শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ১০:৪০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, December 25, 2016 8:51 am
A- A A+ Print

রাষ্ট্রের প্রতিটি সংস্থা আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত : প্রধান বিচারপতি

2

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি সংস্থা অন্য সংস্থার ওপর আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। কিন্তু বিচার বিভাগ  কখনো এমন প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়নি। তিনি আরো বলেছেন, গণতন্ত্রকে বিকশিত করার জন্য গণতান্ত্রিক সরকারের প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক সরকারের স্থলে অগণতান্ত্রিক সরকার সমাধান নয়। গণতান্ত্রিক সরকার ৫ বছর দেশ পরিচালনা করতে পারবে আর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে পারবে না- এটা রাজনীতিবিদদের দেউলিয়াপনা। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ ছাড়াও সারা দেশের অধস্তন আদালতের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা অংশ নেন। রাষ্ট্রের কোনো অঙ্গ বা সংস্থার সমালোচনা করছেন না উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি  সংস্থা অন্য সংস্থার ওপর আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। কেবল বিচার বিভাগই এর ব্যতিক্রম। তিনি আরো বলেন, যারা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকে, তাদের মধ্যে এ আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা বেশি মাত্রায় প্রতীয়মান হয়। কিন্তু বিচার বিভাগ কখনো এ প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি এবং করবেও না। প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, আমরা রাষ্ট্রের বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। আর এর জন্য শাসনতন্ত্র আমাদের ওপর যতটুকু দায়িত্ব ও ক্ষমতা অর্পণ করেছে, আমরা শুধু ততটুকুই করব। প্রধান বিচারপতি আশা প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রের অন্যান্য বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানগুলোও বিচার বিভাগকে সেভাবেই সহযোগিতা করবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পদ্ধতি সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা বজায় রাখার স্বার্থে এই পদ্ধতি বাতিল করে। কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিরপেক্ষ কিনা সে বিষয়ে নানা আলোচনা হতো। আর তিনি যদি নিরপেক্ষ না হন তাহলে বিচারপতি থাকাকালে তিনি যেসব রায় প্রদান করেছেন সেগুলোও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ সংশোধনীর ফলে অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনকে একটি মহলের খেয়াল-খুশি মতো পরিচালনার ব্যবস্থা হয়েছিল। দেশের সর্বোচ্চ আদালত তা অসাংবিধানিক ও অবৈধ বলে ঘোষণা করে। ফলে জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সংবিধানের পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী বাতিলের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগের এই রায়ের ফলে সামরিক শাসনের সম্ভাবনা চিরতরে নির্বাসিত হয়েছে। রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ সীমিত সম্পদ ও বাজেটের মাধ্যমে নিরন্তর দায়িত্ব পালন করছে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, একটি দেশের বিচার বিভাগের দক্ষতা এবং দ্রুত বিচারের উপর ভিত্তি করে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হয়। সর্বোপরি, বিচার বিভাগের কর্ম দক্ষতার উপর একটি দেশের সভ্যতার মাপকাঠি পরিস্ফুট হয়ে উঠে। এছাড়া, সরকারের কৃতিত্ব পরিমাপ করার সর্বোত্তম মাপকাঠি হচ্ছে তার বিচার বিভাগের দক্ষতা ও যোগ্যতা। বক্তব্যকালে উচ্চ ও অধস্তন আদালতে বিচারক স্বল্পতা, বিভিন্ন অবকাঠামোগত অসুবিধা উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি। নানা সমস্যা নিয়েও বিচার বিভাগ তার দায়িত্ব পালনে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রধান বিচারপতি। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বিডিআর মামলা, দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা, বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যা মামলাসহ চাঞ্চল্যকর মামলা নিষ্পত্তির বিষয়টি অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন তিনি। সাক্ষী হাজিরের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি অধস্তন বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের দেশে পুলিশ প্রশাসন অপরাধীদের গ্রেপ্তার করার ব্যাপারে যতটা পারদর্শী, সাক্ষী উপস্থিতির ক্ষেত্রে ততটা পারদর্শী নয়। সাক্ষীদের হাজিরের জন্য সকল প্রসেস জারি করার পরও যদি সাক্ষী হাজির না হয়, তাহলে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৯ ধারায় মামলার কার্যক্রম বন্ধ করতে পারেন। আসামিদের রিমান্ড ও জামিনের বিষয়ে আপিল বিভাগের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালনের জন্য অধস্তন আদালতের বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধান বিচারপতি। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, টর্চারের মাধ্যমে আসামির কাছ থেকে কোনো স্বীকারোক্তি আদায় করা হবে না। সুপ্রিম কোর্ট এলাকা থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সরিয়ে নিতে আবারও আইন মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের উদ্যোগে এর অবকাঠামোগত কিছু সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতায় সারা দেশের অধস্তন আদালতের অবকাঠামোগত সমস্যা দূর করা সম্ভব হচ্ছে না। বরং তা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহ্‌াব মিয়ার সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমীন চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগীয় তথ্য বাতায়ন উদ্বোধন করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এই বাতায়নের মাধ্যমে এখন থেকে কম্পিউটার ও মোবাইলের মাধ্যমে বিচারিক সেবা ও আইনি সহায়তা পাওয়া যাবে। অনুষ্ঠানে এ বিষয়ের উপর নির্মিত একটি ফিকশন ডকুমেন্ট প্রদর্শিত হয়। বিচার বিভাগীয় বাতায়ন বিষয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ টু আই প্রকল্পের পলিসি অ্যাডভাইজার আনীর চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। জেলা জজ হিসেবে বক্তব্য দেন প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের সদস্য, সিনিয়র জেলা জজ গোলাম মর্তুজা মজুমদার।

Comments

Comments!

 রাষ্ট্রের প্রতিটি সংস্থা আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত : প্রধান বিচারপতিAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

রাষ্ট্রের প্রতিটি সংস্থা আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত : প্রধান বিচারপতি

Sunday, December 25, 2016 8:51 am
2

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি সংস্থা অন্য সংস্থার ওপর আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। কিন্তু বিচার বিভাগ  কখনো এমন প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়নি। তিনি আরো বলেছেন, গণতন্ত্রকে বিকশিত করার জন্য গণতান্ত্রিক সরকারের প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক সরকারের স্থলে অগণতান্ত্রিক সরকার সমাধান নয়। গণতান্ত্রিক সরকার ৫ বছর দেশ পরিচালনা করতে পারবে আর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে পারবে না- এটা রাজনীতিবিদদের দেউলিয়াপনা।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ ছাড়াও সারা দেশের অধস্তন আদালতের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা অংশ নেন।
রাষ্ট্রের কোনো অঙ্গ বা সংস্থার সমালোচনা করছেন না উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি  সংস্থা অন্য সংস্থার ওপর আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। কেবল বিচার বিভাগই এর ব্যতিক্রম। তিনি আরো বলেন, যারা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকে, তাদের মধ্যে এ আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা বেশি মাত্রায় প্রতীয়মান হয়। কিন্তু বিচার বিভাগ কখনো এ প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি এবং করবেও না। প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, আমরা রাষ্ট্রের বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। আর এর জন্য শাসনতন্ত্র আমাদের ওপর যতটুকু দায়িত্ব ও ক্ষমতা অর্পণ করেছে, আমরা শুধু ততটুকুই করব। প্রধান বিচারপতি আশা প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রের অন্যান্য বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানগুলোও বিচার বিভাগকে সেভাবেই সহযোগিতা করবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পদ্ধতি সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা বজায় রাখার স্বার্থে এই পদ্ধতি বাতিল করে। কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিরপেক্ষ কিনা সে বিষয়ে নানা আলোচনা হতো। আর তিনি যদি নিরপেক্ষ না হন তাহলে বিচারপতি থাকাকালে তিনি যেসব রায় প্রদান করেছেন সেগুলোও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ সংশোধনীর ফলে অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনকে একটি মহলের খেয়াল-খুশি মতো পরিচালনার ব্যবস্থা হয়েছিল। দেশের সর্বোচ্চ আদালত তা অসাংবিধানিক ও অবৈধ বলে ঘোষণা করে। ফলে জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সংবিধানের পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী বাতিলের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগের এই রায়ের ফলে সামরিক শাসনের সম্ভাবনা চিরতরে নির্বাসিত হয়েছে।
রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ সীমিত সম্পদ ও বাজেটের মাধ্যমে নিরন্তর দায়িত্ব পালন করছে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, একটি দেশের বিচার বিভাগের দক্ষতা এবং দ্রুত বিচারের উপর ভিত্তি করে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হয়। সর্বোপরি, বিচার বিভাগের কর্ম দক্ষতার উপর একটি দেশের সভ্যতার মাপকাঠি পরিস্ফুট হয়ে উঠে। এছাড়া, সরকারের কৃতিত্ব পরিমাপ করার সর্বোত্তম মাপকাঠি হচ্ছে তার বিচার বিভাগের দক্ষতা ও যোগ্যতা।
বক্তব্যকালে উচ্চ ও অধস্তন আদালতে বিচারক স্বল্পতা, বিভিন্ন অবকাঠামোগত অসুবিধা উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি। নানা সমস্যা নিয়েও বিচার বিভাগ তার দায়িত্ব পালনে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রধান বিচারপতি। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বিডিআর মামলা, দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা, বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যা মামলাসহ চাঞ্চল্যকর মামলা নিষ্পত্তির বিষয়টি অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন তিনি। সাক্ষী হাজিরের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি অধস্তন বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের দেশে পুলিশ প্রশাসন অপরাধীদের গ্রেপ্তার করার ব্যাপারে যতটা পারদর্শী, সাক্ষী উপস্থিতির ক্ষেত্রে ততটা পারদর্শী নয়। সাক্ষীদের হাজিরের জন্য সকল প্রসেস জারি করার পরও যদি সাক্ষী হাজির না হয়, তাহলে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৯ ধারায় মামলার কার্যক্রম বন্ধ করতে পারেন। আসামিদের রিমান্ড ও জামিনের বিষয়ে আপিল বিভাগের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালনের জন্য অধস্তন আদালতের বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধান বিচারপতি। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, টর্চারের মাধ্যমে আসামির কাছ থেকে কোনো স্বীকারোক্তি আদায় করা হবে না। সুপ্রিম কোর্ট এলাকা থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সরিয়ে নিতে আবারও আইন মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের উদ্যোগে এর অবকাঠামোগত কিছু সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতায় সারা দেশের অধস্তন আদালতের অবকাঠামোগত সমস্যা দূর করা সম্ভব হচ্ছে না। বরং তা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে।
আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহ্‌াব মিয়ার সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমীন চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগীয় তথ্য বাতায়ন উদ্বোধন করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এই বাতায়নের মাধ্যমে এখন থেকে কম্পিউটার ও মোবাইলের মাধ্যমে বিচারিক সেবা ও আইনি সহায়তা পাওয়া যাবে। অনুষ্ঠানে এ বিষয়ের উপর নির্মিত একটি ফিকশন ডকুমেন্ট প্রদর্শিত হয়। বিচার বিভাগীয় বাতায়ন বিষয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ টু আই প্রকল্পের পলিসি অ্যাডভাইজার আনীর চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। জেলা জজ হিসেবে বক্তব্য দেন প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের সদস্য, সিনিয়র জেলা জজ গোলাম মর্তুজা মজুমদার।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X