বৃহস্পতিবার, ১৭ই আগস্ট, ২০১৭ ইং, ২রা ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৩:৩৫
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, August 12, 2017 8:19 am
A- A A+ Print

রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করার কৌশল আ.লীগের

download

আনোয়ার হোসেন : সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায়কে যতটা সম্ভব প্রশ্নবিদ্ধ করার কৌশল নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটি মনে করছে, রায়ের পর্যবেক্ষণে রাজনীতি রয়েছে। এর পেছনে ষড়যন্ত্রও থাকতে পারে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বনের আগে রাজনৈতিকভাবে এর দুর্বলতা মানুষকে জানানো দরকার। এ জন্যই মন্ত্রী, দলীয় নেতা এবং সরকারপন্থী আইনজীবীরা মুখ খুলেছেন। এই ধারা অব্যাহত রাখা হবে।

গত বৃহস্পতিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী ও সম্পাদকমণ্ডলীর এক বৈঠকেও এই কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে উপস্থিত নেতারা জানিয়েছেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এখন আর মূল বিবেচনা নয়। বরং দলের কাছে রায়ের পর্যবেক্ষণের ভাষা ও মতামতই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই এগুলোকেই সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি বা অন্য কোনো মহল থেকে রায় নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালে বা বক্তব্য তুলে ধরলে এর পাল্টা জবাব দেবে আওয়ামী লীগ।

দলীয় সূত্র জানায়, রায়কে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার জন্য সরকারের শরিক ১৪ দলকেও পাশে পেতে চায় আওয়ামী লীগ। কাল রোববার দলের ধানমন্ডির কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে রায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে এর দুর্বল দিক তুলে ধরা হতে পারে। এর বাইরে জেলায় জেলায় আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদেরও রায়ের দুর্বল দিক মানুষের কাছে তুলে ধরার পরামর্শ দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। আজ শনিবার বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে, যেখানে এই রায়ের অসংগতি তুলে ধরা হবে।

আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, রায়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা ও বিব্রত করার অনেক অনুষঙ্গ আছে। এটাকে হালকাভাবে নিচ্ছে না আওয়ামী লীগ। কারণ, এই ধাক্কা সামলে না নিতে পারলে নির্বাচনের আগে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়তে হতে পারে। এ জন্য তাদের কৌশল হচ্ছে এর বিরুদ্ধে বলে বলে রায়টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।

আওয়ামী লীগ মনে করছে, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের দুটি প্রেক্ষিত আছে। একটি আইনগত ও অন্যটি রাজনৈতিক। সরকার ও আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক প্রেক্ষিত নিয়েই বেশি ভাবছে। কারণ, ইতিমধ্যে বিএনপি রায় নিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে রাজনীতি শুরু করে দিয়েছে। তাই পাল্টা রাজনীতি দিয়ে তা মোকাবিলা করতে চায় দলটি। আর আইনি দিক সময় নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করে এগোবে সরকার। কারণ, আইনজীবীদের মত হচ্ছে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন পরেও করা যাবে। এ ক্ষেত্রে বিলম্বের কারণ উল্লেখ করে মার্জনা চাওয়ার সুযোগ আছে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রথম আলোকে বলেন, রায়ের আইনি দিক আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে। তবে পর্যবেক্ষণে যেভাবে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় সংসদ ও সাংসদদের নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এর জবাব তো আসতেই পারে। আর রায় নিয়ে বিএনপি যেভাবে রাজনীতি শুরু করেছে, এর মোকাবিলা রাজনীতি দিয়েই করতে হবে।

২ আগস্ট ষোড়শ সংশোধনী বাতিলসংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর প্রায় এক সপ্তাহ সরকার ও আওয়ামী লীগ প্রায় নীরব থাকে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় এই রায়, বিশেষ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকেই সরকারের মন্ত্রীরা প্রকাশ্যে রায় নিয়ে সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। বুধবার আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক রায়ের সমালোচনা করে প্রতিক্রিয়া দেন। একই দিন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয় রায়ে অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও অপ্রত্যাশিত প্রসঙ্গ এসেছে, যা বিএনপিকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পর্যবেক্ষণে রাজনৈতিক বিষয়ে বক্তব্য আছে, রাজনৈতিক নেতারা এর জবাব দিতেই পারেন।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র জানায়, প্রথমে আওয়ামী লীগ সমঝোতার পথেই হেঁটেছিল। রায়ের পর সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু আশানুরূপ ফল আসবে না—এটা জেনে রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করার কৌশল নেয় ক্ষমতাসীন দল।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু প্রথম আলোকে গতকাল বলেন, তাঁদের আইনজীবীরা রায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছেন। আইনের সব বিকল্প নিয়ে তাঁরা কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত এটাই দলীয় অবস্থান। এর বাইরে রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে যে কেউ মত দিতেই পারেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রায়ের কোথাও বিচারকদের শপথ ভঙ্গের ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় আছে কি না এবং সংসদ বা কাউকে সংক্ষুব্ধ করেছে কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য পরামর্শ আসে। কারণ হিসেবে বলা হয়, পর্যবেক্ষণে এমন অনেক মতামত এসেছে, যা শুনানিকালে দুই পক্ষের আইনজীবীরা উত্থাপন করেননি। মামলার পক্ষভুক্ত নয় এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জড়ানো হয়েছে। এর জন্য প্রয়োজন হলে পরে মামলা করারও পরামর্শ দেন কেউ কেউ। এ জন্য আইনজীবী নেতাদের রায়টি নিয়ে আরও গভীর পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।

বৈঠক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবারের বৈঠক থেকে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নেতাদের এই বার্তা দিয়েছেন যে ভোটের আগে বাংলাদেশে নানা ষড়যন্ত্র হয়। এখনো হচ্ছে। তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। তবে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারের হাতে যেসব বিকল্প আছে, সময়মতো সেগুলো ব্যবহার করা হবে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন প্রথম আলোকে বলেন, রায়ের পর্যবেক্ষণে অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক বিষয় আছে। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি যেভাবে রাজনীতি শুরু করেছে, তাতে এর জবাব দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।

Comments

Comments!

 রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করার কৌশল আ.লীগেরAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করার কৌশল আ.লীগের

Saturday, August 12, 2017 8:19 am
download

আনোয়ার হোসেন :

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায়কে যতটা সম্ভব প্রশ্নবিদ্ধ করার কৌশল নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটি মনে করছে, রায়ের পর্যবেক্ষণে রাজনীতি রয়েছে। এর পেছনে ষড়যন্ত্রও থাকতে পারে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বনের আগে রাজনৈতিকভাবে এর দুর্বলতা মানুষকে জানানো দরকার। এ জন্যই মন্ত্রী, দলীয় নেতা এবং সরকারপন্থী আইনজীবীরা মুখ খুলেছেন। এই ধারা অব্যাহত রাখা হবে।

গত বৃহস্পতিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী ও সম্পাদকমণ্ডলীর এক বৈঠকেও এই কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে উপস্থিত নেতারা জানিয়েছেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এখন আর মূল বিবেচনা নয়। বরং দলের কাছে রায়ের পর্যবেক্ষণের ভাষা ও মতামতই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই এগুলোকেই সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি বা অন্য কোনো মহল থেকে রায় নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালে বা বক্তব্য তুলে ধরলে এর পাল্টা জবাব দেবে আওয়ামী লীগ।

দলীয় সূত্র জানায়, রায়কে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার জন্য সরকারের শরিক ১৪ দলকেও পাশে পেতে চায় আওয়ামী লীগ। কাল রোববার দলের ধানমন্ডির কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে রায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে এর দুর্বল দিক তুলে ধরা হতে পারে। এর বাইরে জেলায় জেলায় আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদেরও রায়ের দুর্বল দিক মানুষের কাছে তুলে ধরার পরামর্শ দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। আজ শনিবার বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে, যেখানে এই রায়ের অসংগতি তুলে ধরা হবে।

আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, রায়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা ও বিব্রত করার অনেক অনুষঙ্গ আছে। এটাকে হালকাভাবে নিচ্ছে না আওয়ামী লীগ। কারণ, এই ধাক্কা সামলে না নিতে পারলে নির্বাচনের আগে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়তে হতে পারে। এ জন্য তাদের কৌশল হচ্ছে এর বিরুদ্ধে বলে বলে রায়টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।

আওয়ামী লীগ মনে করছে, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের দুটি প্রেক্ষিত আছে। একটি আইনগত ও অন্যটি রাজনৈতিক। সরকার ও আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক প্রেক্ষিত নিয়েই বেশি ভাবছে। কারণ, ইতিমধ্যে বিএনপি রায় নিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে রাজনীতি শুরু করে দিয়েছে। তাই পাল্টা রাজনীতি দিয়ে তা মোকাবিলা করতে চায় দলটি। আর আইনি দিক সময় নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করে এগোবে সরকার। কারণ, আইনজীবীদের মত হচ্ছে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন পরেও করা যাবে। এ ক্ষেত্রে বিলম্বের কারণ উল্লেখ করে মার্জনা চাওয়ার সুযোগ আছে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রথম আলোকে বলেন, রায়ের আইনি দিক আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে। তবে পর্যবেক্ষণে যেভাবে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় সংসদ ও সাংসদদের নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এর জবাব তো আসতেই পারে। আর রায় নিয়ে বিএনপি যেভাবে রাজনীতি শুরু করেছে, এর মোকাবিলা রাজনীতি দিয়েই করতে হবে।

২ আগস্ট ষোড়শ সংশোধনী বাতিলসংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর প্রায় এক সপ্তাহ সরকার ও আওয়ামী লীগ প্রায় নীরব থাকে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় এই রায়, বিশেষ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকেই সরকারের মন্ত্রীরা প্রকাশ্যে রায় নিয়ে সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। বুধবার আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক রায়ের সমালোচনা করে প্রতিক্রিয়া দেন। একই দিন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয় রায়ে অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও অপ্রত্যাশিত প্রসঙ্গ এসেছে, যা বিএনপিকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পর্যবেক্ষণে রাজনৈতিক বিষয়ে বক্তব্য আছে, রাজনৈতিক নেতারা এর জবাব দিতেই পারেন।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র জানায়, প্রথমে আওয়ামী লীগ সমঝোতার পথেই হেঁটেছিল। রায়ের পর সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু আশানুরূপ ফল আসবে না—এটা জেনে রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করার কৌশল নেয় ক্ষমতাসীন দল।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু প্রথম আলোকে গতকাল বলেন, তাঁদের আইনজীবীরা রায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছেন। আইনের সব বিকল্প নিয়ে তাঁরা কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত এটাই দলীয় অবস্থান। এর বাইরে রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে যে কেউ মত দিতেই পারেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রায়ের কোথাও বিচারকদের শপথ ভঙ্গের ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় আছে কি না এবং সংসদ বা কাউকে সংক্ষুব্ধ করেছে কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য পরামর্শ আসে। কারণ হিসেবে বলা হয়, পর্যবেক্ষণে এমন অনেক মতামত এসেছে, যা শুনানিকালে দুই পক্ষের আইনজীবীরা উত্থাপন করেননি। মামলার পক্ষভুক্ত নয় এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জড়ানো হয়েছে। এর জন্য প্রয়োজন হলে পরে মামলা করারও পরামর্শ দেন কেউ কেউ। এ জন্য আইনজীবী নেতাদের রায়টি নিয়ে আরও গভীর পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।

বৈঠক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবারের বৈঠক থেকে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নেতাদের এই বার্তা দিয়েছেন যে ভোটের আগে বাংলাদেশে নানা ষড়যন্ত্র হয়। এখনো হচ্ছে। তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। তবে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারের হাতে যেসব বিকল্প আছে, সময়মতো সেগুলো ব্যবহার করা হবে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন প্রথম আলোকে বলেন, রায়ের পর্যবেক্ষণে অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক বিষয় আছে। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি যেভাবে রাজনীতি শুরু করেছে, তাতে এর জবাব দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X