সোমবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৯:৪০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, December 16, 2016 11:41 pm
A- A A+ Print

রোহিঙ্গা শিবিরে অদৃশ্য গণহত্যা!

3

*বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মানবিক বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন আলোকচিত্রী লিনসে অ্যাডারিও। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা শিবির, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবির ও বসতিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর এই লেখাটি আজ শুক্রবার টাইম সাময়িকীর অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে। লিনসে অ্যাডারিও টাইম সাময়িকীর প্রদায়ক ও ফটো এজেন্সি ভারবাটিমের প্রতিনিধি।* ২০১৫ সালের নভেম্বরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ছোট একটি শিবিরে চার দিনে তিনজনের শেষকৃত্য দেখেছি। মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ থাকলে ওই তিনটি মৃত্যুই ঠেকানো যেত। মরিয়ম খাতুন নামের আরেক নারীকে আমি পাঁচ দিন ধরে দেখেছি। ওই নারী অ্যাজমা রোগে ভুগছিলেন। তাঁর দম বন্ধ হয়ে আসছিল। একটি ক্লিনিকের দেয়ালের পাশে তিনি বসে পড়েছিলেন এবং চিকিৎসকের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনো সাহায্যই তিনি পাননি। একপর্যায়ে কফ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসছিল। ওই নারীর পাশে ছিলেন তাঁর মেয়েরা। পরে মেয়েরা তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যান। আমি ওই এলাকা ত্যাগ করার কয়েক সপ্তাহ পর ওই নারীর মৃত্যু হয়। মিয়ানমারে আনুমানিক ১০ লাখ রাষ্ট্রবিহীন রোহিঙ্গার বাস। তারা নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত। এই আধুনিক যুগে চারপাশে সেনা তল্লাশিচৌকি বেষ্টিত ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে’ বাস করতে বাধ্য হচ্ছে তারা। ওই ক্যাম্প থেকে তারা বের হতে পারে না। বাইরে কাজে যেতে পারে না। তারা মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য থেকে বঞ্চিত। বেশির ভাগ সাহায্য সংস্থার কর্মীদের সেখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। খাবার জোগাড় ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে ছোট ক্যাম্পে নিজেদের যা আছে, তার ওপরই নির্ভরশীল রোহিঙ্গারা। সাংবাদিকদের ওপরও সেখানে প্রবেশে নিয়মিতভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। ধীরগতিতে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর এই বিনাশ বিশ্ব যাতে দেখতে না পায়, সেটা নিশ্চিত করার জন্যই মিয়ানমার এই পথ অবলম্বন করছে। মিয়ানমার থেকে অনেক রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে যেতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে মিয়ানমার সীমান্তের কাছে আনুমানিক তিন থেকে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা ঘনবসতিপূর্ণ অস্থায়ী শিবির ও বসতিতে ভীতিকর জীবন যাপন করছে। কারাগারে যাওয়া বা বিতাড়িত হওয়ার সার্বক্ষণিক আশঙ্কার মধ্যে বাস করছে তারা। মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, বাস্তুচ্যুত বেসামরিক নাগরিক এবং যুদ্ধক্ষেত্র বা নিপীড়নের হাত থেকে পালানো শরণার্থীদের নিয়ে গত ১৬ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে কাজ করেছি। তবে একটি পুরো জনগোষ্ঠীকে সহায়হীন ও অনথিভুক্ত রেখে পদ্ধতিগত এই নিপীড়ন খুব কমই দেখেছি। মিয়ানমার এবং বাংলাদেশে শিবির ও বসতিতে থাকা এই রোহিঙ্গারা আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার সহায়তা থেকে লক্ষণীয়ভাবে বঞ্চিত। পরিণামে অগুনতিসংখ্যক রোহিঙ্গা অনথিভুক্ত থেকেই মারা যাচ্ছে। এটা অদৃশ্য গণহত্যা।

Comments

Comments!

 রোহিঙ্গা শিবিরে অদৃশ্য গণহত্যা!AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

রোহিঙ্গা শিবিরে অদৃশ্য গণহত্যা!

Friday, December 16, 2016 11:41 pm
3

*বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মানবিক বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন আলোকচিত্রী লিনসে অ্যাডারিও। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা শিবির, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবির ও বসতিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর এই লেখাটি আজ শুক্রবার টাইম সাময়িকীর অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে। লিনসে অ্যাডারিও টাইম সাময়িকীর প্রদায়ক ও ফটো এজেন্সি ভারবাটিমের প্রতিনিধি।*

২০১৫ সালের নভেম্বরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ছোট একটি শিবিরে চার দিনে তিনজনের শেষকৃত্য দেখেছি। মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ থাকলে ওই তিনটি মৃত্যুই ঠেকানো যেত। মরিয়ম খাতুন নামের আরেক নারীকে আমি পাঁচ দিন ধরে দেখেছি। ওই নারী অ্যাজমা রোগে ভুগছিলেন। তাঁর দম বন্ধ হয়ে আসছিল। একটি ক্লিনিকের দেয়ালের পাশে তিনি বসে পড়েছিলেন এবং চিকিৎসকের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনো সাহায্যই তিনি পাননি। একপর্যায়ে কফ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসছিল। ওই নারীর পাশে ছিলেন তাঁর মেয়েরা। পরে মেয়েরা তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যান। আমি ওই এলাকা ত্যাগ করার কয়েক সপ্তাহ পর ওই নারীর মৃত্যু হয়।
মিয়ানমারে আনুমানিক ১০ লাখ রাষ্ট্রবিহীন রোহিঙ্গার বাস। তারা নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত। এই আধুনিক যুগে চারপাশে সেনা তল্লাশিচৌকি বেষ্টিত ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে’ বাস করতে বাধ্য হচ্ছে তারা। ওই ক্যাম্প থেকে তারা বের হতে পারে না। বাইরে কাজে যেতে পারে না। তারা মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য থেকে বঞ্চিত। বেশির ভাগ সাহায্য সংস্থার কর্মীদের সেখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। খাবার জোগাড় ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে ছোট ক্যাম্পে নিজেদের যা আছে, তার ওপরই নির্ভরশীল রোহিঙ্গারা। সাংবাদিকদের ওপরও সেখানে প্রবেশে নিয়মিতভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। ধীরগতিতে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর এই বিনাশ বিশ্ব যাতে দেখতে না পায়, সেটা নিশ্চিত করার জন্যই মিয়ানমার এই পথ অবলম্বন করছে।
মিয়ানমার থেকে অনেক রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে যেতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে মিয়ানমার সীমান্তের কাছে আনুমানিক তিন থেকে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা ঘনবসতিপূর্ণ অস্থায়ী শিবির ও বসতিতে ভীতিকর জীবন যাপন করছে। কারাগারে যাওয়া বা বিতাড়িত হওয়ার সার্বক্ষণিক আশঙ্কার মধ্যে বাস করছে তারা।

মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, বাস্তুচ্যুত বেসামরিক নাগরিক এবং যুদ্ধক্ষেত্র বা নিপীড়নের হাত থেকে পালানো শরণার্থীদের নিয়ে গত ১৬ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে কাজ করেছি। তবে একটি পুরো জনগোষ্ঠীকে সহায়হীন ও অনথিভুক্ত রেখে পদ্ধতিগত এই নিপীড়ন খুব কমই দেখেছি। মিয়ানমার এবং বাংলাদেশে শিবির ও বসতিতে থাকা এই রোহিঙ্গারা আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার সহায়তা থেকে লক্ষণীয়ভাবে বঞ্চিত। পরিণামে অগুনতিসংখ্যক রোহিঙ্গা অনথিভুক্ত থেকেই মারা যাচ্ছে। এটা অদৃশ্য গণহত্যা।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X