বুধবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১২:৫৩
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, September 19, 2016 7:45 am
A- A A+ Print

যেখানে রাতেও ঘুমায় না মেশিনগান

244321_1

আলেপ্পোতে এখনও শিশুরা মরছে। খোদ দামেশকের কেন্দ্রস্থলের কাছেই সংঘর্ষ চলছে। মনে হচ্ছে সিরিয়ার প্রতি ইঞ্চি জুড়েই বিমান হামলা চলছে। শনিবার সিরিয়ার সেনাদের উপর নিজেদের যুদ্ধ বিমান যে হামলা চালিয়েছে তা স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এক সপ্তাহও হয়নি। সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার ঘোষিত যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়েছে। ত্রাণবহর চলাচলের সুযোগ দেয়ার প্রতিশ্রতি দিয়েছিল সিরিয়া সরকার। কিন্তু তা এখনও পূরর্ণ না করায় যেসব মানুষের জরুরি সাহায্য প্রয়োজন তাদের কাছে এখনও সাহায্য পৌঁছেনি। রাতেও ঘুমায় না মেশিনগান হোমাম আল আসাদ একজন ২৮ বছর বয়সী সিরীয়। ইদলিব প্রদেশের সারাকেব এলাকার বাসিন্দা তিনি। এখানে লাগাতার লড়াই চলছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে কি না তা নিয়ে সন্দিহান তিনি। হোমাম বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছু বেসামরিক মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে আমাদের গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিল। যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে তারা এতটা খুশি যে এতদিন যারা বিয়ের ব্যাপারে সবর করছিলেন তারা এখন বিয়ে করছেন। কিন্তু সামরিক জায়গা থেকে বলতে গেলে পরিস্থিতির ব্যাপারে আগের মতোই অনুভূতি হচ্ছে। যুদ্ধবিমানগুলো এখনও বোমা ফেলে যাচ্ছে এবং রাতেও মেশিনগানের গুলিবর্ষণ থামছে না। সাধারণ মানুষ টার্গেট হওয়ার ভয়ে এখনও বাতি নিভিয়ে গাড়ি চালায়। যোদ্ধারাও যে যার ময়দানে অবস্থা করছে। তারা কেউই যুদ্ধবিরতিতে বিশ্বাস করছে বলে মনে হয় না। তবে আমি মনে করি এই যুদ্ধবিরতি বা যেকোনো যুদ্ধবিরতিই ভালো, কারণ জনগণ যুদ্ধের কারণে অনেকটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। আমি বলছি না যে যুদ্ধবিরতি আসলেই কোনও সমাধান। কিন্তু যুদ্ধবিরতি অন্তত পক্ষে সাধারণ মানুষকে জরুরি প্রয়োজনগুলি মিটানোর একটু ফুরসত তো দেয়। শোচনীয় প্রাত্যহিক জীবন উত্তর সিরিয়ার সীমান্ত শহর কোবানি। এটি নিয়ন্ত্রণ করছে কুর্দি মিলিশিয়ারা। এই শহরের ৩৮ বছর বয়সী একজন কুর্দি বাসিন্দা হলেন ফাতাহ ইসা। তিনিও একজন কুর্দি, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দামেশকের সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি এ শহরে চলে এসেছেন। কোবানির সীমান্ত থেকে একটি ভিডিও বার্তা শেয়ার করেছেন ফাতাহ। যাতে দেখা যাচ্ছে কোবানিকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে তুরস্ক। ফাতাহ বলেন, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের আলেপ্পো শহরে যুদ্ধ চলছে। ফলে যুদ্ধবিরতি কোবানির জনজীবনের পরিস্থিতির হেরফের ঘটাতে তেমন একটা ভূমিকা রাখছে না। আপাতত কোবানির পরিস্থিতি শান্তই আছে। কিন্তু এখানকার মূল সমস্যা হলো খাদ্য সঙ্কট এবং তুরস্কের অবরোধ। এর ফলে আমাদের প্রাত্যহিক জীবন শোচনীয় হয়ে গেছে। ফাতাহ বলেন, গোটা অঞ্চলজুড়েই সব পক্ষ মিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করবে এবং সিরিয়াতে কুর্দিদের অধিকারের স্বীকৃতি দিয়ে একটি রাজনৈতিক সমাধান পৌঁছানো সম্ভব। এমনটি হলেই তবে সিরিয়ার অন্য বাসিন্দাদের মতোও আমরা নিজেদের সাংস্কৃতিক অধিকার লাভ করতে পারব। কেউই যুদ্ধবিরতি পালন করছে না দামেশকে পরিবহন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত আবু ইয়ামেন (৪৫)। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে শনিবার সকালে ঘুম থেকে লাফিয়ে ওঠেন তিনি। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওই দিনই সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ হয়েছে। আবু ইয়ামেন বলেন, সংঘর্ষ এত তীব্রতর ছিল যে চার বছর আগে দামেশক শহরে সাম্রাজ্যবাদের মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের হামলার কথা মনে পড়ে গেছে। তিনি বলেন, গতকাল সকাল পৌন ৮টায় আমার বাসা থেকে ৩শ’ মিটার দূরের একটি সোডা কারখানায় চালানো রকেট হামলার তীব্র শব্দে জেগে উঠি। ভারি অস্ত্র, মর্টার শেলের ঝনঝনানি এবং তিশরিন সেনা হাসপাতালে আহত সৈন্যদের নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের ছোটাছুটি মিলিয়ে দুই ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। আবু ইয়ামেন বলেন, দুই ঘণ্টার সংঘর্ষে আমি পুরোপুরি ভুলে যাই যে সিরিয়াতে যুদ্ধবিরতি বলে কিছু চলছে। সরকারি সেনারা রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় বাইরে বেরোতে না পেরে আমি ঘরে থাকতে বাধ্য হই। বিস্ফোরণের শব্দে ঘরের জানালা কেঁপে উঠায় বারবার আমার সন্তান ঘুম থেকে জেগে উঠছিল। তিনি আরও বলেন, সরকারি টেলিভিশনে শুনেছি, সাম্রাজ্যবাদের মদদপুষ্ট বিদ্রোহীরা আব্বাসীয়া স্কয়ারে হামলা চালিয়েছিল। তবে সরকারি সেনারা তাদের রুখে দেয়। অবশ্য বিদ্রোহীরাও উল্টো কথা বলেছে। তবে শেষ পর্যন্ত আমাদের এটাই মালুম হলো যে কেউই যুদ্ধবিরতির প্রতি ন্যূনতম সম্মান দেখাচ্ছে না এবং এমন যুদ্ধবিরতি খুব বেশি দিন চলবেও না। স্নাইপারের গুলিতে বহু মানুষ আহত বিদ্রোহী কবলিত আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলীয় একটি জেলার বাসিন্দা হলেন আবদেল কাফি আল হামদো। পেশায় শিক্ষক এই সরকার বিরোধী অ্যাক্টিভিস্ট বেশ কয়েকটি টেক্সট মেসেজে বর্ননা করেছেন যুদ্ধবিরতি কিভাবে হোঁচট খাচ্ছে। আবদেল কাফি বলেন, আজ চতুর্থবারের মতো স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে আমি হাটছিলাম। আমরা যখন পুরনো শহরের কাছে পৌঁছলাম, তখন কিছু লোক চিৎকার করে বললো এখানে হাটাহাটি করবে না। আমি তাদের কাছে জানতে চাইলাম কেন? তারা বললো, গতকাল এখানে বহু মানুষ স্নাইপারের গুলিতে আহত হয়েছে। আমি মুষড়ে পড়লাম। কারণ যুদ্ধবিরতির আগে বহুবার আমি এই রাস্তা দিয়ে হেটেছি। সৌভাগ্য যে তখন আমি গুলিবিদ্ধ হইনি। কয়েক ঘণ্টা পরে আবার টেক্সট পাঠান আবদেল কাফি। এতে তিনি বলেন, মনে হচ্ছে মেশিন গান, স্নাইপার, ট্যাংক বোমা এবং বহু অস্ত্র যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত নয়। সর্বশেষ টেক্সটে তিনি হাসপাতালে কর্মরত তার এক বন্ধুর বরাতে আবু আবদু নামে একজন প্রবীণ রোগীর কথা জানান। টেক্সটে আবদেল কাফি বলেন, চাচা আবু আবদু আমাদের কাছে এসে জানান বোমায় ক্ষতিগ্রস্ত কানের চিকিৎসার জন্য তিনি একজন চিকিৎসক খুঁজছেন। আমি তার কাছে ক্ষমা চেয়ে বললাম যে আলেপ্পোতে এখন একজনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। তিনি তখন দুঃখ করে বলেন, আমাদের অপরাধটা কী যে আমরা হয় মারা যাচ্ছি অথবা আহত হলে চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছি? নিউইয়র্ক টাইমসের বৈরুত ব্যুরো প্রধান অ্যান বার্নার্ডের প্রতিবেদন অবলম্বনে

Comments

Comments!

 যেখানে রাতেও ঘুমায় না মেশিনগানAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

যেখানে রাতেও ঘুমায় না মেশিনগান

Monday, September 19, 2016 7:45 am
244321_1

আলেপ্পোতে এখনও শিশুরা মরছে। খোদ দামেশকের কেন্দ্রস্থলের কাছেই সংঘর্ষ চলছে।

মনে হচ্ছে সিরিয়ার প্রতি ইঞ্চি জুড়েই বিমান হামলা চলছে। শনিবার সিরিয়ার সেনাদের উপর নিজেদের যুদ্ধ বিমান যে হামলা চালিয়েছে তা স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এক সপ্তাহও হয়নি। সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার ঘোষিত যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়েছে। ত্রাণবহর চলাচলের সুযোগ দেয়ার প্রতিশ্রতি দিয়েছিল সিরিয়া সরকার। কিন্তু তা এখনও পূরর্ণ না করায় যেসব মানুষের জরুরি সাহায্য প্রয়োজন তাদের কাছে এখনও সাহায্য পৌঁছেনি।

রাতেও ঘুমায় না মেশিনগান

হোমাম আল আসাদ একজন ২৮ বছর বয়সী সিরীয়। ইদলিব প্রদেশের সারাকেব এলাকার বাসিন্দা তিনি। এখানে লাগাতার লড়াই চলছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে কি না তা নিয়ে সন্দিহান তিনি।

হোমাম বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছু বেসামরিক মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে আমাদের গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিল। যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে তারা এতটা খুশি যে এতদিন যারা বিয়ের ব্যাপারে সবর করছিলেন তারা এখন বিয়ে করছেন।

কিন্তু সামরিক জায়গা থেকে বলতে গেলে পরিস্থিতির ব্যাপারে আগের মতোই অনুভূতি হচ্ছে। যুদ্ধবিমানগুলো এখনও বোমা ফেলে যাচ্ছে এবং রাতেও মেশিনগানের গুলিবর্ষণ থামছে না। সাধারণ মানুষ টার্গেট হওয়ার ভয়ে এখনও বাতি নিভিয়ে গাড়ি চালায়। যোদ্ধারাও যে যার ময়দানে অবস্থা করছে। তারা কেউই যুদ্ধবিরতিতে বিশ্বাস করছে বলে মনে হয় না।

তবে আমি মনে করি এই যুদ্ধবিরতি বা যেকোনো যুদ্ধবিরতিই ভালো, কারণ জনগণ যুদ্ধের কারণে অনেকটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। আমি বলছি না যে যুদ্ধবিরতি আসলেই কোনও সমাধান। কিন্তু যুদ্ধবিরতি অন্তত পক্ষে সাধারণ মানুষকে জরুরি প্রয়োজনগুলি মিটানোর একটু ফুরসত তো দেয়।

শোচনীয় প্রাত্যহিক জীবন

উত্তর সিরিয়ার সীমান্ত শহর কোবানি। এটি নিয়ন্ত্রণ করছে কুর্দি মিলিশিয়ারা।

এই শহরের ৩৮ বছর বয়সী একজন কুর্দি বাসিন্দা হলেন ফাতাহ ইসা। তিনিও একজন কুর্দি, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দামেশকের সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি এ শহরে চলে এসেছেন।

কোবানির সীমান্ত থেকে একটি ভিডিও বার্তা শেয়ার করেছেন ফাতাহ। যাতে দেখা যাচ্ছে কোবানিকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে তুরস্ক।

ফাতাহ বলেন, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের আলেপ্পো শহরে যুদ্ধ চলছে। ফলে যুদ্ধবিরতি কোবানির জনজীবনের পরিস্থিতির হেরফের ঘটাতে তেমন একটা ভূমিকা রাখছে না। আপাতত কোবানির পরিস্থিতি শান্তই আছে। কিন্তু এখানকার মূল সমস্যা হলো খাদ্য সঙ্কট এবং তুরস্কের অবরোধ। এর ফলে আমাদের প্রাত্যহিক জীবন শোচনীয় হয়ে গেছে।

ফাতাহ বলেন, গোটা অঞ্চলজুড়েই সব পক্ষ মিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করবে এবং সিরিয়াতে কুর্দিদের অধিকারের স্বীকৃতি দিয়ে একটি রাজনৈতিক সমাধান পৌঁছানো সম্ভব। এমনটি হলেই তবে সিরিয়ার অন্য বাসিন্দাদের মতোও আমরা নিজেদের সাংস্কৃতিক অধিকার লাভ করতে পারব।

কেউই যুদ্ধবিরতি পালন করছে না

দামেশকে পরিবহন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত আবু ইয়ামেন (৪৫)। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে শনিবার সকালে ঘুম থেকে লাফিয়ে ওঠেন তিনি। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওই দিনই সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ হয়েছে।

আবু ইয়ামেন বলেন, সংঘর্ষ এত তীব্রতর ছিল যে চার বছর আগে দামেশক শহরে সাম্রাজ্যবাদের মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের হামলার কথা মনে পড়ে গেছে।

তিনি বলেন, গতকাল সকাল পৌন ৮টায় আমার বাসা থেকে ৩শ’ মিটার দূরের একটি সোডা কারখানায় চালানো রকেট হামলার তীব্র শব্দে জেগে উঠি। ভারি অস্ত্র, মর্টার শেলের ঝনঝনানি এবং তিশরিন সেনা হাসপাতালে আহত সৈন্যদের নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের ছোটাছুটি মিলিয়ে দুই ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে।

আবু ইয়ামেন বলেন, দুই ঘণ্টার সংঘর্ষে আমি পুরোপুরি ভুলে যাই যে সিরিয়াতে যুদ্ধবিরতি বলে কিছু চলছে। সরকারি সেনারা রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় বাইরে বেরোতে না পেরে আমি ঘরে থাকতে বাধ্য হই। বিস্ফোরণের শব্দে ঘরের জানালা কেঁপে উঠায় বারবার আমার সন্তান ঘুম থেকে জেগে উঠছিল।

তিনি আরও বলেন, সরকারি টেলিভিশনে শুনেছি, সাম্রাজ্যবাদের মদদপুষ্ট বিদ্রোহীরা আব্বাসীয়া স্কয়ারে হামলা চালিয়েছিল। তবে সরকারি সেনারা তাদের রুখে দেয়। অবশ্য বিদ্রোহীরাও উল্টো কথা বলেছে। তবে শেষ পর্যন্ত আমাদের এটাই মালুম হলো যে কেউই যুদ্ধবিরতির প্রতি ন্যূনতম সম্মান দেখাচ্ছে না এবং এমন যুদ্ধবিরতি খুব বেশি দিন চলবেও না।

স্নাইপারের গুলিতে বহু মানুষ আহত

বিদ্রোহী কবলিত আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলীয় একটি জেলার বাসিন্দা হলেন আবদেল কাফি আল হামদো। পেশায় শিক্ষক এই সরকার বিরোধী অ্যাক্টিভিস্ট বেশ কয়েকটি টেক্সট মেসেজে বর্ননা করেছেন যুদ্ধবিরতি কিভাবে হোঁচট খাচ্ছে।

আবদেল কাফি বলেন, আজ চতুর্থবারের মতো স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে আমি হাটছিলাম। আমরা যখন পুরনো শহরের কাছে পৌঁছলাম, তখন কিছু লোক চিৎকার করে বললো এখানে হাটাহাটি করবে না।

আমি তাদের কাছে জানতে চাইলাম কেন? তারা বললো, গতকাল এখানে বহু মানুষ স্নাইপারের গুলিতে আহত হয়েছে।

আমি মুষড়ে পড়লাম। কারণ যুদ্ধবিরতির আগে বহুবার আমি এই রাস্তা দিয়ে হেটেছি। সৌভাগ্য যে তখন আমি গুলিবিদ্ধ হইনি।

কয়েক ঘণ্টা পরে আবার টেক্সট পাঠান আবদেল কাফি। এতে তিনি বলেন, মনে হচ্ছে মেশিন গান, স্নাইপার, ট্যাংক বোমা এবং বহু অস্ত্র যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত নয়।

সর্বশেষ টেক্সটে তিনি হাসপাতালে কর্মরত তার এক বন্ধুর বরাতে আবু আবদু নামে একজন প্রবীণ রোগীর কথা জানান।

টেক্সটে আবদেল কাফি বলেন, চাচা আবু আবদু আমাদের কাছে এসে জানান বোমায় ক্ষতিগ্রস্ত কানের চিকিৎসার জন্য তিনি একজন চিকিৎসক খুঁজছেন। আমি তার কাছে ক্ষমা চেয়ে বললাম যে আলেপ্পোতে এখন একজনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। তিনি তখন দুঃখ করে বলেন, আমাদের অপরাধটা কী যে আমরা হয় মারা যাচ্ছি অথবা আহত হলে চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছি?

নিউইয়র্ক টাইমসের বৈরুত ব্যুরো প্রধান অ্যান বার্নার্ডের প্রতিবেদন অবলম্বনে

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X