রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ১০:০৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, November 7, 2016 8:33 am
A- A A+ Print

মার্কিন নির্বাচন ‘সুইসাইড মিশন’ নয়

tnyt4_29890_1478471870

১৯৭৩ সালের ২২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভাবস্থা বিনষ্টের একটি সুদূরপ্রসারী সাংবিধানিক অধিকারকে ধ্বংস করে ৭-২ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায় নিয়ে গর্ভপাত আইন চালু করে সুপ্রিমকোর্ট। ফলে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতি বছর আমেরিকায় গর্ভপাতের সংখ্যা বাড়তে থাকে ১০ লাখের বেশি, যেখানে এ সংখ্যা বিগত ২০ বছরের মধ্যে বাড়ার কথা ছিল। ‘জন্মগ্রহণের আগেই গর্ভপাত’ এক ধরনের হত্যা। এসব হত্যার শিকার হচ্ছে নামহীন ভুক্তভোগীরা, যারা এখনও জন্মই নেয়নি। মার্কিন ইতিহাসে ‘রোই বনাম ওয়েড’ (গর্ভপাত আইনের কেস) সিদ্ধান্তকে গভীর নৈতিকতার অভাবকেই বোঝানো হয়। এর দ্বারা এ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, মডার্ন আমেরিকা দুর্নীতিগ্রস্ত এবং দেশটির বিচারিক রায় গর্ভপাতের অঙ্গীকারাবদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দেয়। ‘রোই বনাম ওয়েড’ শীর্ষক ওই মামলার রায়ে দেশটির নারীরা গর্ভপাত করার পক্ষে সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেলেও আমেরিকানরা গর্ভপাত প্রশ্নে সব সময়ই দুটি শিবিরে বিভক্ত থেকেছে। এমনকি আদালতের রায়কে সম্মান দেখিয়ে গর্ভপাতকে আইনসিদ্ধ রাখা হলেও দেশটির অনেক এলাকাতেই কঠিন কঠিন শর্তের বেড়াজালে রাখা হয়েছে গর্ভপাতের সুযোগকে। তবুও ১৯৭০-এর দশকে এবং তারপর এখনও মার্কিন নাগরিকরা গর্ভপাত আইনের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে যাচ্ছেন। প্রো-লাইফ মুভমেন্টকে (গর্ভপাতবিরোধী আন্দোলন) নাগরিক শান্তির জন্য কল্যাণকর হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া এটিকে গণতান্ত্রিক রাজনীতির সচরাচর কাজ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। এ ইস্যুটি নিয়ে বহুবার সুপ্রিমকোর্টে তর্ক-বিতর্ক, জনগণের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বহু মার্কিন প্রেসিডেন্টও তাদের ক্ষমতার সিংহাসন পরিবর্তন করেছেন। যদিও এ ইস্যু নিয়ে বাধা থেকেই গেছে। আমরা যদি সত্যিই গর্ভপাতকে হত্যা হিসেবে বিশ্বাস করতাম, সত্যিই হত্যাকাণ্ড, তবে এ বিষয়ে আমরা এতটা রিপাবলিকান ঘেঁষা হতাম না। গর্ভপাতকে মেনে নিলে কেন আমরা সংঘাত, বিদ্রোহ, হস্তক্ষেপ এবং কারও ওপর কর্তৃত্ব ফলানোকে গ্রহণ করব না। দেশে ন্যায়বিচারের প্রয়োজন রয়েছে, তার মানে এই নয়, ন্যায়বিচার পর্যাপ্ত হতে হবে। শান্তির অর্থ হল কোনো অশুভ শক্তিকে দূরীভূত করা। অশুভ শক্তিকে দূর করতে অস্ত্রের ব্যবহার নয়, বরং অশুভ শক্তির মূল উপড়ে ফেলাই শ্রেয়। সম্ভবত এবারের নির্বাচনে এসব বিষয় নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মতামত ঠিক করে রেখেছেন। ট্রাম্পকে ভোট দেয়া মানে কোনো সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদীকে ভোট দেয়া নয়, তবে এমন একজনকে ভোট দেয়া যিনি মার্কিন রাজনীতির নীতি-নৈতিকতার বাইরের এক ব্যক্তিত্ব; যিনি রিপাবলিকান দল ও সংবিধানকে নগ্নভাবে অবজ্ঞা করেছেন। যিনি রাজনৈতিক বাক্যালাপের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে কন্সপাইরেসি থিওরিতে বিদ্ধ করেছেন। আমার দেখা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে রাজনৈতিক উসকানি দেয়ার দিক দিয়ে কাতারের শীর্ষে রয়েছেন তিনি, যিনি স্বৈরাচারী শাসকদের প্রতি তার শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন। এছাড়া যুদ্ধাপরাধকে সমর্থন এবং বর্ণবাদকে প্রশ্রয় দিয়েছেন এবং আরও অনেক কিছুই। যদি সবক’টির তালিকা করা হয়, হাজারও শব্দে তার বর্ণনা শেষ হবে না। অন্য অর্থে এ ভোটটি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব (বৈশ্বিক বা দেশীয় মঞ্চে) পছন্দের অস্থিতিশীল ও বিশৃংখল পদ্ধতি, যার মাধ্যমে ইতিপূর্বে রাজনৈতিক কোনো অভিজ্ঞতা খাপ খাবে না। রক্ষণশীল নাগরিকরা কী চাইবে গর্ভপাতের আইন যুক্তরাষ্ট্র থেকে একেবারে শিথিল করতে। তবে কত সংখ্যক রক্ষণশীল ভোটার ট্রাম্পকে সমর্থন করবেন? তাকে ভোটের মাধ্যমে চার দশক ধরে চলা এ আইনে কী আবার রক্ত সঞ্চালন করবেন নাগরিকরা! নির্বাচনে দুই প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি জবাবের যুক্তি খণ্ডন করবেন না প্রো-লাইফ লেখকরা (যেমন জিমিরাক)। এটি একটি সাংবিধানিক বিতর্ক, ফলে সংবিধানের বিরোধী হয় এমন কোনো পক্ষে ঝুঁকবেন না কোনো প্রেসিডেন্ট। আদালতের রায়ের ভিত্তিতে মার্কিন রাজ্যগুলোয় আইনটি ভিন্ন ভিন্ন নিয়মে রয়েছে। ট্রাম্প আদালতের রায়গুলোকে সচল করবেন বলে আগে থেকেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন। অন্যদিকে অভিবাসী ইস্যুতে অবৈধ অভিবাসীদের প্রাথমিক ক্ষমা ঘোষণা করবেন হিলারি। আর এ সিদ্ধান্তে আমেরিকা ভেনিজুয়েলার শ্যাভেজের (ভেনিজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট) মতো ডানপন্থী মতামতে পৌঁছবে। এটি গণতান্ত্রিক রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ- প্রেসিডেন্সির জন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনের মাধ্যমে সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় ও অশুভ শক্তির (যেসব বিষয়ে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন) কবর দেয়াই উত্তম কাজ। আমি তাদের সঙ্গে একমত, যারা এসব অশুভ শক্তিকে হটিয়ে হিলারি ক্লিনটনকে নির্বাচিত করবে। কিন্তু ট্রাম্পকে পছন্দ করার অর্থ হল, যুদ্ধকে পছন্দ করা। এটি (নির্বাচন) এমন একটি টিকিট, যেটি রাজনৈতিক বিপর্যয় ও নৈতিক দুর্নীতি উভয়ই ডেকে আনতে পারে। এটা মেনে নেয়া খুবই কঠিন, কিছু নির্বাচন পুরো জাতিকে ধ্বংস করে ফেলে এবং নৈতিক অঙ্গীকারকে বিভক্ত করে। কিন্তু প্রো-লাইফ মুভমেন্ট তার আসল জয়টাই ছিনিয়ে নেবে। একজন বৈধ নেতাকে গ্রহণের মাধ্যমে জীবন বাঁচাবে, চলমান আইন পরিবর্তিত হবে, গর্ভপাতের হার কমে আসবে। এমনকি জন্মের আগেই মরে যাওয়া শিশুদের নীরব কান্না হ্রাস পাবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরাজিত করেই এমন বড় জয় দেখবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে রায় হিলারির বিপক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। দীর্ঘমেয়াদি জয়ের কোনো পরিস্থিতি বা অন্য কিছু এতে নিহিত না থাকলেও গভীর রক্ষণশীলদের দৃষ্টিতে, ন্যায়বিচারের ওপর আদেশের নির্ভরশীলতার চেয়ে আদেশের ওপর ন্যায়বিচারের নির্ভরশীলতার শক্তি অনেক বেশি। যখন কোনো ভাঁড়, জোকার বা কৃষ্ণমনা মানুষ মারাত্মক কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেয় এবং ভেঙে দেয় আপনার সব আশা, তখন বিশৃংখল সিদ্ধান্ত নিতে আপনার মনে একটা সুযোগ তৈরি হয়। ইচ্ছাশক্তি জেঁকে বসে এবং এটা বলতে সাহস জোগায়, ‘আপনি গোল্লায় যান।’ নিউইয়র্ক টাইমস থেকে অনুবাদ : সালমান রিয়াজ রস ডোথাট : মার্কিন লেখক, নিউইয়র্ক টাইমসের কলামিস্ট

Comments

Comments!

 মার্কিন নির্বাচন ‘সুইসাইড মিশন’ নয়AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

মার্কিন নির্বাচন ‘সুইসাইড মিশন’ নয়

Monday, November 7, 2016 8:33 am
tnyt4_29890_1478471870
১৯৭৩ সালের ২২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভাবস্থা বিনষ্টের একটি সুদূরপ্রসারী সাংবিধানিক অধিকারকে ধ্বংস করে ৭-২ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায় নিয়ে গর্ভপাত আইন চালু করে সুপ্রিমকোর্ট। ফলে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতি বছর আমেরিকায় গর্ভপাতের সংখ্যা বাড়তে থাকে ১০ লাখের বেশি, যেখানে এ সংখ্যা বিগত ২০ বছরের মধ্যে বাড়ার কথা ছিল। ‘জন্মগ্রহণের আগেই গর্ভপাত’ এক ধরনের হত্যা। এসব হত্যার শিকার হচ্ছে নামহীন ভুক্তভোগীরা, যারা এখনও জন্মই নেয়নি। মার্কিন ইতিহাসে ‘রোই বনাম ওয়েড’ (গর্ভপাত আইনের কেস) সিদ্ধান্তকে গভীর নৈতিকতার অভাবকেই বোঝানো হয়। এর দ্বারা এ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, মডার্ন আমেরিকা দুর্নীতিগ্রস্ত এবং দেশটির বিচারিক রায় গর্ভপাতের অঙ্গীকারাবদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দেয়।
‘রোই বনাম ওয়েড’ শীর্ষক ওই মামলার রায়ে দেশটির নারীরা গর্ভপাত করার পক্ষে সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেলেও আমেরিকানরা গর্ভপাত প্রশ্নে সব সময়ই দুটি শিবিরে বিভক্ত থেকেছে। এমনকি আদালতের রায়কে সম্মান দেখিয়ে গর্ভপাতকে আইনসিদ্ধ রাখা হলেও দেশটির অনেক এলাকাতেই কঠিন কঠিন শর্তের বেড়াজালে রাখা হয়েছে গর্ভপাতের সুযোগকে। তবুও ১৯৭০-এর দশকে এবং তারপর এখনও মার্কিন নাগরিকরা গর্ভপাত আইনের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে যাচ্ছেন। প্রো-লাইফ মুভমেন্টকে (গর্ভপাতবিরোধী আন্দোলন) নাগরিক শান্তির জন্য কল্যাণকর হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া এটিকে গণতান্ত্রিক রাজনীতির সচরাচর কাজ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। এ ইস্যুটি নিয়ে বহুবার সুপ্রিমকোর্টে তর্ক-বিতর্ক, জনগণের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বহু মার্কিন প্রেসিডেন্টও তাদের ক্ষমতার সিংহাসন পরিবর্তন করেছেন। যদিও এ ইস্যু নিয়ে বাধা থেকেই গেছে। আমরা যদি সত্যিই গর্ভপাতকে হত্যা হিসেবে বিশ্বাস করতাম, সত্যিই হত্যাকাণ্ড, তবে এ বিষয়ে আমরা এতটা রিপাবলিকান ঘেঁষা হতাম না। গর্ভপাতকে মেনে নিলে কেন আমরা সংঘাত, বিদ্রোহ, হস্তক্ষেপ এবং কারও ওপর কর্তৃত্ব ফলানোকে গ্রহণ করব না।
দেশে ন্যায়বিচারের প্রয়োজন রয়েছে, তার মানে এই নয়, ন্যায়বিচার পর্যাপ্ত হতে হবে। শান্তির অর্থ হল কোনো অশুভ শক্তিকে দূরীভূত করা। অশুভ শক্তিকে দূর করতে অস্ত্রের ব্যবহার নয়, বরং অশুভ শক্তির মূল উপড়ে ফেলাই শ্রেয়। সম্ভবত এবারের নির্বাচনে এসব বিষয় নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মতামত ঠিক করে রেখেছেন। ট্রাম্পকে ভোট দেয়া মানে কোনো সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদীকে ভোট দেয়া নয়, তবে এমন একজনকে ভোট দেয়া যিনি মার্কিন রাজনীতির নীতি-নৈতিকতার বাইরের এক ব্যক্তিত্ব; যিনি রিপাবলিকান দল ও সংবিধানকে নগ্নভাবে অবজ্ঞা করেছেন। যিনি রাজনৈতিক বাক্যালাপের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে কন্সপাইরেসি থিওরিতে বিদ্ধ করেছেন। আমার দেখা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে রাজনৈতিক উসকানি দেয়ার দিক দিয়ে কাতারের শীর্ষে রয়েছেন তিনি, যিনি স্বৈরাচারী শাসকদের প্রতি তার শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন। এছাড়া যুদ্ধাপরাধকে সমর্থন এবং বর্ণবাদকে প্রশ্রয় দিয়েছেন এবং আরও অনেক কিছুই। যদি সবক’টির তালিকা করা হয়, হাজারও শব্দে তার বর্ণনা শেষ হবে না।
অন্য অর্থে এ ভোটটি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব (বৈশ্বিক বা দেশীয় মঞ্চে) পছন্দের অস্থিতিশীল ও বিশৃংখল পদ্ধতি, যার মাধ্যমে ইতিপূর্বে রাজনৈতিক কোনো অভিজ্ঞতা খাপ খাবে না। রক্ষণশীল নাগরিকরা কী চাইবে গর্ভপাতের আইন যুক্তরাষ্ট্র থেকে একেবারে শিথিল করতে। তবে কত সংখ্যক রক্ষণশীল ভোটার ট্রাম্পকে সমর্থন করবেন? তাকে ভোটের মাধ্যমে চার দশক ধরে চলা এ আইনে কী আবার রক্ত সঞ্চালন করবেন নাগরিকরা!
নির্বাচনে দুই প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি জবাবের যুক্তি খণ্ডন করবেন না প্রো-লাইফ লেখকরা (যেমন জিমিরাক)। এটি একটি সাংবিধানিক বিতর্ক, ফলে সংবিধানের বিরোধী হয় এমন কোনো পক্ষে ঝুঁকবেন না কোনো প্রেসিডেন্ট। আদালতের রায়ের ভিত্তিতে মার্কিন রাজ্যগুলোয় আইনটি ভিন্ন ভিন্ন নিয়মে রয়েছে। ট্রাম্প আদালতের রায়গুলোকে সচল করবেন বলে আগে থেকেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন। অন্যদিকে অভিবাসী ইস্যুতে অবৈধ অভিবাসীদের প্রাথমিক ক্ষমা ঘোষণা করবেন হিলারি। আর এ সিদ্ধান্তে আমেরিকা ভেনিজুয়েলার শ্যাভেজের (ভেনিজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট) মতো ডানপন্থী মতামতে পৌঁছবে। এটি গণতান্ত্রিক রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ- প্রেসিডেন্সির জন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনের মাধ্যমে সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় ও অশুভ শক্তির (যেসব বিষয়ে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন) কবর দেয়াই উত্তম কাজ।
আমি তাদের সঙ্গে একমত, যারা এসব অশুভ শক্তিকে হটিয়ে হিলারি ক্লিনটনকে নির্বাচিত করবে। কিন্তু ট্রাম্পকে পছন্দ করার অর্থ হল, যুদ্ধকে পছন্দ করা। এটি (নির্বাচন) এমন একটি টিকিট, যেটি রাজনৈতিক বিপর্যয় ও নৈতিক দুর্নীতি উভয়ই ডেকে আনতে পারে। এটা মেনে নেয়া খুবই কঠিন, কিছু নির্বাচন পুরো জাতিকে ধ্বংস করে ফেলে এবং নৈতিক অঙ্গীকারকে বিভক্ত করে। কিন্তু প্রো-লাইফ মুভমেন্ট তার আসল জয়টাই ছিনিয়ে নেবে। একজন বৈধ নেতাকে গ্রহণের মাধ্যমে জীবন বাঁচাবে, চলমান আইন পরিবর্তিত হবে, গর্ভপাতের হার কমে আসবে। এমনকি জন্মের আগেই মরে যাওয়া শিশুদের নীরব কান্না হ্রাস পাবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরাজিত করেই এমন বড় জয় দেখবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে রায় হিলারির বিপক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না।
দীর্ঘমেয়াদি জয়ের কোনো পরিস্থিতি বা অন্য কিছু এতে নিহিত না থাকলেও গভীর রক্ষণশীলদের দৃষ্টিতে, ন্যায়বিচারের ওপর আদেশের নির্ভরশীলতার চেয়ে আদেশের ওপর ন্যায়বিচারের নির্ভরশীলতার শক্তি অনেক বেশি। যখন কোনো ভাঁড়, জোকার বা কৃষ্ণমনা মানুষ মারাত্মক কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেয় এবং ভেঙে দেয় আপনার সব আশা, তখন বিশৃংখল সিদ্ধান্ত নিতে আপনার মনে একটা সুযোগ তৈরি হয়। ইচ্ছাশক্তি জেঁকে বসে এবং এটা বলতে সাহস জোগায়, ‘আপনি গোল্লায় যান।’
নিউইয়র্ক টাইমস থেকে অনুবাদ : সালমান রিয়াজ
রস ডোথাট : মার্কিন লেখক, নিউইয়র্ক টাইমসের কলামিস্ট

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X