শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ১০:৪৯
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, December 25, 2016 9:55 am
A- A A+ Print

যেভাবে ভাড়া নেয়া হয়েছিল বাসাটি

10

রাজধানীর আশকোনার আল-বসির জামে মসজিদ রোডের ৫০ নম্বর বাড়ি।  নিরিবিলি। নিচতলার ফ্ল্যাটটিও তেমন। এক বছর আগেও ওই ফ্ল্যাটে থাকতো বাসা মালিক কুয়েত প্রবাসী মোহাম্মদ জামাল হোসেনের পরিবার। এক বছর আগে বাড়িটির তৃতীয় তলা নির্মিত হওয়ার পর সেখানে স্থানান্তর হয় পরিবারটি। পরের ভাড়াটিয়ারা ছাড়ার পর গত সেপ্টেম্বরের আগে আবার ‘টু-লেট’ ঝোলে বাড়ির সামনে। ইমতিয়াজ আহমেদ ও নিজেকে অনলাইন ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি নিচতলার ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেয় তিন মাস ২৪ দিন আগে। ভাড়া ছিল ১০ হাজার টাকা। ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা হয় জঙ্গি আস্তানা। তাও এতদিন সবার অগোচরে ছিল। অবশেষে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ওই আস্তানায় পুলিশি অভিযান চলে। নিহত হয় নারীসহ দু’জন। ফ্ল্যাটটিতে এতদিন জঙ্গিদের ঘাপটি মেরে থাকার বিষয়টি জানতে পেরে থ’ বনে যান প্রতিবেশীরাও। বাড়ির মালিক জামালের পরিবার তৃতীয় তলায় থাকেন। তার দু’মেয়ে। বড় মেয়ে জোনাকি থাকেন অন্যত্র। তিনি বাসা ভাড়া দেয়ার বিষয়টিও অনেক সময় তদারক করতেন। তিনি বলেন, ইমতিয়াজ নামে এক লোক গত ১লা সেপ্টেম্বর ভাড়া নেয়ার পর ৩রা সেপ্টেম্বর বাসায় উঠে। তখন বলেছিলেন যে, তিনি ও তার স্ত্রী এক সন্তানকে নিয়ে থাকবেন। মাঝে মধ্যে স্ত্রীর বোনও এসে থা?কবেন। তিনি আরো বলেন, বাসা ভাড়া দেয়ার পর বেশ কয়েকবার ওই বাসায় গেছি। বাসায় ল্যাপটপ, খাট, ড্রেসিং টেবিল, ফ্রিজ দেখা গেছে। উনারা বাসা থেকে তেমন বের হতেন না। বাসায় ওঠার সময় বাচ্চার বয়স ছিল ৪০ দিন। কেন বের হন না তা জানতে চাইলে বলতেন, হিজড়ারা বাচ্চা দেখলে টাকা চায়। সে কারণে বের হই না। তিনি আরো বলেন, মাঝে-মধ্যে দু’জন নারী ওই বাসায় আসতেন। জিজ্ঞেস করলে বলতেন, মা ও এক আত্মীয়। গ্রামের বাড়ি থেকে এসেছেন। পুলিশের অভিযান বিষয়ে তিনি বলেন, গতকাল রাত ১২টায় পুলিশ তার বাবার বাড়ির দরজায় নক করে। মা নিচে নেমে যান। তখন পুলিশ তার কাছে নিচতলার ভাড়াটিয়া সম্পর্কে জানতে চায়। তখন তিনি পুলিশকে বলেন, বড় মেয়ে (জোনাকি রাসেল) সব জানে। এরপর পুলিশ মা’কে নিয়ে আমার বাসায় আসে। তখন তিনি ভাড়াটেদের কাছ  থেকে  নেয়া সব কাগজপত্র পুলিশকে দেন। এরপর পুলিশ চলে যায়। ওই বাসার ভাড়াটিয়া মোহাম্মদ আলী জানান, এক বছর আগে বাসাটির দোতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়। তখন বাসাটি দোতলা ছিল। পরে তিনতলা হয়। এরপর বাড়িওয়ালার পরিবার নিচতলা থেকে তিনতলায় উঠে যায়। মাঝে এক পরিবার কিছুদিন নিচতলায় ভাড়া ছিল। পরে তারা চলে যায়। এরপর নিচতলার ফ্ল্যাটে কারা ভাড়া নিয়েছে, তিনি জানেন না। তাদের কখনো দেখা যেত না। এমনকি দরজাও সব সময় বন্ধ থাকত। ওই ফ্ল্যাটে এক কিশোর সবজি বিক্রেতার যাতায়াত ছিল জানতে পেরে পুলিশ তাকে আটক করে। সে পুলিশকে জানায়, ফ্ল্যাটটির শহীদ নামে ১৩-১৪ বছরের বয়সের এক কিশোরের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হয়। শহীদ বিভিন্ন সময় তাকে অস্ত্র দেখাত। তাকে জিহাদে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে শহীদ বলত যে, তোমারও বোমা বানানো শেখা উচিত, অস্ত্র চালাতে পারা উচিত। আমি এসব পারি। ৯-১০ বছরের আরও একটি ছেলে ছিল। তাকে শহীদ ওবায়দুল্লাহ বলে ডাকতো। তৃতীয়তলার ছাদে তিনজন মিলে ব্যাডমিন্টনও খেলতো বলে সে পুলিশকে জানিয়েছে। ওই কিশোর আরো জানায় যে, ওই বাড়িতে দু’ব্যক্তির নিয়মিত যাতায়াত ছিল। তাদের একজনের বয়স ৩০ এর বেশি অপরজনের ৩৫ বছরের বেশি। তারা একটি সাদা গাড়ি ব্যবহার করতো। তাদের একজন প্রায়ই বাসার নারীদেরকে সবজি বিক্রেতাকে বাসায় ঢুকতে না দিতে বলতো। তখন শহীদ তাকে বন্ধু বলে পরিচয় দিত। গতকালও সে এবং শহীদ একসঙ্গে এলাকার মসজিদে জুমার নামাজ পড়েছে। শনিবার তাদের বাইরে যাওয়ার কথাও ছিল।

Comments

Comments!

 যেভাবে ভাড়া নেয়া হয়েছিল বাসাটিAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

যেভাবে ভাড়া নেয়া হয়েছিল বাসাটি

Sunday, December 25, 2016 9:55 am
10

রাজধানীর আশকোনার আল-বসির জামে মসজিদ রোডের ৫০ নম্বর বাড়ি।  নিরিবিলি। নিচতলার ফ্ল্যাটটিও তেমন। এক বছর আগেও ওই ফ্ল্যাটে থাকতো বাসা মালিক কুয়েত প্রবাসী মোহাম্মদ জামাল হোসেনের পরিবার। এক বছর আগে বাড়িটির তৃতীয় তলা নির্মিত হওয়ার পর সেখানে স্থানান্তর হয় পরিবারটি। পরের ভাড়াটিয়ারা ছাড়ার পর গত সেপ্টেম্বরের আগে আবার ‘টু-লেট’ ঝোলে বাড়ির সামনে। ইমতিয়াজ আহমেদ ও নিজেকে অনলাইন ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি নিচতলার ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেয় তিন মাস ২৪ দিন আগে। ভাড়া ছিল ১০ হাজার টাকা। ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা হয় জঙ্গি আস্তানা। তাও এতদিন সবার অগোচরে ছিল। অবশেষে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ওই আস্তানায় পুলিশি অভিযান চলে। নিহত হয় নারীসহ দু’জন। ফ্ল্যাটটিতে এতদিন জঙ্গিদের ঘাপটি মেরে থাকার বিষয়টি জানতে পেরে থ’ বনে যান প্রতিবেশীরাও।
বাড়ির মালিক জামালের পরিবার তৃতীয় তলায় থাকেন। তার দু’মেয়ে। বড় মেয়ে জোনাকি থাকেন অন্যত্র। তিনি বাসা ভাড়া দেয়ার বিষয়টিও অনেক সময় তদারক করতেন। তিনি বলেন, ইমতিয়াজ নামে এক লোক গত ১লা সেপ্টেম্বর ভাড়া নেয়ার পর ৩রা সেপ্টেম্বর বাসায় উঠে। তখন বলেছিলেন যে, তিনি ও তার স্ত্রী এক সন্তানকে নিয়ে থাকবেন। মাঝে মধ্যে স্ত্রীর বোনও এসে থা?কবেন।
তিনি আরো বলেন, বাসা ভাড়া দেয়ার পর বেশ কয়েকবার ওই বাসায় গেছি। বাসায় ল্যাপটপ, খাট, ড্রেসিং টেবিল, ফ্রিজ দেখা গেছে। উনারা বাসা থেকে তেমন বের হতেন না। বাসায় ওঠার সময় বাচ্চার বয়স ছিল ৪০ দিন। কেন বের হন না তা জানতে চাইলে বলতেন, হিজড়ারা বাচ্চা দেখলে টাকা চায়। সে কারণে বের হই না। তিনি আরো বলেন, মাঝে-মধ্যে দু’জন নারী ওই বাসায় আসতেন। জিজ্ঞেস করলে বলতেন, মা ও এক আত্মীয়। গ্রামের বাড়ি থেকে এসেছেন।
পুলিশের অভিযান বিষয়ে তিনি বলেন, গতকাল রাত ১২টায় পুলিশ তার বাবার বাড়ির দরজায় নক করে। মা নিচে নেমে যান। তখন পুলিশ তার কাছে নিচতলার ভাড়াটিয়া সম্পর্কে জানতে চায়। তখন তিনি পুলিশকে বলেন, বড় মেয়ে (জোনাকি রাসেল) সব জানে। এরপর পুলিশ মা’কে নিয়ে আমার বাসায় আসে। তখন তিনি ভাড়াটেদের কাছ  থেকে  নেয়া সব কাগজপত্র পুলিশকে দেন। এরপর পুলিশ চলে যায়।
ওই বাসার ভাড়াটিয়া মোহাম্মদ আলী জানান, এক বছর আগে বাসাটির দোতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়। তখন বাসাটি দোতলা ছিল। পরে তিনতলা হয়। এরপর বাড়িওয়ালার পরিবার নিচতলা থেকে তিনতলায় উঠে যায়। মাঝে এক পরিবার কিছুদিন নিচতলায় ভাড়া ছিল। পরে তারা চলে যায়। এরপর নিচতলার ফ্ল্যাটে কারা ভাড়া নিয়েছে, তিনি জানেন না। তাদের কখনো দেখা যেত না। এমনকি দরজাও সব সময় বন্ধ থাকত।
ওই ফ্ল্যাটে এক কিশোর সবজি বিক্রেতার যাতায়াত ছিল জানতে পেরে পুলিশ তাকে আটক করে। সে পুলিশকে জানায়, ফ্ল্যাটটির শহীদ নামে ১৩-১৪ বছরের বয়সের এক কিশোরের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হয়। শহীদ বিভিন্ন সময় তাকে অস্ত্র দেখাত। তাকে জিহাদে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে শহীদ বলত যে, তোমারও বোমা বানানো শেখা উচিত, অস্ত্র চালাতে পারা উচিত। আমি এসব পারি। ৯-১০ বছরের আরও একটি ছেলে ছিল। তাকে শহীদ ওবায়দুল্লাহ বলে ডাকতো। তৃতীয়তলার ছাদে তিনজন মিলে ব্যাডমিন্টনও খেলতো বলে সে পুলিশকে জানিয়েছে।
ওই কিশোর আরো জানায় যে, ওই বাড়িতে দু’ব্যক্তির নিয়মিত যাতায়াত ছিল। তাদের একজনের বয়স ৩০ এর বেশি অপরজনের ৩৫ বছরের বেশি। তারা একটি সাদা গাড়ি ব্যবহার করতো। তাদের একজন প্রায়ই বাসার নারীদেরকে সবজি বিক্রেতাকে বাসায় ঢুকতে না দিতে বলতো। তখন শহীদ তাকে বন্ধু বলে পরিচয় দিত। গতকালও সে এবং শহীদ একসঙ্গে এলাকার মসজিদে জুমার নামাজ পড়েছে। শনিবার তাদের বাইরে যাওয়ার কথাও ছিল।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X