শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৮:৩২
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, May 21, 2017 10:05 am
A- A A+ Print

মামলা করে বিড়ম্বনায় পড়েছেন দুই ছাত্রী

66120_thumbM_ff (1)

বনানী থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করার পর বিড়ম্বনায় পড়েছেন দুই ছাত্রী। তাঁদের একজন বলেছেন, ধর্ষণের মামলা করার পর থেকে তাঁরা সামাজিক চাপে আছেন। গণমাধ্যমে তাঁদের নিয়ে ব্যাপক প্রচারের পর তাঁরা পুলিশের সমর্থন পেয়েছেন, নিরাপত্তাও পাচ্ছেন। কিন্তু কাছের স্বজন ও বন্ধুদের সমর্থন হারিয়েছেন। মামলার পর দু-একবার বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছেন। এখন আর যাচ্ছেন না। একদিন তাঁকে ক্লাস থেকে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে আসতে হয়েছে। ওই ছাত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ষণের বিষয়টি এখন ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। পাল্টা প্রশ্ন উঠছে, কেন তাঁরা জন্মদিনের পার্টিতে রেস্টুরেন্টে গেলেন। তিনি বলেন, তাঁরা জানতেন না যে, ছাদের পার্টি থেকে জোর করে তাঁদের হোটেল কক্ষে নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি বলেন, ধর্ষণের ভিডিও ‘ভাইরাল’ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি বনানী থানায় মামলা করেছিলেন। এখন অনেকেই তাঁদের অপরাধ খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ওই ছাত্রী বলেন, ‘আপন’ জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে শাফাত আহমেদের প্রথম স্ত্রী ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার সম্পৃক্ততা নিয়েও কথা উঠছে। কিন্তু ভিডিও ভাইরাল হলে তাঁরা কীভাবে বাঁচবেন, পরিবারকেই বা কী বলবেন সব চিন্তা থেকে শাফাতের সাবেক স্ত্রীকে খুঁজে বের করেন। বিচার চাওয়া ছাড়া তাঁদের আর কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। মামলার বাদী বলেন, ঘটনার পর তিনি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে চাননি। তারপরও সাংবাদিক পরিচয়ে দুজন তাঁদের বাসায় এসে সাক্ষাৎকার নেন। তাঁরা ছবি প্রকাশ করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন। তারপরও তাঁরা ছবিটা কিছুটা ঝাপসা করে ইউটিউবে ছেড়ে দিয়েছেন। এতে আত্মীয়স্বজন-বন্ধুবান্ধবেরা তাঁকে চিনে ফেলেছেন। জানতে চাইলে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, সামাজিক মাধ্যমে ছাত্রীর ছবি কারা আপলোড করল, তাদের খুঁজে বের করা হবে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন ধর্ষণের শিকার দুই ছাত্রীর চিকিৎসক বন্ধু। জানা গেছে, তিনিও এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ওই চিকিৎসক তাঁর বক্তব্য পুলিশকে জানিয়েছেন। এদিকে ধর্ষণ মামলার আসামিরা ২৮ মার্চ রাতে মারধরের সময় ভিডিও করেছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। গতকাল শনিবার মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে এ কথা জানান। ঢাকা মহানগর মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মো. আবদুল বাতেন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার রাতে দুই ছাত্রীর এক বন্ধুকে রেইনট্রি হোটেলে আসামিরা মারধর করেন। গাড়িচালক বিল্লাল সেই ভিডিও করেছিলেন। অবশ্য পরে তা মুছে ফেলা হয়। পুলিশ আশা করছে, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই ভিডিও চিত্রটি উদ্ধার করা যাবে। মামলার অন্যতম আসামি শাফাত আহমেদের বন্ধু নঈম আশরাফ (আবদুল হালিম) এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছেন। গতকাল ছিল সাত দিনের রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন। নাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানতে পেরেছেন, শাফাতের খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন নাঈম। নাঈমের পরামর্শমতোই চলতেন শাফাত। তবে শাফাতের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আগে থেকেই তাঁর বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের সঙ্গে নাঈমের ঘনিষ্ঠতা ছিল। প্রায় ছয় মাস ধরে শাফাতের সব ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন নাঈম। গতকাল রাতে ডিবি কার্যালয়ে নাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় মুখোমুখি করা হয় বিল্লাল ও শাফাতের দেহরক্ষী রহমতকে। তিনজনকে একসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

Comments

Comments!

 মামলা করে বিড়ম্বনায় পড়েছেন দুই ছাত্রীAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

মামলা করে বিড়ম্বনায় পড়েছেন দুই ছাত্রী

Sunday, May 21, 2017 10:05 am
66120_thumbM_ff (1)

বনানী থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করার পর বিড়ম্বনায় পড়েছেন দুই ছাত্রী। তাঁদের একজন বলেছেন, ধর্ষণের মামলা করার পর থেকে তাঁরা সামাজিক চাপে আছেন। গণমাধ্যমে তাঁদের নিয়ে ব্যাপক প্রচারের পর তাঁরা পুলিশের সমর্থন পেয়েছেন, নিরাপত্তাও পাচ্ছেন। কিন্তু কাছের স্বজন ও বন্ধুদের সমর্থন হারিয়েছেন। মামলার পর দু-একবার বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছেন। এখন আর যাচ্ছেন না। একদিন তাঁকে ক্লাস থেকে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে আসতে হয়েছে।
ওই ছাত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ষণের বিষয়টি এখন ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। পাল্টা প্রশ্ন উঠছে, কেন তাঁরা জন্মদিনের পার্টিতে রেস্টুরেন্টে গেলেন। তিনি বলেন, তাঁরা জানতেন না যে, ছাদের পার্টি থেকে জোর করে তাঁদের হোটেল কক্ষে নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি বলেন, ধর্ষণের ভিডিও ‘ভাইরাল’ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি বনানী থানায় মামলা করেছিলেন। এখন অনেকেই তাঁদের অপরাধ খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
ওই ছাত্রী বলেন, ‘আপন’ জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে শাফাত আহমেদের প্রথম স্ত্রী ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার সম্পৃক্ততা নিয়েও কথা উঠছে। কিন্তু ভিডিও ভাইরাল হলে তাঁরা কীভাবে বাঁচবেন, পরিবারকেই বা কী বলবেন সব চিন্তা থেকে শাফাতের সাবেক স্ত্রীকে খুঁজে বের করেন। বিচার চাওয়া ছাড়া তাঁদের আর কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।
মামলার বাদী বলেন, ঘটনার পর তিনি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে চাননি। তারপরও সাংবাদিক পরিচয়ে দুজন তাঁদের বাসায় এসে সাক্ষাৎকার নেন। তাঁরা ছবি প্রকাশ করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন। তারপরও তাঁরা ছবিটা কিছুটা ঝাপসা করে ইউটিউবে ছেড়ে দিয়েছেন। এতে আত্মীয়স্বজন-বন্ধুবান্ধবেরা তাঁকে চিনে ফেলেছেন।
জানতে চাইলে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, সামাজিক মাধ্যমে ছাত্রীর ছবি কারা আপলোড করল, তাদের খুঁজে বের করা হবে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন ধর্ষণের শিকার দুই ছাত্রীর চিকিৎসক বন্ধু। জানা গেছে, তিনিও এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ওই চিকিৎসক তাঁর বক্তব্য পুলিশকে জানিয়েছেন।
এদিকে ধর্ষণ মামলার আসামিরা ২৮ মার্চ রাতে মারধরের সময় ভিডিও করেছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। গতকাল শনিবার মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে এ কথা জানান।
ঢাকা মহানগর মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মো. আবদুল বাতেন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার রাতে দুই ছাত্রীর এক বন্ধুকে রেইনট্রি হোটেলে আসামিরা মারধর করেন। গাড়িচালক বিল্লাল সেই ভিডিও করেছিলেন। অবশ্য পরে তা মুছে ফেলা হয়। পুলিশ আশা করছে, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই ভিডিও চিত্রটি উদ্ধার করা যাবে।
মামলার অন্যতম আসামি শাফাত আহমেদের বন্ধু নঈম আশরাফ (আবদুল হালিম) এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছেন। গতকাল ছিল সাত দিনের রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন।
নাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানতে পেরেছেন, শাফাতের খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন নাঈম। নাঈমের পরামর্শমতোই চলতেন শাফাত। তবে শাফাতের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আগে থেকেই তাঁর বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের সঙ্গে নাঈমের ঘনিষ্ঠতা ছিল। প্রায় ছয় মাস ধরে শাফাতের সব ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন নাঈম।
গতকাল রাতে ডিবি কার্যালয়ে নাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় মুখোমুখি করা হয় বিল্লাল ও শাফাতের দেহরক্ষী রহমতকে। তিনজনকে একসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X