শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১২:৩০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, September 7, 2017 7:24 pm
A- A A+ Print

মাছের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ইলিশে

20

গত মাসের (আগস্ট) শুরুর দিকে ছোট আকারের ইলিশ মাছের কেজি ছিল ৯০০ টাকা। এসব ইলিশের এক-একটির ওজন ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম। এখন একই টাকায় মিলছে দেড় কেজি ইলিশ মাছ! তবে মাছের আকার ও ওজন বাড়লে ইলিশের দামও বাড়ে। বড় আকারের ইলিশের দামে খুব বেশি পার্থক্য হয়নি। গত মাসের তুলনায় দাম কমেছে এক শ থেকে দেড় শ টাকা। পলাশী কাঁচাবাজারে মাছ বিক্রি করেন মো. হৃদয় ঢালী। এক ক্রেতাকে লোভ দেখিয়ে বললেন, ‘একটার দামে দুইটা ইলিশ লইয়া যান।’ কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করতেই বললেন, একটি বড় ইলিশ মাছের দামে দুটি ছোট আকারের ইলিশ বিক্রি করছেন তিনি। ৬৫০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ মাছ ৩৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। আর ৯৫০ গ্রামের একটি ইলিশ মাছের দাম চাইছেন ৯০০ টাকা। বিক্রি কেমন, জানতে চাইলে কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে হৃদয় ঢালী বলেন, ‘পত্রপত্রিকায় লেখা হয় মাছের দাম কম। কিন্তু যারা মাছ ধরে, তারা ক্যামেরার সামনে এক কথা কয়, আর আমগরে কয় আরেক। আমাগো বেশি দামেই কিনতে হয়। কিন্তু বাজারে যারা কিনতে আসে তারা কয়, দাম তো কম! এহন আমগোরেও কম দামে বেচতে হয়। ঈদের পরে তো কাস্টমারও নাই।’ আজিমপুরের বাসিন্দা মার্জিয়া আক্তার বলেন, ‘ঈদের কয়দিন কোরবানির গোশতই খাওয়া হয়েছে। এখন স্বাদ পরিবর্তন করতে মাছ কিনতে আসলাম। ইলিশ কিনব ভাবছি, দাম তো একটু কম।’ রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হলে ইলিশ কিনছেন ক্রেতারা। ছবিটি বৃহস্পতিবার তোলা। ছবি: আবদুস সালামপলাশী কাঁচাবাজারে খুব বেশি মাছের দোকান খোলা ছিল না। সেখানে রুই বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫০ টাকায়। মলা বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি দরে। ছোট আকারের কুচো চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৫০ টাকায়। মাছ বিক্রেতা শোয়েব খান মানিকগঞ্জ থেকে মাছ কিনে আনেন। জানালেন, গত মাসের তুলনায় দামের কম-বেশি হয়নি। একই রকম আছে। হাতিরপুল কাঁচাবাজারে অবশ্য বিক্রি নিয়ে এত হাঁ-হুতাশ নেই। বিক্রেতা আবু তালহা বললেন, সকাল থেকে মোটামুটি বিক্রি হয়েছে। ক্রেতা একদম নেই, তা বলা যাবে না। তিনি রুই মাছ বিক্রি করছেন ৩৫০ টাকা কেজি দরে। এক কেজি রুপচাঁদা বিক্রি করছেন ৮০০ টাকায়। দেশি চিংড়ি বিক্রি করছেন প্রতি কেজি ৬০০ টাকায়। বাগদা চিংড়ির দাম পড়ছে ৫০০ টাকা। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ফয়সাল হোসেন। তিনি এসেছিলেন মলা মাছ কিনতে। কিন্তু এখন চোখ গেছে ইলিশের দিকে। গিন্নির সঙ্গে মোবাইলে পরামর্শ করে শুরু করে দিলেন দর-দাম। মাঝারি আকারের ৬০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ মাছ কিনলেন ৪০০ টাকায়। ফয়সাল বলেন, ‘ইচ্ছে করেই কম কিনলাম। ফ্রিজে বেশি জায়গা নেই।’ নিউমার্কেটের মাছের বাজারে দোকানই খোলা ছিল গুটিকয়েক। ক্রেতা আরও কম। মো. নয়ন সকাল থেকে মাত্র ৮টি ইলিশ বিক্রি করেছেন। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ সাড়ে ৩০০ টাকাতেই বিক্রি করে ফেলছেন তিনি। নয়ন বললেন, চট্টগ্রাম থেকে আসা ইলিশের দাম কম। কিন্তু বরিশাল বা চাঁদপুর থেকে যেসব ইলিশ মাছ আসছে, সেগুলোর দাম বেশি। বড় আকারের এসব ইলিশের কেজি এখনো হাজার টাকার ওপরে। নিউমার্কেটে পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০০ টাকায়। বড় আকারের কই মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে ছোট আকারের শিং মাছের কেজি পড়ছে ৩০০ টাকা। কারওয়ান বাজারে মাছের দাম অন্যান্য বাজারের তুলনায় কম। এখানে ছোট আকারের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০০ টাকায়। বড় রুইয়ের দাম পড়ছে ৩০০ টাকা। পাবদা মাছের কেজি ৪০০ টাকা। প্রতি কেজি মাগুর মাছ ৫০০ টাকা। এই বাজারে এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ মাছের হালি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকায়। ৬৫০ টাকায় মিলছে ৮০০ গ্রাম ওজনের এক-একটি ইলিশ। সুপারশপগুলোতে ইলিশের দাম একটু বেশি। রাইফেলস স্কয়ারের আগোরাতে এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৩৭০ টাকায়। আর আধা কেজির ইলিশের দাম ধরা হয়েছে ৩৯৫ টাকা। আগোরার শাখা ব্যবস্থাপক রাশেদ কবির বলেন, নিজস্ব গ্রেড বা মান অনুযায়ী মাছ বিক্রি করা হয়। এগুলো সমান ওজনের হয়। সেই অনুযায়ীই দাম নির্ধারণ করা হয়।

Comments

Comments!

 মাছের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ইলিশেAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

মাছের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ইলিশে

Thursday, September 7, 2017 7:24 pm
20

গত মাসের (আগস্ট) শুরুর দিকে ছোট আকারের ইলিশ মাছের কেজি ছিল ৯০০ টাকা। এসব ইলিশের এক-একটির ওজন ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম। এখন একই টাকায় মিলছে দেড় কেজি ইলিশ মাছ! তবে মাছের আকার ও ওজন বাড়লে ইলিশের দামও বাড়ে। বড় আকারের ইলিশের দামে খুব বেশি পার্থক্য হয়নি। গত মাসের তুলনায় দাম কমেছে এক শ থেকে দেড় শ টাকা।

পলাশী কাঁচাবাজারে মাছ বিক্রি করেন মো. হৃদয় ঢালী। এক ক্রেতাকে লোভ দেখিয়ে বললেন, ‘একটার দামে দুইটা ইলিশ লইয়া যান।’ কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করতেই বললেন, একটি বড় ইলিশ মাছের দামে দুটি ছোট আকারের ইলিশ বিক্রি করছেন তিনি। ৬৫০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ মাছ ৩৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। আর ৯৫০ গ্রামের একটি ইলিশ মাছের দাম চাইছেন ৯০০ টাকা।

বিক্রি কেমন, জানতে চাইলে কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে হৃদয় ঢালী বলেন, ‘পত্রপত্রিকায় লেখা হয় মাছের দাম কম। কিন্তু যারা মাছ ধরে, তারা ক্যামেরার সামনে এক কথা কয়, আর আমগরে কয় আরেক। আমাগো বেশি দামেই কিনতে হয়। কিন্তু বাজারে যারা কিনতে আসে তারা কয়, দাম তো কম! এহন আমগোরেও কম দামে বেচতে হয়। ঈদের পরে তো কাস্টমারও নাই।’

আজিমপুরের বাসিন্দা মার্জিয়া আক্তার বলেন, ‘ঈদের কয়দিন কোরবানির গোশতই খাওয়া হয়েছে। এখন স্বাদ পরিবর্তন করতে মাছ কিনতে আসলাম। ইলিশ কিনব ভাবছি, দাম তো একটু কম।’

রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হলে ইলিশ কিনছেন ক্রেতারা। ছবিটি বৃহস্পতিবার তোলা। ছবি: আবদুস সালামপলাশী কাঁচাবাজারে খুব বেশি মাছের দোকান খোলা ছিল না। সেখানে রুই বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫০ টাকায়। মলা বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি দরে। ছোট আকারের কুচো চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৫০ টাকায়। মাছ বিক্রেতা শোয়েব খান মানিকগঞ্জ থেকে মাছ কিনে আনেন। জানালেন, গত মাসের তুলনায় দামের কম-বেশি হয়নি। একই রকম আছে।

হাতিরপুল কাঁচাবাজারে অবশ্য বিক্রি নিয়ে এত হাঁ-হুতাশ নেই। বিক্রেতা আবু তালহা বললেন, সকাল থেকে মোটামুটি বিক্রি হয়েছে। ক্রেতা একদম নেই, তা বলা যাবে না। তিনি রুই মাছ বিক্রি করছেন ৩৫০ টাকা কেজি দরে। এক কেজি রুপচাঁদা বিক্রি করছেন ৮০০ টাকায়। দেশি চিংড়ি বিক্রি করছেন প্রতি কেজি ৬০০ টাকায়। বাগদা চিংড়ির দাম পড়ছে ৫০০ টাকা।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ফয়সাল হোসেন। তিনি এসেছিলেন মলা মাছ কিনতে। কিন্তু এখন চোখ গেছে ইলিশের দিকে। গিন্নির সঙ্গে মোবাইলে পরামর্শ করে শুরু করে দিলেন দর-দাম। মাঝারি আকারের ৬০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ মাছ কিনলেন ৪০০ টাকায়। ফয়সাল বলেন, ‘ইচ্ছে করেই কম কিনলাম। ফ্রিজে বেশি জায়গা নেই।’

নিউমার্কেটের মাছের বাজারে দোকানই খোলা ছিল গুটিকয়েক। ক্রেতা আরও কম। মো. নয়ন সকাল থেকে মাত্র ৮টি ইলিশ বিক্রি করেছেন। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ সাড়ে ৩০০ টাকাতেই বিক্রি করে ফেলছেন তিনি। নয়ন বললেন, চট্টগ্রাম থেকে আসা ইলিশের দাম কম। কিন্তু বরিশাল বা চাঁদপুর থেকে যেসব ইলিশ মাছ আসছে, সেগুলোর দাম বেশি। বড় আকারের এসব ইলিশের কেজি এখনো হাজার টাকার ওপরে।

নিউমার্কেটে পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০০ টাকায়। বড় আকারের কই মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে ছোট আকারের শিং মাছের কেজি পড়ছে ৩০০ টাকা।

কারওয়ান বাজারে মাছের দাম অন্যান্য বাজারের তুলনায় কম। এখানে ছোট আকারের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০০ টাকায়। বড় রুইয়ের দাম পড়ছে ৩০০ টাকা। পাবদা মাছের কেজি ৪০০ টাকা। প্রতি কেজি মাগুর মাছ ৫০০ টাকা। এই বাজারে এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ মাছের হালি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকায়। ৬৫০ টাকায় মিলছে ৮০০ গ্রাম ওজনের এক-একটি ইলিশ।

সুপারশপগুলোতে ইলিশের দাম একটু বেশি। রাইফেলস স্কয়ারের আগোরাতে এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৩৭০ টাকায়। আর আধা কেজির ইলিশের দাম ধরা হয়েছে ৩৯৫ টাকা। আগোরার শাখা ব্যবস্থাপক রাশেদ কবির বলেন, নিজস্ব গ্রেড বা মান অনুযায়ী মাছ বিক্রি করা হয়। এগুলো সমান ওজনের হয়। সেই অনুযায়ীই দাম নির্ধারণ করা হয়।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X