সোমবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:৪৫
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, November 17, 2016 7:29 am
A- A A+ Print

রুনা লায়লা বললেন, এখনো শিখছি

%e0%a7%a9

জন্মদিনে আপনাকে শুভেচ্ছা। সময়ের হাত ধরে জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছেন। পেছনে তাকালে প্রথমে কোন স্মৃতি চোখে ভেসে ওঠে।

(হেসে) কঠিন প্রশ্ন। অনেক অনেক স্মৃতিই তো রয়েছে। প্রথম প্লেব্যাক, প্রথম মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়ানোর স্মৃতিটাই এ মুহূর্তে মনে পড়ছে। তখন আমার বয়স ১২ বছর। আমরা করাচিতে থাকি। টুকটাক মঞ্চে গাইছি। লাহোর থেকে সংগীত পরিচালক মঞ্জুর হোসেন এসেছেন। সঙ্গে উর্দু ছবি জগনুর প্রযোজক, পরিচালক। তাঁরা একটি গান করবেন। ছবিতে ১২ বছরের একটি বাচ্চা ছেলের লিপে যাবে গানটি। লাহোর থেকে খোঁজ করতে করতে করাচিতে তাঁরা আমাদের বাড়ি এলেন। আমার গান শুনলেন। পছন্দও করলেন। তারপর দুই মাস ধরে চলল সেই গানের অনুশীলন। চলচ্চিত্রের গান গাওয়ার টেকনিক আলাদা; থ্রোয়িং, এক্সপ্রেশন। এগুলো আলাদাভাবে আমাকে শেখানো হলো এই দুই মাস। তারপর রেকর্ডিং করলাম। সেই থেকে শুরু।

তারপর ১৫ বছর বয়সে তো আপনি বাংলা চলচ্চিত্রে প্রথম বাংলা গান গাইলেন?

হুম। সম্ভবত ১৯৬৭-৬৮ সাল। লাহোরে বারী স্টুডিওতে গানটি রেকর্ড হয়। আমি তখন অন্য একটি ছবির গান গাইছিলাম। সংগীত পরিচালক সুবল দাস এবং স্বরলিপি ছবির পরিচালক নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ থেকে গেছেন লাহোরে। স্টুডিওতে তাঁরা আমাকে বললেন, বাংলা ছবি স্বরলিপির একটি গানের ট্র্যাক করে এনেছি। মেল ভার্সন মাহমুদুন নবী গাইবেন। ফিমেল ভার্সন আমাকে দিয়ে করাতে চান। আমি বললাম, অবশ্যই গাইব। এরপর গাইলাম। ‘গানের খাতায় স্বরলিপি লিখে’ গানটি।

সে হিসেবে আপনার বাংলা গান গাওয়ার ৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। সংগীতের এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার শ্রেষ্ঠ সময় কোনগুলো?

ছোটবেলা থেকেই গান করছি। খুব ছোট ছিলাম বলে গান রেকর্ডিংয়ের সময় কো-আর্টিস্ট, মিউজিক ডিরেক্টর, পরিচালক সবাই আমাকে খুব আদর করতেন। কোল্ড ড্রিংকস, চকলেট, কফি এনে দিতেন। সবাই ‘রুনা বেবি’ বলে ডাকতেন। আমি ওই বয়সেই নায়িকার লিপে গান করেছি। তাঁরা বয়সে অনেক বড়। রেকর্ডিংয়ে ছবির নায়িকাও উপস্থিত থাকতেন। তাঁরা আমাকে খুব আদর করতেন। তারপর যখন টিনএজার হলাম, তখন করাচি টিভিতে আমাকে নিয়ে পাক্ষিক একটা অনুষ্ঠান শুরু হলো ‘বাজমে লায়লা’। খুব পপুলার হলো। ওই বয়সেই অসংখ্য ছবিতে প্লেব্যাক করি। বিভিন্ন ভাষায় ছবি হতো সেখানে। আমি পশতু, পাঞ্জাবি, সিন্ধি, গুজরাটিসহ ১৮টি ভাষায় গান করি।

আপনার বয়স যখন আঠারো, সেই সময়ের কথা মনে আছে?

আমি তখন পুরোদমে ব্যস্ত। ছবির গান গাইতে করাচি টু লাহোর আমার যাওয়া-আসা। পাশাপাশি লেখাপড়া চলছে। মঞ্চে, টেলিভিশনে অনুষ্ঠান করছি। আর আমার তিন বন্ধু ছিল ফারজানা, সাবরিনা ও ইয়াসমিন। ওদের সঙ্গে দারুণ সময় কেটেছে আমার।

নৃত্যশিল্পী হওয়ার কথা। হয়ে গেলেন সংগীতশিল্পী। কখনো নাচ করতে না পারার আফসোস কি পেয়ে বসে?

না। সে রকম কোনো আফসোস নেই। চার বছর নাচ শিখেছি। স্কুল শো হতো। সেখানে নাচ করেছি। আমার যে ইচ্ছে ছিল সেটা পূরণ হয়ে গেছে। নাচ শেখাটা আমি কাজে লাগিয়েছি গানের সঙ্গে স্টেজ এবং টেলিভিশন পারফরম্যান্সে।

কবি শামসুর রাহমানের লেখা গানও আপনি করেছেন। তাঁর গান গাইতে গিয়ে স্টুডিওতে একটা মজার ঘটনা ঘটেছিল, পাঠকদের সঙ্গে সেটা কি একটু ভাগাভাগি করবেন?

খোন্দকার নূরুল আলমের সুরে স্টুডিওতে গেলাম ‘স্মৃতি ঝলমল সুনীল মাঠের কাছে আমার অনেক ঋণ আছে’—এই গান গাইতে। স্টুডিওতে সেদিন এ গানের রচয়িতা কবি শামসুর রাহমানও ছিলেন। তো গাইবার আগে আমি সাধারণত খাতায় গানটা লিখে নিই। আর সেটা ইংরেজিতে। খোন্দকার ভাই বলছিলেন আর আমি লিখছিলাম। শামসুর রাহমান সাহেব ইংরেজিতে লিখতে দেখে বিরক্ত হলেন। কিন্তু বুঝতে দিলেন না। আমি যখন গান গাইতে সিঙ্গার বুথে গেলাম, তখন তিনি খোন্দকার ভাইকে নাকি বলেছিলেন, শিল্পী বাংলা গান ইংরেজিতে লিখেছেন, কথাগুলো ঠিকমতো গাইতেই তো পারবেন না। আপনি আজ রেকর্ডিং ক্যানসেল করেন। তখন খোন্দকার ভাই রাহমান সাহেবকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ভয়েসটা আগে রেকর্ড করি। তারপর আপনার যদি ভালো না লাগে তবে অন্যদিন আবার নেব। আমি গান গাইবার পর রাহমান সাহেব প্রশংসা করে বললেন, এত পরিষ্কার উচ্চারণ, চিন্তাই করা যায় না।

আপনার সময়ের তারুণ্য আর বর্তমান সময়ের তারুণ্যের মধ্যে কী পার্থক্য?

অনেক পার্থক্য। আমরা যখন টিনএজার ছিলাম, তখন সবকিছুই একটা নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে ছিল। পারিবারিক বাধানিষেধের মধ্যে চলতে হতো। কোনো বন্ধুর বাড়িতে দাওয়াতে যাব, প্রথমে যাওয়ার অনুমতি নিতে হতো। তারপর দেখা যেত সেই বাড়িতে কেউ দিয়ে আসতেন, আবার নিয়েও আসতেন। একা যাওয়ার অনুমতি ছিল না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুতেই পরিবর্তন এসেছে। এখনকার বাবা-মায়েরা অনেক আধুনিক। ছেলেমেয়েদের যথেষ্ট স্বাধীনতা দেন। কিন্তু তারপরও আমি মনে করি, ছেলেমেয়েদের ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার।

আপনাদের গানগুলো নতুন প্রজন্মের অনেকেই গাইছেন। অনেকেই বলেন, আপনাদের মতো করে হয় না। বিশেষ করে আপনার গাওয়া গানগুলো। শ্রোতারা অনেকেই মনে করেন, রুনার গানগুলো তাঁর মতো করে কেউ গাইতে পারেন না। আপনি কী বলবেন?

আমার মনে হয়, এই জীবনে আমি যে গানগুলো গেয়েছি, সবগুলোই কঠিন। আমারও গাইতে কষ্ট হয়েছে। নতুন প্রজন্মের অনেককেই আমার গান গাইতে দেখি। কিন্তু এটাও সত্য যে, সাবিনা ইয়াসমিনের গান তো আর তাঁর মতো হবে না। তবে যারা আমাদের গান গাইছে তাদের বলব, গানের কথা ও সুরটা একটু সচেতনভাবে তুলে নিয়ে গাইতে। কারণ এ গানগুলো শ্রোতাদের মনে-মাথায় ঢুকে আছে। এগুলো একটু এদিক-সেদিক হলে শ্রোতারা সেটা নিতে পারেন না।

এখন যাঁরা গান করছেন, তাঁদের প্রতি আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?

আসলে এখন যারা গান করছে, তাদের অনেকেই একট গান গেয়ে হয়তো পরিচিতি পেয়ে গেলে। এরপর তাদের মধ্যে একটা প্রবণতা দেখি, এই চ্যানেলে ওই চ্যানেলে গাইছে, প্রচুর শো করছে, অনেক টাকা পাচ্ছে। এটাই তারা বড় করে দেখছে। কিন্তু দ্যাট ইজ নট ইম্পরট্যান্ট। ভিত্তিটা হতে হবে শক্ত। উচ্চাঙ্গ সংগীত শিখতে হবে। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। আমি ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে গান করছি। অনেক কষ্ট করে, রেওয়াজ করে, ক্ল্যাসিক্যাল শিখে নিজেকে তৈরি করেছি। এখনো শিখছি। নতুন প্রজন্মের যারা গাইছে তাদের বলব, সংগীত একটা চর্চার বিষয়। চর্চার মধ্যে না থাকলে হারিয়ে যাবে। তাই এখানে অনেক সময় দিতে হবে। মেহনত করতে হবে। তবেই টিকে থাকবে। যদি মনে করো, নামধাম হয়ে গেছে, একটা কিছু হয়ে গেছ, তাহলে ওখানেই শেষ। সামনে এগোতে পারবে না।

 

Comments

Comments!

 রুনা লায়লা বললেন, এখনো শিখছিAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

রুনা লায়লা বললেন, এখনো শিখছি

Thursday, November 17, 2016 7:29 am
%e0%a7%a9

জন্মদিনে আপনাকে শুভেচ্ছা। সময়ের হাত ধরে জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছেন। পেছনে তাকালে প্রথমে কোন স্মৃতি চোখে ভেসে ওঠে।

(হেসে) কঠিন প্রশ্ন। অনেক অনেক স্মৃতিই তো রয়েছে। প্রথম প্লেব্যাক, প্রথম মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়ানোর স্মৃতিটাই এ মুহূর্তে মনে পড়ছে। তখন আমার বয়স ১২ বছর। আমরা করাচিতে থাকি। টুকটাক মঞ্চে গাইছি। লাহোর থেকে সংগীত পরিচালক মঞ্জুর হোসেন এসেছেন। সঙ্গে উর্দু ছবি জগনুর প্রযোজক, পরিচালক। তাঁরা একটি গান করবেন। ছবিতে ১২ বছরের একটি বাচ্চা ছেলের লিপে যাবে গানটি। লাহোর থেকে খোঁজ করতে করতে করাচিতে তাঁরা আমাদের বাড়ি এলেন। আমার গান শুনলেন। পছন্দও করলেন। তারপর দুই মাস ধরে চলল সেই গানের অনুশীলন। চলচ্চিত্রের গান গাওয়ার টেকনিক আলাদা; থ্রোয়িং, এক্সপ্রেশন। এগুলো আলাদাভাবে আমাকে শেখানো হলো এই দুই মাস। তারপর রেকর্ডিং করলাম। সেই থেকে শুরু।

তারপর ১৫ বছর বয়সে তো আপনি বাংলা চলচ্চিত্রে প্রথম বাংলা গান গাইলেন?

হুম। সম্ভবত ১৯৬৭-৬৮ সাল। লাহোরে বারী স্টুডিওতে গানটি রেকর্ড হয়। আমি তখন অন্য একটি ছবির গান গাইছিলাম। সংগীত পরিচালক সুবল দাস এবং স্বরলিপি ছবির পরিচালক নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ থেকে গেছেন লাহোরে। স্টুডিওতে তাঁরা আমাকে বললেন, বাংলা ছবি স্বরলিপির একটি গানের ট্র্যাক করে এনেছি। মেল ভার্সন মাহমুদুন নবী গাইবেন। ফিমেল ভার্সন আমাকে দিয়ে করাতে চান। আমি বললাম, অবশ্যই গাইব। এরপর গাইলাম। ‘গানের খাতায় স্বরলিপি লিখে’ গানটি।

সে হিসেবে আপনার বাংলা গান গাওয়ার ৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। সংগীতের এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার শ্রেষ্ঠ সময় কোনগুলো?

ছোটবেলা থেকেই গান করছি। খুব ছোট ছিলাম বলে গান রেকর্ডিংয়ের সময় কো-আর্টিস্ট, মিউজিক ডিরেক্টর, পরিচালক সবাই আমাকে খুব আদর করতেন। কোল্ড ড্রিংকস, চকলেট, কফি এনে দিতেন। সবাই ‘রুনা বেবি’ বলে ডাকতেন। আমি ওই বয়সেই নায়িকার লিপে গান করেছি। তাঁরা বয়সে অনেক বড়। রেকর্ডিংয়ে ছবির নায়িকাও উপস্থিত থাকতেন। তাঁরা আমাকে খুব আদর করতেন। তারপর যখন টিনএজার হলাম, তখন করাচি টিভিতে আমাকে নিয়ে পাক্ষিক একটা অনুষ্ঠান শুরু হলো ‘বাজমে লায়লা’। খুব পপুলার হলো। ওই বয়সেই অসংখ্য ছবিতে প্লেব্যাক করি। বিভিন্ন ভাষায় ছবি হতো সেখানে। আমি পশতু, পাঞ্জাবি, সিন্ধি, গুজরাটিসহ ১৮টি ভাষায় গান করি।

আপনার বয়স যখন আঠারো, সেই সময়ের কথা মনে আছে?

আমি তখন পুরোদমে ব্যস্ত। ছবির গান গাইতে করাচি টু লাহোর আমার যাওয়া-আসা। পাশাপাশি লেখাপড়া চলছে। মঞ্চে, টেলিভিশনে অনুষ্ঠান করছি। আর আমার তিন বন্ধু ছিল ফারজানা, সাবরিনা ও ইয়াসমিন। ওদের সঙ্গে দারুণ সময় কেটেছে আমার।

নৃত্যশিল্পী হওয়ার কথা। হয়ে গেলেন সংগীতশিল্পী। কখনো নাচ করতে না পারার আফসোস কি পেয়ে বসে?

না। সে রকম কোনো আফসোস নেই। চার বছর নাচ শিখেছি। স্কুল শো হতো। সেখানে নাচ করেছি। আমার যে ইচ্ছে ছিল সেটা পূরণ হয়ে গেছে। নাচ শেখাটা আমি কাজে লাগিয়েছি গানের সঙ্গে স্টেজ এবং টেলিভিশন পারফরম্যান্সে।

কবি শামসুর রাহমানের লেখা গানও আপনি করেছেন। তাঁর গান গাইতে গিয়ে স্টুডিওতে একটা মজার ঘটনা ঘটেছিল, পাঠকদের সঙ্গে সেটা কি একটু ভাগাভাগি করবেন?

খোন্দকার নূরুল আলমের সুরে স্টুডিওতে গেলাম ‘স্মৃতি ঝলমল সুনীল মাঠের কাছে আমার অনেক ঋণ আছে’—এই গান গাইতে। স্টুডিওতে সেদিন এ গানের রচয়িতা কবি শামসুর রাহমানও ছিলেন। তো গাইবার আগে আমি সাধারণত খাতায় গানটা লিখে নিই। আর সেটা ইংরেজিতে। খোন্দকার ভাই বলছিলেন আর আমি লিখছিলাম। শামসুর রাহমান সাহেব ইংরেজিতে লিখতে দেখে বিরক্ত হলেন। কিন্তু বুঝতে দিলেন না। আমি যখন গান গাইতে সিঙ্গার বুথে গেলাম, তখন তিনি খোন্দকার ভাইকে নাকি বলেছিলেন, শিল্পী বাংলা গান ইংরেজিতে লিখেছেন, কথাগুলো ঠিকমতো গাইতেই তো পারবেন না। আপনি আজ রেকর্ডিং ক্যানসেল করেন। তখন খোন্দকার ভাই রাহমান সাহেবকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ভয়েসটা আগে রেকর্ড করি। তারপর আপনার যদি ভালো না লাগে তবে অন্যদিন আবার নেব। আমি গান গাইবার পর রাহমান সাহেব প্রশংসা করে বললেন, এত পরিষ্কার উচ্চারণ, চিন্তাই করা যায় না।

আপনার সময়ের তারুণ্য আর বর্তমান সময়ের তারুণ্যের মধ্যে কী পার্থক্য?

অনেক পার্থক্য। আমরা যখন টিনএজার ছিলাম, তখন সবকিছুই একটা নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে ছিল। পারিবারিক বাধানিষেধের মধ্যে চলতে হতো। কোনো বন্ধুর বাড়িতে দাওয়াতে যাব, প্রথমে যাওয়ার অনুমতি নিতে হতো। তারপর দেখা যেত সেই বাড়িতে কেউ দিয়ে আসতেন, আবার নিয়েও আসতেন। একা যাওয়ার অনুমতি ছিল না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুতেই পরিবর্তন এসেছে। এখনকার বাবা-মায়েরা অনেক আধুনিক। ছেলেমেয়েদের যথেষ্ট স্বাধীনতা দেন। কিন্তু তারপরও আমি মনে করি, ছেলেমেয়েদের ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার।

আপনাদের গানগুলো নতুন প্রজন্মের অনেকেই গাইছেন। অনেকেই বলেন, আপনাদের মতো করে হয় না। বিশেষ করে আপনার গাওয়া গানগুলো। শ্রোতারা অনেকেই মনে করেন, রুনার গানগুলো তাঁর মতো করে কেউ গাইতে পারেন না। আপনি কী বলবেন?

আমার মনে হয়, এই জীবনে আমি যে গানগুলো গেয়েছি, সবগুলোই কঠিন। আমারও গাইতে কষ্ট হয়েছে। নতুন প্রজন্মের অনেককেই আমার গান গাইতে দেখি। কিন্তু এটাও সত্য যে, সাবিনা ইয়াসমিনের গান তো আর তাঁর মতো হবে না। তবে যারা আমাদের গান গাইছে তাদের বলব, গানের কথা ও সুরটা একটু সচেতনভাবে তুলে নিয়ে গাইতে। কারণ এ গানগুলো শ্রোতাদের মনে-মাথায় ঢুকে আছে। এগুলো একটু এদিক-সেদিক হলে শ্রোতারা সেটা নিতে পারেন না।

এখন যাঁরা গান করছেন, তাঁদের প্রতি আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?

আসলে এখন যারা গান করছে, তাদের অনেকেই একট গান গেয়ে হয়তো পরিচিতি পেয়ে গেলে। এরপর তাদের মধ্যে একটা প্রবণতা দেখি, এই চ্যানেলে ওই চ্যানেলে গাইছে, প্রচুর শো করছে, অনেক টাকা পাচ্ছে। এটাই তারা বড় করে দেখছে। কিন্তু দ্যাট ইজ নট ইম্পরট্যান্ট। ভিত্তিটা হতে হবে শক্ত। উচ্চাঙ্গ সংগীত শিখতে হবে। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। আমি ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে গান করছি। অনেক কষ্ট করে, রেওয়াজ করে, ক্ল্যাসিক্যাল শিখে নিজেকে তৈরি করেছি। এখনো শিখছি। নতুন প্রজন্মের যারা গাইছে তাদের বলব, সংগীত একটা চর্চার বিষয়। চর্চার মধ্যে না থাকলে হারিয়ে যাবে। তাই এখানে অনেক সময় দিতে হবে। মেহনত করতে হবে। তবেই টিকে থাকবে। যদি মনে করো, নামধাম হয়ে গেছে, একটা কিছু হয়ে গেছ, তাহলে ওখানেই শেষ। সামনে এগোতে পারবে না।

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X