালী রোহিঙ্গাশিবিরে। তাঁর ঘরের কাছেই থাকেন মরিয়ম খাতুন। তাঁর স্বামী মৌলভি শাহ আলম ও ছেলে শাহজাহানকে সেদিন ওই জায়গায় হত্যা করা হয়েছে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X