সোমবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১২:২০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Wednesday, October 25, 2017 1:12 am
A- A A+ Print

মরহুম এমকে আনোয়ারের স্বজনদের পাশে বেগম জিয়ার ৩০ মিনিট

183478_1

ঢাকা: বিএনপি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মরহুম এমকে আনোয়ারের বাসায় গিয়ে তার স্ত্রী-সন্তানদের সমবেদনা জানালেন দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টায় আনোয়ারের রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের বাসায় যান খালেদা। তার অসুস্থ স্ত্রী মাহমুদা আনোয়ারের পাশে বসে তাকে সান্ত্বনা জানান তিনি। পরে এম কে আনোয়ারের বড় ছেলে মাহমুদ আনোয়ারসহ পরিবারের সদস্যদের কাছে ডেকে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন বিএনপি চেয়ারপারসন। পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে খালেদা জিয়া বাসা থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় তার সঙ্গে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কবির রিজভী, ফজলুল হক মিলন, শামা ওবায়েদ, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর সরফত আলী সপু, অঙ্গ সংগঠনের নেতা আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, সাইফুল ইসলাম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান, শায়রুল কবির খান, হোমনা থানা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোল্লা উপস্থিত ছিলেন। এলিফ্যান্ট রোডের এই বাসায়ই সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে মারা যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। সকালে কাটাবন মসজিদ, দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এবং জোহরের পর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজার পর তার মরদেহ বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মাসুদ আনোয়ার ও মেয়ে খাদিজা আনোয়ার বুধবার দেশে ফিরলে এম কে আনোয়ারের লাশ নেওয়া হবে তার নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লার হোমনায়। তিতাস ও হোমনায় দুটি জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। এর আগে এক শোকবার্তায় সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, কেবিনেট সচিব এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বরেণ্য রাজনীতিবিদ এম কে আনোয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, সজ্জন, মিতবাক, নিয়মনিষ্ঠ, কথা ও কাজে অসাধারণ সামঞ্জস্য ছিল মরহুম এম কে আনোয়ার এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। শোকবার্তায় খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশের বরেণ্য রাজনীতিবিদ এম কে আনোয়ার এর মৃত্যুঁতে তার পরিবারবর্গের মতো আমিও গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত হয়েছি। আমি তার আত্মার প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। শোকবার্তায় খালেদা জিয়া আরো বলেন, তার সততা ও নিষ্ঠা ছিল ইর্ষণীয় উচ্চতায়। সেই কারণেই পেশাগত জীবনে সরকারী সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত থেকেও তিনি তার অমলিন ব্যক্তি-মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। রাজনৈতিক জীবনেও তিনি নিজ আদর্শে অটল থেকে রাজনৈতিক সংগ্রাম ও জনগণের সেবা করে গেছেন। শোকবার্তায় খালেদা জিয়া বলেন, রাজরোষে পড়া সত্ত্বেও তিনি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করেননি, তাই বারবার কারাবরণসহ নিপীড়ণ-নির্যাতন সহ্য করেও নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সাথে অগণতান্ত্রিক সরকারের অসদাচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে গেছেন। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি কখনোই কোন অগণতান্ত্রিক শক্তির কাছে মাথানত করেননি। শোকবার্তায় খালেদা জিয়া আরো বলেন, গণতন্ত্র পূণ:রুদ্ধারের আন্দোলনে সবসময় থেকেছেন সামনের কাতারে। নিজ এলাকায় শিক্ষার প্রসার ও জনকল্যানমূলক কাজেও তার অবদান স্মরণীয়। তাই জনগণের নিকট প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার কারণেই আদর্শনিষ্ঠ এম কে আনোয়ার বারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। শোকবার্তায় খালেদা জিয়া বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শনকে বুকে ধারন করে এম কে আনোয়ার স্বদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকারে বিএনপিকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। শোকবার্তায় খালেদা জিয়া আরো বলেন, রাজনীতিতে যোগ দিয়ে যখনই গণতন্ত্র বিপদাপন্ন হয়েছে তখনই স্বৈরাচারের কবল থেকে দেশকে গণতন্ত্রের পথে উত্তরণ এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দেশের উন্নয়নের জন্য এম কে আনোয়ার এর গৌরবময় অবদান দেশবাসী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। শোকবার্তায় খালেদা জিয়া বলেন, তার মৃত্যু জাতীয়তাবাদী শক্তির জন্য মর্মস্পর্শী। এম কে আনোয়ার এর মৃত্যু দেশবাসী ও দলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ, গুণগ্রাহী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। ফিরে দেখা এমকে আনোয়ারের জীবন এম কে আনোয়ার বিএনপির একজন ত্যাগী নেতা ছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার কাছের ও বিশ্বস্ত নেতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। দলীয় কাজেও ছিলেন খুবই আন্তরিক। দলের জন্য তিনি অনেক ত্যাগ শিকার করে গেছেন। আওয়ামী সরকারের রোষানলে পড়ে জেলও খাটতে হয় তাকে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে তিনি ছয়মাসেরও অধিক সময় কারাভোগ করেন। একই বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি জেল থেকে মুক্তির পর ফুল নিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করেন। ৮৪ বছর বয়সী এই প্রবীন নেতা বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন তাকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও অংশ নিতে দেখা যায়নি। সর্বশেষে সোমবার রাতের বৈঠকেও তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। এমকে আনোয়ারের পুরো নাম মোহাম্মদ খোরশেদ আনোয়ার; ১৯৩৩ সালে কুমিল্লায় দেবীদ্বারে তার জন্ম। ছোটকাল থেকেই তিনি ছিলেন খুবই মেধাবী। পাকিস্তান আমলে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর স্বাধীন বাংলাদেশেও প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন এমকে আনোয়ার। সরকারের অর্থ সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্বও তিনি পালন করেন। ১৯৯০ সালে অবসরের পর এম কে আনোয়ার রাজনীতির মাঠে নামেন, যোগ দেন বিএনপিতে। কুমিল্লার হোমনা আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এম কে আনোয়ার খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকারে দুই দফা মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তিনি কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে বিএনপির আন্দোলনে নাশকতা, সাম্প্রদায়িক উসকানিসহ বিভিন্ন অভিযোগে বহু মামলা হয় দলটির সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে। এম কে আনোয়ারও তার অনেকগুলোর আসামি।
 

Comments

Comments!

 মরহুম এমকে আনোয়ারের স্বজনদের পাশে বেগম জিয়ার ৩০ মিনিটAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

মরহুম এমকে আনোয়ারের স্বজনদের পাশে বেগম জিয়ার ৩০ মিনিট

Wednesday, October 25, 2017 1:12 am
183478_1

ঢাকা: বিএনপি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মরহুম এমকে আনোয়ারের বাসায় গিয়ে তার স্ত্রী-সন্তানদের সমবেদনা জানালেন দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টায় আনোয়ারের রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের বাসায় যান খালেদা। তার অসুস্থ স্ত্রী মাহমুদা আনোয়ারের পাশে বসে তাকে সান্ত্বনা জানান তিনি। পরে এম কে আনোয়ারের বড় ছেলে মাহমুদ আনোয়ারসহ পরিবারের সদস্যদের কাছে ডেকে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন বিএনপি চেয়ারপারসন। পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে খালেদা জিয়া বাসা থেকে বেরিয়ে যান।

এ সময় তার সঙ্গে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কবির রিজভী, ফজলুল হক মিলন, শামা ওবায়েদ, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর সরফত আলী সপু, অঙ্গ সংগঠনের নেতা আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, সাইফুল ইসলাম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান, শায়রুল কবির খান, হোমনা থানা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোল্লা উপস্থিত ছিলেন।

এলিফ্যান্ট রোডের এই বাসায়ই সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে মারা যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

সকালে কাটাবন মসজিদ, দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এবং জোহরের পর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজার পর তার মরদেহ বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মাসুদ আনোয়ার ও মেয়ে খাদিজা আনোয়ার বুধবার দেশে ফিরলে এম কে আনোয়ারের লাশ নেওয়া হবে তার নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লার হোমনায়। তিতাস ও হোমনায় দুটি জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

এর আগে এক শোকবার্তায় সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, কেবিনেট সচিব এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বরেণ্য রাজনীতিবিদ এম কে আনোয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, সজ্জন, মিতবাক, নিয়মনিষ্ঠ, কথা ও কাজে অসাধারণ সামঞ্জস্য ছিল মরহুম এম কে আনোয়ার এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

শোকবার্তায় খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশের বরেণ্য রাজনীতিবিদ এম কে আনোয়ার এর মৃত্যুঁতে তার পরিবারবর্গের মতো আমিও গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত হয়েছি। আমি তার আত্মার প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।

শোকবার্তায় খালেদা জিয়া আরো বলেন, তার সততা ও নিষ্ঠা ছিল ইর্ষণীয় উচ্চতায়। সেই কারণেই পেশাগত জীবনে সরকারী সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত থেকেও তিনি তার অমলিন ব্যক্তি-মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। রাজনৈতিক জীবনেও তিনি নিজ আদর্শে অটল থেকে রাজনৈতিক সংগ্রাম ও জনগণের সেবা করে গেছেন।

শোকবার্তায় খালেদা জিয়া বলেন, রাজরোষে পড়া সত্ত্বেও তিনি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করেননি, তাই বারবার কারাবরণসহ নিপীড়ণ-নির্যাতন সহ্য করেও নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সাথে অগণতান্ত্রিক সরকারের অসদাচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে গেছেন। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি কখনোই কোন অগণতান্ত্রিক শক্তির কাছে মাথানত করেননি।

শোকবার্তায় খালেদা জিয়া আরো বলেন, গণতন্ত্র পূণ:রুদ্ধারের আন্দোলনে সবসময় থেকেছেন সামনের কাতারে। নিজ এলাকায় শিক্ষার প্রসার ও জনকল্যানমূলক কাজেও তার অবদান স্মরণীয়। তাই জনগণের নিকট প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার কারণেই আদর্শনিষ্ঠ এম কে আনোয়ার বারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

শোকবার্তায় খালেদা জিয়া বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শনকে বুকে ধারন করে এম কে আনোয়ার স্বদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকারে বিএনপিকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

শোকবার্তায় খালেদা জিয়া আরো বলেন, রাজনীতিতে যোগ দিয়ে যখনই গণতন্ত্র বিপদাপন্ন হয়েছে তখনই স্বৈরাচারের কবল থেকে দেশকে গণতন্ত্রের পথে উত্তরণ এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দেশের উন্নয়নের জন্য এম কে আনোয়ার এর গৌরবময় অবদান দেশবাসী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

শোকবার্তায় খালেদা জিয়া বলেন, তার মৃত্যু জাতীয়তাবাদী শক্তির জন্য মর্মস্পর্শী। এম কে আনোয়ার এর মৃত্যু দেশবাসী ও দলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ, গুণগ্রাহী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

ফিরে দেখা এমকে আনোয়ারের জীবন
এম কে আনোয়ার বিএনপির একজন ত্যাগী নেতা ছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার কাছের ও বিশ্বস্ত নেতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। দলীয় কাজেও ছিলেন খুবই আন্তরিক।

দলের জন্য তিনি অনেক ত্যাগ শিকার করে গেছেন। আওয়ামী সরকারের রোষানলে পড়ে জেলও খাটতে হয় তাকে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে তিনি ছয়মাসেরও অধিক সময় কারাভোগ করেন। একই বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি জেল থেকে মুক্তির পর ফুল নিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

৮৪ বছর বয়সী এই প্রবীন নেতা বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন তাকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও অংশ নিতে দেখা যায়নি। সর্বশেষে সোমবার রাতের বৈঠকেও তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি।

এমকে আনোয়ারের পুরো নাম মোহাম্মদ খোরশেদ আনোয়ার; ১৯৩৩ সালে কুমিল্লায় দেবীদ্বারে তার জন্ম। ছোটকাল থেকেই তিনি ছিলেন খুবই মেধাবী।

পাকিস্তান আমলে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর স্বাধীন বাংলাদেশেও প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন এমকে আনোয়ার। সরকারের অর্থ সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্বও তিনি পালন করেন।

১৯৯০ সালে অবসরের পর এম কে আনোয়ার রাজনীতির মাঠে নামেন, যোগ দেন বিএনপিতে। কুমিল্লার হোমনা আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

এম কে আনোয়ার খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকারে দুই দফা মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তিনি কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে বিএনপির আন্দোলনে নাশকতা, সাম্প্রদায়িক উসকানিসহ বিভিন্ন অভিযোগে বহু মামলা হয় দলটির সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে। এম কে আনোয়ারও তার অনেকগুলোর আসামি।

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X