সোমবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৮:০৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, September 8, 2017 8:20 am
A- A A+ Print

মিয়ানমারে যা দেখলেন বিবিসির সাংবাদিক

1

সেনাবাহিনী ও চরমপন্থি বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের নির্যাতন-হত্যা থেকে বাঁচতে গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের দাবি, সরকারি মদদেই এই হত্যা-নির্যাতন চলছে। আবার মিয়ানমার সরকারের দাবি রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরাই এ কাণ্ড ঘটাচ্ছে। কারটা সত্য? সম্প্রতি বিবিসির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংবাদদাতা জোনাথান হেড রাখাইনে গিয়েছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে ফিরে তিনি জানিয়েছেন, রাখাইন বৌদ্ধরাই রোহিঙ্গাদের গ্রামে অগ্নিসংযোগ করছে। জোনাথান হেডের জবানিতেই পড়ুন তার বিবরণ। মংড়ুর পরিস্থিতি দেখতে মিয়ানমার সরকার যে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল আমি সেই গ্রুপেরই সদস্য ছিলাম। এই সফরে যোগ দেওয়ার পূর্বশর্ত ছিল আমরা দলবদ্ধভাবে থাকব এবং স্বাধীনভাবে ঘোরাফেরা করতে পারব না। একইসঙ্গে সরকারের বাছাই করা স্থানে আমাদের যেতে হবে। অন্যান্য এলাকায় এমনকি কাছের কোনো স্থানেও আমাদের যাওয়ার প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছিল নিরাপত্তার অজুহাতে। মংড়ুর দক্ষিণের শহর আই লি থান কিয়াঅ পরিদর্শণ শেষে আমরা ফিরছিলাম। শহরটি তখনো জ্বলছিল, যা দেখে বোঝা যায় বেশ কিছু সময় আগে এতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পুলিশ আমাদের জানালো, মুসলমান বাসিন্দারাই তাদের নিজেদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে। অবশ্য ২৫ আগস্ট শহরের পুলিশ চৌকিতে আরকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির যোদ্ধাদের হামলার পরপর অধিকাংশ বাসিন্দাই পালিয়ে গেছে। আমরা উত্তর দিকে বেশ কিছুটা দূরে কমপক্ষে তিনটি ধোঁয়ার কুণ্ডুলি দেখতে পাচ্ছিলাম। এসময় থেমে থেমে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। সাধারণত গ্রামের চিহ্ন হিসেবে ধানক্ষেত থাকে। আমাদের পেছনে ধানক্ষেতগুলোর মধ্যে সারিবদ্ধ গাছের ভেতর থেকে ধোঁয়ার কুন্ডুলি দেখতে পেলাম। আমরা গাড়ি থেকে বের হলাম এবং ধানক্ষেত পেরিয়ে সেখানে যাওয়ার জন্য দৌড় দিলাম। প্রথমেই দেখতে পেলাম গ্রামের ভবনগুলো কেবল জ্বলছে। এই গ্রামের বাড়িগুলো ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে ছাইয়ে পরিণত হয়ে গেল। এটা সুনিশ্চিত কিছুক্ষন আগেই এখানে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। একটু হেঁটে যাওয়ার পর আমরা একদল তরুণকে রামদা, তলোয়ার ও গুলতি হাতে চলে যেতে দেখলাম। আমরা তাদেরকে সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলাম। কিন্তু তারা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানালো। যাহোক, আমাদের মিয়ানমার সহকর্মী ক্যামেরা সরিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বললো। তারা জানালো, তারা সবাই রাখাইন বৌদ্ধ। ওদের মধ্যে একজন স্বীকার করলো সে গ্রামে অগ্নিসংযোগ করেছে এবং পুলিশ তাকে সহযোগিতা করেছে। সামনে এগুনোর পর একটি মাদ্রাসা দেখতে পেলাম যেটির ছাদ তখনো জ্বলছে। আগুন আরেকটি বাড়ির পাশে ছড়িয়ে পড়ায় তিন মিনিটের মাথায় এটি রীতিমতো নরকে পরিণত হলো। গ্রামে কোনো মানুষই নেই। আমরা যাদেরকে দেখেছিলাম ওরা ছিল হামলাকারী। রাস্তার ওপর গৃহস্থালি সামগ্রী, শিশুদের খেলনা, নারীদের কাপড়চোপড় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল। রাস্তার মাঝে একটি খালি জগ দেখতে পেলাম যেটার ভেতর থেকে তখনো পেট্রোলের ঝাঁঝ বের হচ্ছিল, আরেকটি পড়ে থাকা জগে কিছুটা পেট্রোল অবশিষ্ট ছিল। যখন আমরা বের হয়ে আসছিলাম পোড়া বাড়িগুলোতে আগুন ধিকিধিকি করে জ্বলছিল, কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যাচ্ছিল চারপাশ।

Comments

Comments!

 মিয়ানমারে যা দেখলেন বিবিসির সাংবাদিকAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

মিয়ানমারে যা দেখলেন বিবিসির সাংবাদিক

Friday, September 8, 2017 8:20 am
1

সেনাবাহিনী ও চরমপন্থি বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের নির্যাতন-হত্যা থেকে বাঁচতে গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের দাবি, সরকারি মদদেই এই হত্যা-নির্যাতন চলছে। আবার মিয়ানমার সরকারের দাবি রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরাই এ কাণ্ড ঘটাচ্ছে। কারটা সত্য? সম্প্রতি বিবিসির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংবাদদাতা জোনাথান হেড রাখাইনে গিয়েছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে ফিরে তিনি জানিয়েছেন, রাখাইন বৌদ্ধরাই রোহিঙ্গাদের গ্রামে অগ্নিসংযোগ করছে। জোনাথান হেডের জবানিতেই পড়ুন তার বিবরণ।

মংড়ুর পরিস্থিতি দেখতে মিয়ানমার সরকার যে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল আমি সেই গ্রুপেরই সদস্য ছিলাম। এই সফরে যোগ দেওয়ার পূর্বশর্ত ছিল আমরা দলবদ্ধভাবে থাকব এবং স্বাধীনভাবে ঘোরাফেরা করতে পারব না। একইসঙ্গে সরকারের বাছাই করা স্থানে আমাদের যেতে হবে। অন্যান্য এলাকায় এমনকি কাছের কোনো স্থানেও আমাদের যাওয়ার প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছিল নিরাপত্তার অজুহাতে।

মংড়ুর দক্ষিণের শহর আই লি থান কিয়াঅ পরিদর্শণ শেষে আমরা ফিরছিলাম। শহরটি তখনো জ্বলছিল, যা দেখে বোঝা যায় বেশ কিছু সময় আগে এতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ আমাদের জানালো, মুসলমান বাসিন্দারাই তাদের নিজেদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে। অবশ্য ২৫ আগস্ট শহরের পুলিশ চৌকিতে আরকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির যোদ্ধাদের হামলার পরপর অধিকাংশ বাসিন্দাই পালিয়ে গেছে। আমরা উত্তর দিকে বেশ কিছুটা দূরে কমপক্ষে তিনটি ধোঁয়ার কুণ্ডুলি দেখতে পাচ্ছিলাম। এসময় থেমে থেমে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল।

সাধারণত গ্রামের চিহ্ন হিসেবে ধানক্ষেত থাকে। আমাদের পেছনে ধানক্ষেতগুলোর মধ্যে সারিবদ্ধ গাছের ভেতর থেকে ধোঁয়ার কুন্ডুলি দেখতে পেলাম। আমরা গাড়ি থেকে বের হলাম এবং ধানক্ষেত পেরিয়ে সেখানে যাওয়ার জন্য দৌড় দিলাম। প্রথমেই দেখতে পেলাম গ্রামের ভবনগুলো কেবল জ্বলছে। এই গ্রামের বাড়িগুলো ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে ছাইয়ে পরিণত হয়ে গেল। এটা সুনিশ্চিত কিছুক্ষন আগেই এখানে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

একটু হেঁটে যাওয়ার পর আমরা একদল তরুণকে রামদা, তলোয়ার ও গুলতি হাতে চলে যেতে দেখলাম। আমরা তাদেরকে সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলাম। কিন্তু তারা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানালো। যাহোক, আমাদের মিয়ানমার সহকর্মী ক্যামেরা সরিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বললো। তারা জানালো, তারা সবাই রাখাইন বৌদ্ধ। ওদের মধ্যে একজন স্বীকার করলো সে গ্রামে অগ্নিসংযোগ করেছে এবং পুলিশ তাকে সহযোগিতা করেছে।

সামনে এগুনোর পর একটি মাদ্রাসা দেখতে পেলাম যেটির ছাদ তখনো জ্বলছে। আগুন আরেকটি বাড়ির পাশে ছড়িয়ে পড়ায় তিন মিনিটের মাথায় এটি রীতিমতো নরকে পরিণত হলো।

গ্রামে কোনো মানুষই নেই। আমরা যাদেরকে দেখেছিলাম ওরা ছিল হামলাকারী। রাস্তার ওপর গৃহস্থালি সামগ্রী, শিশুদের খেলনা, নারীদের কাপড়চোপড় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল। রাস্তার মাঝে একটি খালি জগ দেখতে পেলাম যেটার ভেতর থেকে তখনো পেট্রোলের ঝাঁঝ বের হচ্ছিল, আরেকটি পড়ে থাকা জগে কিছুটা পেট্রোল অবশিষ্ট ছিল। যখন আমরা বের হয়ে আসছিলাম পোড়া বাড়িগুলোতে আগুন ধিকিধিকি করে জ্বলছিল, কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যাচ্ছিল চারপাশ।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X