মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:৫৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, September 8, 2017 11:54 am | আপডেটঃ September 08, 2017 7:18 PM
A- A A+ Print

রাজপথে বিএনপি কর্মীদের ঢল: রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া সাংবিধানিক দায়িত্ব—মির্জা ফখরুল

623c55c88de3c6fb4d7ff8522521977d-59b235221b98c

  মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাতে ঢাকার রাস্তায় নেমে এসেছেন বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। ফলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শুরু হওয়া মানববন্ধনটি সকাল ১০টার আগেই মাঝারি ধরনের সমাবেশে পরিণত হয়।রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ ও শরণার্থীদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার দাবিতে আজ  সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সারা দেশে একযোগে পূর্ব ঘোষিত এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। । এ কর্মসূচিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির কেন্দ্রীয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী যোগ দেন। এ ছাড়া মানববন্ধনে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,গণহত্যা থেকে প্রাণ বাঁচাতে রাখাইন থেকে বাংলাদেশে হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের সরকার রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাতে ব্যর্থ হয়েছে । তিনি বলেন,।মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্য থেকে হত্যা-নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া বাংলাদেশ সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান মানবতার পক্ষে ও নির্যাতিত মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর কথা বলা আছে। তাই মানবিক কারণে নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আশ্রয় দেয়া ও সাহায্য করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের খুব সুস্পষ্ট দাবি, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হোক, তাদের খাদ্য, নিরাপত্তা, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করা হোক এই রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে।’ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ওরা হিন্দু না মুসলিম, এটা জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন নেই। ওরা মানুষ। সেই মানবতার বিরুদ্ধে আজকে মিয়ানমার সরকার যুদ্ধ শুরু করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। আসুন আমরা আজকে জনমত সংগঠিত করে সমগ্র বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ করে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই তারা যেন এই গণহত্যা বন্ধ করে, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায়।’ মিয়ানমারের বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারসমূহ বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের সীমানা লঙ্ঘন করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যখন তাদের (মিয়ানমার) বিমান আকাশ সীমা লঙ্ঘন করে তখন এই সরকার চুপ করে থাকে। এটা হচ্ছে এদের (সরকার) নতজানু পররাষ্ট্রনীতির পরিচায়ক।’ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে দীর্ঘ এই মানববন্ধন সকাল ১০টায় শুরু হয়ে শেষ হয় ১১টায়। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম নির্যাতন বন্ধের দাবি সংবলিত নানা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করে। ঢাকাসহ সারা দেশে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচি একযোগে পালনের ঘোষণা থাকলেও বিএনপির নেতারা বলেছেন, বিভিন্ন জেলায় পুলিশ এই কর্মসূচি করতে দেয়নি। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা যখন মিডিয়াতে দেখি সেই নাফ নদীর তীরে শিশুদের লাশ পড়ে আছে, যখন আমরা দেখি নৌকা ডুবে শত শত মানুষ মারা যাচ্ছে এবং সেই আরাকান রাজ্যের সমস্ত গ্রাম জ্বলছে, তখন আমাদের সরকার নীরব ভূমিকা পালন করেছে। আজকেও তারা (সরকার) সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে কূটনৈতিক দিক থেকে এবং মানবিক দিক থেকে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে নাই।’ ১৯৭৯ সালে রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় একই ঘটনা ঘটেছিল, নির্যাতনের শিকার হয়ে তারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিল। তখন তিনি তাদের আশ্রয় দিয়েছেন, খাদ্য ও চিকিৎসা প্রদান করেছেন এবং একই সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করেছেন সেই সময়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে ফিরিয়ে নিতে। পরে খালেদা জিয়াও ১৯৯২ সালে যখন রোহিঙ্গারা মিয়ানমার সরকারের অত্যাচারে আবার পালিয়ে চলে আসে, তখনো তাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন এবং মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করেছিলেন রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে।’ স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার একটি ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীকে তাদের দেশ থেকে নৃশংসতার মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে, এটা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের কাছে কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা নারী-পুরুষদের হত্যা করেছে, এমনকি নবজাতক শিশুকেও রেহাই দেয়নি। এই পরিস্থিতিতে আমাদের একটি মাত্র সমাধান সেটা হচ্ছে, আমরা মানবতার হাত রোহিঙ্গাদের প্রতি বাড়িয়ে দেব এবং সারা বাংলাদেশের মানুষ এ জন্য প্রস্তুত আছে।’ স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দুঃখের বিষয় মিয়ানমারের এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। নিরাপত্তার দিক থেকে এবং মানবেতর যে অবস্থা, তার শিকার হয়েছে বাংলাদেশ। অথচ আমরা নিরাপত্তা পরিষদে এই বিষয়টি তুলতে পারিনি।’ দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আজকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এই অমানবিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার অথচ সেই দেশের কাছে খাদ্য-চাল আনতে গেছেন আমাদের খাদ্যমন্ত্রী স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে। অর্থাৎ নাফ নদীর রক্তাক্ত লাশের ওপর দিয়ে কামরুল ইসলাম গেছেন মিয়ানমারে। কত বড় নতজানু এই সরকার, প্রতিবাদ করতে পারে না, তাদের কাছে অনুনয়-বিনয় করছেন।’ প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরীর পরিচালনায় মানববন্ধনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, শামসুজ্জামান, অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী-খান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধান করে তাদের নিজ দেশে ফেরত নিতে আন্তর্জাতিক মহলের মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করতে কূটনৈতিক উপায়ে চেষ্টা চালাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি মানববন্ধনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের জন্য মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি ও দেশটির সেনাবাহিনীর কঠোর সমালোচনা করেন।

Comments

Comments!

 রাজপথে বিএনপি কর্মীদের ঢল: রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া সাংবিধানিক দায়িত্ব—মির্জা ফখরুলAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

রাজপথে বিএনপি কর্মীদের ঢল: রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া সাংবিধানিক দায়িত্ব—মির্জা ফখরুল

Friday, September 8, 2017 11:54 am | আপডেটঃ September 08, 2017 7:18 PM
623c55c88de3c6fb4d7ff8522521977d-59b235221b98c

 

মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাতে ঢাকার রাস্তায় নেমে এসেছেন বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

ফলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শুরু হওয়া মানববন্ধনটি সকাল ১০টার আগেই মাঝারি ধরনের সমাবেশে পরিণত হয়।রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ ও শরণার্থীদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার দাবিতে আজ  সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সারা দেশে একযোগে পূর্ব ঘোষিত এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। ।

এ কর্মসূচিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির কেন্দ্রীয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী যোগ দেন।

এ ছাড়া মানববন্ধনে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।

মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,গণহত্যা থেকে প্রাণ বাঁচাতে রাখাইন থেকে বাংলাদেশে হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের সরকার রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাতে ব্যর্থ হয়েছে । তিনি বলেন,।মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্য থেকে হত্যা-নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া বাংলাদেশ সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান মানবতার পক্ষে ও নির্যাতিত মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর কথা বলা আছে। তাই মানবিক কারণে নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আশ্রয় দেয়া ও সাহায্য করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের খুব সুস্পষ্ট দাবি, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হোক, তাদের খাদ্য, নিরাপত্তা, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করা হোক এই রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ওরা হিন্দু না মুসলিম, এটা জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন নেই। ওরা মানুষ। সেই মানবতার বিরুদ্ধে আজকে মিয়ানমার সরকার যুদ্ধ শুরু করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। আসুন আমরা আজকে জনমত সংগঠিত করে সমগ্র বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ করে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই তারা যেন এই গণহত্যা বন্ধ করে, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায়।’
মিয়ানমারের বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারসমূহ বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের সীমানা লঙ্ঘন করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যখন তাদের (মিয়ানমার) বিমান আকাশ সীমা লঙ্ঘন করে তখন এই সরকার চুপ করে থাকে। এটা হচ্ছে এদের (সরকার) নতজানু পররাষ্ট্রনীতির পরিচায়ক।’
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে দীর্ঘ এই মানববন্ধন সকাল ১০টায় শুরু হয়ে শেষ হয় ১১টায়। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম নির্যাতন বন্ধের দাবি সংবলিত নানা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করে।
ঢাকাসহ সারা দেশে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচি একযোগে পালনের ঘোষণা থাকলেও বিএনপির নেতারা বলেছেন, বিভিন্ন জেলায় পুলিশ এই কর্মসূচি করতে দেয়নি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা যখন মিডিয়াতে দেখি সেই নাফ নদীর তীরে শিশুদের লাশ পড়ে আছে, যখন আমরা দেখি নৌকা ডুবে শত শত মানুষ মারা যাচ্ছে এবং সেই আরাকান রাজ্যের সমস্ত গ্রাম জ্বলছে, তখন আমাদের সরকার নীরব ভূমিকা পালন করেছে। আজকেও তারা (সরকার) সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে কূটনৈতিক দিক থেকে এবং মানবিক দিক থেকে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে নাই।’
১৯৭৯ সালে রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় একই ঘটনা ঘটেছিল, নির্যাতনের শিকার হয়ে তারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিল। তখন তিনি তাদের আশ্রয় দিয়েছেন, খাদ্য ও চিকিৎসা প্রদান করেছেন এবং একই সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করেছেন সেই সময়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে ফিরিয়ে নিতে। পরে খালেদা জিয়াও ১৯৯২ সালে যখন রোহিঙ্গারা মিয়ানমার সরকারের অত্যাচারে আবার পালিয়ে চলে আসে, তখনো তাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন এবং মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করেছিলেন রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে।’
স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার একটি ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীকে তাদের দেশ থেকে নৃশংসতার মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে, এটা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের কাছে কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা নারী-পুরুষদের হত্যা করেছে, এমনকি নবজাতক শিশুকেও রেহাই দেয়নি। এই পরিস্থিতিতে আমাদের একটি মাত্র সমাধান সেটা হচ্ছে, আমরা মানবতার হাত রোহিঙ্গাদের প্রতি বাড়িয়ে দেব এবং সারা বাংলাদেশের মানুষ এ জন্য প্রস্তুত আছে।’
স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দুঃখের বিষয় মিয়ানমারের এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। নিরাপত্তার দিক থেকে এবং মানবেতর যে অবস্থা, তার শিকার হয়েছে বাংলাদেশ। অথচ আমরা নিরাপত্তা পরিষদে এই বিষয়টি তুলতে পারিনি।’
দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আজকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এই অমানবিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার অথচ সেই দেশের কাছে খাদ্য-চাল আনতে গেছেন আমাদের খাদ্যমন্ত্রী স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে। অর্থাৎ নাফ নদীর রক্তাক্ত লাশের ওপর দিয়ে কামরুল ইসলাম গেছেন মিয়ানমারে। কত বড় নতজানু এই সরকার, প্রতিবাদ করতে পারে না, তাদের কাছে অনুনয়-বিনয় করছেন।’
প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরীর পরিচালনায় মানববন্ধনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, শামসুজ্জামান, অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী-খান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধান করে তাদের নিজ দেশে ফেরত নিতে আন্তর্জাতিক মহলের মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করতে কূটনৈতিক উপায়ে চেষ্টা চালাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি

মানববন্ধনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের জন্য মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি ও দেশটির সেনাবাহিনীর কঠোর সমালোচনা করেন।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X