সোমবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৫:২৩
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, December 11, 2016 9:51 am
A- A A+ Print

মায়ানমারের জঙ্গলে পালিয়ে থাকা নির্যাতিত এক রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকার

5

রাখাইন: মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকায় এখনো অনেক মুসলিম রোহিঙ্গা বন জঙ্গলে পালিয়ে আছেন। তারা লোকালয়ে যেতে পারেন না। তাদের ছেলেমেয়ে, ভাইবোন কোথায় কিভাবে আছেন তাও তারা জানেন না। মায়ানমারের মংডুর চালিপাড়াং এলাকায় বন আর টিলার মাঝে লুকিয়ে আছেন নূর মোহাম্মদ। তিনি জানান, ‘মংডুর এলাকার বন আর টিলার মধ্যে তারা কয়েকজন লুকিয়ে আছেন। তাদের বাড়িও ওই এলাকায়। গত অক্টোবরে তাদের এলাকায় হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়। হেলিকপ্টার থেকেও হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় অনেক লোক মারা গেছে। আর কেউ কেউ পালিয়ে বাঁচতে পেরেছেন।’ তিনি জানান, হামলাকারীরা নারীদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করেছে। অনেককে ধরে নিয়ে গেছে।
এখন পরিস্থিতি কেমন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যখন মিলিটারী থাকেনা তখন আমরা গ্রামে যাই। সৌরবিদ্যুতে, ব্যাটারির মাধ্যমে মোবাইল চার্জ দিয়ে ফিরে আসি। আমরা কয়েকজন মিলে মোবাইল ফোন চার্জের ব্যবসাও করতাম। কেউ কেউ আছেন জীবনের ঝূঁকি নিয়ে। আমরা মাঝে মাঝে খাবারের খোঁজেও যাই। তবে আবার বনে ফিরে আসি।’ এভাবে বাঁচা সম্ভব? প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘খাবার নেই, পানি নেই। তিনদিনও না খেয়ে থেকেছি। তারপরও বাঁচার চেষ্টা করছি। আপনারা যদি পারেন আমাদের জন্য কিছু করেন।’ নূর মোহাম্মদ জানান, ‘আমাদের গ্রামে সাত হাজারের মত বাসিন্দা, দেড় হাজারের মত পরিবার। তাদের সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। কোনো ঘর-বাড়িই আর অক্ষত নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমার ছয় বোন, বাবা-মা নেই। দুই বোনকে বিয়ে দিয়েছি। চারবোন হামলার দিন আমার সঙ্গে বাড়িতে ছিলো। দুই বোন পালিয়ে কক্সবাজারের কুতুপালং গেছে বলে জানতে পেরেছি। বাকি দুই বোন কোথায় আছে জানিনা।’ প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সংলগ্ন মায়ানমারের সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশের মোবাইল ফোন কোম্পনিগুলোর নেটওয়ার্ক কাজ করে এবং ওইসব এলাকায় বাংলাদেশের মোবাইল ফোন কোম্পানির সিম ব্যবহার হয়। নূর মোহাম্মদের সঙ্গে চার দফা কথা হয়েছে। তবে তাকে সব সময় মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি। মাঝে মাঝে পাওয়া গেছে। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক ডাউন হয়ে যায়।’ তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে আশ্রয়ের জন্য আসার চেষ্টা করছি। ওখানে আমার আত্মীয়-স্বজন আছে। কিন্তু আসতে পারবো কিনা জানিনা।’ এদিকে জাতিসংঘের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ‘গত ছয় সপ্তাহে ২২ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ জানায়, ৯ অক্টোবর থেকে রাখাইনে শুরু হওয়া মায়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-অভিযানে অন্তত ৮৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ঘর হারিয়েছেন ৩০ হাজার মানুষ। নির্যাতন থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ সীমান্তে ছুটে আসছেন। সূত্র: ডয়চে ভেলে
 

Comments

Comments!

 মায়ানমারের জঙ্গলে পালিয়ে থাকা নির্যাতিত এক রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকারAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

মায়ানমারের জঙ্গলে পালিয়ে থাকা নির্যাতিত এক রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকার

Sunday, December 11, 2016 9:51 am
5

রাখাইন: মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকায় এখনো অনেক মুসলিম রোহিঙ্গা বন জঙ্গলে পালিয়ে আছেন। তারা লোকালয়ে যেতে পারেন না। তাদের ছেলেমেয়ে, ভাইবোন কোথায় কিভাবে আছেন তাও তারা জানেন না।

মায়ানমারের মংডুর চালিপাড়াং এলাকায় বন আর টিলার মাঝে লুকিয়ে আছেন নূর মোহাম্মদ। তিনি জানান, ‘মংডুর এলাকার বন আর টিলার মধ্যে তারা কয়েকজন লুকিয়ে আছেন। তাদের বাড়িও ওই এলাকায়। গত অক্টোবরে তাদের এলাকায় হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়। হেলিকপ্টার থেকেও হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় অনেক লোক মারা গেছে। আর কেউ কেউ পালিয়ে বাঁচতে পেরেছেন।’

তিনি জানান, হামলাকারীরা নারীদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করেছে। অনেককে ধরে নিয়ে গেছে।

এখন পরিস্থিতি কেমন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যখন মিলিটারী থাকেনা তখন আমরা গ্রামে যাই। সৌরবিদ্যুতে, ব্যাটারির মাধ্যমে মোবাইল চার্জ দিয়ে ফিরে আসি। আমরা কয়েকজন মিলে মোবাইল ফোন চার্জের ব্যবসাও করতাম। কেউ কেউ আছেন জীবনের ঝূঁকি নিয়ে। আমরা মাঝে মাঝে খাবারের খোঁজেও যাই। তবে আবার বনে ফিরে আসি।’

এভাবে বাঁচা সম্ভব? প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘খাবার নেই, পানি নেই। তিনদিনও না খেয়ে থেকেছি। তারপরও বাঁচার চেষ্টা করছি। আপনারা যদি পারেন আমাদের জন্য কিছু করেন।’

নূর মোহাম্মদ জানান, ‘আমাদের গ্রামে সাত হাজারের মত বাসিন্দা, দেড় হাজারের মত পরিবার। তাদের সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। কোনো ঘর-বাড়িই আর অক্ষত নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমার ছয় বোন, বাবা-মা নেই। দুই বোনকে বিয়ে দিয়েছি। চারবোন হামলার দিন আমার সঙ্গে বাড়িতে ছিলো। দুই বোন পালিয়ে কক্সবাজারের কুতুপালং গেছে বলে জানতে পেরেছি। বাকি দুই বোন কোথায় আছে জানিনা।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সংলগ্ন মায়ানমারের সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশের মোবাইল ফোন কোম্পনিগুলোর নেটওয়ার্ক কাজ করে এবং ওইসব এলাকায় বাংলাদেশের মোবাইল ফোন কোম্পানির সিম ব্যবহার হয়। নূর মোহাম্মদের সঙ্গে চার দফা কথা হয়েছে। তবে তাকে সব সময় মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি। মাঝে মাঝে পাওয়া গেছে। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক ডাউন হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে আশ্রয়ের জন্য আসার চেষ্টা করছি। ওখানে আমার আত্মীয়-স্বজন আছে। কিন্তু আসতে পারবো কিনা জানিনা।’

এদিকে জাতিসংঘের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ‘গত ছয় সপ্তাহে ২২ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ জানায়, ৯ অক্টোবর থেকে রাখাইনে শুরু হওয়া মায়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-অভিযানে অন্তত ৮৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ঘর হারিয়েছেন ৩০ হাজার মানুষ। নির্যাতন থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ সীমান্তে ছুটে আসছেন।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X