রবিবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৭:৩৫
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, September 2, 2016 10:15 am
A- A A+ Print

রামপাল নিয়ে সরকারের অনমনীয় অবস্থানের নেপথ্য কারণ

240045_1

শাহাদত হোসেন বাচ্চু এক. গুরুভার একটি প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি। বাংলাদেশের উন্নয়ন কেন্দ্রে মানুষ নাকি শাসকরা? প্রশ্নটি এ কারণে যে, দেশের উন্নয়ন দর্শনটি আসলে কি? পরিবেশ বিধ্বংসী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বা ফ্লাইওভার নির্মান- তাহলে মেগাসাইজের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকার বাহবা পেতেই পারে। কিন্তু বড় হিসেব হচ্ছে, এই উন্নয়ন কেন্দ্রে মানুষ আছে, নাকি আছে লুটপাট? সেজন্যই কি ক্ষমতায় থাকাকালে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর ভাষা, শব্দ উচ্চারন বদলে যায় উন্নয়ন চিৎকারে। ষাটের দশকে সামরিক একনায়ক আইয়ুব খান উন্নয়ন করেছিলেন, তৎকালে পাকিস্তানের উভয় অংশে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু খোদ পশ্চিম পাকিস্তানেই এই উন্নয়নের বিরুদ্ধে ঝড় উঠেছিল। এমন উন্নয়ন স্বৈরাচারী এরশাদের আমলে এদেশ দেখেছে। ঢাকা কথিত তিলোত্তমা হয়েছে। রাস্তঘাট, ব্রীজ-কালভার্টসহ অবকাঠামো উন্নয়নের বন্যা বয়ে গেছে। তারপরেও এরশাদের পতন ঘটেছে গণআন্দোলনে। কারণ ঐসব স্বৈরশাসকদের কথিত উন্নয়ন কেন্দ্রে মানুষ ছিল না, ছিল একটি দালাল গোষ্ঠী ও অবারিত লুটপাট। আশির দশকে লাতিন আমেরিকার দেশে দেশে স্বৈরশাসকরা রাজনৈতিক বৈধতার সংকট কাটিয়ে উঠতে মেগা সাইজের সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এসব উন্নয়ন দায় বা লায়াবিলিটিজে পরিনত হয়েছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, হংকং মডেলের উন্নয়ন প্রচার করে যারা এদেশকে সমকক্ষ করার কথা বলছেন, তারা আপাত তৃপ্তি পেতে পারেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, ঐসব দেশে রাজনৈতিক বৈধতার সংকট থাকলেও উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছে মানুষ। আছে সুশাসন, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন। এই ধরনের উন্নয়ন দর্শন বা উন্নয়নে একটি অন্তর্নিহিত অসৎ লক্ষ্য থাকে। সেটি হচ্ছে, একটি লুটেরা পুঁজিপতি শ্রেনী সৃষ্টি করা। এ ধরনের পুঁজি শক্তিমানকে আরো শক্তিশালী করে তোলে এবং দালাল-দলদাস শ্রেনীকেও আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। মূল কারণ হচ্ছে, ক্ষমতা বলয়কে সংহত রাখা। এই পুঁজির মালিকরা এতই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে, তারা দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম কোন প্রকার আয়-বাণিজ্য না করেও জনগনের ওপর ছড়ি ঘোরাতে পারে। কারণ ক্ষমতা বলয়ের বাইরের জনগোষ্ঠি দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়ে ধুঁকতে থাকে। উন্নয়ন কেন্দ্রে মানুষ না থাকলে ঐ উন্নয়ন জনস্বার্থ নিশ্চিত করে না। করে না বলেই পৃথিরীর দেশে দেশে শাসকদের উচ্চাভিলাষী অনেক পরিকল্পনা জনগন প্রত্যাখ্যান করছে এবং করেছে। ২০০৬ সালের ২৬ আগষ্ট দিনাজপুরের ফুলবাড়ি এরকম উদাহরন সৃষ্টি করেছিল। সে সময়ে এশিয়া এনার্জির সাথে বিএনপি-জামায়াত সরকারের সম্পাদিত উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের মত গণবিরোধী, অশুভ চুক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল ফুলবাড়ির সবস্তরের মানুষ। ফুলবাড়ি আন্দোলন অচিরেই গণবিদ্রোহে রূপ নিয়েছিল। এশিয়া এনার্জির পক্ষে বিএনপি সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে হতাহত হয়েছিল অনেক মানুষ। এখানেই শেষ ছিল না, তারা সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সাধারন মানুষের ওপর। এই দুস্কর্মে সরকার সাথী পেয়েছিল স্থানীয় সংসদ সদস্যকে, যিনি ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা। তারপরেও গণমানুষের রুখে দাঁড়ানোর কারণে সরকার বাধ্য হয়েছিল চুক্তি বাতিল করতে। সেজন্যই রক্তাক্ত ফুলবাড়ি আন্দোলন দেশের সম্পদ রক্ষায় হয়ে উঠেছে স্মারক দিবস। রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানে ভারতের সাথে একটি অসম চুক্তি এবং সুন্দরবন ধংসের আশঙ্কা থেকে চলতি বছর ফুলবাড়ি হত্যা দিবস হয়ে উঠেছে আরো প্রাসঙ্গিক। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত হচ্ছে। তৈরী হচ্ছে গণআন্দোলনের ক্ষেত্র। আন্তর্জাতিকভাবেও এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ফুলবাড়ির ক্ষেত্রে গণআন্দোলন ও বিশেষজ্ঞ মতামত সে সময়ের সরকার আমলে নিতে চায়নি। বর্তমান সরকারও রামপাল প্রকল্পের ব্যাপারে কোন দোহাই মানছে না। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ফুলবাড়ির কয়লা আহরনের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ও বিপদের আশঙ্কার মত রামপাল প্রকল্পের শুরুতেই সুন্দরবন ধংসের আশঙ্কা দানা বেঁধেছে। এক্ষেত্রে সকল সুপারিশ ও বিশেষজ্ঞ মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে এবং হচ্ছে। কারন সব উন্নয়ন প্রকল্প মানেই যে জনস্বার্থ সংরক্ষণ, সেরকম কোন ধারনাই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানে প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। বরং অভিযোগটি প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করেছে যে, সুন্দরবন ধংসের সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে বর্তমান সরকার। দুই. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরপর দুই মেয়াদ ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে নিশ্চিত করেছেন, রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের কোন ক্ষতি করবে না। তার অবস্থানের কথা সাফ জানিয়ে দিয়ে বলেছেন, সরকার এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মান করবেই। বিদ্যুৎকেন্দ্র বিরোধী আন্দোলনকে সরকার প্রধান দেখছেন, দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করা, বিনিয়োগকে থামানোর চেষ্টা হিসেবে। গত শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে এভাবেই তিনি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। অন্তর্নিহিত কারন কি অন্যত্র? রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির গুরুত্ব কি শুধুমাত্র ১৩৪০ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সীমাবদ্ধ? অনেকে ধারণা করছেন যে, এর পেছনে কাজ করছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুটিও। বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে প্রভাব বলয় বিস্তারে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের যে প্রতিযোগিতা, সেখানে প্রকল্প এলাকাটি যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি হতে পারে আন্তর্জাতিক শক্তিমানদের জন্য একটি কৌশলগত এলাকা। এজন্যই আন্দোলন, প্রতিবাদ, সমীক্ষা, সুপারিশ- সবকিছুই উপেক্ষিত হতে চলেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানে সরকার ছাড় দিতে রাজি নয়। চলতি বছরের ১২ থেকে ১৪ মার্চ সুন্দরবনের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ এর যৌথ নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ‘সুন্দরবন মৈত্রী’ নামে তিনদিন ধরে চলা এই মহড়ার ঘোষণায় বলা হয়েছিল, সুন্দরবনের ঝুঁকিপূর্ন এলাকা পর্যবেক্ষণ করা, পুরো এলাকায় উভয়পক্ষ থেকে টহল বৃদ্ধি, বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্র রুটে সন্দেহভাজন নৌযানে হানা দেয়া। মহড়ার দ্বিতীয় দিনে ভারতীয় পক্ষ হাড়িয়াভাঙ্গা ও রায়মঙ্গল নদীতে নৌযানে হানা দেয়ার মহড়াও অনুষ্ঠিত করে। রামপাল প্রকল্পে ভারতের সহায়তা এবং এই জয়েন্ট ভেঞ্চার কি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক স্বার্থে? সুন্দরবনের মত বিশ্বঐতিহ্য ও প্রতিবেশগত সংবেদনশীল অঞ্চলে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানে সহযোগিতার বিষয়টি অনেক আঞ্চলিক ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের সাথেও যুক্ত বলে ধারণা করা হয়। এখানে সহযোগিতা ছাড়াও পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মান ও উন্নয়নে ভারতের ১৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ নিয়ে ভারতীয় পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত বিপোর্টগুলি ছিল চোখে পড়ার মত। বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পের অন্যতম ছিল পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর। এখানে বিনিয়োগ দৌড়ে আছে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড। এর আগে সোনাদিয়াতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মানে সম্ভাব্যতা যাচাই ও ৯৯% তহবিল দেয়ার চীনা প্রস্তাব থেকে সরকার সরে আসে। এরপরে পায়রা বন্দর এবং জাপানী বিনিয়োগে মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ব্যাপারে সরকার গভীর আগ্রহী হয়ে ওঠে। ইতিমধ্যে পায়রা বন্দর উদ্বোধন করা হয়েছে। তিন. এই বিদ্যুতকেন্দ্রটির আরেকটি হিসেব- ব্যবসায়িক লাভালাভ। এটি ব্যবহারের জন্য ভারত থেকে আমদানীকৃত কয়লা আসবে সুন্দরবনের নদীপথে। এতে খরচ কম, লাভ বেশি এবং তা অবশ্যই ভারতের ব্যবসায়ীদের। অন্যদিকে, বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে এখানে ভারতীয় বিনিয়োগের মস্ত ক্ষেত্র তৈরী হবে। কারণ মংলায় রয়েছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, যেটি ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত লোভনীয়। সুতরাং বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মান সম্পন্ন হলে ঐসব বিনিয়োগের জন্য এনে দেবে মহার্ঘ সুবিধা। ইতিমধ্যে সুন্দরবনের প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন ঘোষিত এলাকার ১০ কিলোমিটারের মধ্যে শিল্প, কলকারখানা স্থাপনে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। মংলা, রামপাল, শরনখোলা ও মোড়েলগঞ্জে ভারী শিল্প স্থাপনে জমি কেনার হিড়িক পড়েছে। ক্ষমতাসীন দলের প্রতাপশালী নেতা, দল ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা কিনে নিয়েছেন সংলগ্ন এলাকার প্রায় ১০ হাজার একর জমি। ১৫০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পকে অবস্থানগত ছাড়পত্র দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সুন্দরবনের প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকার মধ্যে ঢালাওভাবে শিল্প স্থাপনে ছাড়পত্র দেয়া প্রসঙ্গে পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর বক্তব্য চমৎকৃত করে দেয়ার মত। তার মতে, ‘‘দেশের জন্য সুন্দরবনও দরকার, আবার শিল্পও দরকার। আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি’’। মন্ত্রীকে স্মরণ করানোর প্রয়োজন পড়ে না, কারণ রাষ্ট্রীয় গেজেট তিনি নিশ্চয়ই পড়েন। রাষ্ট্রপতির পক্ষে উপসচিব স্বাক্ষরিত গেজেটে বলা হয়েছে, “প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকায় ভূমি এবং পানির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট ও পরিবর্তন হবে এমন কোন কাজ করা যাবে না। মাটি, পানি, বায়ু ও শব্দ দুষনকারী শিল্প বা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যাবে না”। প্রসঙ্গত: এর আগে বন বিভাগ সুন্দরবনের চারপাশে ১০ কিলোমিটার এলাকা বনের বর্ধিত অংশ বা প্রভাবিত প্রতিবেশ ব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করে বসে আছে। চার. ২০১২ সালে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানের প্রস্তুতি ও পরবর্তীকালে বিএনপি ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ গোছের দু’চারটি বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছে, পাছে ভারত অসন্তুষ্ট হয়। গেল কিছুদিন ধরে বিএনপি হঠাৎ করে সরব হয়ে উঠেছে। এখন তারা মনে করছে, এটি দেশবিরোধী প্রকল্প এবং বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবন ধংস হয়ে যাবে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানকে দেশবিরোধী ও গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে বলেছেন, সুন্দরবনকে ধংসের চক্রান্ত সফল হতে দেয়া যায় না। এ প্রসঙ্গে বুদ্ধিজীবি সৈয়দ আবুল মকসুদ যথার্থই বলেছেন, “বিএনপি তাদের রাজনৈতিক কারণে প্রকল্পের যেটুকু বিরোধিতা করছে, তা একেবারে দায়সারা এবং একধরনের চাতুর্য’’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আকমল হোসেন বলেছেন, “ ফুলবাড়ির ঘটনায় বিরোধীদলও ভাল কিছু কথা বলেছিল, এখনকার বিরোধীদলও সেই সীমাতেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে এসবের মূল্য নেই। এশিয়া এনার্জি, এনপিটিসি-দুটোই বিদেশী কোম্পানী। তখনকার বিএনপি সরকার এশিয়া এনার্জিকে বিশেষ ক্ষমতা ও সহায়তা দিয়েছে। বর্তমান সরকার রাজনৈতিক স্বার্থ থেকে শুধু এনপিটিসি নয়, ভারতকে একের পর এক সুবিধে দিয়ে চলেছে। বাম ঘরানার বিভিন্ন সংগঠন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সুশীল সমাজ যখন রামপাল প্রকল্প বাতিলের দাবিতে জনসমর্থন তৈরী করছেন, আন্দোলন সংগঠিত করছেন, আন্দোলনকে তীব্র করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন বিএনপির সংবাদ সম্মেলন ও আন্দোলনের সমর্থন দান মূলধারার আন্দোলনকারীদের সমস্যা ও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে। যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে অতীতে জামায়াতের ডাকা হরতালে বিএনপির সমর্থন নিয়ে মাথা ঘামাতে হয়নি-কারণ জামায়াত-বিএনপি জোটসঙ্গী। এর ফলে সুবিধে হয়েছে সরকার পক্ষের। এটা নিয়ে এখন নানা ব্লেম গেম খেলা হবে।

Comments

Comments!

 রামপাল নিয়ে সরকারের অনমনীয় অবস্থানের নেপথ্য কারণAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

রামপাল নিয়ে সরকারের অনমনীয় অবস্থানের নেপথ্য কারণ

Friday, September 2, 2016 10:15 am
240045_1

শাহাদত হোসেন বাচ্চু

এক. গুরুভার একটি প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি। বাংলাদেশের উন্নয়ন কেন্দ্রে মানুষ নাকি শাসকরা? প্রশ্নটি এ কারণে যে, দেশের উন্নয়ন দর্শনটি আসলে কি? পরিবেশ বিধ্বংসী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বা ফ্লাইওভার নির্মান- তাহলে মেগাসাইজের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকার বাহবা পেতেই পারে। কিন্তু বড় হিসেব হচ্ছে, এই উন্নয়ন কেন্দ্রে মানুষ আছে, নাকি আছে লুটপাট? সেজন্যই কি ক্ষমতায় থাকাকালে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর ভাষা, শব্দ উচ্চারন বদলে যায় উন্নয়ন চিৎকারে।

ষাটের দশকে সামরিক একনায়ক আইয়ুব খান উন্নয়ন করেছিলেন, তৎকালে পাকিস্তানের উভয় অংশে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু খোদ পশ্চিম পাকিস্তানেই এই উন্নয়নের বিরুদ্ধে ঝড় উঠেছিল। এমন উন্নয়ন স্বৈরাচারী এরশাদের আমলে এদেশ দেখেছে। ঢাকা কথিত তিলোত্তমা হয়েছে। রাস্তঘাট, ব্রীজ-কালভার্টসহ অবকাঠামো উন্নয়নের বন্যা বয়ে গেছে। তারপরেও এরশাদের পতন ঘটেছে গণআন্দোলনে। কারণ ঐসব স্বৈরশাসকদের কথিত উন্নয়ন কেন্দ্রে মানুষ ছিল না, ছিল একটি দালাল গোষ্ঠী ও অবারিত লুটপাট।

আশির দশকে লাতিন আমেরিকার দেশে দেশে স্বৈরশাসকরা রাজনৈতিক বৈধতার সংকট কাটিয়ে উঠতে মেগা সাইজের সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এসব উন্নয়ন দায় বা লায়াবিলিটিজে পরিনত হয়েছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, হংকং মডেলের উন্নয়ন প্রচার করে যারা এদেশকে সমকক্ষ করার কথা বলছেন, তারা আপাত তৃপ্তি পেতে পারেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, ঐসব দেশে রাজনৈতিক বৈধতার সংকট থাকলেও উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছে মানুষ। আছে সুশাসন, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন।

এই ধরনের উন্নয়ন দর্শন বা উন্নয়নে একটি অন্তর্নিহিত অসৎ লক্ষ্য থাকে। সেটি হচ্ছে, একটি লুটেরা পুঁজিপতি শ্রেনী সৃষ্টি করা। এ ধরনের পুঁজি শক্তিমানকে আরো শক্তিশালী করে তোলে এবং দালাল-দলদাস শ্রেনীকেও আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। মূল কারণ হচ্ছে, ক্ষমতা বলয়কে সংহত রাখা। এই পুঁজির মালিকরা এতই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে, তারা দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম কোন প্রকার আয়-বাণিজ্য না করেও জনগনের ওপর ছড়ি ঘোরাতে পারে। কারণ ক্ষমতা বলয়ের বাইরের জনগোষ্ঠি দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়ে ধুঁকতে থাকে।

উন্নয়ন কেন্দ্রে মানুষ না থাকলে ঐ উন্নয়ন জনস্বার্থ নিশ্চিত করে না। করে না বলেই পৃথিরীর দেশে দেশে শাসকদের উচ্চাভিলাষী অনেক পরিকল্পনা জনগন প্রত্যাখ্যান করছে এবং করেছে। ২০০৬ সালের ২৬ আগষ্ট দিনাজপুরের ফুলবাড়ি এরকম উদাহরন সৃষ্টি করেছিল। সে সময়ে এশিয়া এনার্জির সাথে বিএনপি-জামায়াত সরকারের সম্পাদিত উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের মত গণবিরোধী, অশুভ চুক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল ফুলবাড়ির সবস্তরের মানুষ।

ফুলবাড়ি আন্দোলন অচিরেই গণবিদ্রোহে রূপ নিয়েছিল। এশিয়া এনার্জির পক্ষে বিএনপি সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে হতাহত হয়েছিল অনেক মানুষ। এখানেই শেষ ছিল না, তারা সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সাধারন মানুষের ওপর। এই দুস্কর্মে সরকার সাথী পেয়েছিল স্থানীয় সংসদ সদস্যকে, যিনি ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা। তারপরেও গণমানুষের রুখে দাঁড়ানোর কারণে সরকার বাধ্য হয়েছিল চুক্তি বাতিল করতে। সেজন্যই রক্তাক্ত ফুলবাড়ি আন্দোলন দেশের সম্পদ রক্ষায় হয়ে উঠেছে স্মারক দিবস।

রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানে ভারতের সাথে একটি অসম চুক্তি এবং সুন্দরবন ধংসের আশঙ্কা থেকে চলতি বছর ফুলবাড়ি হত্যা দিবস হয়ে উঠেছে আরো প্রাসঙ্গিক। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত হচ্ছে। তৈরী হচ্ছে গণআন্দোলনের ক্ষেত্র। আন্তর্জাতিকভাবেও এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ফুলবাড়ির ক্ষেত্রে গণআন্দোলন ও বিশেষজ্ঞ মতামত সে সময়ের সরকার আমলে নিতে চায়নি। বর্তমান সরকারও রামপাল প্রকল্পের ব্যাপারে কোন দোহাই মানছে না।

উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ফুলবাড়ির কয়লা আহরনের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ও বিপদের আশঙ্কার মত রামপাল প্রকল্পের শুরুতেই সুন্দরবন ধংসের আশঙ্কা দানা বেঁধেছে। এক্ষেত্রে সকল সুপারিশ ও বিশেষজ্ঞ মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে এবং হচ্ছে। কারন সব উন্নয়ন প্রকল্প মানেই যে জনস্বার্থ সংরক্ষণ, সেরকম কোন ধারনাই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানে প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। বরং অভিযোগটি প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করেছে যে, সুন্দরবন ধংসের সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে বর্তমান সরকার।

দুই. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরপর দুই মেয়াদ ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে নিশ্চিত করেছেন, রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের কোন ক্ষতি করবে না। তার অবস্থানের কথা সাফ জানিয়ে দিয়ে বলেছেন, সরকার এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মান করবেই। বিদ্যুৎকেন্দ্র বিরোধী আন্দোলনকে সরকার প্রধান দেখছেন, দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করা, বিনিয়োগকে থামানোর চেষ্টা হিসেবে। গত শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে এভাবেই তিনি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

অন্তর্নিহিত কারন কি অন্যত্র? রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির গুরুত্ব কি শুধুমাত্র ১৩৪০ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সীমাবদ্ধ? অনেকে ধারণা করছেন যে, এর পেছনে কাজ করছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুটিও। বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে প্রভাব বলয় বিস্তারে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের যে প্রতিযোগিতা, সেখানে প্রকল্প এলাকাটি যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি হতে পারে আন্তর্জাতিক শক্তিমানদের জন্য একটি কৌশলগত এলাকা। এজন্যই আন্দোলন, প্রতিবাদ, সমীক্ষা, সুপারিশ- সবকিছুই উপেক্ষিত হতে চলেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানে সরকার ছাড় দিতে রাজি নয়।

চলতি বছরের ১২ থেকে ১৪ মার্চ সুন্দরবনের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ এর যৌথ নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ‘সুন্দরবন মৈত্রী’ নামে তিনদিন ধরে চলা এই মহড়ার ঘোষণায় বলা হয়েছিল, সুন্দরবনের ঝুঁকিপূর্ন এলাকা পর্যবেক্ষণ করা, পুরো এলাকায় উভয়পক্ষ থেকে টহল বৃদ্ধি, বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্র রুটে সন্দেহভাজন নৌযানে হানা দেয়া। মহড়ার দ্বিতীয় দিনে ভারতীয় পক্ষ হাড়িয়াভাঙ্গা ও রায়মঙ্গল নদীতে নৌযানে হানা দেয়ার মহড়াও অনুষ্ঠিত করে।

রামপাল প্রকল্পে ভারতের সহায়তা এবং এই জয়েন্ট ভেঞ্চার কি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক স্বার্থে? সুন্দরবনের মত বিশ্বঐতিহ্য ও প্রতিবেশগত সংবেদনশীল অঞ্চলে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানে সহযোগিতার বিষয়টি অনেক আঞ্চলিক ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের সাথেও যুক্ত বলে ধারণা করা হয়। এখানে সহযোগিতা ছাড়াও পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মান ও উন্নয়নে ভারতের ১৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ নিয়ে ভারতীয় পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত বিপোর্টগুলি ছিল চোখে পড়ার মত।

বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পের অন্যতম ছিল পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর। এখানে বিনিয়োগ দৌড়ে আছে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড। এর আগে সোনাদিয়াতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মানে সম্ভাব্যতা যাচাই ও ৯৯% তহবিল দেয়ার চীনা প্রস্তাব থেকে সরকার সরে আসে। এরপরে পায়রা বন্দর এবং জাপানী বিনিয়োগে মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ব্যাপারে সরকার গভীর আগ্রহী হয়ে ওঠে। ইতিমধ্যে পায়রা বন্দর উদ্বোধন করা হয়েছে।

তিন. এই বিদ্যুতকেন্দ্রটির আরেকটি হিসেব- ব্যবসায়িক লাভালাভ। এটি ব্যবহারের জন্য ভারত থেকে আমদানীকৃত কয়লা আসবে সুন্দরবনের নদীপথে। এতে খরচ কম, লাভ বেশি এবং তা অবশ্যই ভারতের ব্যবসায়ীদের। অন্যদিকে, বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে এখানে ভারতীয় বিনিয়োগের মস্ত ক্ষেত্র তৈরী হবে। কারণ মংলায় রয়েছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, যেটি ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত লোভনীয়। সুতরাং বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মান সম্পন্ন হলে ঐসব বিনিয়োগের জন্য এনে দেবে মহার্ঘ সুবিধা।

ইতিমধ্যে সুন্দরবনের প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন ঘোষিত এলাকার ১০ কিলোমিটারের মধ্যে শিল্প, কলকারখানা স্থাপনে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। মংলা, রামপাল, শরনখোলা ও মোড়েলগঞ্জে ভারী শিল্প স্থাপনে জমি কেনার হিড়িক পড়েছে। ক্ষমতাসীন দলের প্রতাপশালী নেতা, দল ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা কিনে নিয়েছেন সংলগ্ন এলাকার প্রায় ১০ হাজার একর জমি। ১৫০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পকে অবস্থানগত ছাড়পত্র দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সুন্দরবনের প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকার মধ্যে ঢালাওভাবে শিল্প স্থাপনে ছাড়পত্র দেয়া প্রসঙ্গে পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর বক্তব্য চমৎকৃত করে দেয়ার মত। তার মতে, ‘‘দেশের জন্য সুন্দরবনও দরকার, আবার শিল্পও দরকার। আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি’’।

মন্ত্রীকে স্মরণ করানোর প্রয়োজন পড়ে না, কারণ রাষ্ট্রীয় গেজেট তিনি নিশ্চয়ই পড়েন। রাষ্ট্রপতির পক্ষে উপসচিব স্বাক্ষরিত গেজেটে বলা হয়েছে, “প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকায় ভূমি এবং পানির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট ও পরিবর্তন হবে এমন কোন কাজ করা যাবে না। মাটি, পানি, বায়ু ও শব্দ দুষনকারী শিল্প বা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যাবে না”। প্রসঙ্গত: এর আগে বন বিভাগ সুন্দরবনের চারপাশে ১০ কিলোমিটার এলাকা বনের বর্ধিত অংশ বা প্রভাবিত প্রতিবেশ ব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করে বসে আছে।

চার. ২০১২ সালে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানের প্রস্তুতি ও পরবর্তীকালে বিএনপি ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ গোছের দু’চারটি বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছে, পাছে ভারত অসন্তুষ্ট হয়। গেল কিছুদিন ধরে বিএনপি হঠাৎ করে সরব হয়ে উঠেছে। এখন তারা মনে করছে, এটি দেশবিরোধী প্রকল্প এবং বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবন ধংস হয়ে যাবে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানকে দেশবিরোধী ও গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে বলেছেন, সুন্দরবনকে ধংসের চক্রান্ত সফল হতে দেয়া যায় না।

এ প্রসঙ্গে বুদ্ধিজীবি সৈয়দ আবুল মকসুদ যথার্থই বলেছেন, “বিএনপি তাদের রাজনৈতিক কারণে প্রকল্পের যেটুকু বিরোধিতা করছে, তা একেবারে দায়সারা এবং একধরনের চাতুর্য’’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আকমল হোসেন বলেছেন, “ ফুলবাড়ির ঘটনায় বিরোধীদলও ভাল কিছু কথা বলেছিল, এখনকার বিরোধীদলও সেই সীমাতেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে এসবের মূল্য নেই। এশিয়া এনার্জি, এনপিটিসি-দুটোই বিদেশী কোম্পানী। তখনকার বিএনপি সরকার এশিয়া এনার্জিকে বিশেষ ক্ষমতা ও সহায়তা দিয়েছে। বর্তমান সরকার রাজনৈতিক স্বার্থ থেকে শুধু এনপিটিসি নয়, ভারতকে একের পর এক সুবিধে দিয়ে চলেছে।

বাম ঘরানার বিভিন্ন সংগঠন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সুশীল সমাজ যখন রামপাল প্রকল্প বাতিলের দাবিতে জনসমর্থন তৈরী করছেন, আন্দোলন সংগঠিত করছেন, আন্দোলনকে তীব্র করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন বিএনপির সংবাদ সম্মেলন ও আন্দোলনের সমর্থন দান মূলধারার আন্দোলনকারীদের সমস্যা ও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে। যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে অতীতে জামায়াতের ডাকা হরতালে বিএনপির সমর্থন নিয়ে মাথা ঘামাতে হয়নি-কারণ জামায়াত-বিএনপি জোটসঙ্গী। এর ফলে সুবিধে হয়েছে সরকার পক্ষের। এটা নিয়ে এখন নানা ব্লেম গেম খেলা হবে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X