শনিবার, ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং, ২রা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৭:০৯
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, May 16, 2017 11:06 pm
A- A A+ Print

রাজশাহী বিএনপিতে যুদ্ধাবস্থা, এবার জেলা সম্পাদককে পেটালেন নগর সম্পাদক

174833_1

ঢাকা: আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রাজশাহীতে বিএনপি নানা গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে গত দুইদিন ধরে নেতাকর্মীদের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। বিশেষ করে মিনু-বুলবুল গ্রুপের দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে অনেক ডালপাল গজিয়ে জেলাতেও ছড়িয়েছে। অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও এই দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সোমবার মিনু-বুলবুল গ্রুপে ব্যাপক সংঘর্ষের পর মঙ্গলবারও দু’দফা সংঘর্ষ হয়েছে। এ নিয়ে রাজশাহীর বিএনপিতে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। আবারো যেকোনো সময় সংঘর্ষ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, রাজশাহী শাহ মখদুম বিমানবন্দরে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন জেলার সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মুন্টু। মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে নগর বিএনপির সভাপতি ও সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এর আগে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে রাজশাহী জেলা বিএনপির প্রতিনিধি সম্মেলনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আমন্ত্রণ না জানানোয় সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় বিক্ষুব্ধরা বিএনপি নেতাদের লক্ষ্য করে মঞ্চের দিকে জুতা-স্যান্ডেল ছুঁড়ে মারতে থাকেন। মঞ্চের ব্যানার ও চেয়ারটেবিল ভাংচুর করা হয়। পরে সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। তবে ঘটনাটি মতিউর রহমান মুন্টু স্বীকার করলেও এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন শফিকুল হক মিলন। কিন্ত এ নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি নগর বিএনপির সভাপতি ও সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিএনপির স্থানীয় কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিমানে তুলে দিতে যান জেলার সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মুন্টু ও নগরের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনসহ নেতাকর্মীরা। সাড়ে ৩টার বিমানে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ কেন্দ্রীয় নেতারা বিমানে উঠেন। বিমান ছেড়ে যাওয়ার পর বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় তর্কে জড়িয়ে পড়েন মুন্টু ও মিলন। এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও মুন্টুকে ফেলে দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মুন্টু বলেন, ‘বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় শফিকুল হক মিলন আমাকে বলে জেলার বিভিন্ন ইউনিটে আমি যাব। বেগম খালেদা জিয়া আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এ সময় আমি (মুন্টু) তাকে বলেছিলাম, আপনি (মিলন) নগর ইউনিটের দায়িত্বে আছেন নগরীতেই থাকেন। জেলা নিয়ে মাথা ঘামায়েন না। বেগম খালেদা জিয়া যদি আপনাকে (মিলন) জেলার দায়িত্ব দিয়ে থাকেন তবে ঢাকায় চলেন। আমাদের সামনে যদি খালেদা জিয়া বলেন তা হলে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। এর আগে জেলা নিয়ে মাথাঘামাতে আসেন না। এ কথা বলার সাথে সাথে উত্তেজিত হয়ে মিলন আমার গায়ে হাত তুলে এবং ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। এর পর মিলনের লোকজন  দ্বিতীয় দফায় আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং গায়ের পাঞ্জাবী টেনে ছিড়ে ফেলে। এসময় মহানগর সভাপতি ও সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল গিয়ে আমাকে রক্ষা করেন।’ এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সেখানে কোন ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করে শফিকুল হক মিলন বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা কেউ বলে থাকলে তা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার। মুন্টু আমার বড় ভাই ও রাজনীতিক সহকর্মী। তার সঙ্গে আমার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন শফিকুল হক মিলন। জেলা ও মহানগর কর্মী সম্মেলনে যোগ দিতে রাজশাহী সফরে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। সোমবার নগর বিএনপির কর্মী সম্মেলন ও মঙ্গলবার জেলা বিএনপির প্রতিনিধি সম্মেলন হয়। জেলা ও নগরে দুই সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন নেতাকর্মীরা। এনিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।
 

Comments

Comments!

 রাজশাহী বিএনপিতে যুদ্ধাবস্থা, এবার জেলা সম্পাদককে পেটালেন নগর সম্পাদকAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

রাজশাহী বিএনপিতে যুদ্ধাবস্থা, এবার জেলা সম্পাদককে পেটালেন নগর সম্পাদক

Tuesday, May 16, 2017 11:06 pm
174833_1

ঢাকা: আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রাজশাহীতে বিএনপি নানা গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে গত দুইদিন ধরে নেতাকর্মীদের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। বিশেষ করে মিনু-বুলবুল গ্রুপের দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে অনেক ডালপাল গজিয়ে জেলাতেও ছড়িয়েছে। অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও এই দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে।

কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সোমবার মিনু-বুলবুল গ্রুপে ব্যাপক সংঘর্ষের পর মঙ্গলবারও দু’দফা সংঘর্ষ হয়েছে। এ নিয়ে রাজশাহীর বিএনপিতে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। আবারো যেকোনো সময় সংঘর্ষ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা যাচ্ছে, রাজশাহী শাহ মখদুম বিমানবন্দরে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন জেলার সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মুন্টু।

মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে নগর বিএনপির সভাপতি ও সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে রাজশাহী জেলা বিএনপির প্রতিনিধি সম্মেলনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আমন্ত্রণ না জানানোয় সংঘর্ষ হয়েছে।

এসময় বিক্ষুব্ধরা বিএনপি নেতাদের লক্ষ্য করে মঞ্চের দিকে জুতা-স্যান্ডেল ছুঁড়ে মারতে থাকেন। মঞ্চের ব্যানার ও চেয়ারটেবিল ভাংচুর করা হয়।

পরে সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।

তবে ঘটনাটি মতিউর রহমান মুন্টু স্বীকার করলেও এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন শফিকুল হক মিলন। কিন্ত এ নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি নগর বিএনপির সভাপতি ও সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিএনপির স্থানীয় কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিমানে তুলে দিতে যান জেলার সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মুন্টু ও নগরের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনসহ নেতাকর্মীরা।

সাড়ে ৩টার বিমানে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ কেন্দ্রীয় নেতারা বিমানে উঠেন। বিমান ছেড়ে যাওয়ার পর বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় তর্কে জড়িয়ে পড়েন মুন্টু ও মিলন। এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও মুন্টুকে ফেলে দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মুন্টু বলেন, ‘বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় শফিকুল হক মিলন আমাকে বলে জেলার বিভিন্ন ইউনিটে আমি যাব। বেগম খালেদা জিয়া আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এ সময় আমি (মুন্টু) তাকে বলেছিলাম, আপনি (মিলন) নগর ইউনিটের দায়িত্বে আছেন নগরীতেই থাকেন। জেলা নিয়ে মাথা ঘামায়েন না। বেগম খালেদা জিয়া যদি আপনাকে (মিলন) জেলার দায়িত্ব দিয়ে থাকেন তবে ঢাকায় চলেন। আমাদের সামনে যদি খালেদা জিয়া বলেন তা হলে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। এর আগে জেলা নিয়ে মাথাঘামাতে আসেন না। এ কথা বলার সাথে সাথে উত্তেজিত হয়ে মিলন আমার গায়ে হাত তুলে এবং ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। এর পর মিলনের লোকজন  দ্বিতীয় দফায় আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং গায়ের পাঞ্জাবী টেনে ছিড়ে ফেলে। এসময় মহানগর সভাপতি ও সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল গিয়ে আমাকে রক্ষা করেন।’

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সেখানে কোন ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করে শফিকুল হক মিলন বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা কেউ বলে থাকলে তা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার। মুন্টু আমার বড় ভাই ও রাজনীতিক সহকর্মী। তার সঙ্গে আমার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন শফিকুল হক মিলন।

জেলা ও মহানগর কর্মী সম্মেলনে যোগ দিতে রাজশাহী সফরে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। সোমবার নগর বিএনপির কর্মী সম্মেলন ও মঙ্গলবার জেলা বিএনপির প্রতিনিধি সম্মেলন হয়। জেলা ও নগরে দুই সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন নেতাকর্মীরা। এনিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X