শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১:৫১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Wednesday, October 26, 2016 6:29 pm
A- A A+ Print

মেয়েটির পর ছেলেটিরও আত্মহত্যা

157671_1

গাজীপুরের স্কুলছাত্রী মুন্নি আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলার আসামি স্কুলছাত্র আরাফাত সরকার আত্মহত্যা করেছে। মুন্নি আত্মহত্যার এক দিন পর গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সে আত্মহত্যা করে। মুন্নির পরিবারের দাবি, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে আরাফাত উত্ত্যক্ত করায় ক্ষোভে-অপমানে মুন্নি আত্মহত্যা করেছে। তবে পুলিশের ধারণা, ঘটনাটি উত্ত্যক্তের নয়। মুন্নি ও আরাফাতের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কতুবদিয়া গ্রামের মো. শহিদের মেয়ে মুন্নি আক্তার (১৪) গত সোমবার দিবাগত রাতে আত্মহত্যা করে। সে চাপাইর বি বি উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। শুরুতে মুন্নির পরিবার আরাফাতের বিরুদ্ধে মুন্নির ঘরে ঢুকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ করে। তবে মামলার এজাহারে মুন্নিকে আত্মহত্যায় আরাফাতের প্ররোচনা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মুন্নি আত্মহত্যার এক দিন পর গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আরাফাত সরকার (১৫) আত্মহত্যা করে। আজ বুধবার তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আরাফাত কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর ব্যাপারীপাড়া এলাকার পরিবহন নেতা আতাউর সরকারের ছেলে। আরাফাত কালিয়াকৈর ইউনাইটেড স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। নিহত আরাফাতের মা মাসুদা পারভীন ও বাবা আতাউর সরকার জানান, তাঁর তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে আরাফাত দ্বিতীয়। দুই বছর ধরে মুন্নির সঙ্গে আরাফাতের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরে মুন্নির কাছ থেকে দূরে রাখতে আরাফাতকে টাঙ্গাইলের করোটিয়া শহীদ একাডেমি স্কুলে ভর্তি করান। কিন্তু কিছুদিন পর স্কুল থেকে আরাফাত বাসায় চলে আসে এবং স্কুলে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। বাধ্য হয়ে তাঁরা কালিয়াকৈর ইউনাইটেড স্কুলে নবম শ্রেণিতে আরাফাতকে ভর্তি করে দেন। সোমবার মুন্নি আত্মহত্যা করার পর আরাফাত বাড়িতে এসে অনেক কান্নাকাটি করে। কারণ, জানতে চাইলে আরাফাত মা-বাবাকে জানায়, ‘সে (আরাফাত) গত সোমবার রাতে মুন্নির ঘরে ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে মুন্নির মা-বাবা ও ভাইবোনসহ অন্যরা তাকে ও মুন্নিকে মারধর ও বকাঝকা করেন। পরে আরাফাত চলে আসার পর মুন্নি নিজ ঘরে আত্মহত্যা করে।’ আরাফাতের মা-বাবা অভিযোগ করেন, মুন্নির পরিবার আরাফাতকে মারধর, অপমান ও ভয়ভীতি দেখানোর কারণে সে আত্মহত্যা করেছে। কালিয়াকৈর থানার পুলিশ জানিয়েছে, মুন্নির আত্মহত্যার পর আরাফাতকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে জানা গেছে, আরাফাত ওই দিনই উপজেলার রতনপুর এলাকায় তার ফুফু বানেছা বেগমের বাড়িতে চলে যায়। ওই বাড়িতে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ফুপাতো ভাই বাবুল মিয়ার সঙ্গে শুয়ে পড়ে। রাতের কোনো এক সময়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে টিনের ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করে আরাফাত। সকালে ঘুম থেকে উঠে বাবুল মিয়া আরাফাতের মরদেহ ঝুলতে দেখে বাড়ির লোকজন ও পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ নিহত কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। মুন্নি আত্মহত্যার পর গতকাল মঙ্গলবার রাতে তার বাবা মো. শহীদ স্কুলছাত্র আরাফাতের বিরুদ্ধে মুন্নিকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে স্কুলছাত্রী মুন্নিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আরাফাত উত্ত্যক্ত করত। মুন্নি বিষয়টি তার মা রেমা বেগমকে জানানোর পর তিনি তাঁকে (মুন্নির বাবা) জানান। পরে তিনি বিষয়টি আরাফাতের মা-বাবাকে জানান। এ ঘটনায় আরাফাত ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর মেয়ে মুন্নির ক্ষতিসাধনের চেষ্টায় লিপ্ত থাকে। আরাফাতের জ্বালা-যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে গত মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করে মুন্নি। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মোতালেব মিয়া জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহত মুন্নি ও আরাফাতের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এর জের ধরে প্রথমে মুন্নি ও পরে আরাফাত আত্মহত্যা করেছে।

Comments

Comments!

 মেয়েটির পর ছেলেটিরও আত্মহত্যাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

মেয়েটির পর ছেলেটিরও আত্মহত্যা

Wednesday, October 26, 2016 6:29 pm
157671_1

গাজীপুরের স্কুলছাত্রী মুন্নি আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলার আসামি স্কুলছাত্র আরাফাত সরকার আত্মহত্যা করেছে। মুন্নি আত্মহত্যার এক দিন পর গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সে আত্মহত্যা করে। মুন্নির পরিবারের দাবি, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে আরাফাত উত্ত্যক্ত করায় ক্ষোভে-অপমানে মুন্নি আত্মহত্যা করেছে। তবে পুলিশের ধারণা, ঘটনাটি উত্ত্যক্তের নয়। মুন্নি ও আরাফাতের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কতুবদিয়া গ্রামের মো. শহিদের মেয়ে মুন্নি আক্তার (১৪) গত সোমবার দিবাগত রাতে আত্মহত্যা করে। সে চাপাইর বি বি উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। শুরুতে মুন্নির পরিবার আরাফাতের বিরুদ্ধে মুন্নির ঘরে ঢুকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ করে। তবে মামলার এজাহারে মুন্নিকে আত্মহত্যায় আরাফাতের প্ররোচনা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মুন্নি আত্মহত্যার এক দিন পর গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আরাফাত সরকার (১৫) আত্মহত্যা করে। আজ বুধবার তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আরাফাত কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর ব্যাপারীপাড়া এলাকার পরিবহন নেতা আতাউর সরকারের ছেলে। আরাফাত কালিয়াকৈর ইউনাইটেড স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

নিহত আরাফাতের মা মাসুদা পারভীন ও বাবা আতাউর সরকার জানান, তাঁর তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে আরাফাত দ্বিতীয়। দুই বছর ধরে মুন্নির সঙ্গে আরাফাতের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরে মুন্নির কাছ থেকে দূরে রাখতে আরাফাতকে টাঙ্গাইলের করোটিয়া শহীদ একাডেমি স্কুলে ভর্তি করান।
কিন্তু কিছুদিন পর স্কুল থেকে আরাফাত বাসায় চলে আসে এবং স্কুলে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। বাধ্য হয়ে তাঁরা কালিয়াকৈর ইউনাইটেড স্কুলে নবম শ্রেণিতে আরাফাতকে ভর্তি করে দেন।
সোমবার মুন্নি আত্মহত্যা করার পর আরাফাত বাড়িতে এসে অনেক কান্নাকাটি করে। কারণ, জানতে চাইলে আরাফাত মা-বাবাকে জানায়, ‘সে (আরাফাত) গত সোমবার রাতে মুন্নির ঘরে ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে মুন্নির মা-বাবা ও ভাইবোনসহ অন্যরা তাকে ও মুন্নিকে মারধর ও বকাঝকা করেন। পরে আরাফাত চলে আসার পর মুন্নি নিজ ঘরে আত্মহত্যা করে।’
আরাফাতের মা-বাবা অভিযোগ করেন, মুন্নির পরিবার আরাফাতকে মারধর, অপমান ও ভয়ভীতি দেখানোর কারণে সে আত্মহত্যা করেছে।

কালিয়াকৈর থানার পুলিশ জানিয়েছে, মুন্নির আত্মহত্যার পর আরাফাতকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে জানা গেছে, আরাফাত ওই দিনই উপজেলার রতনপুর এলাকায় তার ফুফু বানেছা বেগমের বাড়িতে চলে যায়। ওই বাড়িতে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ফুপাতো ভাই বাবুল মিয়ার সঙ্গে শুয়ে পড়ে। রাতের কোনো এক সময়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে টিনের ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করে আরাফাত। সকালে ঘুম থেকে উঠে বাবুল মিয়া আরাফাতের মরদেহ ঝুলতে দেখে বাড়ির লোকজন ও পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ নিহত কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

মুন্নি আত্মহত্যার পর গতকাল মঙ্গলবার রাতে তার বাবা মো. শহীদ স্কুলছাত্র আরাফাতের বিরুদ্ধে মুন্নিকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে স্কুলছাত্রী মুন্নিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আরাফাত উত্ত্যক্ত করত। মুন্নি বিষয়টি তার মা রেমা বেগমকে জানানোর পর তিনি তাঁকে (মুন্নির বাবা) জানান। পরে তিনি বিষয়টি আরাফাতের মা-বাবাকে জানান। এ ঘটনায় আরাফাত ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর মেয়ে মুন্নির ক্ষতিসাধনের চেষ্টায় লিপ্ত থাকে। আরাফাতের জ্বালা-যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে গত মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করে মুন্নি।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মোতালেব মিয়া জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহত মুন্নি ও আরাফাতের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এর জের ধরে প্রথমে মুন্নি ও পরে আরাফাত আত্মহত্যা করেছে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X