মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৮:০৭
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, November 22, 2016 7:16 pm
A- A A+ Print

যে কারণে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ালেন তৈমুর

toumur1479818493

বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ব্যাপারে আগে থেকেই আগ্রহ দেখাননি বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকার। তারপরও তিনি জানিয়েছিলেন, ‘নেত্রীর ইচ্ছাকে প্রধান্য দেবেন।’ কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই অবস্থান থেকে সরে গিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জায়গা থেকে তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। তার সরে দাঁড়ানোর পরেই নাসিক নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ৭ খুনের বাদী পক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খানকে। তবে আলোচনায় রয়ে গেছে তৈমুর আলমের সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি। দলীয় সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তিন দফা বৈঠকে তৈমুর আলমকে প্রার্থী করার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গত ১৮ নভেম্বর গুলশানের কার্যালয়ে জেলা নেতাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তৈমূরকে মনোনয়ন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। তৈমুর ওই সময় চেয়ারপারসনকে বলেন, তিনি নির্বাচন করতে আগ্রহী নন। অন্য কাউকে প্রার্থী করা হলে তার পক্ষে কাজ করবেন। এরপরও খালেদা জিয়া নির্বাচনে তৈমুরকেই বেছে নিয়েছিলেন। অনাগ্রহ থাকলেও পরে তিনি জানিয়েছিলেন, নেত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাবেন। তৈমুর সে সময় রাইজিংবিডিকেও বলেন, ‘ম্যাডাম প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। আমাদের প্রস্তুতি আছে। তিনি সব বিষয় বিবেচনা করে যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটি তো মানতে হবেই। তবে সার্বিক পরিস্থিতিতে আমার নির্বাচনে আগ্রহ তেমন একটা নেই।’ গুলশান কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে খালেদা জিয়া তৃতীয় দফায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন। রাত ৯টায় বৈঠক শুরু হয় কিন্তু ১২টা পার হয়ে যাওয়ার পরও সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি তিনি। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাদের মধ্যে তৈমূর আলম খন্দকার, কাজী মনির, সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম, আতাউর রহমান আঙুর, এটিএম কামাল ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে শেষ মুহূর্তে এসে নেত্রীর কাছে ক্ষমা চান তিনি। সূত্র বলছে, মুলত তার অনুসারীরাই চাচ্ছেন না বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। কারণ, এই কমিশনের অধীনে নারায়ণগঞ্জে যত নির্বাচন হয়েছে সেগুলো অবাধ হয়নি বলে তাদের অভিযোগ। এর সঙ্গে আরেকটি কারণ যুক্ত হয়েছে গত সিটি নির্বাচনে দলের নির্দেশনায় শেষ মুহূর্তে এসে নির্বাচনে সরে দাড়ানোর বিষয়টি। ২০১১ সালের নির্বাচনের আগের রাতে দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ভোট বর্জন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তৎকালীন জেলা বিএনপির দায়িত্বে থাকা তৈমুর আলম। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি তিনি। তখন কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেছেন, নেত্রীর কথায় নির্বাচন কোরবানি দিয়েছেন তিনি। সেই থেকে নির্বাচনের বিষয়ে আর তার আগ্রহ দেখা যায়নি। আরেকটি সূত্র বলছে, বিএনপির নতুন কমিটিতে তৈমুর আলম খন্দকারকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে। আগের কমিটিতে জেলা বিএনপির দায়িত্বে থাকা এই নেতা উপদেষ্টা পদে ‘খুশি নন’ বলেও তার অনুসারীদের মধ্যে জোড় গুঞ্জন আছে। বৈঠক সূত্র জানায়, তৈমুর আলম খন্দকার তার অনাগ্রহের কথা জানালে সাখাওয়াত হোসেন খানের দিকেই সমর্থন যায় জেলা নেতাদের। যদিও আরো দু’একজনের নাম আলোচনায় এসেছিলো। তবে শেষ পর্যন্ত সাখাওয়াতই পান বিএনপির টিকিট। নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় স্থানীয়ভাবে তার প্রতি সাধারণ ভোটারদের জনসমর্থণ রয়েছে বলে মনে করা হয়েছে। এ কারণে তার জনপ্রিয়তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিএনপি হাইকমান্ড তাকে মনোনীত করেছে। বিএনপির প্রার্থী মনোনীত হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় সাখাওয়াত হোসেন খালেদা জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের ৬০ ভাগ লোক বিএনপির ভোটার, সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষ প্রার্থীর জন্য কাজ করবে। বিএনপির সবাই মাঠে নামবে এবং সবাই ঐক্যবদ্ধ।’ তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে পারেনি নির্বাচন কর্মকর্তারা। যারা দলবাজ কর্মকর্তা তারা তাদের পদে আছে। এ দলবাজ কর্মকর্তাদের অন্যত্র বদলির দাবি করছি।’  

Comments

Comments!

 যে কারণে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ালেন তৈমুরAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

যে কারণে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ালেন তৈমুর

Tuesday, November 22, 2016 7:16 pm
toumur1479818493

বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ব্যাপারে আগে থেকেই আগ্রহ দেখাননি বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকার।

তারপরও তিনি জানিয়েছিলেন, ‘নেত্রীর ইচ্ছাকে প্রধান্য দেবেন।’ কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই অবস্থান থেকে সরে গিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জায়গা থেকে তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন।

তার সরে দাঁড়ানোর পরেই নাসিক নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ৭ খুনের বাদী পক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খানকে। তবে আলোচনায় রয়ে গেছে তৈমুর আলমের সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি।

দলীয় সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তিন দফা বৈঠকে তৈমুর আলমকে প্রার্থী করার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গত ১৮ নভেম্বর গুলশানের কার্যালয়ে জেলা নেতাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তৈমূরকে মনোনয়ন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। তৈমুর ওই সময় চেয়ারপারসনকে বলেন, তিনি নির্বাচন করতে আগ্রহী নন। অন্য কাউকে প্রার্থী করা হলে তার পক্ষে কাজ করবেন। এরপরও খালেদা জিয়া নির্বাচনে তৈমুরকেই বেছে নিয়েছিলেন। অনাগ্রহ থাকলেও পরে তিনি জানিয়েছিলেন, নেত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাবেন।

তৈমুর সে সময় রাইজিংবিডিকেও বলেন, ‘ম্যাডাম প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। আমাদের প্রস্তুতি আছে। তিনি সব বিষয় বিবেচনা করে যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটি তো মানতে হবেই। তবে সার্বিক পরিস্থিতিতে আমার নির্বাচনে আগ্রহ তেমন একটা নেই।’

গুলশান কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে খালেদা জিয়া তৃতীয় দফায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন। রাত ৯টায় বৈঠক শুরু হয় কিন্তু ১২টা পার হয়ে যাওয়ার পরও সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি তিনি। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাদের মধ্যে তৈমূর আলম খন্দকার, কাজী মনির, সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম, আতাউর রহমান আঙুর, এটিএম কামাল ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে শেষ মুহূর্তে এসে নেত্রীর কাছে ক্ষমা চান তিনি।

সূত্র বলছে, মুলত তার অনুসারীরাই চাচ্ছেন না বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। কারণ, এই কমিশনের অধীনে নারায়ণগঞ্জে যত নির্বাচন হয়েছে সেগুলো অবাধ হয়নি বলে তাদের অভিযোগ। এর সঙ্গে আরেকটি কারণ যুক্ত হয়েছে গত সিটি নির্বাচনে দলের নির্দেশনায় শেষ মুহূর্তে এসে নির্বাচনে সরে দাড়ানোর বিষয়টি। ২০১১ সালের নির্বাচনের আগের রাতে দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ভোট বর্জন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তৎকালীন জেলা বিএনপির দায়িত্বে থাকা তৈমুর আলম। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি তিনি। তখন কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেছেন, নেত্রীর কথায় নির্বাচন কোরবানি দিয়েছেন তিনি। সেই থেকে নির্বাচনের বিষয়ে আর তার আগ্রহ দেখা যায়নি।

আরেকটি সূত্র বলছে, বিএনপির নতুন কমিটিতে তৈমুর আলম খন্দকারকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে। আগের কমিটিতে জেলা বিএনপির দায়িত্বে থাকা এই নেতা উপদেষ্টা পদে ‘খুশি নন’ বলেও তার অনুসারীদের মধ্যে জোড় গুঞ্জন আছে।

বৈঠক সূত্র জানায়, তৈমুর আলম খন্দকার তার অনাগ্রহের কথা জানালে সাখাওয়াত হোসেন খানের দিকেই সমর্থন যায় জেলা নেতাদের। যদিও আরো দু’একজনের নাম আলোচনায় এসেছিলো। তবে শেষ পর্যন্ত সাখাওয়াতই পান বিএনপির টিকিট। নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় স্থানীয়ভাবে তার প্রতি সাধারণ ভোটারদের জনসমর্থণ রয়েছে বলে মনে করা হয়েছে। এ কারণে তার জনপ্রিয়তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিএনপি হাইকমান্ড তাকে মনোনীত করেছে।

বিএনপির প্রার্থী মনোনীত হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় সাখাওয়াত হোসেন খালেদা জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের ৬০ ভাগ লোক বিএনপির ভোটার, সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষ প্রার্থীর জন্য কাজ করবে। বিএনপির সবাই মাঠে নামবে এবং সবাই ঐক্যবদ্ধ।’

তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে পারেনি নির্বাচন কর্মকর্তারা। যারা দলবাজ কর্মকর্তা তারা তাদের পদে আছে। এ দলবাজ কর্মকর্তাদের অন্যত্র বদলির দাবি করছি।’

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X