রবিবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৭:৩০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, December 16, 2016 7:17 pm
A- A A+ Print

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর: জনযুদ্ধের স্মৃতিসম্ভার

6

ভবনটির ছাদে সুউচ্চ ১৬টি ধাতব স্তম্ভ। সেগুলো আকাশের দিকে তাকিয়ে। যেন বাধাহীন, একেবারে বুক চিতিয়ে। হাজার বছর ধরে, এ গাঙ্গেয় বদ্বীপের মুক্তিকামী মানুষের চিরচেনা স্পর্ধার লড়াইয়ের প্রতীক। সেসব স্তম্ভ যেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার কবিতার মতো বলতে চাইছে, ‘রোদ্দুরে নেয়েছি আর বৃষ্টিতে বেড়েছি সহস্র শতাব্দী দিয়ে নিজেকে গড়েছি আমরা তামাটে জাতি, আমরা এসেছি।’ হাজার বছরের পরাধীনতার অর্গল ভেঙে এ জাতি জেগে উঠেছিল ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে। ৩০ লাখ প্রাণ, আড়াই লাখ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে এসেছিল সেই স্বাধীনতা। সেই মহাকাব্যিক সময়কে ধরে রাখার প্রচেষ্টাতেই তৈরি হয়েছে ভবনটি। এটি রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। ১ লাখ ৮৫ হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে কংক্রিটের ভবন নির্মাণ প্রায় শেষ। চলছে শেষ মুহূর্তের ঘষামাজা। এ ভবন জনযুদ্ধের স্মৃতির ভান্ডার, এ ভবন জনমানুষের উদ্যোগের ফসল। এটি বিশাল, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মতোই। এর নির্মাণে ব্যবহার হয়েছে আধুনিক সব প্রযুক্তি। নির্মাণরীতিতে মিশেল ঘটেছে ঐতিহ্যের। এ ভবন পরিবেশবান্ধব। এটি মানবিকও। এই বৈশিষ্ট্যগুলো ধারণ করে আছে ভবনের প্রতিটি অংশ। প্রমাণ চাইলে আপনাকে ছাদ থেকে নামতে হবে। শুরু করি প্রবেশপথ দিয়েই। সিঁড়ি ভেঙে আপনি পৌঁছাবেন ভবনের দ্বিতীয় তলায়। বিরাট খোলা জায়গাটির একটু উঁচুতে বড় বড় অক্ষরে লেখা ‘সাক্ষী বাংলার রক্তভেজা মাটি সাক্ষী আমাদের চন্দ্রতারা ভুলি নাই কোনো স্মৃতি ভুলব না কিছুই আমরা।’ কার লেখা এ কবিতা? যে আটজন ট্রাস্টির অদম্য চেষ্টায় এ জাদুঘরের নির্মাণ, তাঁদের একজন জিয়াউদ্দিন তারিক আলী বললেন, ‘আমাদেরই একজনের লেখা। তবে কার তা জানানো যাবে না।’ দোতলার খোলা জায়গায় একটি বৃত্তের মধ্যে রয়েছে চিরস্থায়ী অগ্নিশিখা। এই বৃত্তটি একেবারে ছাদ ছুঁয়েছে। এর ডান পাশে অ্যাম্ফিথিয়েটার। তবে এর আকার চিরাচরিত গোলাকার নয়, লম্বাটে। প্রবেশপথের বাঁ পাশে সাতটি স্তম্ভ। সাত বীরশ্রেষ্ঠর ‍স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে এটির নির্মাণ। আধুনিক ভবনটির সঙ্গে স্তম্ভগুলো যেন বেমানান। কেন এমন হলো, তারিক আলী এর ব্যাখ্যা দিলেন। বললেন, ‘১০৭০ সালে শাসক দেবপালের বিরুদ্ধে বাংলায় এক বিদ্রোহ হয়েছিল। এটি কৈবর্ত বিদ্রোহ নামে পরিচিত। এই বিদ্রোহের স্মৃতিবাহী স্তম্ভ নাটোরে পাওয়া যায়। তারই আদলে এসব স্তম্ভ। এ ভবনের পাশে এমন প্রাচীন ধারার স্তম্ভ রাখতে প্রথমে নারাজি ছিলেন স্থপতি তানজিম হাসান। তবে আমরা একেই রেখেছি, এটি আমাদের প্রাচীন বিদ্রোহের প্রতীক।’ দোতলার বাঁ পাশে একটি ছোট বিমান টানানো আছে। এটি একাত্তরের যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল। একটু উঁচু মঞ্চে বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও চার জাতীয় নেতার প্রতিকৃতি। এখানে একটি গোলাকার বৃত্ত আছে। এটি আসলে ঝর্ণা। এ গা বেয়ে পানি ঝরবে। এটি প্রবহমানতার প্রতীক। বাংলার নদীর মতো, জীবনের মতো। ছয়তলা ভবন এটি। আসলে ছয়তলা না, নয়তলা। তিনটি তলা বেসমেন্ট। এসব তলায় আছে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। একসঙ্গে ১১০টি গাড়ি থাকতে পারবে এখানে। বেসমেন্ট ১-এ আছে সংগ্রহভান্ডার। মুক্তিযুদ্ধের যেসব স্মৃতিচিহ্ন পাওয়া যাবে, সেগুলোর জন্য রয়েছে পরিবীক্ষণাগার। বেসমেন্ট ২-এ গাড়ি পার্ক করার জায়গার পাশে রয়েছে একটি আন্তর্জাতিক মানের সেমিনার কক্ষ। তৃতীয় তলায় রয়েছে বিশালাকার পাঠাগার। সেখানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নানা বইয়ের সম্ভার। আর একটি ঢাউস ভবন আছে গবেষণার জন্য। লম্বাটে ভবনটি মূল জাদুঘর থেকে বাইরে। আবার এর কোনো কলামও নেই। এটি প্রতীকী। ভবন এমন হওয়ার কারণ, জ্ঞান সৃষ্টির জায়গা হলো মস্তিষ্ক। মাথা মূল শরীর থেকে ভিন্ন। আর এ ভবনে কলাম না রাখার কারণ, জ্ঞান তো স্বয়ম্ভু। এর কোনো সহায়তা লাগে না। সে জন্যই এর কোনো কলাম নেই। চতুর্থ তলায় রয়েছে সংগ্রহশালা ১ ও ২। এ তলায় রয়েছে একটি কৃত্রিম সুড়ঙ্গ। অন্ধকার এ সুড়ঙ্গে ছবি ও ভিডিওতে তুলে ধরা হবে ২৫ মার্চের কালরাতের ভয়াবহতার চিত্র। এটি নির্মাণ করছেন শিল্পী অশোক কর্মকার। পঞ্চম তলায়ও দুটি সংগ্রহশালা আছে। আর ষষ্ঠ তলায় ৫ম সংগ্রহশালার পাশে আছে আন্তর্জাতিক সংগ্রহভান্ডার। সব কটি সংগ্রহশালাতে এসেছে কিছু কিছু স্মৃতিচিহ্ন। আগামী বছরের ২২ মার্চ উদ্বোধন হবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করবেন বলে জানান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি সারওয়ার আলী। এই তারিখে উদ্বোধন হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ ঢাকার সেগুনবাগিচায় শুরু হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের। একটি ভাড়াবাড়িতে সেই জাদুঘর এখনো রয়েছে। সেখান থেকেই একটি স্থায়ী জাদুঘরের স্বপ্ন—যার উদ্বোধন হচ্ছে ২১ বছর পর, আগামী বছর। আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নিয়ে আরও অনেক কিছু বলা যায়। এ ভবনের ছাদে আছে সৌর প্যানেল। পুরো শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ভবনটির মোট বিদ্যুতের ৩০ শতাংশ আসবে সৌর উৎস থেকে। ভবনের বেসিনগুলোতে ব্যবহৃত পানি পরিশোধিত হয়ে ব্যবহৃত হবে শৌচাগারের কমোডে। এভাবে কমবে পানির খরচ। ভবনের দোতলা থেকেই রয়েছে র‍্যাম্প। তা ব্যবহার করবেন শারীরিক বিঘ্নজয়ীরা। জাদুঘর সূত্র জানায়, ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১০২ কোটি টাকার মতো। এর ৪০ শতাংশ ব্যয়ভার বহন করছে সরকার। বাকিটা নানা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, ব্যবসায়ীদের সমিতির কাছ থেকে পাওয়া। সারওয়ার আলী বললেন, ‘অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের টিফিনের টাকা থেকে বাঁচিয়ে সহায়তা দিয়েছে। এটি সত্যিকার অর্থেই জনমানুষের চেষ্টার ফসল; আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মতো। এখনো কোনো বিদেশি আর্থিক সহায়তা নিইনি আমরা।’ যাদের আন্তরিক সহায়তায় ভবন নির্মিত হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের নাম লেখা আছে দ্বিতীয় তলায় সারিবদ্ধ কাচে।

Comments

Comments!

 মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর: জনযুদ্ধের স্মৃতিসম্ভারAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর: জনযুদ্ধের স্মৃতিসম্ভার

Friday, December 16, 2016 7:17 pm
6

ভবনটির ছাদে সুউচ্চ ১৬টি ধাতব স্তম্ভ। সেগুলো আকাশের দিকে তাকিয়ে। যেন বাধাহীন, একেবারে বুক চিতিয়ে। হাজার বছর ধরে, এ গাঙ্গেয় বদ্বীপের মুক্তিকামী মানুষের চিরচেনা স্পর্ধার লড়াইয়ের প্রতীক। সেসব স্তম্ভ যেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার কবিতার মতো বলতে চাইছে,

‘রোদ্দুরে নেয়েছি আর বৃষ্টিতে বেড়েছি
সহস্র শতাব্দী দিয়ে নিজেকে গড়েছি
আমরা তামাটে জাতি, আমরা এসেছি।’
হাজার বছরের পরাধীনতার অর্গল ভেঙে এ জাতি জেগে উঠেছিল ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে। ৩০ লাখ প্রাণ, আড়াই লাখ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে এসেছিল সেই স্বাধীনতা। সেই মহাকাব্যিক সময়কে ধরে রাখার প্রচেষ্টাতেই তৈরি হয়েছে ভবনটি। এটি রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। ১ লাখ ৮৫ হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে কংক্রিটের ভবন নির্মাণ প্রায় শেষ। চলছে শেষ মুহূর্তের ঘষামাজা। এ ভবন জনযুদ্ধের স্মৃতির ভান্ডার, এ ভবন জনমানুষের উদ্যোগের ফসল। এটি বিশাল, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মতোই। এর নির্মাণে ব্যবহার হয়েছে আধুনিক সব প্রযুক্তি। নির্মাণরীতিতে মিশেল ঘটেছে ঐতিহ্যের। এ ভবন পরিবেশবান্ধব। এটি মানবিকও। এই বৈশিষ্ট্যগুলো ধারণ করে আছে ভবনের প্রতিটি অংশ। প্রমাণ চাইলে আপনাকে ছাদ থেকে নামতে হবে।
শুরু করি প্রবেশপথ দিয়েই। সিঁড়ি ভেঙে আপনি পৌঁছাবেন ভবনের দ্বিতীয় তলায়। বিরাট খোলা জায়গাটির একটু উঁচুতে বড় বড় অক্ষরে লেখা
‘সাক্ষী বাংলার রক্তভেজা মাটি
সাক্ষী আমাদের চন্দ্রতারা
ভুলি নাই কোনো স্মৃতি
ভুলব না কিছুই আমরা।’
কার লেখা এ কবিতা? যে আটজন ট্রাস্টির অদম্য চেষ্টায় এ জাদুঘরের নির্মাণ, তাঁদের একজন জিয়াউদ্দিন তারিক আলী বললেন, ‘আমাদেরই একজনের লেখা। তবে কার তা জানানো যাবে না।’
দোতলার খোলা জায়গায় একটি বৃত্তের মধ্যে রয়েছে চিরস্থায়ী অগ্নিশিখা। এই বৃত্তটি একেবারে ছাদ ছুঁয়েছে। এর ডান পাশে অ্যাম্ফিথিয়েটার। তবে এর আকার চিরাচরিত গোলাকার নয়, লম্বাটে। প্রবেশপথের বাঁ পাশে সাতটি স্তম্ভ। সাত বীরশ্রেষ্ঠর ‍স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে এটির নির্মাণ। আধুনিক ভবনটির সঙ্গে স্তম্ভগুলো যেন বেমানান। কেন এমন হলো, তারিক আলী এর ব্যাখ্যা দিলেন। বললেন, ‘১০৭০ সালে শাসক দেবপালের বিরুদ্ধে বাংলায় এক বিদ্রোহ হয়েছিল। এটি কৈবর্ত বিদ্রোহ নামে পরিচিত। এই বিদ্রোহের স্মৃতিবাহী স্তম্ভ নাটোরে পাওয়া যায়। তারই আদলে এসব স্তম্ভ। এ ভবনের পাশে এমন প্রাচীন ধারার স্তম্ভ রাখতে প্রথমে নারাজি ছিলেন স্থপতি তানজিম হাসান। তবে আমরা একেই রেখেছি, এটি আমাদের প্রাচীন বিদ্রোহের প্রতীক।’
দোতলার বাঁ পাশে একটি ছোট বিমান টানানো আছে। এটি একাত্তরের যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল। একটু উঁচু মঞ্চে বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও চার জাতীয় নেতার প্রতিকৃতি। এখানে একটি গোলাকার বৃত্ত আছে। এটি আসলে ঝর্ণা। এ গা বেয়ে পানি ঝরবে। এটি প্রবহমানতার প্রতীক। বাংলার নদীর মতো, জীবনের মতো।
ছয়তলা ভবন এটি। আসলে ছয়তলা না, নয়তলা। তিনটি তলা বেসমেন্ট। এসব তলায় আছে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। একসঙ্গে ১১০টি গাড়ি থাকতে পারবে এখানে। বেসমেন্ট ১-এ আছে সংগ্রহভান্ডার। মুক্তিযুদ্ধের যেসব স্মৃতিচিহ্ন পাওয়া যাবে, সেগুলোর জন্য রয়েছে পরিবীক্ষণাগার। বেসমেন্ট ২-এ গাড়ি পার্ক করার জায়গার পাশে রয়েছে একটি আন্তর্জাতিক মানের সেমিনার কক্ষ।
তৃতীয় তলায় রয়েছে বিশালাকার পাঠাগার। সেখানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নানা বইয়ের সম্ভার। আর একটি ঢাউস ভবন আছে গবেষণার জন্য। লম্বাটে ভবনটি মূল জাদুঘর থেকে বাইরে। আবার এর কোনো কলামও নেই। এটি প্রতীকী। ভবন এমন হওয়ার কারণ, জ্ঞান সৃষ্টির জায়গা হলো মস্তিষ্ক। মাথা মূল শরীর থেকে ভিন্ন। আর এ ভবনে কলাম না রাখার কারণ, জ্ঞান তো স্বয়ম্ভু। এর কোনো সহায়তা লাগে না। সে জন্যই এর কোনো কলাম নেই।
চতুর্থ তলায় রয়েছে সংগ্রহশালা ১ ও ২। এ তলায় রয়েছে একটি কৃত্রিম সুড়ঙ্গ। অন্ধকার এ সুড়ঙ্গে ছবি ও ভিডিওতে তুলে ধরা হবে ২৫ মার্চের কালরাতের ভয়াবহতার চিত্র। এটি নির্মাণ করছেন শিল্পী অশোক কর্মকার। পঞ্চম তলায়ও দুটি সংগ্রহশালা আছে। আর ষষ্ঠ তলায় ৫ম সংগ্রহশালার পাশে আছে আন্তর্জাতিক সংগ্রহভান্ডার। সব কটি সংগ্রহশালাতে এসেছে কিছু কিছু স্মৃতিচিহ্ন। আগামী বছরের ২২ মার্চ উদ্বোধন হবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করবেন বলে জানান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি সারওয়ার আলী। এই তারিখে উদ্বোধন হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ ঢাকার সেগুনবাগিচায় শুরু হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের। একটি ভাড়াবাড়িতে সেই জাদুঘর এখনো রয়েছে। সেখান থেকেই একটি স্থায়ী জাদুঘরের স্বপ্ন—যার উদ্বোধন হচ্ছে ২১ বছর পর, আগামী বছর।
আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নিয়ে আরও অনেক কিছু বলা যায়। এ ভবনের ছাদে আছে সৌর প্যানেল। পুরো শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ভবনটির মোট বিদ্যুতের ৩০ শতাংশ আসবে সৌর উৎস থেকে। ভবনের বেসিনগুলোতে ব্যবহৃত পানি পরিশোধিত হয়ে ব্যবহৃত হবে শৌচাগারের কমোডে। এভাবে কমবে পানির খরচ।
ভবনের দোতলা থেকেই রয়েছে র‍্যাম্প। তা ব্যবহার করবেন শারীরিক বিঘ্নজয়ীরা।
জাদুঘর সূত্র জানায়, ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১০২ কোটি টাকার মতো। এর ৪০ শতাংশ ব্যয়ভার বহন করছে সরকার। বাকিটা নানা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, ব্যবসায়ীদের সমিতির কাছ থেকে পাওয়া। সারওয়ার আলী বললেন, ‘অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের টিফিনের টাকা থেকে বাঁচিয়ে সহায়তা দিয়েছে। এটি সত্যিকার অর্থেই জনমানুষের চেষ্টার ফসল; আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মতো। এখনো কোনো বিদেশি আর্থিক সহায়তা নিইনি আমরা।’
যাদের আন্তরিক সহায়তায় ভবন নির্মিত হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের নাম লেখা আছে দ্বিতীয় তলায় সারিবদ্ধ কাচে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X