বুধবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:১০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, June 27, 2017 6:32 am
A- A A+ Print

যেসব কারণে উৎসবে বিষাদের ছায়া

11

ঈদ আনন্দের দিন, উৎসবের দিন। সুতরাং, সবাই আনন্দ-উৎসবে মাতোয়ারা থাকবেন, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই উৎসবের দিনেও আমাদের চারপাশটাতেও একটু তাকানো দরকার। সবার সঙ্গে আমরা কি এই আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারছি? নাহলে কেন নয়? আনন্দের মাঝে বিষাদের ছায়া শুধু যে দেশের ভেতরে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিহত হতভাগ্য মানুষগুলোর জন্য তা নয়; দেশের ভেতরে সেসব পরিবারগুলোর কথাও ভাবুন, যে পরিবারের সন্তান কিংবা পিতা ঈদের বাজার নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রংপুরে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। সুনামগঞ্জের হাওরে ফসল হারানো প্রায় নিঃস্ব পরিবারগুলোতে কি ঈদের উচ্ছ্বাস আছে? এগুলো তো দেশের ভেতরের কিছু বিক্ষিপ্ত দুর্ঘটনা। কিন্তু বিশ্বের নানা প্রান্তেই কেমন যেন একটা প্রতিকূল পরিস্থিতি। তা সে দিল্লিতে ঈদের বাজার করে ট্রেনে চড়ে বাড়িফেরতা তরুণকে গোমাংস ভক্ষণের সন্দেহে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনাই হোক, আরব উপসাগরের দেশগুলোর সম্পর্ক এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকটে রূপান্তরিত হওয়াতেই হোক। ও হ্যাঁ, লন্ডনে ফিনসবারি পার্ক মসজিদে রাতের বেলা তারাবির নামাজ শেষে ঘরমুখী হওয়া বাংলাদেশি মখরম আলীর বর্ণবাদী সন্ত্রাসের শিকার হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর কথাও বা আমরা কি করে ভুলি? লন্ডনের যে বহুতল ভবনটিতে প্রায় ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা, তাঁদের কথাও বা কী করে ভোলা যায়? বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন ভাইবোন তাঁদের বৃদ্ধ বাবা-মাকে ফেলে যেতে রাজি না হয়ে পাঁচজন একসঙ্গে পুড়ে কয়লা হয়েছেন। সিরিয়ার যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা সেই পরিবারের কান্নার কথাও তো বিস্মৃত হওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় গত সপ্তাহে মসজিদ থেকে ফেরার সময়ে এক বর্ণবাদী দুষ্কৃতীর হামলায় নিহত কিশোরীর কথাও নিশ্চয়ই মনে আছে? ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, সোমালিয়ায় চলমান সংঘাতগুলোরও ইতি ঘটার কোনো আশা দেখা যাচ্ছে না। বিশ্বজুড়ে নানা প্রান্তে উগ্র ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএস, আল-কায়েদা, আল শাবাবের মতো গোষ্ঠীগুলোর নৃশংসতারও শেষ নেই। কিন্তু এসব কিছুকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে কথিত মুসলিম বিশ্বের নিজেদের মধ্যকার রাজনৈতিক বিরোধ। আরব দেশগুলোর এই বিরোধে এখন অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর এখন প্রায় দিশেহারা হওয়ার জোগাড়। একদিকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাইরাইন ও মিসর। আর অন্যদিকে কাতার, ইরান ও তুরস্ক। সৌদি আরবের প্রতি মুসলমানদের টান আবেগের। এই টান মক্কার পবিত্র কাবা শরিফের প্রতি। মদিনার মসজিদে নববীর প্রতি। তাই কাবা শরিফের সুরক্ষার বিষয়টিকে যেকোনো মুসলিম দেশই অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে। কিন্তু সৌদি শাসকদের বর্তমান রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। বিশেষত শিয়াপ্রধান ইয়েমেনে জনবিচ্ছিন্ন সুন্নি শাসককে টিকিয়ে রাখার চেষ্টায় এক বছরের বেশি সময় ধরে রিয়াদ যে প্রাণঘাতী সেনা অভিযান পরিচালনা করছে, তা দেশটিতে এক মানবিক সংকটের সূচনা করেছে। সৌদি আরবের সঙ্গে কাতারের সম্পর্কের আকস্মিক অবনতিতে মুসলমানরাই সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। মাত্র সাত লাখ জনসংখ্যার দেশ কাতারে নারীর সংখ্যা আনুপাতিক হারে কম হওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হাজার হাজার পরিবার এখন এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি। সৌদি আরবের নেতৃত্বে আরোপিত অবরোধের কারণে ওই সব পরিবার এখন এক দীর্ঘ বিচ্ছেদের বিপদে। কাতারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে অর্থায়নের অভিযোগ এনেছে সৌদি সরকার এবং তার মিত্ররা। অথচ খোদ সৌদি সরকারের বিরুদ্ধেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়নের অভিযোগ আছে। কাতারের বিরুদ্ধে যেসব গোষ্ঠীকে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস, লেবাননের হেজবুল্লাহ ও মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুড। মুসলিম ব্রাদারহুডের বিষয়ে সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা হচ্ছে মিসরের প্রেসিডেন্ট আল সিসির, যিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির শাসনভার নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন। অন্যদিকে হামাস এবং হেজবুল্লাহকে সবচেয়ে বড় শত্রু গণ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ফলে প্রশ্ন উঠছে, সৌদি সরকার কার স্বার্থে কাজ করছে। সৌদি আরব ও কাতার উভয় রাষ্ট্রই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যেখান থেকে তারা ওই অঞ্চলের সামরিক তৎপরতা পরিচালনা করে থাকে। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্র এই টানাপোড়েনের দ্রুত নিষ্পত্তি চায়। তবে, সেখানেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একধরনের মতভিন্নতা সুস্পষ্ট। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের উৎসাহ অথবা চাপে কাতারকে বর্জন করা সৌদি নেতৃত্বাধীন দেশগুলো একটি ১৩ দফা দাবিনামা হাজির করে তা পূরণের জন্য দশ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে। বিস্ময়ের বিষয় হলো যে ওই দাবিনামার শীর্ষে আছে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল-জাজিরা বন্ধের দাবি। আল-জাজিরার প্রতি ক্ষুব্ধ ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্বৈরশাসকেরা। মিসরে আল-জাজিরার সাংবাদিকদের মিথ্যা অজুহাতে কারাদণ্ড দেওয়া এবং উপর্যুপরি হয়রানির ঘটনাও অনেক। আল-জাজিরার সম্পাদকীয় নীতিমালা এবং সংবাদ প্রচারের বিষয়ে পাশ্চাত্যের সরকারগুলোর অনেকের মধ্যেই অস্বস্তি লক্ষ করা যায়। তবে, পাশ্চাত্যের কোনো দেশ এটি বন্ধের কথা বলেনি। সুতরাং, আল-জাজিরা টিভি চালু থাকলে কাতারের ওপর অবরোধ বহাল রাখার যে অদ্ভুত প্রস্তাব সৌদি আরব ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্ররা করেছে, সেই দাবিটির প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্যের অবস্থান কী হয়, সেটা দেখার জন্যও পর্যবেক্ষকেরা এখন অপেক্ষায় আছেন। গত কয়েক দশকে মধ্যপ্রাচ্যে আমরা নানা ধরনের সংঘাত দেখেছি। ফিলিস্তিনকেন্দ্রিক সংঘাত ছাড়াও ইরাকে দু-দুটি সামরিক অভিযান, লেবাননে হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আক্রমণ ও প্রতিরোধ। ওই সব সংঘাতে আরব দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্যের দেশগুলোকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তা দিয়ে আসলেও নিজেরা একে অন্যের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এবার তাই এক নতুন পরিস্থিতির জন্ম হয়েছে। বলা হয়ে থাকে, রমজান মাসে শয়তানরা বন্দী থাকে। অথচ গত রমজানে শয়তান মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার সুযোগ না পেলেও দুর্ভোগ আমাদের পিছু ছাড়েনি। ঈদ উদ্‌যাপনেও তাই বিষাদের ছায়া রয়েই গেছে।

Comments

Comments!

 যেসব কারণে উৎসবে বিষাদের ছায়াAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

যেসব কারণে উৎসবে বিষাদের ছায়া

Tuesday, June 27, 2017 6:32 am
11

ঈদ আনন্দের দিন, উৎসবের দিন। সুতরাং, সবাই আনন্দ-উৎসবে মাতোয়ারা থাকবেন, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই উৎসবের দিনেও আমাদের চারপাশটাতেও একটু তাকানো দরকার। সবার সঙ্গে আমরা কি এই আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারছি? নাহলে কেন নয়? আনন্দের মাঝে বিষাদের ছায়া শুধু যে দেশের ভেতরে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিহত হতভাগ্য মানুষগুলোর জন্য তা নয়; দেশের ভেতরে সেসব পরিবারগুলোর কথাও ভাবুন, যে পরিবারের সন্তান কিংবা পিতা ঈদের বাজার নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রংপুরে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। সুনামগঞ্জের হাওরে ফসল হারানো প্রায় নিঃস্ব পরিবারগুলোতে কি ঈদের উচ্ছ্বাস আছে?

এগুলো তো দেশের ভেতরের কিছু বিক্ষিপ্ত দুর্ঘটনা। কিন্তু বিশ্বের নানা প্রান্তেই কেমন যেন একটা প্রতিকূল পরিস্থিতি। তা সে দিল্লিতে ঈদের বাজার করে ট্রেনে চড়ে বাড়িফেরতা তরুণকে গোমাংস ভক্ষণের সন্দেহে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনাই হোক, আরব উপসাগরের দেশগুলোর সম্পর্ক এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকটে রূপান্তরিত হওয়াতেই হোক। ও হ্যাঁ, লন্ডনে ফিনসবারি পার্ক মসজিদে রাতের বেলা তারাবির নামাজ শেষে ঘরমুখী হওয়া বাংলাদেশি মখরম আলীর বর্ণবাদী সন্ত্রাসের শিকার হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর কথাও বা আমরা কি করে ভুলি?
লন্ডনের যে বহুতল ভবনটিতে প্রায় ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা, তাঁদের কথাও বা কী করে ভোলা যায়? বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন ভাইবোন তাঁদের বৃদ্ধ বাবা-মাকে ফেলে যেতে রাজি না হয়ে পাঁচজন একসঙ্গে পুড়ে কয়লা হয়েছেন। সিরিয়ার যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা সেই পরিবারের কান্নার কথাও তো বিস্মৃত হওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় গত সপ্তাহে মসজিদ থেকে ফেরার সময়ে এক বর্ণবাদী দুষ্কৃতীর হামলায় নিহত কিশোরীর কথাও নিশ্চয়ই মনে আছে? ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, সোমালিয়ায় চলমান সংঘাতগুলোরও ইতি ঘটার কোনো আশা দেখা যাচ্ছে না। বিশ্বজুড়ে নানা প্রান্তে উগ্র ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএস, আল-কায়েদা, আল শাবাবের মতো গোষ্ঠীগুলোর নৃশংসতারও শেষ নেই।
কিন্তু এসব কিছুকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে কথিত মুসলিম বিশ্বের নিজেদের মধ্যকার রাজনৈতিক বিরোধ। আরব দেশগুলোর এই বিরোধে এখন অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর এখন প্রায় দিশেহারা হওয়ার জোগাড়। একদিকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাইরাইন ও মিসর। আর অন্যদিকে কাতার, ইরান ও তুরস্ক। সৌদি আরবের প্রতি মুসলমানদের টান আবেগের। এই টান মক্কার পবিত্র কাবা শরিফের প্রতি। মদিনার মসজিদে নববীর প্রতি। তাই কাবা শরিফের সুরক্ষার বিষয়টিকে যেকোনো মুসলিম দেশই অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে। কিন্তু সৌদি শাসকদের বর্তমান রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। বিশেষত শিয়াপ্রধান ইয়েমেনে জনবিচ্ছিন্ন সুন্নি শাসককে টিকিয়ে রাখার চেষ্টায় এক বছরের বেশি সময় ধরে রিয়াদ যে প্রাণঘাতী সেনা অভিযান পরিচালনা করছে, তা দেশটিতে এক মানবিক সংকটের সূচনা করেছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে কাতারের সম্পর্কের আকস্মিক অবনতিতে মুসলমানরাই সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। মাত্র সাত লাখ জনসংখ্যার দেশ কাতারে নারীর সংখ্যা আনুপাতিক হারে কম হওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হাজার হাজার পরিবার এখন এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি। সৌদি আরবের নেতৃত্বে আরোপিত অবরোধের কারণে ওই সব পরিবার এখন এক দীর্ঘ বিচ্ছেদের বিপদে। কাতারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে অর্থায়নের অভিযোগ এনেছে সৌদি সরকার এবং তার মিত্ররা। অথচ খোদ সৌদি সরকারের বিরুদ্ধেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়নের অভিযোগ আছে। কাতারের বিরুদ্ধে যেসব গোষ্ঠীকে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস, লেবাননের হেজবুল্লাহ ও মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুড। মুসলিম ব্রাদারহুডের বিষয়ে সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা হচ্ছে মিসরের প্রেসিডেন্ট আল সিসির, যিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির শাসনভার নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন। অন্যদিকে হামাস এবং হেজবুল্লাহকে সবচেয়ে বড় শত্রু গণ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ফলে প্রশ্ন উঠছে, সৌদি সরকার কার স্বার্থে কাজ করছে।
সৌদি আরব ও কাতার উভয় রাষ্ট্রই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যেখান থেকে তারা ওই অঞ্চলের সামরিক তৎপরতা পরিচালনা করে থাকে। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্র এই টানাপোড়েনের দ্রুত নিষ্পত্তি চায়। তবে, সেখানেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একধরনের মতভিন্নতা সুস্পষ্ট। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের উৎসাহ অথবা চাপে কাতারকে বর্জন করা সৌদি নেতৃত্বাধীন দেশগুলো একটি ১৩ দফা দাবিনামা হাজির করে তা পূরণের জন্য দশ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে। বিস্ময়ের বিষয় হলো যে ওই দাবিনামার শীর্ষে আছে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল-জাজিরা বন্ধের দাবি। আল-জাজিরার প্রতি ক্ষুব্ধ ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্বৈরশাসকেরা। মিসরে আল-জাজিরার সাংবাদিকদের মিথ্যা অজুহাতে কারাদণ্ড দেওয়া এবং উপর্যুপরি হয়রানির ঘটনাও অনেক। আল-জাজিরার সম্পাদকীয় নীতিমালা এবং সংবাদ প্রচারের বিষয়ে পাশ্চাত্যের সরকারগুলোর অনেকের মধ্যেই অস্বস্তি লক্ষ করা যায়। তবে, পাশ্চাত্যের কোনো দেশ এটি বন্ধের কথা বলেনি। সুতরাং, আল-জাজিরা টিভি চালু থাকলে কাতারের ওপর অবরোধ বহাল রাখার যে অদ্ভুত প্রস্তাব সৌদি আরব ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্ররা করেছে, সেই দাবিটির প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্যের অবস্থান কী হয়, সেটা দেখার জন্যও পর্যবেক্ষকেরা এখন অপেক্ষায় আছেন।
গত কয়েক দশকে মধ্যপ্রাচ্যে আমরা নানা ধরনের সংঘাত দেখেছি। ফিলিস্তিনকেন্দ্রিক সংঘাত ছাড়াও ইরাকে দু-দুটি সামরিক অভিযান, লেবাননে হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আক্রমণ ও প্রতিরোধ। ওই সব সংঘাতে আরব দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্যের দেশগুলোকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তা দিয়ে আসলেও নিজেরা একে অন্যের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এবার তাই এক নতুন পরিস্থিতির জন্ম হয়েছে। বলা হয়ে থাকে, রমজান মাসে শয়তানরা বন্দী থাকে। অথচ গত রমজানে শয়তান মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার সুযোগ না পেলেও দুর্ভোগ আমাদের পিছু ছাড়েনি। ঈদ উদ্‌যাপনেও তাই বিষাদের ছায়া রয়েই গেছে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X