বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৬:২৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, November 29, 2016 1:07 am
A- A A+ Print

মিরাজ-নাজমুলে দুর্দান্ত রাজশাহী

111

ব্যাটিংয়ে নামার সময়ই মোহাম্মদ শেহজাদের সঙ্গে এক চোট কথার লড়াই হয়ে যায় সাব্বির রহমানের। শেহজাদ আউট হওয়ার পর আবার। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, ড্রেসিংরুমে ফেরার সময় রংপুরের আফগান ওপেনারের ব্যাট লাগে পাশ দিয়ে যাওয়া সাব্বিরের কনুইয়ে। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায় রাজশাহী দলে। তবে সাব্বির-শেহজাদের ঘটনা রেখে অবশ্য দ্রুতই খেলায় ফেরে রাজশাহী। নাজমুল ইসলামের অসাধারণ বোলিং আর মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে রংপুরকে ৪৯ রানে হারিয়েছে রাজশাহী কিংস। এমনিতে মিরপুরের দ্বিতীয় ম্যাচে খুব একটা রান-বন্যা দেখা যায় না। রাজশাহীর দেওয়া ১২৯ রানও যে রংপুরের সামনে বিরাট বাধা হয়ে যাবে, অনুমান করা যাচ্ছিল। মিরাজ-নাজমুলদের ঘূর্ণিতে সেটি হলোও। রংপুর লক্ষ্যে পৌঁছাবে কী, ব্যাটসম্যানরা সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকল যাওয়া-আসায়। সৌম্য সরকারকে স্টাম্পড করে রংপুরের ধস শুরু মিরাজের হাতে। রাজশাহী অলরাউন্ডার পরে তুলে নেন নাসির জামশেদকেও। তবে রংপুরের ব্যাটসম্যানদের কাছে সবচেয়ে বেশি দুর্বোধ্য হয়েছে নাজমুলের বোলিং। রাজশাহীর বাঁহাতি স্পিনার ৪ ওভারে ১ মেডেন ৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে মিরাজকে দেখা গেছে দুর্দান্ত বোলার হিসেবে। বিপিএলেও তাঁকে শুধু বোলার হিসেবেই দেখা যাচ্ছে। তবে অনেক দিন পর ব্যাটসম্যান মিরাজকে দেখা গেছে আজ। আগের ৯ ম্যাচে ৬ ইনিংসে মিরাজের রান ২০। হয়তো ব্যাটিং অর্ডারে বারবার পরিবর্তন আর ম্যাচ-পরিস্থিতির কারণেই আগের ম্যাচগুলোয় ব্যাটসম্যান মিরাজকে দেখা যায়নি। রাজশাহীর বিপর্যয়ই আজ ব্যাটিংয়ের সুযোগ করে দিয়েছে মিরাজকে! যখন তিনি ব্যাটিংয়ে নামেন ৮.৪ ওভারে ৪১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে রাজশাহী। তাঁর সামনেই ফিরে যান দলের অন্যতম ভরসা সাব্বির রহমান। চ্যালেঞ্জিং স্কোর হবে কী, ৪৩ রানে ৭ উইকেট হারানো রাজশাহীর সামনে তখন অলআউট হওয়ার শঙ্কা! মিরাজের রান তখন ১। চাপের মুখে যে অসাধারণ খেলেন, সেটিই আরেকবার প্রমাণ করলেন মিরাজ। শুরুর দিকে কোনো বাউন্ডারি মারার ঝুঁকিই নেননি। এক-দুই করে স্ট্রাইক রোটেট করেছেন। প্রথম বাউন্ডারিটা তৃতীয় বলে মারলেও পরেরটির জন্য অপেক্ষা করেছেন ২১ বল। মিরাজ সবচেয়ে আক্রমণাত্মক হয়েছেন রুবেল হোসেনের করা শেষ ওভারে। প্রথমে স্কুপে চার, পরের বলেই উড়িয়ে মেরেছেন লং অফ দিয়ে। শেষ পর্যন্ত রাজশাহী অলরাউন্ডার অপরাজিত ৩৩ বলে ৪১ রান। টি-টোয়েন্টিতে এটাই তাঁর সর্বোচ্চ। এক প্রান্তে মিরাজ, আরেক পাশে জ্বলে ওঠেন ফরহাদ রেজা। ৩২ বলে অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংসে তাঁর চার-ছক্কা সমান, দুটি করে। মিরাজ-ফরহাদের অবিচ্ছিন্ন অষ্টম উইকেটে এসেছে ৬৪ বলে ৮৫ রান। এই জয়ে শেষ চারের আশাটা আরেকটু উজ্জ্বল হয়েছে রাজশাহীর। সংক্ষিপ্ত স্কোর: রাজশাহী কিংস: ২০ ওভারে ১২৮/৭ (মুমিনুল ৯, জুনায়েদ ২, সাব্বির ১৬, প্যাটেল ২, আবুল ২, উমর ১, স্যামি ৫, মিরাজ ৪১*, ফরহাদ ৪৪*; গাজী ০/১৮, রুবেল ১/৩৮, সানি ৩/৩১, আফ্রিদি ২/১০, ডসন ১/২৭)। রংপুর রাইডার্স: ১৭.৪ ওভারে ৭৯ (শেহজাদ ১২, সৌম্য ১, মিঠুন ২০, জামশেদ ১, ডসন ২, আফ্রিদি ৭, জিয়া ৫, গাজী ৮, মুক্তার ৫, সানি ৯, রুবেল ১* ; সামি ১/৭, ফরহাদ ০/২০, মিরাজ ২/১২, নাজমুল ৩/৮, প্যাটেল ১/১৮, আবুল ৩/১১) । ফল: রাজশাহী কিংস ৪৯ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মেহেদী হাসান মিরাজ।

Comments

Comments!

 মিরাজ-নাজমুলে দুর্দান্ত রাজশাহীAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

মিরাজ-নাজমুলে দুর্দান্ত রাজশাহী

Tuesday, November 29, 2016 1:07 am
111

ব্যাটিংয়ে নামার সময়ই মোহাম্মদ শেহজাদের সঙ্গে এক চোট কথার লড়াই হয়ে যায় সাব্বির রহমানের। শেহজাদ আউট হওয়ার পর আবার। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, ড্রেসিংরুমে ফেরার সময় রংপুরের আফগান ওপেনারের ব্যাট লাগে পাশ দিয়ে যাওয়া সাব্বিরের কনুইয়ে। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায় রাজশাহী দলে। তবে সাব্বির-শেহজাদের ঘটনা রেখে অবশ্য দ্রুতই খেলায় ফেরে রাজশাহী। নাজমুল ইসলামের অসাধারণ বোলিং আর মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে রংপুরকে ৪৯ রানে হারিয়েছে রাজশাহী কিংস।

এমনিতে মিরপুরের দ্বিতীয় ম্যাচে খুব একটা রান-বন্যা দেখা যায় না। রাজশাহীর দেওয়া ১২৯ রানও যে রংপুরের সামনে বিরাট বাধা হয়ে যাবে, অনুমান করা যাচ্ছিল। মিরাজ-নাজমুলদের ঘূর্ণিতে সেটি হলোও। রংপুর লক্ষ্যে পৌঁছাবে কী, ব্যাটসম্যানরা সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকল যাওয়া-আসায়।

সৌম্য সরকারকে স্টাম্পড করে রংপুরের ধস শুরু মিরাজের হাতে। রাজশাহী অলরাউন্ডার পরে তুলে নেন নাসির জামশেদকেও। তবে রংপুরের ব্যাটসম্যানদের কাছে সবচেয়ে বেশি দুর্বোধ্য হয়েছে নাজমুলের বোলিং। রাজশাহীর বাঁহাতি স্পিনার ৪ ওভারে ১ মেডেন ৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে মিরাজকে দেখা গেছে দুর্দান্ত বোলার হিসেবে। বিপিএলেও তাঁকে শুধু বোলার হিসেবেই দেখা যাচ্ছে। তবে অনেক দিন পর ব্যাটসম্যান মিরাজকে দেখা গেছে আজ। আগের ৯ ম্যাচে ৬ ইনিংসে মিরাজের রান ২০। হয়তো ব্যাটিং অর্ডারে বারবার পরিবর্তন আর ম্যাচ-পরিস্থিতির কারণেই আগের ম্যাচগুলোয় ব্যাটসম্যান মিরাজকে দেখা যায়নি।

রাজশাহীর বিপর্যয়ই আজ ব্যাটিংয়ের সুযোগ করে দিয়েছে মিরাজকে! যখন তিনি ব্যাটিংয়ে নামেন ৮.৪ ওভারে ৪১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে রাজশাহী। তাঁর সামনেই ফিরে যান দলের অন্যতম ভরসা সাব্বির রহমান। চ্যালেঞ্জিং স্কোর হবে কী, ৪৩ রানে ৭ উইকেট হারানো রাজশাহীর সামনে তখন অলআউট হওয়ার শঙ্কা! মিরাজের রান তখন ১।

চাপের মুখে যে অসাধারণ খেলেন, সেটিই আরেকবার প্রমাণ করলেন মিরাজ। শুরুর দিকে কোনো বাউন্ডারি মারার ঝুঁকিই নেননি। এক-দুই করে স্ট্রাইক রোটেট করেছেন। প্রথম বাউন্ডারিটা তৃতীয় বলে মারলেও পরেরটির জন্য অপেক্ষা করেছেন ২১ বল। মিরাজ সবচেয়ে আক্রমণাত্মক হয়েছেন রুবেল হোসেনের করা শেষ ওভারে। প্রথমে স্কুপে চার, পরের বলেই উড়িয়ে মেরেছেন লং অফ দিয়ে। শেষ পর্যন্ত রাজশাহী অলরাউন্ডার অপরাজিত ৩৩ বলে ৪১ রান। টি-টোয়েন্টিতে এটাই তাঁর সর্বোচ্চ।

এক প্রান্তে মিরাজ, আরেক পাশে জ্বলে ওঠেন ফরহাদ রেজা। ৩২ বলে অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংসে তাঁর চার-ছক্কা সমান, দুটি করে। মিরাজ-ফরহাদের অবিচ্ছিন্ন অষ্টম উইকেটে এসেছে ৬৪ বলে ৮৫ রান।

এই জয়ে শেষ চারের আশাটা আরেকটু উজ্জ্বল হয়েছে রাজশাহীর।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:

রাজশাহী কিংস: ২০ ওভারে ১২৮/৭ (মুমিনুল ৯, জুনায়েদ ২, সাব্বির ১৬, প্যাটেল ২, আবুল ২, উমর ১, স্যামি ৫, মিরাজ ৪১*, ফরহাদ ৪৪*; গাজী ০/১৮, রুবেল ১/৩৮, সানি ৩/৩১, আফ্রিদি ২/১০, ডসন ১/২৭)।
রংপুর রাইডার্স: ১৭.৪ ওভারে ৭৯ (শেহজাদ ১২, সৌম্য ১, মিঠুন ২০, জামশেদ ১, ডসন ২, আফ্রিদি ৭, জিয়া ৫, গাজী ৮, মুক্তার ৫, সানি ৯, রুবেল ১* ; সামি ১/৭, ফরহাদ ০/২০, মিরাজ ২/১২, নাজমুল ৩/৮, প্যাটেল ১/১৮, আবুল ৩/১১) ।
ফল: রাজশাহী কিংস ৪৯ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মেহেদী হাসান মিরাজ।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X