সোমবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:৩৩
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, July 26, 2016 9:41 am
A- A A+ Print

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে আজ জেলা প্রশাসক সম্মেলন শুরু

1

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে রাজধানীতে আজ মঙ্গলবার চলতি বছরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হচ্ছে। প্রতিবছরই ঘটা করে এ সম্মেলন হয়। সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের সুপারিশ উত্থাপন করা হয়। এসব সমস্যার আলোকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি নথিতে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৯০ শতাংশের বেশি হলেও বাস্তবের চিত্র উল্টো। সিদ্ধান্তগুলোর বেশির ভাগই বাস্তবায়ন হয় না বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক জেলা প্রশাসক। এমনকি বছরের পর বছর উপস্থাপনের পরও কোনো কোনো সমস্যার সমাধান হয় না কখনো। গত সাতটি ডিসি সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি বিজড়িত স্থান সংরক্ষণ, সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন সংকট দূরীকরণ, এনজিওদের তদারকি সংক্রান্ত বিধি-বিধান তৈরি, যত্রতত্র ইটভাটা স্থাপন না করা, গ্রাম পুলিশদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নিরাপত্তাসহ দশটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা উত্থাপন করা হয়। এসব সমস্যা নিরসনে নেওয়া হয় নানা সিদ্ধান্ত। কিন্তু বাস্তবায়িত হয়নি বলে এবারের সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে স্থান পেয়েছে পুরোনো এই দশ সমস্যা। ডিসি সম্মেলন সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অগ্রগতি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে। ২০০৯ সালে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ডিসিদের একটি প্রস্তাব ছিল, প্রতি উপজেলায় সর্বোচ্চ কতটি ইটভাটা হবে তার সিলিং নির্ধারণ করে দেওয়া। পরিবেশ দূষণ ও প্রচুর পরিমাণ কৃষিজমি নষ্টের হাত থেকে রক্ষা করতেই তাঁরা এ প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ২০১০,২০১১ ও ২০১২ সালে পুনরায় বিষয়টি ডিসি সম্মেলনে তোলেন তাঁরা। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় ২০১৪ ও ২০১৫ সালে আবারও একই সুপারিশ করেন। এরপরও এ সংক্রান্ত নীতিমালা বা আইন প্রণয়ন না করায় এবারের সম্মেলনে সপ্তম বারের মতো সুপারিশ করেছেন ডিসিরা। চলতি বছর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সুপারিশে বরিশালের ডিসি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বধ্যভূমি ও বাংকার সংস্কার এবং ওই সময়ের নির্যাতনকেন্দ্রের যন্ত্রটি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য জাদুঘর নির্মাণেরও প্রস্তাব করেছেন সিলেটের ডিসি। একই ধরনের সুপারিশ ছিল ২০১২,২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে। এবারের সম্মেলনে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব সরকারি কর্মকর্তাদের কোয়ার্টারের স্বল্পতা থাকায় তাদের বসবাসের জন্য বহুতল বিশিষ্ট কোয়ার্টার বা ডরমিটরি নির্মাণের সুপারিশ করেছেন ডিসি। ২০০৭ সালের ডিসি সম্মেলনে এ প্রস্তাব করার পর তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় ২০১০,২০১২ ও ২০১৩ সালে পুনরায় উত্থাপন করেন ডিসিরা। সমাধান না হওয়ায় ২০১৪ ও ২০১৫ সালের সম্মেলনে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন ডিসিরা। এবারের সম্মেলনে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ হলো, জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় তামাক চাষকে নিরুৎসাহিত/নিষিদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন। একই ধরনের প্রস্তাব ছিল ২০১১,২০১৩ ও ২০১৪ সালের সম্মেলনে। সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় চতুর্থবারের মতো প্রস্তাবটি পাঠিয়েছেন ডিসিরা। ২০১২ সালের সম্মেলনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন মুন্সিগঞ্জের ডিসি। তিনি বলেছিলেন, দেশের সিংহভাগ আলু মুন্সিগঞ্জ জেলায় উৎপাদিত হয়। আলু সংরক্ষণে চাহিদার তুলনায় কোল্ড স্টোরেজের পরিমাণ কম থাকায় প্রচুর আলু পচে যায়। এ ব্যাপারে আলু চাষিদের সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। একই ধরনের প্রস্তাব উঠেছিল ২০১৩,২০১৪ ও ২০১৫ সালের সম্মেলনে। এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবারও একই প্রস্তাব পাঠিয়েছেন মুন্সিগঞ্জের ডিসি। ২০০৭ সালের ডিসি সম্মেলনে স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলেছিলেন ডিসিরা। তাঁদের দাবি, সারা দেশের গ্রাম পুলিশ মানবেতর জীবন যাপন করে। তাদের কাজও ২৪ ঘণ্টা। তাদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হোক। তা আমলে নেওয়া না হলে ২০০৮ সালে আবারও বিষয়টি তোলেন ডিসিরা। বেতন-ভাতা কিছুটা বাড়ানো হলেও অবসরে যাওয়ার সময় খালি হাতে বাড়ি যেতে হয় তাদের। ২০১২,২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিষয়টি উত্থাপন করা হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। এবারও ডিসিরা সপ্তম বারের মতো তাদের যাতায়াত ও দৈনিক ভাতার ব্যবস্থা করার জন্য সুপারিশ করেছেন। ২০১০ সালের ডিসি সম্মেলনে ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সুপারিশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র সংরক্ষিত থাকে। এসব অফিস সংস্কার ও নিরাপত্তার জন্য নৈশ প্রহরী নিয়োগের সুপারিশ করেছিলেন কয়েকটি জেলার ডিসি। একই ধরনের সুপারিশ ছিল ২০১১,২০১২ ও ২০১৩ সালের সম্মেলনে। এরপরও ব্যবস্থা না নেওয়ায় ২০১৪ ও ২০১৫ সালেও প্রস্তাবটি পাঠান ডিসিরা। এবারের সম্মেলনে ৭ম বারের মতো সুপারিশ করেছেন ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনাররা। ২০১০ সালের সম্মেলনে কক্সবাজারের ডিসি বলেছিলেন, এখনো অনিবন্ধিত রোহিঙ্গারা নানাভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। এতে কক্সবাজারসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলে নারায়ণের অপরাধ বেড়ে চলছে। বনের গাছপালা কেটে প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের শহরের হোটেল-মোটেলে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েছে। একই ধরনের প্রস্তাব উঠেছে ২০১২ ও ২০১৪ সালের সম্মেলনে। বিষয়টির সুরাহা না হওয়ায় এবারও এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক। প্রকাশ্যে জুয়া খেলার শাস্তি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে ২০১৩ সালের ডিসি সম্মেলনে নেত্রকোনার ডিসি বলেছিলেন, বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইন ১৮৬৭ এর ধারায় শাস্তির পরিমাণ অত্যন্ত কম হওয়ায় জুয়া সংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। গত তিন বছরে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় এবারের সম্মেলনে একই প্রস্তাব পাঠিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, দিনাজপুর ও বগুড়ার ডিসিরা। তারা ১৫০ বছর আগের এ আইনটি সংশোধন করে শাস্তির পরি মান বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন। ২০১০ সালের ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সম্পর্কিত সুপারিশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল দেশি-বিদেশি এনজিওদের মনিটরিং ও পরিচালনায় একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা আইন প্রণয়নের সুপারিশ। একই ধরনের সুপারিশ ছিল ২০০৭,২০০৮ ও ২০০৯ সালের সম্মেলনে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় ২০১১ ও ২০১২ সালে আবারও একই সুপারিশ করেন তাঁরা। এরপরও এসব সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এবারের সম্মেলনে এনজিও কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রকল্পের সনদ ও বাজেট সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের সুপারিশ করেছেন গাইবান্ধার ডিসি। চার দিনের এই সম্মেলনে এবার ১৮টি কার্য-অধিবেশনে ৩৩৬টি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হবে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা সম্মেলন কক্ষে হবে বিভিন্ন অধিবেশন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এবারের জেলা প্রশাসক সম্মেলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা যেসব প্রস্তাব করেছেন, সেগুলো নিয়ে সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ডিসিরা মাঠ পর্যায়ে যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন, সেগুলো ছাড়াও বিদ্যমান সম্ভাবনা সম্পর্কে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সচিবদের উপস্থিতিতে আলোচনা করে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা দিক নির্দেশনা পাবেন। এটা মাঠ প্রশাসনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট। নাগরিক সেবাগুলো কীভাবে আরও দ্রুত করা যায় সে বিষয়েও নির্দেশনা পাবেন তারা। এবার ৩৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ৩৩৬টি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হবে জানিয়ে রবিউল বলেন, সবচে বেশি, ২৭টি প্রস্তাব এসেছে ভূমি মন্ত্রণালয় বিষয়ে। আর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ২৫টি প্রস্তাব দিয়েছেন ডিসিরা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সাধারণত তিন দিন ধরে ডিসি সম্মেলন হলেও বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী ইনোভেশন সামিট উদ্বোধন করবেন বলে ওই দিন আধাবেলা সময় ছেড়ে দিতে হয়েছে। বৃহস্পতিবারের ওই সেশনগুলো শুক্রবার হবে। সম্মেলনে ১৮টি কার্য-অধিবেশনের বাইরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের সৌজন্য সাক্ষাৎ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্তে আলোচনা ছাড়াও একটি সমাপনী অধিবেশন থাকবে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান।

Comments

Comments!

 মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে আজ জেলা প্রশাসক সম্মেলন শুরুAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে আজ জেলা প্রশাসক সম্মেলন শুরু

Tuesday, July 26, 2016 9:41 am
1

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে রাজধানীতে আজ মঙ্গলবার চলতি বছরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হচ্ছে। প্রতিবছরই ঘটা করে এ সম্মেলন হয়। সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের সুপারিশ উত্থাপন করা হয়। এসব সমস্যার আলোকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকারি নথিতে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৯০ শতাংশের বেশি হলেও বাস্তবের চিত্র উল্টো। সিদ্ধান্তগুলোর বেশির ভাগই বাস্তবায়ন হয় না বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক জেলা প্রশাসক। এমনকি বছরের পর বছর উপস্থাপনের পরও কোনো কোনো সমস্যার সমাধান হয় না কখনো।
গত সাতটি ডিসি সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি বিজড়িত স্থান সংরক্ষণ, সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন সংকট দূরীকরণ, এনজিওদের তদারকি সংক্রান্ত বিধি-বিধান তৈরি, যত্রতত্র ইটভাটা স্থাপন না করা, গ্রাম পুলিশদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নিরাপত্তাসহ দশটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা উত্থাপন করা হয়। এসব সমস্যা নিরসনে নেওয়া হয় নানা সিদ্ধান্ত। কিন্তু বাস্তবায়িত হয়নি বলে এবারের সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে স্থান পেয়েছে পুরোনো এই দশ সমস্যা। ডিসি সম্মেলন সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অগ্রগতি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
২০০৯ সালে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ডিসিদের একটি প্রস্তাব ছিল, প্রতি উপজেলায় সর্বোচ্চ কতটি ইটভাটা হবে তার সিলিং নির্ধারণ করে দেওয়া। পরিবেশ দূষণ ও প্রচুর পরিমাণ কৃষিজমি নষ্টের হাত থেকে রক্ষা করতেই তাঁরা এ প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ২০১০,২০১১ ও ২০১২ সালে পুনরায় বিষয়টি ডিসি সম্মেলনে তোলেন তাঁরা। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় ২০১৪ ও ২০১৫ সালে আবারও একই সুপারিশ করেন। এরপরও এ সংক্রান্ত নীতিমালা বা আইন প্রণয়ন না করায় এবারের সম্মেলনে সপ্তম বারের মতো সুপারিশ করেছেন ডিসিরা।
চলতি বছর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সুপারিশে বরিশালের ডিসি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বধ্যভূমি ও বাংকার সংস্কার এবং ওই সময়ের নির্যাতনকেন্দ্রের যন্ত্রটি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য জাদুঘর নির্মাণেরও প্রস্তাব করেছেন সিলেটের ডিসি। একই ধরনের সুপারিশ ছিল ২০১২,২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে।
এবারের সম্মেলনে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব সরকারি কর্মকর্তাদের কোয়ার্টারের স্বল্পতা থাকায় তাদের বসবাসের জন্য বহুতল বিশিষ্ট কোয়ার্টার বা ডরমিটরি নির্মাণের সুপারিশ করেছেন ডিসি। ২০০৭ সালের ডিসি সম্মেলনে এ প্রস্তাব করার পর তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় ২০১০,২০১২ ও ২০১৩ সালে পুনরায় উত্থাপন করেন ডিসিরা। সমাধান না হওয়ায় ২০১৪ ও ২০১৫ সালের সম্মেলনে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন ডিসিরা।
এবারের সম্মেলনে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ হলো, জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় তামাক চাষকে নিরুৎসাহিত/নিষিদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন। একই ধরনের প্রস্তাব ছিল ২০১১,২০১৩ ও ২০১৪ সালের সম্মেলনে। সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় চতুর্থবারের মতো প্রস্তাবটি পাঠিয়েছেন ডিসিরা।
২০১২ সালের সম্মেলনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন মুন্সিগঞ্জের ডিসি। তিনি বলেছিলেন, দেশের সিংহভাগ আলু মুন্সিগঞ্জ জেলায় উৎপাদিত হয়। আলু সংরক্ষণে চাহিদার তুলনায় কোল্ড স্টোরেজের পরিমাণ কম থাকায় প্রচুর আলু পচে যায়। এ ব্যাপারে আলু চাষিদের সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। একই ধরনের প্রস্তাব উঠেছিল ২০১৩,২০১৪ ও ২০১৫ সালের সম্মেলনে। এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবারও একই প্রস্তাব পাঠিয়েছেন মুন্সিগঞ্জের ডিসি।
২০০৭ সালের ডিসি সম্মেলনে স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলেছিলেন ডিসিরা। তাঁদের দাবি, সারা দেশের গ্রাম পুলিশ মানবেতর জীবন যাপন করে। তাদের কাজও ২৪ ঘণ্টা। তাদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হোক। তা আমলে নেওয়া না হলে ২০০৮ সালে আবারও বিষয়টি তোলেন ডিসিরা। বেতন-ভাতা কিছুটা বাড়ানো হলেও অবসরে যাওয়ার সময় খালি হাতে বাড়ি যেতে হয় তাদের। ২০১২,২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিষয়টি উত্থাপন করা হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। এবারও ডিসিরা সপ্তম বারের মতো তাদের যাতায়াত ও দৈনিক ভাতার ব্যবস্থা করার জন্য সুপারিশ করেছেন।
২০১০ সালের ডিসি সম্মেলনে ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সুপারিশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র সংরক্ষিত থাকে। এসব অফিস সংস্কার ও নিরাপত্তার জন্য নৈশ প্রহরী নিয়োগের সুপারিশ করেছিলেন কয়েকটি জেলার ডিসি। একই ধরনের সুপারিশ ছিল ২০১১,২০১২ ও ২০১৩ সালের সম্মেলনে। এরপরও ব্যবস্থা না নেওয়ায় ২০১৪ ও ২০১৫ সালেও প্রস্তাবটি পাঠান ডিসিরা। এবারের সম্মেলনে ৭ম বারের মতো সুপারিশ করেছেন ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনাররা।
২০১০ সালের সম্মেলনে কক্সবাজারের ডিসি বলেছিলেন, এখনো অনিবন্ধিত রোহিঙ্গারা নানাভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। এতে কক্সবাজারসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলে নারায়ণের অপরাধ বেড়ে চলছে। বনের গাছপালা কেটে প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের শহরের হোটেল-মোটেলে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েছে। একই ধরনের প্রস্তাব উঠেছে ২০১২ ও ২০১৪ সালের সম্মেলনে। বিষয়টির সুরাহা না হওয়ায় এবারও এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক।
প্রকাশ্যে জুয়া খেলার শাস্তি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে ২০১৩ সালের ডিসি সম্মেলনে নেত্রকোনার ডিসি বলেছিলেন, বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইন ১৮৬৭ এর ধারায় শাস্তির পরিমাণ অত্যন্ত কম হওয়ায় জুয়া সংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। গত তিন বছরে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় এবারের সম্মেলনে একই প্রস্তাব পাঠিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, দিনাজপুর ও বগুড়ার ডিসিরা। তারা ১৫০ বছর আগের এ আইনটি সংশোধন করে শাস্তির পরি মান বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন।
২০১০ সালের ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সম্পর্কিত সুপারিশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল দেশি-বিদেশি এনজিওদের মনিটরিং ও পরিচালনায় একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা আইন প্রণয়নের সুপারিশ। একই ধরনের সুপারিশ ছিল ২০০৭,২০০৮ ও ২০০৯ সালের সম্মেলনে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় ২০১১ ও ২০১২ সালে আবারও একই সুপারিশ করেন তাঁরা। এরপরও এসব সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এবারের সম্মেলনে এনজিও কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রকল্পের সনদ ও বাজেট সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের সুপারিশ করেছেন গাইবান্ধার ডিসি।
চার দিনের এই সম্মেলনে এবার ১৮টি কার্য-অধিবেশনে ৩৩৬টি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হবে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা সম্মেলন কক্ষে হবে বিভিন্ন অধিবেশন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এবারের জেলা প্রশাসক সম্মেলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা যেসব প্রস্তাব করেছেন, সেগুলো নিয়ে সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ডিসিরা মাঠ পর্যায়ে যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন, সেগুলো ছাড়াও বিদ্যমান সম্ভাবনা সম্পর্কে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সচিবদের উপস্থিতিতে আলোচনা করে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা দিক নির্দেশনা পাবেন। এটা মাঠ প্রশাসনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট। নাগরিক সেবাগুলো কীভাবে আরও দ্রুত করা যায় সে বিষয়েও নির্দেশনা পাবেন তারা। এবার ৩৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ৩৩৬টি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হবে জানিয়ে রবিউল বলেন, সবচে বেশি, ২৭টি প্রস্তাব এসেছে ভূমি মন্ত্রণালয় বিষয়ে। আর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ২৫টি প্রস্তাব দিয়েছেন ডিসিরা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সাধারণত তিন দিন ধরে ডিসি সম্মেলন হলেও বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী ইনোভেশন সামিট উদ্বোধন করবেন বলে ওই দিন আধাবেলা সময় ছেড়ে দিতে হয়েছে। বৃহস্পতিবারের ওই সেশনগুলো শুক্রবার হবে। সম্মেলনে ১৮টি কার্য-অধিবেশনের বাইরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের সৌজন্য সাক্ষাৎ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্তে আলোচনা ছাড়াও একটি সমাপনী অধিবেশন থাকবে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X