বুধবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১:৩৬
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, September 5, 2016 10:49 pm
A- A A+ Print

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও দ- কার্যকর করায় রাজনৈতিক পরিণতি কী হতে পারে?

241053_1

মানবতাবিরোধী অপরাধে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং দ- কার্যকর করার রাজনৈতিক পরিণতি কী হতে পারে? ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষনেতা বিবিসি বাংলাকে বলেছেনÑযে ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এতে পূর্ণ হয়েছে এবং তারা মনে করছেন এটি তাদের দলকে ভবিষ্যতে অনেক রাজনৈতিক সুবিধা দেবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের অনেক অভিযোগ এখনও রয়ে গেছে। ফলে ইস্যুটি ভবিষ্যতে জিইয়ে রাখার সুযোগ আওয়ামী লীগের কাছে এখনও রয়েছে। তবে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পর এ বিষয়টির রাজনৈতিক গুরুত্ব কমে যাবে বলে তারা মনে করছেন। আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার অঙ্গীকারকে অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছিল, ফলে রাজনৈতিক এই ইস্যুতে তখন আওয়ামী লীগ তরুণদের একটি বড় অংশের সমর্থন পেয়েছিলেন বলে দলটির নেতাকর্মীরা মনে করেন। সেই ভোটের ফলাফল নিয়ে বিশ্লেষণেও তেমনটা দেখা গেছে। সর্বশেষ জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের অধ্যায় শেষ হলো। সেই প্রেক্ষাপট ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের এটি ইস্যু হিসেবে থাকে কি-না এই প্রশ্ন এখন আলোচনায় আসছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যায়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাসিম আক্তার হোসাইন বলেন, শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করতে পারার মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যাসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ হওয়ার বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ দেশপ্রেমকে রাজনৈতিক এজেন্ডা হিসেবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছে। তাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আওয়ামী লীগের জন্য সুফল বয়ে আনবে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, সারাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার অব্যাহত রয়েছে এবং সেটি অব্যাহত থাকবে। ইস্যুটির গুরুত্ব কমে গেলেও এর প্রভাব রাজনীতিতে থাকবে বলে তিনি মনে করেন। তবে বিশ্লেষকদের অনেকে আবার ভিন্ন কথা বলছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা আওয়ামী লীগের জন্য একটি বড় ধরনের ইস্যু। এখন তারা পিছন দিকে ফিরে এর সাফল্যতা তুলে ধরার চেষ্টা করবে। কারণ আওয়ামী লীগ মনে করে, একমাত্র আওয়ামী লীগের পক্ষেই এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই সাথে আমরা দেখেছি দেশ-বিদেশে প্রচুর বাধা ছিল, সেগুলো অতিক্রম করেই তাদের বিচার কাজ করতে হয়েছে। তাই আওয়ামী লীগ মনে করতে পারে এটি তার জন্য একটি সাফল্য। এবং সেই সাফল্যকে তুলে ধরার জন্য আগামী নির্বাচনে সেটি তারা নিশ্চিত করতে পারবে। কিন্তু সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমার মনে হয় না এটি বড় ইস্যু থাকবে। কারণ ততদিনে বাংলাদেশের সামনে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে যেতে পারে। আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতাদের সাথে কথা বলে এটা মনে হয়েছে রাজনীতিতে নতুন ইস্যু আসবে সেটাই বাস্তবতা। কিন্তু গুরুত্ব কমে গেলেও মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ইস্যু তাদের তালিকায় থাকবে।

Comments

Comments!

 যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও দ- কার্যকর করায় রাজনৈতিক পরিণতি কী হতে পারে?AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও দ- কার্যকর করায় রাজনৈতিক পরিণতি কী হতে পারে?

Monday, September 5, 2016 10:49 pm
241053_1

মানবতাবিরোধী অপরাধে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং দ- কার্যকর করার রাজনৈতিক পরিণতি কী হতে পারে? ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষনেতা বিবিসি বাংলাকে বলেছেনÑযে ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এতে পূর্ণ হয়েছে এবং তারা মনে করছেন এটি তাদের দলকে ভবিষ্যতে অনেক রাজনৈতিক সুবিধা দেবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের অনেক অভিযোগ এখনও রয়ে গেছে। ফলে ইস্যুটি ভবিষ্যতে জিইয়ে রাখার সুযোগ আওয়ামী লীগের কাছে এখনও রয়েছে। তবে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পর এ বিষয়টির রাজনৈতিক গুরুত্ব কমে যাবে বলে তারা মনে করছেন।

আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার অঙ্গীকারকে অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছিল, ফলে রাজনৈতিক এই ইস্যুতে তখন আওয়ামী লীগ তরুণদের একটি বড় অংশের সমর্থন পেয়েছিলেন বলে দলটির নেতাকর্মীরা মনে করেন। সেই ভোটের ফলাফল নিয়ে বিশ্লেষণেও তেমনটা দেখা গেছে। সর্বশেষ জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের অধ্যায় শেষ হলো। সেই প্রেক্ষাপট ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের এটি ইস্যু হিসেবে থাকে কি-না এই প্রশ্ন এখন আলোচনায় আসছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যায়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাসিম আক্তার হোসাইন বলেন, শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করতে পারার মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যাসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ হওয়ার বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ দেশপ্রেমকে রাজনৈতিক এজেন্ডা হিসেবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছে। তাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আওয়ামী লীগের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, সারাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার অব্যাহত রয়েছে এবং সেটি অব্যাহত থাকবে। ইস্যুটির গুরুত্ব কমে গেলেও এর প্রভাব রাজনীতিতে থাকবে বলে তিনি মনে করেন।

তবে বিশ্লেষকদের অনেকে আবার ভিন্ন কথা বলছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা আওয়ামী লীগের জন্য একটি বড় ধরনের ইস্যু। এখন তারা পিছন দিকে ফিরে এর সাফল্যতা তুলে ধরার চেষ্টা করবে। কারণ আওয়ামী লীগ মনে করে, একমাত্র আওয়ামী লীগের পক্ষেই এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই সাথে আমরা দেখেছি দেশ-বিদেশে প্রচুর বাধা ছিল, সেগুলো অতিক্রম করেই তাদের বিচার কাজ করতে হয়েছে। তাই আওয়ামী লীগ মনে করতে পারে এটি তার জন্য একটি সাফল্য। এবং সেই সাফল্যকে তুলে ধরার জন্য আগামী নির্বাচনে সেটি তারা নিশ্চিত করতে পারবে। কিন্তু সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমার মনে হয় না এটি বড় ইস্যু থাকবে। কারণ ততদিনে বাংলাদেশের সামনে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে যেতে পারে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতাদের সাথে কথা বলে এটা মনে হয়েছে রাজনীতিতে নতুন ইস্যু আসবে সেটাই বাস্তবতা। কিন্তু গুরুত্ব কমে গেলেও মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ইস্যু তাদের তালিকায় থাকবে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X