রবিবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:০৫
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, May 12, 2017 10:36 am
A- A A+ Print

যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন বনানীর ধর্ষণ মামলার আসামি সাফাত-সাদমা

4

সিলেট: বহুল আলোচিত রাজধানীর বনানীর রেইন ট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতেই সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে সিলেট নগরীর পাঠানটুলাস্থ রশীদ ভিলা থেকে তাদেরকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এর আগে ঢাকা থেকে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি গোয়েন্দা দল সিলেটে গিয়ে অবস্থান নিয়ে এদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে। কিন্তু আসামিরা নিজেদের স্বাভাবিক চেহারা পাল্টিয়ে আত্মগোপন করে এবং বারবার অবস্থান পরিবর্তন করায় গ্রেপ্তারে কিছুটা হিমসিম খেতে পুলিশকে। অবশেষে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে সিলেট নগরীর পাঠানটুলাস্থ রশীদ ভিলা ঘেরাও করে ফেলে ঢাকা ও সিলেটের গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাদেরকে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করে। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা জানান, আসামিরা এতটাই চালাক যে তাদের অবস্থান বারবার পরিবর্তন করেছে। এমন কী তাদের আগেকার চেহারাও বিভিন্নভাবে পরিবর্তন করে ফেলেছে। যেমন গোপ-দাড়ি ও মাথার চুল কেটে মুখে নতুন উন্নতমানের কসমেটিক আবরণ মেখে ভিন্ন রূপ ধারণ করে ফেলেছে। তাদেরকে দেখে চেনা খুবই দুরূহ। তবে আমরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের অবস্থান নিশ্চিত হতে পেরে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি আরো জানান, আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফ স্বীকার করেছে যে তারা সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পলায়নের পরিকল্পনা নিয়েছিল। এ জন্য তারা সার্বিক প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু সুযোগের অভাবে তারা যেতে পারেনি। এদিকে আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহীদুল হকও নিশ্চিত করেছেন। মামলার ছায়া তদন্তকারী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) শেখ নাজমুল আলম বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে আসামিরা একসঙ্গে পালিয়ে থাকার চেষ্টা করলেও পরে কৌশল বদলে ফেলে। তারা দুই তিনভাগে ভাগ হয়ে পৃথক পৃথক জায়গায় আত্মগোপন করেছিলো। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই তাদের অবস্থান আমরা নিশ্চিত হতে পারি।’ জানা যায়, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ঢাকার গোয়েন্দা দল সাফাত ও তার সহযোগীদের সম্পর্কে তথ্য দেয়। এর ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ ও সিলেট জেলা মহানগর পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। পুলিশ জানায়, রশীদ ভিলার মালিক একজন প্রবাসী বাংলাদেশি। বাড়িটিতে কেউ থাকে না। এটি দেখভাল করে একজন কেয়ারটেকার। অভিযান চলাকালে তাকে পাওয়া গেলেও আটক করা হয়নি। তদন্তের স্বার্থে বাড়ির মালিকের নামও প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, রশীদ ভিলা হলো সাফাতের চাচার বাড়ি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান জেবান আল মুসা। ধর্ষণ মামলার অন্য আসামিরা সিলেটেই আছে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, এ ব্যাপারে পুলিশ সজাগ আছে। এদিকে নাঈম আশরাফসহ ধর্ষণ মামলার অন্য আসামিরা যেন সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে চলে যেতে না পারে সেজন্য সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অপর একটি সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান দুই আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফ বুধবার রাতে সিলেট নগরের পাঠানটুলার রশিদ মঞ্জিলে আশ্রয় নেয়। পাঠানটুলার ওই বাসার মালিক মামুনুর রশিদ যুক্তরাজ্য প্রবাসী। এই ভবনে প্রবাসীর মা এবং নুরনবী নামের একজন কেয়ারটেকার থাকেন। মামুনুর রশিদের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া এলাকায়। কেয়ারটেকার নুরনবী জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মামুনুর রশিদের পরিচিত মহানগরের কাজিরবাজার এলাকার মাসুম বিল্লাহ নামের একজন সাফাত এবং সাদমানকে নিয়ে এসে ওই বাসায় রাখতে বলেন। তারপর থেকেই এই দুইজন রশিদ মঞ্জিলের দ্বিতীয়তলার একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, মাসুম বিল্লাহ নামের ওই ব্যক্তি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। তার সঙ্গে সাফাতের পরিবারের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। সেই সূত্র ধরে মাসুম তার বন্ধু মামুনুর রশিদের বাসায় থাকার জায়গা দেন।

Comments

Comments!

 যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন বনানীর ধর্ষণ মামলার আসামি সাফাত-সাদমাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন বনানীর ধর্ষণ মামলার আসামি সাফাত-সাদমা

Friday, May 12, 2017 10:36 am
4

সিলেট: বহুল আলোচিত রাজধানীর বনানীর রেইন ট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতেই সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে সিলেট নগরীর পাঠানটুলাস্থ রশীদ ভিলা থেকে তাদেরকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এর আগে ঢাকা থেকে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি গোয়েন্দা দল সিলেটে গিয়ে অবস্থান নিয়ে এদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে। কিন্তু আসামিরা নিজেদের স্বাভাবিক চেহারা পাল্টিয়ে আত্মগোপন করে এবং বারবার অবস্থান পরিবর্তন করায় গ্রেপ্তারে কিছুটা হিমসিম খেতে পুলিশকে।

অবশেষে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে সিলেট নগরীর পাঠানটুলাস্থ রশীদ ভিলা ঘেরাও করে ফেলে ঢাকা ও সিলেটের গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাদেরকে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা জানান, আসামিরা এতটাই চালাক যে তাদের অবস্থান বারবার পরিবর্তন করেছে। এমন কী তাদের আগেকার চেহারাও বিভিন্নভাবে পরিবর্তন করে ফেলেছে। যেমন গোপ-দাড়ি ও মাথার চুল কেটে মুখে নতুন উন্নতমানের কসমেটিক আবরণ মেখে ভিন্ন রূপ ধারণ করে ফেলেছে। তাদেরকে দেখে চেনা খুবই দুরূহ। তবে আমরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের অবস্থান নিশ্চিত হতে পেরে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি আরো জানান, আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফ স্বীকার করেছে যে তারা সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পলায়নের পরিকল্পনা নিয়েছিল। এ জন্য তারা সার্বিক প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু সুযোগের অভাবে তারা যেতে পারেনি।

এদিকে আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহীদুল হকও নিশ্চিত করেছেন।

মামলার ছায়া তদন্তকারী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) শেখ নাজমুল আলম বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে আসামিরা একসঙ্গে পালিয়ে থাকার চেষ্টা করলেও পরে কৌশল বদলে ফেলে। তারা দুই তিনভাগে ভাগ হয়ে পৃথক পৃথক জায়গায় আত্মগোপন করেছিলো। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই তাদের অবস্থান আমরা নিশ্চিত হতে পারি।’

জানা যায়, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ঢাকার গোয়েন্দা দল সাফাত ও তার সহযোগীদের সম্পর্কে তথ্য দেয়। এর ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ ও সিলেট জেলা মহানগর পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। পুলিশ জানায়, রশীদ ভিলার মালিক একজন প্রবাসী বাংলাদেশি। বাড়িটিতে কেউ থাকে না। এটি দেখভাল করে একজন কেয়ারটেকার। অভিযান চলাকালে তাকে পাওয়া গেলেও আটক করা হয়নি। তদন্তের স্বার্থে বাড়ির মালিকের নামও প্রকাশ করা হয়নি।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, রশীদ ভিলা হলো সাফাতের চাচার বাড়ি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান জেবান আল মুসা। ধর্ষণ মামলার অন্য আসামিরা সিলেটেই আছে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, এ ব্যাপারে পুলিশ সজাগ আছে।

এদিকে নাঈম আশরাফসহ ধর্ষণ মামলার অন্য আসামিরা যেন সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে চলে যেতে না পারে সেজন্য সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

অপর একটি সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান দুই আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফ বুধবার রাতে সিলেট নগরের পাঠানটুলার রশিদ মঞ্জিলে আশ্রয় নেয়। পাঠানটুলার ওই বাসার মালিক মামুনুর রশিদ যুক্তরাজ্য প্রবাসী।

এই ভবনে প্রবাসীর মা এবং নুরনবী নামের একজন কেয়ারটেকার থাকেন। মামুনুর রশিদের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া এলাকায়।

কেয়ারটেকার নুরনবী জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মামুনুর রশিদের পরিচিত মহানগরের কাজিরবাজার এলাকার মাসুম বিল্লাহ নামের একজন সাফাত এবং সাদমানকে নিয়ে এসে ওই বাসায় রাখতে বলেন। তারপর থেকেই এই দুইজন রশিদ মঞ্জিলের দ্বিতীয়তলার একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, মাসুম বিল্লাহ নামের ওই ব্যক্তি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। তার সঙ্গে সাফাতের পরিবারের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। সেই সূত্র ধরে মাসুম তার বন্ধু মামুনুর রশিদের বাসায় থাকার জায়গা দেন।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X