শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১১:৫৭
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, June 27, 2017 6:17 am
A- A A+ Print

যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত

4

যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে এবং ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে রাজধানীসহ সারা দেশে মুসলিম উম্মাহর বড় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। ঈদের নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে মুসল্লীরা পরস্পর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন হাসপাতাল, জেলখানা, শিশুসদন, ভবঘুরে কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে পরিবেশন করা হয় বিশেষ খাবার। রাজধানী ঢাকায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৮টায় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের পাশে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। দ্বিতীয় বৃহত্তর জামাত অনুষ্ঠিত হয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টায়। এখানে সকাল ৮টা, ৯টা, ১০টা ও পৌনে ১১টায় আরো ৪টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র, ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক নেতা, সরকারি ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকরা ঈদের নামাজ আদায় করেন। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হয় ঈদুল ফিতরের জামাত। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এমপি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম এমপি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি পার্টির সেক্রেটারি নূর-ই-আলম চৌধুরী এমপি, হুইপ, জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা জামাতে শরীক হন। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি ও জাতীয় অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠে দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে লাখো মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করেন। সোমবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া ঈদুল ফিতরের ১৯০তম জামাতে ইমামতি করেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তিু ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতের আগে ফরিদ উদ্দীন মাসউদ বলেন, ‘এক সময় দেশে বামপন্থার নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়েছে। এখন ধর্মের নামে  হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ এগুলো গ্রহণ করেনি। কোনোদিন গ্রহণ করবে না।’ সব ভয়কে জয় করে ভোর থেকেই মুসল্লিরা শোলাকিয়া মাঠে যেতে থাকেন। সকাল ৯টার দিকেই পুরো মাঠ ভরে যায়। তবে কড়া নিরাপত্তা ও মোবাইল ফোন নিয়ে মাঠে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় অনেক মুসল্লিকে ফিরে যেতে দেখা গেছে। চট্টগ্রাম থেকে রাইজিংবিডির নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ মাঠসহ নগরীর ১৬৯টি স্থানে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীতে প্রথম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায় জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র, মন্ত্রী, প্রাক্তন মন্ত্রী, প্রাক্তন মেয়র, আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজন জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ মাঠের প্রথম ও প্রধান জামাতে শরীক হন। জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ মাঠের প্রথম ও প্রধান জামাতে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ জমিয়তুল ফালাহ্র খতিব হযরতুল আল্লামা আলহাজ্ব সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আলকাদেরী। নামাজ শেষে মোনাজাতে পাহাড় ধস ও ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা, দেশ ও জাতির কল্যাণ, মুসলিম উন্মার শান্তি, সকলের সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। বরিশাল থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল, মহানগর আওয়ামী নেতা গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, বিভাগীয় কমিশনার মো. শহীদুজ্জামান, জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামানসহ কয়েক হাজার মুসল্লি প্রধান জামাতে ঈদের নামাজ আদায়  করেন। নগরীর স্টিমারঘাট জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা শিহাবউদ্দিন বেগ প্রধান জামাতে ইমামতি করেন। বরাবরের মতো এবারও বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে সদর উপজেলার চরমোনাই দরবার শরীফ ময়দানে সকাল ৯টায়। চরমোনাই পীর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম ঈদ জামাতে ইমামতি করেন। বিভাগের দ্বিতীয় বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে পিরোজপুরের নেছারাবাদ ছারছিনা দরবার শরীফ মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায়। খুলনা থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, শহরে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় খুলনা টাউন জামে মসজিদে সকাল ৮টায়। এতে ইমামতি করেন খুলনা টাউন জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ সালেহ। কোর্ট জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে কেসিসি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, খুলনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ, জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসানসহ বিভিন্ন রাজনৈদিক দলের নেতা ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন। নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর থেকে জানান, জেলার গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে প্রায় দুই লাখ মুসল্লির উপস্থিতিতে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টায় এই ঈদ জামাতে ইমামতি করেন দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতাল জামে মসজিদের খতিব শামসুল ইসলাম কাশেমী। ঈদ জামাতে অংশ নেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, বিচারপতি এনায়েতুর রহিম, জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম, পুলিশ সুপার হামিদুল আলম প্রমুখ। এর আগে স্বল্প পরিসরে এই মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হতো। তবে এবারই প্রথম এখানে বড় পরিসরে জামাত অনুষ্ঠিত হলো। নিজস্ব প্রতিবেদক ময়মনসিংহ থেকে জানান, শহরের কেন্দ্রীয় আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুফতি আব্দুল্লাহ আল মামুন ঈদের জামাতে ইমামতি করেন। জামাতে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার জি এম সালেহ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ আহম্মেদ খান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, পৌর মেয়র ইকরামুল হক টিটু প্রমুখ। কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, জেলার কোর্টপাড়াস্থ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় ঈদুল ফিতরের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া জেলার প্রত্যেকটি ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন লাখো মুসল্লি। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে মুসুল্লিরা কোলাকুলি করে একে অপরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, জামালপুর, নেত্রকোনা, বাগেরহাট, গাজীপুর,  কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, যশোর, মেহেরপুর, রাজশাহী, নওগাঁ, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারি ও লালমনিরহাটসহ দেশের সব জেলার উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়।

Comments

Comments!

 যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিতAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত

Tuesday, June 27, 2017 6:17 am
4

যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে এবং ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে রাজধানীসহ সারা দেশে মুসলিম উম্মাহর বড় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে।

ঈদের নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে মুসল্লীরা পরস্পর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন হাসপাতাল, জেলখানা, শিশুসদন, ভবঘুরে কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে পরিবেশন করা হয় বিশেষ খাবার।

রাজধানী ঢাকায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৮টায় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের পাশে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। দ্বিতীয় বৃহত্তর জামাত অনুষ্ঠিত হয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টায়। এখানে সকাল ৮টা, ৯টা, ১০টা ও পৌনে ১১টায় আরো ৪টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র, ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক নেতা, সরকারি ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকরা ঈদের নামাজ আদায় করেন।

এ ছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হয় ঈদুল ফিতরের জামাত। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এমপি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম এমপি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি পার্টির সেক্রেটারি নূর-ই-আলম চৌধুরী এমপি, হুইপ, জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা জামাতে শরীক হন। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি ও জাতীয় অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠে দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে লাখো মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করেন।

সোমবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া ঈদুল ফিতরের ১৯০তম জামাতে ইমামতি করেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তিু ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

মোনাজাতের আগে ফরিদ উদ্দীন মাসউদ বলেন, ‘এক সময় দেশে বামপন্থার নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়েছে। এখন ধর্মের নামে  হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ এগুলো গ্রহণ করেনি। কোনোদিন গ্রহণ করবে না।’

সব ভয়কে জয় করে ভোর থেকেই মুসল্লিরা শোলাকিয়া মাঠে যেতে থাকেন। সকাল ৯টার দিকেই পুরো মাঠ ভরে যায়। তবে কড়া নিরাপত্তা ও মোবাইল ফোন নিয়ে মাঠে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় অনেক মুসল্লিকে ফিরে যেতে দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম থেকে রাইজিংবিডির নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ মাঠসহ নগরীর ১৬৯টি স্থানে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীতে প্রথম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায় জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র, মন্ত্রী, প্রাক্তন মন্ত্রী, প্রাক্তন মেয়র, আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজন জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ মাঠের প্রথম ও প্রধান জামাতে শরীক হন।

জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ মাঠের প্রথম ও প্রধান জামাতে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ জমিয়তুল ফালাহ্র খতিব হযরতুল আল্লামা আলহাজ্ব সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আলকাদেরী।

নামাজ শেষে মোনাজাতে পাহাড় ধস ও ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা, দেশ ও জাতির কল্যাণ, মুসলিম উন্মার শান্তি, সকলের সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

বরিশাল থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল, মহানগর আওয়ামী নেতা গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, বিভাগীয় কমিশনার মো. শহীদুজ্জামান, জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামানসহ কয়েক হাজার মুসল্লি প্রধান জামাতে ঈদের নামাজ আদায়  করেন। নগরীর স্টিমারঘাট জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা শিহাবউদ্দিন বেগ প্রধান জামাতে ইমামতি করেন।

বরাবরের মতো এবারও বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে সদর উপজেলার চরমোনাই দরবার শরীফ ময়দানে সকাল ৯টায়। চরমোনাই পীর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম ঈদ জামাতে ইমামতি করেন।

বিভাগের দ্বিতীয় বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে পিরোজপুরের নেছারাবাদ ছারছিনা দরবার শরীফ মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায়।

খুলনা থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, শহরে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় খুলনা টাউন জামে মসজিদে সকাল ৮টায়। এতে ইমামতি করেন খুলনা টাউন জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ সালেহ। কোর্ট জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

জামাতে কেসিসি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, খুলনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ, জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসানসহ বিভিন্ন রাজনৈদিক দলের নেতা ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর থেকে জানান, জেলার গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে প্রায় দুই লাখ মুসল্লির উপস্থিতিতে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টায় এই ঈদ জামাতে ইমামতি করেন দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতাল জামে মসজিদের খতিব শামসুল ইসলাম কাশেমী।

ঈদ জামাতে অংশ নেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, বিচারপতি এনায়েতুর রহিম, জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম, পুলিশ সুপার হামিদুল আলম প্রমুখ।

এর আগে স্বল্প পরিসরে এই মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হতো। তবে এবারই প্রথম এখানে বড় পরিসরে জামাত অনুষ্ঠিত হলো।

নিজস্ব প্রতিবেদক ময়মনসিংহ থেকে জানান, শহরের কেন্দ্রীয় আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুফতি আব্দুল্লাহ আল মামুন ঈদের জামাতে ইমামতি করেন।

জামাতে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার জি এম সালেহ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ আহম্মেদ খান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, পৌর মেয়র ইকরামুল হক টিটু প্রমুখ।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, জেলার কোর্টপাড়াস্থ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় ঈদুল ফিতরের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।

এ ছাড়া জেলার প্রত্যেকটি ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন লাখো মুসল্লি। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে মুসুল্লিরা কোলাকুলি করে একে অপরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, জামালপুর, নেত্রকোনা, বাগেরহাট, গাজীপুর,  কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, যশোর, মেহেরপুর, রাজশাহী, নওগাঁ, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারি ও লালমনিরহাটসহ দেশের সব জেলার উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X