শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৫:৪৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, October 22, 2016 10:10 pm
A- A A+ Print

‘রাবির ইতিহাসে কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি’

157335_1

রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেছেন এই ক্যাম্পাসের ইতিহাসে কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপু হত্যার বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এমন অভিযোগ করেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শনিবার আয়োজিত মানববন্ধন ও শোকর্যা্লিতে অংশ গ্রহণ করে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা লিপু হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় আবারো মানববন্ধন করবে তারা। এর আগে সকালে লিপু হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করে ঝিনাইদহ জেলা সমিতি। পরে তারাও এসে বিভাগের এই কর্মসূচিতে যোগ দেয়। কুষ্টিয়া জেলা সমিতিও লিপু হত্যা বিচারের দাবিতে আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে। মাববন্ধনে বিভাগের সভাপতি ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে বলেন, ‘লিপুর লাশ যেখানে পাওয়া গেছে সেটা সংরক্ষিত জায়গা। সেখানে ডাইনিং কিংবা হল কর্তৃপক্ষ ছাড়া কেউ সাধারণত যেতে পারে না। সেখানে লাশ গেল কীভাবে? আর লিপু যদি বাইরে থাকত তাহলে খালি গায়ে থাকত না। হল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এটা নিয়ে তদন্ত করা।’ তিনি বলেন, ‘গতকালও পুলিশ আমাকে বলেছে, এটা হত্যাকাণ্ড। সেজন্য পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলব কালক্ষেপণ করবেন না। লিপুর হত্যাকারী কে বা কারা তাদের চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করুন। এক্ষেত্রে সবার প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করুন। নিজেরা তদারকি করুন। বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা আছি এবং থাকবো।’ প্রভাষক আব্দুল্লাহ হিল বাকি বলেন, ‘মানুষ মেরে ফেলার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। অথচ এটা হওয়ার কথা ছিলো শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থান। আমরা যদি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস দেখি, তাহলে দেখব, রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক যাই হোক না কেনো কোনো হত্যার বিচার হয়েছে সেটা আমি শুনিনি। কিংবা কোনো ধরনের অপরাধেরই বিচার দেখতে পাওয়া যায় না। তাহলে এই বিশ্ববিদ্যালয় খুনি-অপরাধীদের অভয়ারণ্য হবে না কেন?’ বিভাগের শিক্ষার্থী হুসাইন মিঠু বলেন, ‘রাবির এই বিভাগে আমরা ঝিনাইদহ থেকে তিনজন একসঙ্গে ভর্তি হয়েছিলাম। স্বপ্ন ছিলো অনেক, অথচ লিপুকে লাশ হয়ে ফিরে যেতে হল। নিজে ওকে কবর দিয়ে আসলাম। এসে সংবাদ করলাম, রাবির ৬৩ বছরের ইতিহাসে ৪৬ মৃত্যু। আগে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেক ভালোবাসতাম। কিন্তু লিপুর লাশ দেখার পর থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে খুব ঘৃণা করতে ইচ্ছে করছে।’ সহকারী অধ্যাপক মো. শাতিল সিরাজ বলেন, ‘লিপুকে তার হলের ভিতর হত্যা করা হলো, অথচ হলের প্রহরী-নিরাপত্তাকর্মী কেউই বিষয়টি দেখলো না। লিপুকে যখন হত্যা করা হয় ওই সময় হলের নিরাপত্তাকর্মীরা কোথায় ছিলো? তারা কী করছিলো? এসব জানা দরকার। আমরা শিক্ষকরা আবাসিক এলাকায় থাকি, সেখানে অনেক প্রহরী-নিরাপত্তাকর্মী। কিন্তু আলাদা করে আমাদের প্রহরী ভাড়া করতে হয়। আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় খতিয়ে দেখতে হবে।’ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিহুর রহমান বলেন, ‘খুব সাধারণভাবে যদি কেউ ঘটনাস্থল ও লাশ দেখে তাহলেই বলবে এটা হত্যাকাণ্ড, এদিকে পুলিশও স্বীকার করছে এটা হত্যাকাণ্ড, আর এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করার দায়িত্বও পুলিশের।’ কাঁদতে কাঁদতে সহপাঠী রাইসা জান্নাত বলেন, ‘আমি তো অমার বন্ধুকে ফিরে পাব না, দেখতেও পাব না। তবে তাকে যারা হত্যা করেছে তাদের আমি দেখতে চাই। শুধু লিপু হত্যার বিচার না, আজ আমি এখানে আমার নিরাপত্তার জন্য দাঁড়িয়েছি। বাড়ি থেকে বারবার ফোন করে, সবাই আমরা আতঙ্কে। আমি আমার নিরাপত্তা চাই। লিপু হত্যার বিচার চাই।’ মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক মো. খাদেমুল ইসলাম, সহকারি অধ্যাপক এ বি এম সাইফুল ইসলাম, সহকারি অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হোসেন বকুল, সহকারি অধ্যাপক মোহা. আতিকুর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় নবাব আব্দুল লতিফ হলের ডাইনিয়ের পাশের নর্দমা থেকে লিপুর লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই হলেরই ২৫৩ নম্বর কক্ষে থাকতেন লিপু। এ ঘটনায় মো. বশির রাজশাহী নগরীর মতিহার থানায় একটি হত্যা মামলাও করেন।

Comments

Comments!

 ‘রাবির ইতিহাসে কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি’AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

‘রাবির ইতিহাসে কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি’

Saturday, October 22, 2016 10:10 pm
157335_1

রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেছেন এই ক্যাম্পাসের ইতিহাসে কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপু হত্যার বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এমন অভিযোগ করেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

শনিবার আয়োজিত মানববন্ধন ও শোকর্যা্লিতে অংশ গ্রহণ করে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা লিপু হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় আবারো মানববন্ধন করবে তারা।

এর আগে সকালে লিপু হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করে ঝিনাইদহ জেলা সমিতি। পরে তারাও এসে বিভাগের এই কর্মসূচিতে যোগ দেয়। কুষ্টিয়া জেলা সমিতিও লিপু হত্যা বিচারের দাবিতে আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে।

মাববন্ধনে বিভাগের সভাপতি ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে বলেন, ‘লিপুর লাশ যেখানে পাওয়া গেছে সেটা সংরক্ষিত জায়গা। সেখানে ডাইনিং কিংবা হল কর্তৃপক্ষ ছাড়া কেউ সাধারণত যেতে পারে না। সেখানে লাশ গেল কীভাবে? আর লিপু যদি বাইরে থাকত তাহলে খালি গায়ে থাকত না। হল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এটা নিয়ে তদন্ত করা।’

তিনি বলেন, ‘গতকালও পুলিশ আমাকে বলেছে, এটা হত্যাকাণ্ড। সেজন্য পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলব কালক্ষেপণ করবেন না। লিপুর হত্যাকারী কে বা কারা তাদের চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করুন। এক্ষেত্রে সবার প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করুন। নিজেরা তদারকি করুন। বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা আছি এবং থাকবো।’

প্রভাষক আব্দুল্লাহ হিল বাকি বলেন, ‘মানুষ মেরে ফেলার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। অথচ এটা হওয়ার কথা ছিলো শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থান। আমরা যদি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস দেখি, তাহলে দেখব, রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক যাই হোক না কেনো কোনো হত্যার বিচার হয়েছে সেটা আমি শুনিনি। কিংবা কোনো ধরনের অপরাধেরই বিচার দেখতে পাওয়া যায় না। তাহলে এই বিশ্ববিদ্যালয় খুনি-অপরাধীদের অভয়ারণ্য হবে না কেন?’

বিভাগের শিক্ষার্থী হুসাইন মিঠু বলেন, ‘রাবির এই বিভাগে আমরা ঝিনাইদহ থেকে তিনজন একসঙ্গে ভর্তি হয়েছিলাম। স্বপ্ন ছিলো অনেক, অথচ লিপুকে লাশ হয়ে ফিরে যেতে হল। নিজে ওকে কবর দিয়ে আসলাম। এসে সংবাদ করলাম, রাবির ৬৩ বছরের ইতিহাসে ৪৬ মৃত্যু। আগে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেক ভালোবাসতাম। কিন্তু লিপুর লাশ দেখার পর থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে খুব ঘৃণা করতে ইচ্ছে করছে।’

সহকারী অধ্যাপক মো. শাতিল সিরাজ বলেন, ‘লিপুকে তার হলের ভিতর হত্যা করা হলো, অথচ হলের প্রহরী-নিরাপত্তাকর্মী কেউই বিষয়টি দেখলো না। লিপুকে যখন হত্যা করা হয় ওই সময় হলের নিরাপত্তাকর্মীরা কোথায় ছিলো? তারা কী করছিলো? এসব জানা দরকার। আমরা শিক্ষকরা আবাসিক এলাকায় থাকি, সেখানে অনেক প্রহরী-নিরাপত্তাকর্মী। কিন্তু আলাদা করে আমাদের প্রহরী ভাড়া করতে হয়। আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় খতিয়ে দেখতে হবে।’

বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিহুর রহমান বলেন, ‘খুব সাধারণভাবে যদি কেউ ঘটনাস্থল ও লাশ দেখে তাহলেই বলবে এটা হত্যাকাণ্ড, এদিকে পুলিশও স্বীকার করছে এটা হত্যাকাণ্ড, আর এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করার দায়িত্বও পুলিশের।’

কাঁদতে কাঁদতে সহপাঠী রাইসা জান্নাত বলেন, ‘আমি তো অমার বন্ধুকে ফিরে পাব না, দেখতেও পাব না। তবে তাকে যারা হত্যা করেছে তাদের আমি দেখতে চাই। শুধু লিপু হত্যার বিচার না, আজ আমি এখানে আমার নিরাপত্তার জন্য দাঁড়িয়েছি। বাড়ি থেকে বারবার ফোন করে, সবাই আমরা আতঙ্কে। আমি আমার নিরাপত্তা চাই। লিপু হত্যার বিচার চাই।’

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক মো. খাদেমুল ইসলাম, সহকারি অধ্যাপক এ বি এম সাইফুল ইসলাম, সহকারি অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হোসেন বকুল, সহকারি অধ্যাপক মোহা. আতিকুর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় নবাব আব্দুল লতিফ হলের ডাইনিয়ের পাশের নর্দমা থেকে লিপুর লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই হলেরই ২৫৩ নম্বর কক্ষে থাকতেন লিপু। এ ঘটনায় মো. বশির রাজশাহী নগরীর মতিহার থানায় একটি হত্যা মামলাও করেন।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X