শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১১:২৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, October 6, 2017 1:56 pm | আপডেটঃ October 06, 2017 1:56 PM
A- A A+ Print

মিয়ানমারকে ভারত একা রাজি করাতে পারবে না

3db94cbbb981d61df8c5dbcb86ac1a62-59d71dd03971e

রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে রাজি করানোর জন্য ভারত একা কিছুই করতে পারবে না। এর জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে একটা সম্মিলিত কূটনৈতিক প্রয়াস দরকার।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্করের চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আলোচনায় ভারত এ কথা জানিয়েছে। একই বিষয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গেও আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন শহীদুল হক।

গত ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল নামার পর দুই প্রতিবেশী দেশের পররাষ্ট্রসচিবেরা এই প্রথম আলোচনা করলেন।

এস জয়শঙ্করবাংলাদেশ আগাগোড়াই চাইছে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর চেষ্টায় ভারত আরও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করুক, কিন্তু ভারতের নিজস্ব নানা বাধ্যবাধকতার কারণে সে কাজটা মোটেও সহজ হচ্ছে না। এদিনের বৈঠকের শেষে কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমকে ব্রিফ না করলেও বিবিসি জানতে পারছে, বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল প্রধানত দুটো—প্রথমত, এ মাসের শেষ দিকে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফর, আর দ্বিতীয়টি অবশ্যই রোহিঙ্গা সংকট।

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জেসিসি) চতুর্থ বৈঠকে যোগ দিতে সুষমা স্বরাজের এ মাসের ২৩ তারিখ নাগাদ ঢাকায় যাওয়ার কথা আছে। সেই সফরের প্রস্তুতি নিয়েও দুই পররাষ্ট্রসচিব নিজেদের মধ্যে আলোচনা সেরেছেন। তবে অবশ্যই বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ ছিল রোহিঙ্গা সংকট। মাস দেড়েক আগে যখন এই সংকট নতুন করে শুরু হয়, তার প্রথম পর্যায়ে কিন্তু ভারতের ভূমিকা বাংলাদেশকে বেশ হতাশ করেছিল।

বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেহেতু মিয়ানমারে সফরে গিয়ে দেশটির নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে দেখা করার পর রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ব্যাপারে প্রকাশ্যে কোনো কথাই বলেননি। এ নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কে একরকম শীতলতাই তৈরি হয়েছিল।

কিন্তু এদিন দুই পররাষ্ট্রসচিবের মুখোমুখি বৈঠকে সেই অনাস্থা বা ভুল-বোঝাবুঝি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশ বরাবরই বলে এসেছে, রোহিঙ্গা সংকটে তারা ভারতের কাছ থেকে আরও সদর্থক ভূমিকা আশা করে এবং মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ভারত যেন এই সংকট নিরসনের চেষ্টা করে। গতকালের বৈঠকে কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না মিললেও ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বিবিসিকে জানিয়েছে, তারা এ ব্যাপারে মূলত তিনটি বিষয় বাংলাদেশের কাছে তুলে ধরেছে।

এক. মিয়ানমার ও বাংলাদেশ উভয়েই ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। দুজনের সঙ্গেই তাদের সম্পর্ক খুব ভালো। ফলে এক দেশের পক্ষ নিয়ে অন্য দেশের প্রতি ভারত কিছুতেই আক্রমণাত্মক হতে পারবে না। এরপরও ভারত কিন্তু চুপচাপ বসে নেই। নেপথ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে তারা মিয়ানমারের সঙ্গে ঠিকই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। রাখাইন রাজ্যে সব ধরনের হিংসা বন্ধ করাটা যে মিয়ানমারের স্বার্থেই প্রয়োজন, সেটাও তাদের বোঝানোর চেষ্টা চলছে।

দুই. এই সংকটের ‘মানবিক দিক’টা সমাধানের জন্য ভারত তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে। তার অংশ হিসেবেই শুরু হয়েছে ‘অপারেশন ইনসানিয়াত’, যাতে দিন কয়েক আগে প্রচুর পরিমাণ ত্রাণ নিয়ে চট্টগ্রামে উড়ে গিয়েছিল ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমান। এরপর সমুদ্রপথেও পাঠানো হয়েছে হাজার টনের বেশি রসদপত্র।

তৃতীয়ত, ভারত বাংলাদেশকে এটাও পরিষ্কার করে দিয়েছে যে শরণার্থীদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে রাজি করাতে ভারত একা কিছুই করতে পারবে না। কারণ, এর জন্য চাই আন্তর্জাতিক স্তরে একটা সম্মিলিত কূটনৈতিক প্রয়াস।

তাই বাংলাদেশকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, আন্তর্জাতিক মহলে যারা রোহিঙ্গা প্রশ্নে মিয়ানমারকে জোরালো সমর্থন জানাচ্ছে, সেই চীন বা রাশিয়ার সঙ্গেও আলাদাভাবে কথা বলতে, যাতে তারাও মিয়ানমারের ওপর তাদের প্রভাবটাকে কাজে লাগাতে পারে।

ফলে ধরে নেওয়া হচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ভারতের ভূমিকা আপাতত এই ত্রাণ পাঠানো আর ‘পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা’র মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

ভারতীয় কর্মকর্তারা একান্ত আলোচনায় এমনটাও বলছেন যে তাঁদের বিশ্বাস, বাংলাদেশ ঠিকই বুঝবে যে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের চেষ্টায় ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ যেটা করা সম্ভব ঠিক সেটাই করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু বোধ হয় ভারত করতে পারবে না।

Comments

Comments!

 মিয়ানমারকে ভারত একা রাজি করাতে পারবে নাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

মিয়ানমারকে ভারত একা রাজি করাতে পারবে না

Friday, October 6, 2017 1:56 pm | আপডেটঃ October 06, 2017 1:56 PM
3db94cbbb981d61df8c5dbcb86ac1a62-59d71dd03971e

রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে রাজি করানোর জন্য ভারত একা কিছুই করতে পারবে না। এর জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে একটা সম্মিলিত কূটনৈতিক প্রয়াস দরকার।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্করের চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আলোচনায় ভারত এ কথা জানিয়েছে। একই বিষয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গেও আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন শহীদুল হক।

গত ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল নামার পর দুই প্রতিবেশী দেশের পররাষ্ট্রসচিবেরা এই প্রথম আলোচনা করলেন।

এস জয়শঙ্করবাংলাদেশ আগাগোড়াই চাইছে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর চেষ্টায় ভারত আরও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করুক, কিন্তু ভারতের নিজস্ব নানা বাধ্যবাধকতার কারণে সে কাজটা মোটেও সহজ হচ্ছে না।
এদিনের বৈঠকের শেষে কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমকে ব্রিফ না করলেও বিবিসি জানতে পারছে, বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল প্রধানত দুটো—প্রথমত, এ মাসের শেষ দিকে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফর, আর দ্বিতীয়টি অবশ্যই রোহিঙ্গা সংকট।

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জেসিসি) চতুর্থ বৈঠকে যোগ দিতে সুষমা স্বরাজের এ মাসের ২৩ তারিখ নাগাদ ঢাকায় যাওয়ার কথা আছে। সেই সফরের প্রস্তুতি নিয়েও দুই পররাষ্ট্রসচিব নিজেদের মধ্যে আলোচনা সেরেছেন।

তবে অবশ্যই বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ ছিল রোহিঙ্গা সংকট। মাস দেড়েক আগে যখন এই সংকট নতুন করে শুরু হয়, তার প্রথম পর্যায়ে কিন্তু ভারতের ভূমিকা বাংলাদেশকে বেশ হতাশ করেছিল।

বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেহেতু মিয়ানমারে সফরে গিয়ে দেশটির নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে দেখা করার পর রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ব্যাপারে প্রকাশ্যে কোনো কথাই বলেননি। এ নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কে একরকম শীতলতাই তৈরি হয়েছিল।

কিন্তু এদিন দুই পররাষ্ট্রসচিবের মুখোমুখি বৈঠকে সেই অনাস্থা বা ভুল-বোঝাবুঝি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশ বরাবরই বলে এসেছে, রোহিঙ্গা সংকটে তারা ভারতের কাছ থেকে আরও সদর্থক ভূমিকা আশা করে এবং মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ভারত যেন এই সংকট নিরসনের চেষ্টা করে। গতকালের বৈঠকে কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না মিললেও ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বিবিসিকে জানিয়েছে, তারা এ ব্যাপারে মূলত তিনটি বিষয় বাংলাদেশের কাছে তুলে ধরেছে।

এক. মিয়ানমার ও বাংলাদেশ উভয়েই ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। দুজনের সঙ্গেই তাদের সম্পর্ক খুব ভালো। ফলে এক দেশের পক্ষ নিয়ে অন্য দেশের প্রতি ভারত কিছুতেই আক্রমণাত্মক হতে পারবে না। এরপরও ভারত কিন্তু চুপচাপ বসে নেই। নেপথ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে তারা মিয়ানমারের সঙ্গে ঠিকই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। রাখাইন রাজ্যে সব ধরনের হিংসা বন্ধ করাটা যে মিয়ানমারের স্বার্থেই প্রয়োজন, সেটাও তাদের বোঝানোর চেষ্টা চলছে।

দুই. এই সংকটের ‘মানবিক দিক’টা সমাধানের জন্য ভারত তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে। তার অংশ হিসেবেই শুরু হয়েছে ‘অপারেশন ইনসানিয়াত’, যাতে দিন কয়েক আগে প্রচুর পরিমাণ ত্রাণ নিয়ে চট্টগ্রামে উড়ে গিয়েছিল ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমান। এরপর সমুদ্রপথেও পাঠানো হয়েছে হাজার টনের বেশি রসদপত্র।

তৃতীয়ত, ভারত বাংলাদেশকে এটাও পরিষ্কার করে দিয়েছে যে শরণার্থীদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে রাজি করাতে ভারত একা কিছুই করতে পারবে না। কারণ, এর জন্য চাই আন্তর্জাতিক স্তরে একটা সম্মিলিত কূটনৈতিক প্রয়াস।

তাই বাংলাদেশকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, আন্তর্জাতিক মহলে যারা রোহিঙ্গা প্রশ্নে মিয়ানমারকে জোরালো সমর্থন জানাচ্ছে, সেই চীন বা রাশিয়ার সঙ্গেও আলাদাভাবে কথা বলতে, যাতে তারাও মিয়ানমারের ওপর তাদের প্রভাবটাকে কাজে লাগাতে পারে।

ফলে ধরে নেওয়া হচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ভারতের ভূমিকা আপাতত এই ত্রাণ পাঠানো আর ‘পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা’র মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

ভারতীয় কর্মকর্তারা একান্ত আলোচনায় এমনটাও বলছেন যে তাঁদের বিশ্বাস, বাংলাদেশ ঠিকই বুঝবে যে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের চেষ্টায় ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ যেটা করা সম্ভব ঠিক সেটাই করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু বোধ হয় ভারত করতে পারবে না।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X