মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ১১:৩৯
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, November 1, 2016 11:23 am
A- A A+ Print

রামেকের ভবন নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ!

158145_1

   
ঢাকা: রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) ভবন নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও ভবনটির নির্মাণকাজ প্রায় পাঁচ বছর আগেই শেষ হয়েছে। সোমবার বিকেলে ভবনের তৃতীয় তলায় ফ্লোরের প্লাস্টার উঠে গেলে বাঁশ দেখা যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে ভাঙা অংশটি আবার প্লাস্টার করে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে এবিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।  পাঠকদের জন্য প্রতিবেদনটি হুবহু তুলে ধরা হলো। ভবনটি উদ্বোধনের পর সেখানে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। চারটি ফ্লোরে রোগী, তাদের স্বজন, চিকিৎসক-নার্স, হাসপাতালের কর্মচারীসহ সব মিলিয়ে অন্তত এক হাজার মানুষ অবস্থান করছে। তবে ফ্লোরে বাঁশ ব্যবহারের খবর ছড়িয়ে পড়লে অবস্থানকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। গত ২০১২ সালের ১৭ জুলাই তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল আমিন উদ্বোধন করেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক হাজার শয্যার ভবনটি। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ ভবনটি নির্মাণ করা হয় পুরনো ভবনগুলোর মাঝখানে। অর্থাৎ হাসপাতালে ঢুকতেই হাতের ডান দিকে। সোমবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মোটা আকৃতির বাঁশ কেটে সেখানে বাঁশের ফালা ব্যবহার করা হয়েছে রডের পরিবর্তে। প্লাস্টারের ওপর আবার পুরনো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। কাপড়ের নিচে সিমেন্ট আর বালু দিয়ে প্লাস্টার করা হয়েছে। প্লাস্টারের নিচে বাঁশের ওপর পত্রিকা বিছানো রয়েছে। যেন মেশানো সিমেন্ট ও বালু পড়ে না যায়। জানতে চাইলে হাসপাতালের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের একজন রোগীর স্বজন জুলহাস আলী বলেন, ‘হাসপাতালের ভবন বহুতল, এই ভবন নির্মাণে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। সেটি দেখেও এলাম। এখন এই ভবনে থাকতেই ভয় লাগছে। নিজের রোগী নিয়ে এখান থেকে পালাতে পারলেই বাঁচি। সকাল হলে চিকিৎসককে বলে রোগী নিয়ে বাড়ি চলে যাব।’ এদিকে বিষয়টি তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িত ঠিকাদার, প্রকৌশলীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে জোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এই হাসপাতালের নতুন ভবনটি মাত্র বছর চারেক আগে নির্মাণ করা হলেও এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। আবার টাইলসও উঠে যাচ্ছে। এতে করে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরপরই ব্যাপক অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে উদাসীন মনোভাব পোষণ করে আসছে সব সময়। ফলে এখন পুরো ভবনটিই আতঙ্কের ভবনে পরিণত হয়েছে।’ এদিকে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য রাতে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি আমাকেও কয়েকজন জানিয়েছে। তবে আমি দেখিনি। আর ওই ভবনটি নির্মাণ হয়েছে আমি আসার চার-পাঁচ বছর আগে। ভবনটি নির্মাণ করেছে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ। তারাই বিষয়টি ভালো বলতে পারবে।’ ভাঙা স্থানে কারা নতুন করে প্লাস্টার করেছে, সেটি জানতে চাইলে পরিচালক বলেন, এটিও মনে হয় গণপূর্ত বিভাগের লোকজনই করে গেছে। কারণ ভবনটি তারাই করেছে। এদিকে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে রাতে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী লতিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা গলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Comments

Comments!

 রামেকের ভবন নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ!AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

রামেকের ভবন নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ!

Tuesday, November 1, 2016 11:23 am
158145_1

 

 

ঢাকা: রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) ভবন নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যদিও ভবনটির নির্মাণকাজ প্রায় পাঁচ বছর আগেই শেষ হয়েছে। সোমবার বিকেলে ভবনের তৃতীয় তলায় ফ্লোরের প্লাস্টার উঠে গেলে বাঁশ দেখা যায়।

বিষয়টি জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে ভাঙা অংশটি আবার প্লাস্টার করে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে এবিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।  পাঠকদের জন্য প্রতিবেদনটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

ভবনটি উদ্বোধনের পর সেখানে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। চারটি ফ্লোরে রোগী, তাদের স্বজন, চিকিৎসক-নার্স, হাসপাতালের কর্মচারীসহ সব মিলিয়ে অন্তত এক হাজার মানুষ অবস্থান করছে। তবে ফ্লোরে বাঁশ ব্যবহারের খবর ছড়িয়ে পড়লে অবস্থানকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

গত ২০১২ সালের ১৭ জুলাই তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল আমিন উদ্বোধন করেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক হাজার শয্যার ভবনটি। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ ভবনটি নির্মাণ করা হয় পুরনো ভবনগুলোর মাঝখানে। অর্থাৎ হাসপাতালে ঢুকতেই হাতের ডান দিকে।

সোমবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মোটা আকৃতির বাঁশ কেটে সেখানে বাঁশের ফালা ব্যবহার করা হয়েছে রডের পরিবর্তে। প্লাস্টারের ওপর আবার পুরনো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। কাপড়ের নিচে সিমেন্ট আর বালু দিয়ে প্লাস্টার করা হয়েছে। প্লাস্টারের নিচে বাঁশের ওপর পত্রিকা বিছানো রয়েছে। যেন মেশানো সিমেন্ট ও বালু পড়ে না যায়।

জানতে চাইলে হাসপাতালের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের একজন রোগীর স্বজন জুলহাস আলী বলেন, ‘হাসপাতালের ভবন বহুতল, এই ভবন নির্মাণে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। সেটি দেখেও এলাম। এখন এই ভবনে থাকতেই ভয় লাগছে। নিজের রোগী নিয়ে এখান থেকে পালাতে পারলেই বাঁচি। সকাল হলে চিকিৎসককে বলে রোগী নিয়ে বাড়ি চলে যাব।’

এদিকে বিষয়টি তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িত ঠিকাদার, প্রকৌশলীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে জোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এই হাসপাতালের নতুন ভবনটি মাত্র বছর চারেক আগে নির্মাণ করা হলেও এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। আবার টাইলসও উঠে যাচ্ছে। এতে করে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরপরই ব্যাপক অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে উদাসীন মনোভাব পোষণ করে আসছে সব সময়। ফলে এখন পুরো ভবনটিই আতঙ্কের ভবনে পরিণত হয়েছে।’

এদিকে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য রাতে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি আমাকেও কয়েকজন জানিয়েছে। তবে আমি দেখিনি। আর ওই ভবনটি নির্মাণ হয়েছে আমি আসার চার-পাঁচ বছর আগে। ভবনটি নির্মাণ করেছে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ। তারাই বিষয়টি ভালো বলতে পারবে।’

ভাঙা স্থানে কারা নতুন করে প্লাস্টার করেছে, সেটি জানতে চাইলে পরিচালক বলেন, এটিও মনে হয় গণপূর্ত বিভাগের লোকজনই করে গেছে। কারণ ভবনটি তারাই করেছে।

এদিকে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে রাতে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী লতিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা গলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X