শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৫:৩৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, October 24, 2016 7:20 pm
A- A A+ Print

রাবির ভর্তি পরীক্ষার্থীদের টাকার বিনিময়ে মেসে থাকার সুযোগ

157529_1

   
রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে, চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। সোমবার থেকে শুরু পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় দুই লক্ষ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জমায়িত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল, মেস ও রাজশাহী শহরের হোটেল গুলোতে। এদিকে মেসগুলোতে এলাকার পরিচিত বড় ভাই-আপু থাকা স্বত্ত্বেও জন প্রতি ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে এক অন্যরকম অভিযোগ পাওয়া গেছে।
  মহানগর মেস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রথমত, ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারিদের নিকট হতে এক কপি ছবি, প্রবেশ পত্রের ফটোকপি ও গেস্টের নিকট হতে জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি ও ছবিসহ মেসে অবস্থানকারীদের জন্য পুলিশ কতৃপক্ষ কর্তৃক প্রেরিত ফরম পূরন করে মেস মালিক সংরক্ষণ করবেন। পুলিশ কতৃপক্ষ চাহিবা মাত্র মেস মালিক তা সরবরহ করবেন। দ্বিতীয়ত, ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারিরা মেসে অবস্থান করার জন্য জনপ্রতি ২০০/=টাকা মেস মালিককে প্রদান করবেন। মেস মালিক সমিতির এমন সিদ্ধান্তের পরে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর, মন্ডলের মোড়, কাজলা, ধরমপুর, মেহেরচন্ডী এলাকাগুলোতে ২০০ টাকার বিনিময়ে মেসে থাকার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে টাকা নিয়ে থাকতে দেওয়া হলেও তাদের ফ্লরিং করেই রাত যাপন করতে হচ্ছে। এছাড়া কিছু মেসে আবার রাত প্রাতি ১০০ টাকা করে নির্ধারণ করেছে বলেও জানা যায়। ভর্তিচ্ছুদের এই ভোগান্তির সুযোগ নিয়ে মেসে খাবার দামও বৃদ্ধি করেছে দ্বিগুন পরিমাণে। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বিনোদপুর গফুর মঞ্জিল ছাত্রীনিবাসে ফ্লরিং করে থাকতে হবে তাও এখানে জনপ্রতি ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক নবাব আব্দুল লতিফ হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, আমার কুষ্টিয়া এলাকা থেকে এক ছোট বোন আসছিল ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। তাকে গফুর মঞ্জিলে রাখতে চাইলে দুইশত টাকা চাওয়া হয়, তবে শর্ত দেয় ফ্লরিং করে থাকতে হবে। ২০০ টাকা করে নেওয়ার কথা স্বীকার করে গফুর মঞ্জিলের মালিকের ছেলে দিলদার বলেন, টাকা নেওয়া হচ্ছে ঠিক আছে। তবে তাদেরকে বেডে থাকতে দেওয়া হচ্ছে।   একইভাবে ওকেডি ছাত্রাবাসে খোঁজ নিলে ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়। মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, মেস মালিক আমাদেরকে বলেছে মেস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া বিনোদপুরে সখিনা ছাত্রাবাস, মনোয়ারা ম্যনশন, মির্জাপুর মুন্সিলজ খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ২০০ টাকা করে নিয়ে মেসে থাকার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।   ছখিনা ছাত্রাবাসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক এক শিক্ষার্থী বলেন, এলাকা থেকে এক ছোট ভাই পরীক্ষা দিতে আসছে আমার কাছে থাকবে বলে কিন্তু টাকার বিনিময়ে তাকে থাকতে হচ্ছে। এদিকে তালাইমারী নূপুর লেডিস হোস্টেলে একইভাবে ১০০ টাকা করে নিয়ে হোস্টেলে থাকার সুযোগ দিচ্ছে তারা এবং খাবারের দাম বাড়িয়ে সবাইকে খাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এনিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা থেকে আগত এক ভর্তিচ্ছু আদিতা অভিযোগ করেন, এসেছিলাম এলাকার বড় এক আপুর কাছে থেকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করবো। কিন্তু টাকার বিনিময়ে এখানে থাকতে হচ্ছে, এটা কোন ধরণের আতিথিয়তা? একইভাবে মির্জাপুরের খান মঞ্জিল ছাত্রীনিবাসেও ১০০টাকার বিনিময়ে থাকার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়। অবশ্য চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে মেস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বলেন, আমরা প্রথমে ২০০ টাকা করে নির্ধারণ করেছিলাম ভর্তিচ্ছুদের কাছ থেকে নেবো বলে। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছি। এছাড়া যেখানে টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে জেনেছি, বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছি। আশাকরি সবমেসে অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ করতে পারবো। মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কথা আগে থেকে জানা থাকলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতাম। তারপরও মেস মালিক সমিতির সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবো। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর ড. মুজিবুল হক আজাদ খান বলেন, এই মুহুর্তে আমদের পক্ষে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব না। আগে থেকে বললে পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হতো।

Comments

Comments!

 রাবির ভর্তি পরীক্ষার্থীদের টাকার বিনিময়ে মেসে থাকার সুযোগAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

রাবির ভর্তি পরীক্ষার্থীদের টাকার বিনিময়ে মেসে থাকার সুযোগ

Monday, October 24, 2016 7:20 pm
157529_1

 

 

রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে, চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।

সোমবার থেকে শুরু পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় দুই লক্ষ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জমায়িত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল, মেস ও রাজশাহী শহরের হোটেল গুলোতে।

এদিকে মেসগুলোতে এলাকার পরিচিত বড় ভাই-আপু থাকা স্বত্ত্বেও জন প্রতি ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে এক অন্যরকম অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

মহানগর মেস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রথমত, ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারিদের নিকট হতে এক কপি ছবি, প্রবেশ পত্রের ফটোকপি ও গেস্টের নিকট হতে জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি ও ছবিসহ মেসে অবস্থানকারীদের জন্য পুলিশ কতৃপক্ষ কর্তৃক প্রেরিত ফরম পূরন করে মেস মালিক সংরক্ষণ করবেন। পুলিশ কতৃপক্ষ চাহিবা মাত্র মেস মালিক তা সরবরহ করবেন।

দ্বিতীয়ত, ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারিরা মেসে অবস্থান করার জন্য জনপ্রতি ২০০/=টাকা মেস মালিককে প্রদান করবেন।

মেস মালিক সমিতির এমন সিদ্ধান্তের পরে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর, মন্ডলের মোড়, কাজলা, ধরমপুর, মেহেরচন্ডী এলাকাগুলোতে ২০০ টাকার বিনিময়ে মেসে থাকার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে টাকা নিয়ে থাকতে দেওয়া হলেও তাদের ফ্লরিং করেই রাত যাপন করতে হচ্ছে।

এছাড়া কিছু মেসে আবার রাত প্রাতি ১০০ টাকা করে নির্ধারণ করেছে বলেও জানা যায়।

ভর্তিচ্ছুদের এই ভোগান্তির সুযোগ নিয়ে মেসে খাবার দামও বৃদ্ধি করেছে দ্বিগুন পরিমাণে।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বিনোদপুর গফুর মঞ্জিল ছাত্রীনিবাসে ফ্লরিং করে থাকতে হবে তাও এখানে জনপ্রতি ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক নবাব আব্দুল লতিফ হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, আমার কুষ্টিয়া এলাকা থেকে এক ছোট বোন আসছিল ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। তাকে গফুর মঞ্জিলে রাখতে চাইলে দুইশত টাকা চাওয়া হয়, তবে শর্ত দেয় ফ্লরিং করে থাকতে হবে।

২০০ টাকা করে নেওয়ার কথা স্বীকার করে গফুর মঞ্জিলের মালিকের ছেলে দিলদার বলেন, টাকা নেওয়া হচ্ছে ঠিক আছে। তবে তাদেরকে বেডে থাকতে দেওয়া হচ্ছে।

 

একইভাবে ওকেডি ছাত্রাবাসে খোঁজ নিলে ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়।

মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, মেস মালিক আমাদেরকে বলেছে মেস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

এছাড়া বিনোদপুরে সখিনা ছাত্রাবাস, মনোয়ারা ম্যনশন, মির্জাপুর মুন্সিলজ খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ২০০ টাকা করে নিয়ে মেসে থাকার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

 

ছখিনা ছাত্রাবাসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক এক শিক্ষার্থী বলেন, এলাকা থেকে এক ছোট ভাই পরীক্ষা দিতে আসছে আমার কাছে থাকবে বলে কিন্তু টাকার বিনিময়ে তাকে থাকতে হচ্ছে।

এদিকে তালাইমারী নূপুর লেডিস হোস্টেলে একইভাবে ১০০ টাকা করে নিয়ে হোস্টেলে থাকার সুযোগ দিচ্ছে তারা এবং খাবারের দাম বাড়িয়ে সবাইকে খাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এনিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা থেকে আগত এক ভর্তিচ্ছু আদিতা অভিযোগ করেন, এসেছিলাম এলাকার বড় এক আপুর কাছে থেকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করবো। কিন্তু টাকার বিনিময়ে এখানে থাকতে হচ্ছে, এটা কোন ধরণের আতিথিয়তা?

একইভাবে মির্জাপুরের খান মঞ্জিল ছাত্রীনিবাসেও ১০০টাকার বিনিময়ে থাকার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়।

অবশ্য চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে মেস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বলেন, আমরা প্রথমে ২০০ টাকা করে নির্ধারণ করেছিলাম ভর্তিচ্ছুদের কাছ থেকে নেবো বলে। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছি।

এছাড়া যেখানে টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে জেনেছি, বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছি। আশাকরি সবমেসে অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ করতে পারবো।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কথা আগে থেকে জানা থাকলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতাম। তারপরও মেস মালিক সমিতির সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবো।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর ড. মুজিবুল হক আজাদ খান বলেন, এই মুহুর্তে আমদের পক্ষে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব না। আগে থেকে বললে পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হতো।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X